| 16 এপ্রিল 2024
Categories
ধারাবাহিক

ধারাবাহিক: শ্রাবন্তীদের দিনরাত্রি (পর্ব-৪) । ইকবাল তাজওলী

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

৫.

শ্রাবন্তীদের অফিস। নাজমুল হুদা সাহেব চেয়ারে বসে পান চিবোচ্ছেন। ঘনঘন পান চিবোন তিনি। সারাদিনে তাঁর ২০/২৫টি পান লাগে। এজন্যে তিনি পানের বক্স সঙ্গে রাখেন। আজ পানের বক্স ঠিকই সঙ্গে এনেছেন, কিন্তু ভুলক্রমে পান আনেননি। পানও তেমন একটা খাওয়া হয়নি। তাঁর ধারণা, পান না খাওয়ার খেসারত তাঁকে দিতে হচ্ছে। অনবরত তিনি ভুল করছেন। একটু আগে বড়োসাহেবের ধমকও খেয়েছেন।
নাজমুল হুদা সাহেব এই অফিসের হেডক্লার্ক। বড়বাবু ভাবতে নিজেকে স্বাচছন্দ্যবোধ করেন। বলেন,‘ ব্রিটিশের রেওয়াজ। সবাইকে মানতে হয়। ব্রিটিশরা তো এমনি এমনি সারা পৃথিবী শাসন করেনি। মাথায় ঘিলু ছিল, জানত, কাকে, কী নামে ডাকতে হয়।’অফিসের সকলেই তাঁর কথা মানে। শুধু পিনাক চক্রবর্তী মানে না। বলে,‘ব্রিটিশরা কবে বাংলা শিখল!’ আরে বেটা বেক্কল, সবই যদি তুই জানতি, তাইলে তুই বড়বাবু হতি, আর আমি হতাম তোর মতন টাইপিস্ট। স্কাউন্ড্রেল।’
নাজমুল হুদা সাহেব কেরামত আলিকে ডাকলেন। বললেন,‘যা বক্স নে, দশ টাকার পান-সুপারি নিয়ে আয়। যাবি আর আসবি।’
নাজমুল হুদা সাহেব এখন বেশ জোশের সঙ্গে পান খাচ্ছেন। খেতে খেতে তিনি তাঁর অফিস সহকারী আব্দুল করিমকে জিজ্ঞেস করলেন,‘কী দেখ, আব্দুল করিম?’
‘আন্দালিব স্যারের রুমটা দেখি বড়বাবু।’
‘হে তো আজকে ছুটিতে। একদিনের ছুটি নিছে। লাইলির প্রেমে দিওয়ানা-মাস্তানা হয়ে গেছে। তোমার শ্রাবন্তী ম্যাডাম কালকে আসে নাই। হে কি আর ঠিক থাকে! শ্রাবন্তীর বাড়িতে ঘুমায় আর কি। পিনাক চক্রবর্তী, তুমি কী কও?’
পিনাক চক্রবর্তী বিড়বিড় করে কী যেন বললেন। নাজমুল হুদা সাহেব শুনতে পেলেন না। তিনি কাজে মনোনিবেশ করলেন।

 

৬.

শ্রাবন্তী বিছানায় শুয়ে আছে। ওষুধ খাওয়ার কারণে জ্বর কিছুটা কমেছে, তবে পুরোপুরি সারেনি। দুদিনের জ্বরে শরীরটা কাহিল হয়ে গেছে। শুয়ে থাকতে আর কত ভালো লাগে। শ্রাবন্তী বসবার চেষ্টা করল। দুদিনেই ঘরের অবস্থা কাহিল। গরুর ঘর হয়ে গেছে। কলতলায় আজিজের মায়ের থালাবাসন মাজাঘষার শব্দ শোনা যাচ্ছে।শ্রাবন্তী আজিজের মাকে ডাকল। আজিজের মা এলো মিনিট দশেক পর। শ্রাবন্তী উঠে দাঁড়াতেই আজিজের মা বলল,‘কী করেন! মাথা ঘুইরা পড়বেন তো। শুইয়া থাকেন, শুইয়া থাকেন। দেখেন আজিজের মা কী করে! নিমিষেই পরিষ্কার। একদিন না আইলে ঘরের অবস্থা কাহিল। দুনু আফা করেডা কী! একজন তো খালি সাজুগুজু, খালি সাজুগুজু!’
শ্রাবন্তী আজিজের মায়ের কথা শুনে বিস্মিত হয়ে গেল। কাজের মহিলাকে লেই দিতে নেই। লেই দিলে মাথায় উঠে। তারপর নাচানাচি করে। আজিজের মায়ের হাটে হাড়ি ভেঙ্গে দিতে হবে।

মায়ের বারণ সত্ত্বেও শ্রাবন্তী আস্তে আস্তে হেঁটে গিয়ে পুকুরঘাটে বসল। আজ নিয়ে দুইদিন শ্রাবন্তী অফিসে যায়নি। কোনো দরখাস্তও পাঠায়নি। চাকরি নেয়ার পর এই প্রথম অফিস কামাই করল সে। অবশ্য অফিসে তার কিছুটা হলেও গ্রহনযোগ্যতা রয়েছে। অন্তত কোনো কিছু হলে পিনাক চক্রবর্তী আসত; খবর দিয়ে যেত। পুকুরে মাছ একটা ঘাই দিল, গতবছর পুকুরে মাছ ছাড়া হয়েছে। মনে হয় মাছগুলো বেশ বড়ো হয়েছে। মাছ ধরতে হবে। আজিজের মাকে বললেই হবে। বড়শি নিয়ে আজিজের মা বসে যাবে। এসব কাজে আজিজের মায়ের উৎসাহ বেশি। ফাউ পাওয়া যায়। লাভ বেশি।

শ্রাবন্তী ভাবনার সাগরে ডুবে গেল। বাবার স্মৃতি তার মানসপটে ভেসে উঠল। বাবা তাকে কত স্নেহ করতেন। কত নামে ডাকতেন। শান্তি বাবু, বান্টি বাবু, টান্টু বাবু। একেক সময়ে একেক নাম। মুখে যা আসত তাই বলতেন। আর বাইরে গেলে কখনও খালি হাতে ফিরতেন না। কিছু কিছৃ না কিছু সঙ্গে আনতেন তার টিঙ্কু বাবুর জন্যে। তখন অবন্তী, শ্রায়ন্তী কেউ ছিল না। অবন্তী তো ওর থেকে বছর সাতেকের ছোটো। তারপর কী থেকে যেন কী হয়ে গেল। বাবা তাদের ত্যাগ করে চলে গেলেন, অবশ্য, বাবার প্রতি শ্রাবন্তীর তেমন কোনো বিদ্বেষ নেই, আছে অভিমান। বাবা না গেলেও পারতেন। এভাবে কি একসঙ্গে থাকা যেত না? মাকে সে একবার কথাটি জিজ্ঞেস করেছিল। অভিমানী মা শুধু চোখের জল ফেলেছেন। কোনো উত্তর করেননি।
শ্রাবন্তীর চোখ ভিজে এলো। বাবা নিরুদ্দেশ হওয়ার পর কত ঝড়ঝাপটা তাদের ওপর দিয়ে গেছে! প্রিয় স্কুলটা পর্যন্ত বদলাতে হয়েছে। আর না বদলিয়ে উপায়ও ছিল না। তাকে দেখলেই মেয়েরা হাসাহাসি করত, বিদ্রুপ করত। আর শিউলিটা ছিল বদের হাড্ডি। একদিন টিফিন পিরিয়ডে সকলের সামনে সে জিজ্ঞেস করে বসল,‘কীরে শ্রাবন্তী, তোর আব্বাজান নাকি নূরজানের সঙ্গে ফস্টিনস্টি করে পগারপার? বাড়িতে এসে তার সে কী কান্না। তারপর আর গালর্স স্কুলে কখনও যায়নি। কাশিনাথ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। সেইসব দিনের কথা মনে হওয়ায় নিজেকে আর ধরে রাখতে পারে না শ্রাবন্তী। আবেগ এসে যায়। হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে। সকলে দৌড়ে আসে। তারপর ধরাধরি করে ঘরে নিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়।

এখন বিকেল। একটু আগে আসরের আজান হয়েছে। আরজুমান্দ বানু ওজু করে এসেছেন। নামাজ পড়বেন। তারপর, আল্লার দরবারে শুকরিয়া আদায় করবেন। শ্রাবন্তীকে নিয়ে তিনি কদিন থেকে আজেবাজে স্বপ্ন দেখছেন। শ্রাবন্তীর অসুখ হওয়ায় তিনি ভড়কে গিয়েছিলেন। খোদার কাছে লাখো শুকুর, শ্রাবন্তীর জ্বর সেরে গেছে। ডা. মির্জা আজিজুল ইসলামকে আসতে দেখা যাচ্ছে। তিনি তাঁর রোগী শ্রাবন্তী আপাকে দেখতে এসেছেন। তাঁকে ড্রইংরুমে বসতে দেয়া হয়েছে। তিনি শ্রাবন্তী আপার সঙ্গে কথা বলছেন। জানা গেল তিনি পাশের বাড়ি থেকে রোগী দেখে ফিরছেন। তবে তিনি রোগীর সঙ্গে রোগ অপেক্ষা অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলাপ- আলোচনা করছেন। দেখা গেল, তিনি শ্রায়ন্তী, শাওনকেও চেনেন। ডাক্তার সাহেবকে চা-নাস্তা দেয়া হয়েছে। আরজুমান্দ বানু নাস্তা বানিয়ে অবন্তীকে দিয়ে পাঠিয়েছেন। বিষয়টি শ্রাবন্তীর কাছে দৃষ্টিকটু লেগেছে। আজিজের মা আছে, তাকে দিয়ে পাঠানো যেত। অবন্তীর হাবভাব ভালো না। এরকম করা মানে অবন্তীকে উসকে দেয়া। শ্রাবন্তী উঠে ভেতরে গেল। মাকে কিছু বলতে গিয়েও শেষমেশ বলল না। নিজেকে সামলে নিল, প্রবোদ দিল। সংসারে কত বড়ো বড়ো ঘটনা ঘটে। ছোটোখাটো বিষয়ে খেয়াল করতে নেই, নাক গলাতে নেই।ডাক্তার সাহেব যখন উঠলেন, তখন সন্ধ্যা মিলিয়ে গেছে। যাওয়ার আগে তিনি খালাম্মাকে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট দুই ফাইল দিয়ে গেলেন। বললেন,‘প্রতি রাতে খাবারের পর খাবেন, খালাম্মা।’
অবন্তীকে বেশ উৎফুল্ল দেখাচ্ছে। সঙ্গে শ্রায়ন্তীকেও। অবন্তী চা বানিয়ে এনে তার আপাকে দিয়েছে। বলেছে,‘আপা, চা খা। ভালো লাগবে। মা-ও খাচ্ছেন। এসময় ওয়াহিদ সাহেব অর্ণবকে সঙ্গে নিয়ে এলেন। জানা গেল, তিনি জরুরি কাজে অর্ণবকে নিয়ে চট্টগ্রাম ছিলেন। ঘণ্টা খানেক আগে এসেছেন। এসেই শুনেছেন শ্রাবন্তীর অসুখ, তাই দেখতে এসেছেন।
অবন্তী তার দুলাভাইয়ের জন্যে আরেক কাপ চা বানাতে গেল।


আরো পড়ুন: শ্রাবন্তীদের দিনরাত্রি (পর্ব-৩) । ইকবাল তাজওলী


৭.

অবন্তী ড্রেসিংটেবিলের সম্মুখে দাঁড়িয়ে সাজগোজ করছে। একটু পরে সে বের হয়ে যাবে। এখন বেলা আড়াইটা। চারটার দিকে অন্তুকে সঙ্গে নিয়ে জিন্দাবাজারের দিকে যাবে। আর এই অন্তু হচ্ছে ডা. মির্জা আজিজুল ইসলাম। অবন্তীই নামটা দিয়েছে। বলেছে,‘এত বড়ো নাম ! সংক্ষিপ্ত করে দিলাম । এখন থেকে তোমার নাম অন্তু।
ডাইনিংটেবিল থেকে মায়ের ডাক শোনা যাচ্ছে, সঙ্গে শ্রায়ন্তীর। অবন্তীর সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। সে সাজগোজ নিয়ে ব্যস্ত। মায়ের ডাকাডাকিতে কিছুটা বিরক্ত। কোনো কাজেই তার শান্তি নেই। বিরক্তি লেগে যায়। সে শ্রায়ন্তীর ওপর বিগড়ে গেল। বলল,‘একদিন না বলেছি, বের হওয়ার সময় ডাকাডাকি করবি না। বড় বাড় বেড়েছিস।’
‘খাবি, তাই ডাকছি। আচ্ছা, আর ডাকব না।’
‘আমার ক্ষুধা নাই। এখন থেকে দুপুরে খাব না। ডায়েট কন্ট্রোল করব।’
‘ডায়েট কন্ট্রোল করতে হয় রাতে। দুপুরে না, রাঙাবুবু।’
বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে অবন্তী বেরিয়ে গেল। বলল,‘ফিরতে সন্ধ্যা হতে পারে। ভাবার দরকার নাই।’ আরজুমান্দ বানু কিছুই বললেন না। বুঝেও না বোঝার ভান করলেন। মেয়েদের জন্যে আরজুমান্দ বানুর চিন্তা হয়। চিন্তাভাবনায় রাতে ঘুম তেমন একটা আসে না। বিছানায় ছটফট করেন। শ্রাবন্তীর বয়স তো আর কম হলো না। সেই কবে তাঁর নিজের বিয়ে হয়েছে! বাঙালি মেয়েরা কুড়িতে বুড়ি। কিন্তু, শ্রাবন্তীকে তিনি বাগে আনতে পারছেন না। তার ওই একই কথা। সে এখন বিয়ের পিড়িতে বসবে না। ভাইবোনদের মানুষ করবে, তারপর ভাববে। ততদিনে বয়স তো আর বসে থাকবে না। আরজুমান্দ বানু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। অবন্তীকে নিয়ে তিনি ভাবেন না। অবন্তী অপরূপা। মাঝে মধ্যে তাঁর নিজেরই বিশ্বাসই হতে চায় না, অবন্তী যে তাঁর মেয়ে! এ মেয়েকে তিনি পেটে ধরেছেন। অবন্তী জন্মের পর একটা ঘটনা ঘটল। আহমদ আলি নামাজ পড়া শুরু করলেন! আরজুমান্দ বানু আগে তাঁকে শতচেষ্টা সত্ত্বেও নামাজ-কালাম পড়াতে পারেননি, এবার তিনি নিজ থেকেই শুরু করলেন। এবং ধীরে ধীরে একদিন পুরোপুরি ধার্মিক বনে গেলেন। তারপর তাঁর আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন হতে শুরু করল। ক্রমেই বিত্তশালী হয়ে উঠলেন। আরজুমান্দ বানু সবকিছু বুঝতেন, কিন্তু কিছুই বলতেন না। ভাবতেন, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ আছে। ক্রমেই বাড়িঘরের পরিবর্তন হলো। জায়গা কিনে বাড়ি বড় করলেন। মূল শহরের ভেতর নতুন একটি বাসা বানালেন। তারপর একদিন অ্যাকাউন্টস অফিসের সরকারি চাকরিটি ছেড়ে দিয়ে কন্ট্রাক্টরি শুরু করলেন। গ্রামের বাড়ি থেকে গৃহপরিচারিকা নূরজান আনা হলো। নূরজান আহমদ আলির দূর সম্পর্কের আত্মীয়া। প্রথমদিকে নূরজানের বাড়াবাড়ি দৃষ্টিকটু লাগলেও আরজুমান্দ বানু তা ধর্তব্যের মধ্যে আনেননি। তাছাড়া, নূরজান আহমদ আলিকে চাচা বলে সম্বোধন করত।একদিন ছোটোবোন আফরুজা বেড়াতে এসে নূরজানের বেলাল্লপনা স্বচক্ষে দেখে তাঁকে সতর্ক করেছিল। বলেছিল,‘বুবু, নূরজানকে বিদায় কর। না হলে একদিন পস্তাবি।’ আফরুজার ওপর তখন তার খুব রাগ হয়েছিল। তিনি বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন। তারপর কেলেঙ্কারি হওয়ার পর আফরুজা এসে কত কথা বলল। বলল,‘তখন যদি আমার কথা শুনতিস বুবু, তাহলে এরকমটি হতো না, আর তারিফের মুরগীয়ে চাম বৈদা (ডিম) পাড়ত না।’ আরজুমান্দ বানু মিইয়ে গেলেন। আল্লাহর দরবারে ফরিয়াদ করলেন। বললেন,‘আমারে তুলে নাও আল্লা। আমারে তুলে নাও।’ তারপর, বিছানায় পড়লেন। ডাক্তার-কবিরাজে কিছুই হলো না। শেষমেশ, ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে সেরে উঠলেন। সাহস সঞ্চয় করে দাঁড়ালেন। শুরু হলো জীবন সংগ্রাম।
শ্রাবন্তী অফিস থেকে রিক্সায় ফিরছে। অফিসে আজ ধকল গেছে। রাজ্যের সব কাজ জমা হয়েছিল, আজই শেষ করতে হয়েছে। বস তাদেরকে লাঞ্চ করিয়েছেন। নাজমুল হুদা সাহেব আজ সকলের মন জয় করে নিয়েছেন। লাঞ্চের শুরুতেই দাঁড়িয়ে বললেন,‘বড়সাহেবের কাছে আমাদের এক আবদার। যদি মেহেরবানি করে অনুমতি দেন, তাহলে বলি।’ তারপর বড়সাহেবের অনুমতি নিয়ে শুরু করলেন নাতিদীর্ঘ বক্তৃতা। বক্তৃতার সারমর্ম যোগ্যতা অনুযায়ী আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে। বড়সাহেব খুশি হলেন, এবং বললেন,‘অর্থবছরের শুরুতেই কোম্পানির এই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন যৌক্তিক আকারে বৃদ্ধি করা হবে। পরিশেষে, সকলকে আরও সততা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিলেন। রিক্সায় চড়ে আজ বাড়ির ভেতর পর্যন্ত এসেছে শ্রাবন্তী। গাধাটা তাহলে ইট বিছিয়েছে। বাড়ির সামনা বেশ সুন্দর লাগছে। বাতি একটা লাগিয়ে দিলে ফকফকা হয়ে যাবে। আরজুমান্দ বানু মেয়েকে দেখে স্বস্তির নিশ্বাস ফেললেন। পরক্ষণেই, মেয়েকে হাসিখুশি দেখে জিজ্ঞেস করলেন,‘কী রে মা, অফিসের কি কোনো খবর আছে?’
শ্রাবন্তী বলল,‘বেতন বাড়বে, মা।’
শ্রায়ন্তী, শাওন হৈ-হুল্লোড় করে উঠল। শাওন বলল,‘আজ আর পড়ছি না, মন বসবে না।’
শ্রাবন্তী ব্যাগ থেকে হাজার খানেক টাকা বের করে শ্রায়ন্তী আর শাওনকে সমানভাবে ভাগ করে দিল। বলল,‘সার্ট আর থ্রিপিস দুজনে একসঙ্গে গিয়ে কিনিস।’ মাকেও শ দুয়েক টাকা দিল। আরজুমান্দ বানু শ্রায়ন্তী ও শাওনকে দিয়ে দিলেন।
অবন্তীকে ঢুকতে দেখে। শ্রাবন্তী ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল, রাত পৌনে আটটা বাজে।
‘কোথায় থেকে আসছিস?’
‘বান্ধবীর বাসা থেকে। মা তো জানে। মাকে বলে গেছি।’
আরজুমান্দ বানু কোনো কিছুই বললেন না। শ্রাবন্তী মায়ের হাবভাবে বুঝে গেল, মা ওর গন্তব্য জানে। শ্রাবন্তী কাউকে কিছু বলল না।
কাপড়-চোপড় খুলে বিছানায় গা এলিয়ে দিল।

 

 

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত