| 15 জুলাই 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

সিরিজ কবিতা: ভগবান ও গবলেট । নন্দিনী সেনগুপ্ত

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট
 
 
 
 
ভগবানের কোনো
স্থায়ী সঙ্গিনী নেই
থাকা সম্ভব নয়।
 
কে বুঝবে ভগবানের কষ্ট?
 
মানবী কিম্বা ঈশ্বরী
কেউই গবলেটটার মত
জড় পদার্থ নয়।
 
কে সহ্য করবে ভগবানের ক্রোধ?
 
গবলেটের মত
কতবার চূর্ণবিচূর্ণ হবে
মানবী অথবা ঈশ্বরী!
 
তাই ভগবানের কোনো
স্থায়ী সঙ্গিনী নেই।
 
 
 
 
 
 
গবলেট তার আধারে নানা দেশের
নানা পানীয় ধারণ করেছে।
পৃথিবীর নানা নদীর নানা স্বাদের জল
ধারণ করেছে।
 
কারণ,
 
ভগবানের অশ্রু থেকে পৃথিবীর
নানা নদীর জন্ম হয়েছে।
গবলেটটা সবার আগে সেই অশ্রু
সব নদীর জলের উৎস
ধরেছে তার আধারে
 
তবুও গবলেটের মনে একটু দুঃখ আছে।
কারণ, গবলেট কোনোদিন
প্রেম ধারণ করেনি।
 
গবলেট জানে না প্রেম কেমন জিনিস,
কারণ,
ভগবান কারো সঙ্গে প্রেম করতে পারেন না
মানবীরা কারো সঙ্গে প্রেম করতে পারে না
ঈশ্বরীরা প্রেম করতে চায় না
যাচ্ছেতাই সব কাণ্ড ঘটে যেতে পারে
চারদিকে
ঘুণপোকাদের কাব্যচর্চা থেকে শুরু করে
মুষলমুশকিল খুনোখুনি পর্যন্ত
 
ভগবান সবই জানেন
কী হয় পৃথিবীতে
তবে প্রেম হয় না।
স্বচ্ছ প্রেম ধারণ করতে না পারার
দুঃখটা বুকে চেপে
গবলেট এক পায়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
 
 
 
 
 
 
১০
 
 
ভগবান মাঝে মাঝে ডায়েরি লেখেন
গবলেট দেখে
সব লেখা পড়তে পারে না সে
সৃষ্টির খবর
ধ্বংসের খবর
সব লেখা থাকে
ভগবানের ডায়েরিতে
ক’জন জন্মালো
ক’জন মরলো
সঠিক সংখ্যা
ভগবানের ডিজিটাল ডায়েরিতে
আপনা থেকেই ভেসে ওঠে
সেভাবে আলাদা করে হিসেব রাখতে হয় না
ভগবান আঙুল ছুঁইয়ে
সংখ্যাগুলো সেভ করে রাখেন
 
গবলেটের হাত নেই
মস্তিষ্ক দ্রুত কাজ করে না
মোটে একটামাত্র পা
তাই সে কোথাও নিজের ইচ্ছেতে যেতেও পারেনা
 
তবে ভগবানের বাড়ি
কোনো দিন ধ্বংস হবে না
ভূমিকম্পে ভাঙবে না
বন্যায় ধুয়ে যাবে না
কেউ এসে বোমা ফেলবে না
এই আশায় গবলেট ভগবানের বাড়িতে নিশ্চিন্তে থাকে।
জড়পদার্থ বলে কি তার আশা থাকতে নেই?
 
 
 
 
১১
 
গবলেটের উপর ভগবানের বর আছে।
সে ভেঙে চুরচুর হয়ে গেলেও
আবার জুড়ে যায় সেই বরে।
ভেঙে যাওয়ার দাগটুকুও থাকে না।
আর থাকলেই বা কী যায় আসে
গবলেট এবং ভগবান
তো আর মানুষ নয়
যে দাগ নিয়ে মাথা ঘামাবে।
দাগ থাকলে থাকবে
সমস্ত দাগ
গবলেট এবং ভগবানের
অহংকার বাড়িয়ে দেয় রোজ।
 
 
 
 
 
 
১২
 
গন্ধর্বরা কোথাও নেই এখন।
কে ভগবানের মন ভালো করবে
নেচে গেয়ে?
তাই ভগবান নিজেই এখন
মাঝেমধ্যে গান করেন
মন ভালো করার জন্য।
ভগবান মধ্যরাতে গান ধরেন
দরবারী কানাড়া
তিনি রাজা নন।
 
ভগবান
 
তার মুকুট অদৃশ্য।
রাত থেমে থাকে
কোমল ধৈবতে
গবলেট অর্ধেক পূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে
অতন্দ্র
রাত ভোর হয়না।
রাত থেমে থাকে কোমল ধৈবতে।
রাতের শেষ প্রহরে
কোনো ভক্ত আসেনা আজকাল
ডিজে নেচে সবাই কেয়ামতে
ঘুমিয়ে পড়ে
তাই অন্ধকার
টের পায়না কেউ
রাত থেমে যায় কোমল ধৈবতে।
 
 
 
 
 
 
 
 
১৩
 
 
ভগবান অনেক দিন হাসেননি
গবলেট জানে।
সত্যি সত্যি প্রাণখোলা হাসি
অনেক দিন হাসেননি ভগবান।
অবশ্য ভগবানের অনেক হাসি
আজকাল দেখা যায় সেলফি ইত্যাদিতে,
সেগুলো সত্যি হাসি নয়।
সেগুলো লোকদেখানো
মতলবি হাসি।
একমাত্র গবলেট বুঝতে পেরেছে।
ভগবান আসলে হাসতে ভুলে গেছেন।
তাই আজকাল পৃথিবীতে
 
সত্যি সত্যি প্রেমে কেউ পাগল হয়ে যাচ্ছে না।
 
 
 
 
১৪
 
 
গবলেটটা ভগবানের,
তার মানেই সেটা
সবসময় পূর্ণ থাকবে
আজকাল এরকম ভাবনার
কোনো মানে হয় না।
 
ভগবান বলে কি
তার কোনো অভাব নেই?
তাহলে সকাল বিকেল তিনি
ধ্যানে বসেন কেন আজকাল?
আমি, তুমি, কিম্বা গবলেট
এরা সবাই
ভগবানের ধ্যান করে থাকে।
 
কিন্তু ভগবান কার ধ্যান করেন?
 
 
 
 
 
 
১৫
 
 
ভগবানের কোনো মা নেই
কোনোদিন কোথাও ছিল না
নিরুত্তাপ জলের ভিতর থেকে
উঠে এসেছিলেন তিনি
পরিপূর্ণ শরীর।
 
কোনো গর্ভজল নয়।
সে জল পৃথিবীর নয়।
পৃথিবী ছিল না তখন।
ভগবানের কোনো মা নেই,
বাবাও নেই।
এমনকি ভগবান পুরুষ, না নারী,
নাকি
সেকথাও কেউ জানে না।
গবলেটটা জানে,
কারণ গবলেট একমাত্র
ভগবানকে পোশাক খুলতে দেখেছে।
তবে জানলেও বলবে না,
কারণ, গবলেটটা একটা জড়পদার্থ।
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত