| 15 এপ্রিল 2024
Categories
ধারাবাহিক

ধারাবাহিক: উত্তর উপনিবেশবাদ ও অন্যান্য (পর্ব-৭) । ফয়েজ আলম

আনুমানিক পঠনকাল: 5 মিনিট

পশ্চিমারা শাসন শোষণের স্বার্থে, উপনিবেশ কায়েম রাখার স্বার্থে যেজ্ঞানভাষ্য তৈরি করেছে তাতে উপনিবেশিতদের মানসিকভাবে দাসে পরিণত করেছে। মনোজগতের এই উপনিবেশ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই উত্তর উপনিবেশী ভাবচর্চা জরুরি। উপনিবেশ স্বাধীন হওয়ার পর উপনিবেশক সংস্কৃতির প্রভাব বহাল থাকে স্বাধীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে, যাকে বলা হয় উত্তর-উপনিবেশী পরিস্থিতি। এই প্রভাব কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়াটাই হলো বি-উপনিবেশায়ন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতার পর এখন আত্ম-উদবোধন ও প্রতিরোধ সংগ্রাম মূলত উত্তর-উপনিবেশী পরিস্থিতির বিরুদ্ধে, সাংস্কৃতিক ও ভাবাধিপত্যের নিরবচ্ছিন্ন কিন্তু অসম উপস্থিতি ছুড়ে ফেলার জন্য। এর শুরু সাংস্কৃতিক ক্রিয়াশীলতায়, বোধ ও ভাবের সংগ্রামে। উত্তর উপনিবেশবাদ নিয়ে আরো গভীরভাবে জানতে ইরাবতীর ধারাবাহিক ফয়েজ আলমের উত্তর উপনিবেশবাদ ও অন্যান্য লেখাটির আজ থাকছে পর্ব-৭।


উত্তরউপনিবেশবাদ উত্তরাধুনিকতা

`উত্তর-উপনিবেশী’ পরিচয়ে যে-ধরনের ভাবনা চিন্তা বিস্তারিত করতে চাই আমরা, তার আর উত্তরাধুনিকতার তুলনামূলক অবস্থানটা কী রকম ভেবে দেখা দরকার। এখানে যা ‘উত্তরাধুনিকতা’ (Postmodernism) বলে কথিত তার সাথে কিছু মিল আছে উত্তর-উপনিবেশবাদের (Postcolonialism)। যেমন দুটোই আধুনিকতার কতিপয় মূল্যবোধের বিরোধী। ইউরোপীয় যুক্তিবোধ থেকে উদ্ভুত মানবতাবাদ, যুক্তিবাদী ভাবনা, নৈতিকতা, প্রগতি, চিন্তা ও প্রকাশভঙ্গি এবং স্তর-নির্ভর কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলায় উত্তরাধুনিকতার অবিশ্বাস। কোনো একক কেন্দ্রে আস্থা রাখে না উত্তরাধুনিকতা, আর উত্তর-উপনিবেশবাদের সৃষ্টিই হয়েছে উপনিবেশবাদী জ্ঞান ও সংস্কৃতির ইউরোপকেন্দ্রিকতার বিন্যাস ভাঙার উদ্দেশ্যে। আধুনিক চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ সকল ব্যবস্থা সম্পর্কে সন্দেহ ও জিজ্ঞাসা আছে উত্তরাধুনিকতার; উত্তর উপনিবেশবাদের কাজ প্রাক্তন উপনিবেশগুলোয় বিরাজমান ঐসব ব্যবস্থা ও তার অব্যাহত পরিণতির ব্যাপারে কথা তোলা, এইগুলোর উদ্ভব ও কারণ এবং জাতপাত ঘেঁটেঘুঁটে মূল্য ঠিক করা। মিল আরো আছে, অনেক জায়গায়। তাহলে, উত্তর-উপনিবেশবাদও কি উত্তরাধুনিকতা? কিংবা এ-ও কি উত্তরাধুনিতারই একটা ধরণ? নাকি মিল যেমন আছে, তারচেয়ে অমিল বেশি? কোথায় মিল, কোথায় বিরোধ?

গত শতকের শেষ আধকালে আমরা নানা জাতের চিন্তা-ভাবনার মুখোমুখি হয়েছি; কাঠামোবাদ, উত্তর-কাঠামোবাদ/অবিনির্মাণ বা বিনির্মাণ, উত্তরাধুনিকতা, নারীবাদ, নয়া-ইতিহাসবাদ, উত্তর-উপিনিবেশবাদ, আরো অনেক নাম। একসাথে এসব তত্ত্বের কথা বলা হয় বটে, কিন্তু নারীবাদ ও উত্তর-উপনিবেশবাদ অন্য সবগুলো থেকে ভিন্ন। উত্তর-উপনিবেশবাদ মানবজাতির কয়েক শতক-ব্যাপী রাজনৈতিক-সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবন যাপনের বিচার-আচার; স্বার্থ-চিন্তায় সৃষ্ট বিভাজনে কোন এক শ্রেনীর মানুষের দ্বারা আরেক শ্রেণীর মানুষের ওপর বহুযুগের শোষণ ও নির্যাতনের বেদনা ও ভারের কথাটা এখানে আসল। অর্থাৎ শেষের দুটো রাজনীতির সাথেও সংশ্লিষ্ট, ক্ষমতার রাজনীতির সাথে। আরেক বিচারে নারীবাদ থেকেও উত্তর-উপনিবেশবাদ আলাদা। কারণ এর তাত্ত্বিকরা প্রাক্তন-উপনিবেশের মানুষ, উপনিবেশী পরিস্থিতিতে বঞ্চিত ও পরিবর্তিত ‘আন’ (Other) হিসেবে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা এদের তত্ত্বচিন্তার মূল শিকড়। এটা পশ্চিমের চিন্তা-ভাবনা নয়, কাজেই ‘প্রতীচ্যের সাহিত্য ও সমালোচনাতত্ত্ব’মার্কায় এর আলোচনা গ্রহণঅযোগ্য। এবং এইসব কারণে উত্তর-উপনিবেশবাদ ও উত্তরাধুনিকতার মধ্যে বিরাট ফারাক দেখি।

উত্তরাধুনিকতার প্রবণতাগুলোর মধ্যে শৃঙ্খলা বা পারম্পর্য খুঁজে পাওয়া মুশকিল। উত্তরাধুনিকতায় নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার চিহ্ন ও সুযোগ খুব সুলভ; যৌক্তিক শৃঙ্খলা, স্তরবিন্যাস, কাঠামো, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ–এইগুলোকে ভেঙ্গে ফেলার উন্মুল বাসনা ওখানে। উত্তরাধুনিকতার প্রধানতম ভাবুক জ্যাঁ ফ্রাসোয়া লিওতার মহা-আখ্যানগুলার ধ্বংসের কথা বলেন (The Postmodern Condition, 1984), যেগুলো আধুনিকতার বিভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তির মতো। পশ্চিমা চিন্তা-ঐতিহ্যে গ্র্যান্ড ন্যারেটিভ বা মহা-আখ্যান হচ্ছে সেইসব ভাবাদর্শ বা মতবাদ যা অধিকাংশ মানুষকে কিছু বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ করে, শিকলে জড়ায়। যেমন ধর্ম, মার্কসবাদ, জাতীয়তাবাদ, এমনকি ইতিহাসও, কোন কোন উত্তরাধুনিকের মতে। মহা-আখ্যানগুলি আবেগ ও বিশ্বাসের ফাঁদে ফেলে অনেক বেশি মানুষকে অল্পকিছু মানুষের বশ করে রাখে। লিওতার উত্তরাধুনিকতার মধ্যে দেখেন মহা-আখ্যানের ধ্বংস ও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আখ্যানের সৃষ্টি এবং এইভাবে ইউরোকেন্দ্রিক সাংস্কৃতিক চিন্তার অবসান।

অন্যদিকে, উত্তর-উপনিবেশবাদের সূচনায় শৃঙ্খলা ও পারম্পর্যের অভাব নাই, বরং ভেঙে রাখা সাঁকো আবার বাঁধার চেষ্টা আছে। এখানে রাজনীতি আছে প্রবলভাবে। তা গোটা মানবজাতির তত্ত্ব নয়, কেবল প্রাক্তন-উপনিবেশের মানুষদের চিন্তা-চেতনার ব্যাপার। উপনিবেশী শাসনের কারণে উপনিবেশের মানুষদের জ্ঞান ও সংস্কৃতি চর্চায় যে-প্রভাব পড়েছে তা কাটিয়ে ওঠা এর লক্ষ্য। উপনিবেশী শাসকদের উদ্যোগে সমর্থনে পরিচালিত শিক্ষাব্যবস্থা ও জ্ঞানচর্চার কারণে বিভন্ন দেশ ও জাতির ঐতিহ্য অভিজ্ঞতা, ভাবনার জগত ও তার চর্চার ক্ষেত্রে যে-সব নেতিবাচক প্রভাব দেখা দিয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত ও দূর করা এবং প্রভাবমুক্ত জ্ঞানচর্চার পথ খুলে দেয়ার তাত্ত্বিক প্রণোদনা ও উপায় এবং একরকম আন্দোলন বলা যেতে পারে উত্তর-উপনিবেশবাদকে। অর্থাৎ আমাদের ভাব ও কর্মের জগতে যেসব উপনিবেশী ধ্যান-ধারণা ও আদর্শ চেপে বসে আছে তা ভেঙ্গে দিতে হবে, ঐতিহ্য ও অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমান পরিস্থিতির পুন:বিবেচনা করতে হবে। মোট কথা পশ্চিমের মানুষদের তৈরি চোখ দিয়ে দেখার অভ্যাসটা বন্ধ করা, আমাদের ঐতিহ্যের আলোকে নিজেদের দৃষ্টি ও দৃষ্টিকোণ সৃষ্টি করে নেয়াই মূল ব্যাপার। কাজেই, একটা কথা নির্দ্বিধায় বলে দেয়া যায় যে, উত্তরাধুনিকতার নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা এখানে গ্রহণঅযোগ্য। উত্তর-উপনিবেশী ভাবনা অতীতের অন্ধ অনুকরণে উৎসাহী নয়। কোনো অবস্থাতেই ঐতিহ্যের বাছবিচারহীন পুনরুজ্জীবন নয়, বরং ঐতিহ্যে থেকে পুষ্টি গ্রহণ ও দিক-নির্দেশনা নেয়ার কথা হচ্ছে। উপনিবেশী ভাবনার প্রভাব দূর করার ক্ষেত্রে মানদন্ড হিসেবে ঐতিহ্যের বিচার-বিশ্লেষণেরও দরকার আছে।


আরো পড়ুন: উত্তর উপনিবেশবাদ ও অন্যান্য (পর্ব-৬) । ফয়েজ আলম


উত্তর-উপনিবেশী চিন্তায় জাতি ও জতীয়তাবাদের ধারণা প্রয়োজনীয়, ইতিহাসেরও সমান গুরুত্ব। কেউ কেউ জাতীয়তাবাদের ব্যাপারে নির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ করেন বটে, কিন্তু জাতীয়তাবাদ-কে মহা-আখ্যান বলে বাতিল করে দেন না। কোনো কোনো মহা-আখ্যান ছাড়া উত্তর-উপনিবেশবাদী চিন্তার দাঁড়াবার জায়গাটাও হয় না। অথচ উত্তরাধুনিকতা জাতীয়তাবাদ বা ইতিহাসকে মহা-আখ্যান বলে উড়িয়ে দিতে চায়। ইতিহাস ক্ষমতাসীনদের আখ্যান, এ কথা সত্যি। তবে তার পুনর্লিখন সম্ভব এবং দরকারী, ক্ষমতাহীন মানুষদের ইতিহাসের কাঠামোটা পুনর্গঠন করা যায়। ইতিহাস ছাড়া আমার আত্মপরিচয় কী? জাতীয়তাবাদে সমস্যা আছে, এ কথাও স্বীকার করি। দেশপ্রেম, দেশের জন্য আত্মত্যাগ ইত্যাদি আবেগী কথায় সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলার সুযোগ আছে ওখানে; অনেক প্রাক্তন-উপনিবেশে জাতীয়তাবাদ-কে কায়দা করে ব্যবহার করা হচ্ছে ক্ষমতা বিস্তার ও শোষনের প্রয়োজনে। এসত্ত্বেও জাতীয়তাবাদ-কে এই মুহূর্তে বর্জন করা বা ‘চূর্ণ’ করা অনুচিত, অন্তত যতদিন না আমাদের চৈতন্য থেকে উপনিবেশী প্রভাব সম্পূর্ণ দূর হয়ে যায়। মোট কথা উত্তর-উপনিবেশবাদের পক্ষে সকল মহা-আখ্যান বর্জন অসম্ভব।

চিন্তার ক্ষেত্রে কোথায় পৌছাতে চায় উত্তরাধুনিতা? খুব সম্ভবত কোথাও না । নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা লালন করে আধুনিতার ইউরোকেন্দ্রিক বেড়ি ভাঙ্গা সম্ভব, কিন্তু গন্তব্য তো লাগবে। উত্তরাধুনিকতাকে গন্তব্যহীন বিদ্রোহ বললে অত্যুক্তি হবে না ধারণা করি। অবশ্য উত্তরাধুনিকদের বক্তব্যেও ব্যবধান আছে। ডানিয়েল বেল যে-ধরনের মনোভাবকে উত্তরাধুনিক মনোভঙ্গি বলেছেন তার মধ্যে প্রকৃতি-স্বভাবের প্রতি পক্ষপাত আছে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে নরম্যান ও ব্রাউন সংস্কৃতি ও চেতনার ধ্বংস কামনা করেন (ভালোবাসার শরীর, ১৯৬৬)। বেলের কাছে মনে হয়েছে ব্রাউনের মনোভঙ্গি উত্তরাধুনিক। আবার লিওতারের মতে মহা-আখ্যানগুলোর ধ্বংসই উত্তরাধুনিকতার সূচক। লেসলি ফিল্ডার বা ইহাব হাসানের বক্তব্য আরেকটু ভিন্ন। সবমিলিয়ে একটা বৈশিষ্ট্যেই উত্তরাধুনিকতাকে ঠিকভাবে ধরা যায়, তা হলো: আধুনিকতা ও আধুনিকতার মূল্যবোধগুলোর বিরোধিতা, ইউরোকেন্দ্রিক সংস্কৃতির মহা-আখ্যানসমূহ চূর্ণ করার বাসনা।

আধুনিকতা ও ইউরোকেন্দ্রিক সংস্কৃতির বিরোধিতায় এমন ইঙ্গিত নেই যে, কেন্দ্র ভেঙ্গে পড়ার পর উপনিবেশের মানুষদের ঐতিহ্যের খোঁজ করতে হবে এবং তাদের আত্মপরিচয় নির্ধারণ করতে হবে। এই তাগিদ উত্তর-উপনিবেশবাদের। আধুনিকতা ইউরোপের জিনিষ। দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া ভাবুকদের একদলের বিদ্রোহী ভঙ্গিটাকে উত্তরাধুনিকতা বলা যেতে পারে।

নিটশের ভাবনাকে খুব মূল্যবান মনে করেন উত্তরাধুনিকেরা। কিন্তু নিটশে উত্তর-উপনিবেশবাদের প্রেরণার জায়গা হতে পারেন না। আমাদের প্রেরণা খুঁজতে হবে ঐতিহ্যের মধ্যে। জ্যাক দেরিদাকে মনে করা হয় উত্তরাধুনিক ভাবনার অন্যতম মুখ্য উদ্দীপক ব্যক্তিত্ব। দেরিদার কাছে রচনাই আসল বস্তু, রচয়িতা বা লেখক এবং ক্ষমতার বিন্যাসে লেখকের অবস্থানকে গুরুত্ব দেন না তিনি। উত্তর-উপনিবেশবাদী ভাবুকের কাছে রচনা ও লেখক দুটোরই গুরুত্ব আছে: লেখক কী বলেন তা যেমন জানতে হবে, তেমনি জানা দরকার তিনি কেন বলেন এবং কোন প্রভাব বলয়ের আওতায় থেকে বলেন। ক্ষমতার বিন্যাসে লেখকের অবস্থান এবং তার লেখার পেছনের সক্রিয় ক্ষমতার কাজ পড়তে না জানলে সেই লেখার পেছনের রাজনীতিটা বোঝা যাবে না। তাহলে টেক্সট বা রচনার সারকথা অধরাই থেকে যাবে। এ জন্যই পশ্চিমের টেক্সটে দেরিদার অবিনির্মাণ প্রয়োগ করলে ইউরোকেন্দ্রিকতা ভেঙ্গে পড়ে। একই কৌশল যদি আমাদের রচনায় প্রয়োগ করি তাহলে যেখানে পৌছাবো তা আসলে উপনিবেশের জ্ঞান ও তার ‘বানানো সত্য’। উত্তরাধুনিক ভাষাচিন্তায় শব্দের খেলা, শব্দব্যবহারে ক্রীড়াময়তা, যা নৈরাজ্যও গড়াতে পারে; ওখানে অর্থ নিয়ে হেঁয়ালীপনা করার প্রবণতাও জোরদার। কিন্তু উপনিবেশী প্রভাব দূর করার জন্য ভাষায় আমাদের ঐতিহ্য বহনের সামর্থ ও দরদ থাকতে হবে, যে স্বাভাবিক সামর্থ্য নানাভাবে নষ্ট  করা হয়েছে। কাজেই এখানে উত্তরাধুনিক ভাষাচিন্তা সরাসরি উত্তর-উপনিবেশবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যায়। এমন লক্ষণ এখনই আমাদের সৃষ্টিশীল সাহিত্যে ফুটতে শুরু করেছে। লিওতারের উত্তরাধুনিক ভাবনায় বুদ্ধিজীবীদেরও দিন শেষ, তাদের আর বিশেষ কোন কাজ নাই। উত্তর-উপনিবেশী চিন্তা-ভাবনায় বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা জরুরী; সেই ভূমিকা আত্মপরিচয় অর্জনের জন্য। উপনিবেশী সংস্কৃতি ও জ্ঞানের প্রভাব দূর করার কাজে বুদ্ধিজীবীকে বাইরে রাখার প্রশ্নই আসে না। বরং বি-উপনিবেশনের প্রথমপর্বে বুদ্ধিজীবীদের কাজই গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত