| 15 এপ্রিল 2024
Categories
ধারাবাহিক

ইরাবতী ধারাবাহিক:ফুটবল (পর্ব-১৬) । দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

অষ্টম শ্রেণির দুই বন্ধু রাজ আর নির্ঝর। রাজ আর অনাথ নির্ঝরের সাথে এইগল্প এগিয়েছে ফুটবলকে কেন্দ্র করে। রাজের স্নেহময়ী মা ক্রীড়াবিদ ইরার অদম্য চেষ্টার পরও অনাদরে বড় হতে থাকা নির্ঝর বারবার ফুটবল থেকে ছিটকে যায় আবার ফিরে আসে কিন্তু নির্ঝরের সেই ফুটবল থেকে ছিটকে যাবার পেছনে কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় নির্ঝরের জেঠু বঙ্কু। কখনো বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বঙ্কু ও তার ফুটবলার বন্ধু তীর্থঙ্করের বন্ধুবিচ্ছেদ। কিন্তু কেন? সবশেষে নির্ঝর কি ফুটবলে ফিরতে পারবে? রাজ আর নির্ঝর কি একসাথে খেলতে পারবে স্কুল টিমে? এমন অনেক প্রশ্ন ও কিশোর জীবনে বড়দের উদাসীনতা ও মান অভিমানের এক অন্য রকম গল্প নিয়ে বীজমন্ত্রের জনপ্রিয়তার পরে দেবাশিস_গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন কিশোর উপন্যাস ফুটবল আজ থাকছে পর্ব-১৬।


 

 

চারটে নাগাদ রাজদের স্কুল ছুটি হল। রাজ বাইরে এসে দেখল মা অপেক্ষা করছেন।আজ আর তাদের প্র্যাকটিশ হবে না। স্যার আগেই বলে দিয়েছেন।মা তাকে দেখে বললেন,”কিরে? কেমন হল?”

“দারুন।“

“অনেক দেশের কথা জানতে পারলি?”

“ভাবা যায় না মা ! কখনও গভীর জঙ্গল ক্রশ করেছেন। বিহার  উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র  পাঞ্জাব সব ঘোরা মা। কোথাও বড় বড় পাহাড় ,কোথাও নদী। উফ! কত কি যে দেখেছেন! রাতে কোথায় থাকত বল তো?”

“কোথায়?”

“থানায়। অথবা  কারুর বাড়িতে। আবার  এমন হয়েছে কোথাও আবার জায়গাও পান নি। গাছতলায় শুয়ে রাত কাটিয়েছেন।কি জীবন বল মা!”

“হুম!”

“উনি আবার একটা কাজও করেন।  পরিবেশ। সাইকেল চালিয়ে চারদিকে পরিবেশ বাঁচানোর কথা বলেন। প্ল্যাস্টিক বর্জনের কথা বললেন।“রাজএকনাগাড়ে অনর্গল কথা বলে যেতে লাগল। কিছুক্ষন পর তার মনে হল আজ মা রয়েছেন তার সঙ্গে। একটা কিছু  খাওয়া যেতে পারে।সে নিজের বক্তৃতা থামিয়ে মাকে বলল,” কিছু খাবো তো?”

“এখন আবার কি খাবি?”

“একটা অন্তত আইসক্রিম কিনে দাও!”

 স্কুলের সামনে গাড়ি নিয়ে আইসক্রিম বিক্রি করে রামুজেঠা। রাজ তার কাছে গিয়ে বলল, “একটা ভ্যানিলা দাও তো?”

“একটা না দুটো নে।“

“তুমি খাবে?”

“না।“

রাজ বুঝল এটা নির্ঝরের জন্য নিতে বলছে মা। রামজেঠুর কাছ থেকে দুটো আইসক্রিম নিল রাজ। তারপর বলল,-“ চল।“

  মা বললেন, “চল। এগো।“

রাজ মাথা নাড়াল। কিছুটা ঘুরে সে দেখল মা ধীরে ধীরে সাইকেল চালিয়ে আসছেন।এসব রাস্তা মায়ের চেনা। মা  এ অঞ্চলেরই মেয়ে। রাজ একটু এগিয়ে   বনমালী ঘোষ রোডের কাছাকাছি চলে এল। এর পর সোজা যেতে হবে। তারপর কিছুটা দুর যাবার পর দুটো  গলি আছে। এরমধ্যে কোন একটায় নির্ঝরদের বাড়ি। কোন গলিটা তাই এখনরাজের চিন্তা। নির্ঝরের সাথে সে মোটে একবার এসেছিল। দেখা যাক। কতটা সে মনে করতে পারে।

হাইরোড পর্যন্ত রাজ দিব্যি এল। মায়ের জন্য সে দাঁড়াল। সিগন্যাল গ্রিন দেখার পর দুজন মিলে ক্রশ করে এপার এল।

 মা  বললেন, “এবার?”

রাজ বলল, “ওই যে সামনের গলিটা।“ বলল কিন্তু তার গলায় জোর ফুটল না।

 গলিটার মুখে এসে মা সাইকেল  থেকে নামলেন। চারদিকে চোখ বুলিয়ে বললেন, “তুই চিনিস তো। এগো।“

“এক সেকেন্ড দাঁড়াও। এই গলিটা কি! ওর সামনে দিয়ে গলিটায় একটা মোবাইলের দোকান ছিল। ওইদিকটা দেখে আসি।“

মা দাঁড়িয়ে রইলেন। রাজ ওদিকটা দেখে এসে তাকে বলল,” এসো। ওই গলিটা।“

“ঠিক?”

“মনে হচ্ছে।“

গলিটায় ঢুকে  রাজ চারপাশ দেখতে দেখতে এগোল। একটা কুমোরবাড়ি আছে, বনবন করে চাকা ঘুরছে।পাশে তৈরী হয়ে  আছে  মাটির ভাঁড়। রাজের মনে পড়ল  এবার জায়গাটা সে চিনেছে। এর একটু পরেই নির্ঝরদের বাড়ি। সে  ফরফরে নিঃশ্বাস ফেলে বলল,”হ্যাঁ। মা ঠিক জায়গায় এসেছি। ওই যে বাড়ি গুলো দেখা যাচ্ছে ওখানেই।“

“আচ্ছা! চল।“

  একটু এগিয়েই রাজ  রাস্তাটা চিনে ফেলল। রাস্তার ধারে সে সাইকেল থামিয়ে বলল, “মা এসে গেছি।“

“কোথায়?”

“ওই যে!”রাজ আঙুল তুলে দেখাল।

গলিটা যেখানে থেমেছে , তার ধার দিয়ে একটা সরু পথ। পথের পাশে পরপর কটা ঝুপড়ির মত বাড়ি।এর কোনও একটায় নির্ঝর থাকে। মা সেদিকে তাকিয়ে সাইকেল রেখে বললেন, “ তুই গিয়ে  ডাক ওকে।“

“তুমি ভেতরে ঢুকবে না?”

“তুই ডাক না।“

রাজ ইতস্তত করে এগিয়ে গেল। তিন নম্বর বাড়িটার সামনে গিয়ে সে “নির্ঝর” বলে হাঁক মারল। দরজা বন্ধ। ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ  পাওয়া গেল না। মাকে সে মাথা নাড়িয়ে জানাতে যাবে কেউ নেই, সেসময়ই দরজা খুলে বাইরে এলেন নির্ঝরের জেঠু।দেখেই বোঝা যাচ্ছে এতক্ষন ঘরে বেহুঁশের মতো ঘুমোচ্ছিলেন। চোখ কচলাতে কচলাতে নির্ঝরেরজেঠু বাইরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “কি হয়েছে?”

রাজ জিজ্ঞেস করল, “ নির্ঝর আছে?”

জেঠু ঠোঁট বেঁকিয়ে বললেন,- “না।“

“আচ্ছা। ও কোথায়?”

“কেন? কি দরকার। বললাম তো নেই।“

রাজ দেখল জেঠু খুব তিরিক্ষি মেজাজে উত্তর দিচ্ছেন।একটু ভয় ভয়ও লাগছে তার। সে একটা বুদ্ধি বার করল। সে ধাঁ করে বলল,“ স্যার খোঁজ নিতে পাঠিয়েছেন। স্কুলে যাচ্ছে না। এদিকে তিনদিন পর স্কুলে প্রজেক্ট আছে।“

জেঠু তা গ্রাহ্য করলেন না। তিনি অবজ্ঞার সুরে বললেন, “ও অনেকদিন ফিরবে না।“

রাজের বুক ধড়াস ধড়াস করল।যাহ! নির্ঝর ফিরবেই না! প্রজেক্টের থেকেও ওর খেলার কথা ভেবে তার কষ্ট  হল। নির্ঝর কোথায় গেছে তা ভয়ে আর দ্বিতীয়বার জিজ্ঞেস করতে পারল না। সে মাথা নাড়িয়ে বলল, “ও।“


আরো পড়ুন: ফুটবল (পর্ব-১৫) । দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়


জেঠু আর কোনো কথা বললেন না।  দুম করে দরজাটা বন্ধ করে দিলেন।রাজ একবার স্তম্ভিত হয়ে চেয়ে রইল। তারপর মাথা নীচু করে ফিরতে লাগল।নির্ঝরের জন্য তার খুব  কষ্ট হচ্ছে। সে এখন কোথায় জানে না। তবে ওর সাথে তার মনে হয় কোনদিন দেখা হবে না।মুখ কালো করে সে মায়ের কাছে ফিরে এল।

মা বললেন,“খবর পেলি?”

রাজ একবার তাকাল। তারপর মা-কে সে তার অভিজ্ঞতার কথা জানাল।

মা শোনার পর বললেন,“সে কি রে! তুই জিজ্ঞেস করবি না কোথায় গেছে?”

রাজ নিরাশ হয়ে বলল,“কতবার জিজ্ঞেস করব। ভাল করে উত্তরই দেয় না।“

মা বললেন,“তাহলে যাবে কোথায় ছেলেটা? ওর রিলেটিভ আছে জানিস?

রাজ বলল,“মামা আছে শুনেছি। কোথায় থাকে জানি না।“

মা মুখ গম্ভীর করে কিছু একটা ভাবতে লাগলেন।

“জানো মা?”

“কি?”

“আমার কি মনে হয় বল তো মা এই লোকটা নির্ঝরকে কোথাও বিক্রি করে দিয়েছে।“

মা চমকে উঠে বললেন,” কি বলছিস?”

“হ্যাঁ। মা। এইরকম কিছু একটা হয়েছে।লোকটা বদমাইশ।কত ঘটনা শোনো না।“

মা  দ্বিধার স্বরে বললেন,“হ্যাঁ। হয়।“

“তাহলে কি করবে মা?”

 মা অন্যমনস্ক গলায় বললেন,“হু!”

রাজ ব্যগ্রস্বরে বলল,“পুলিশে যাবে মা?”

মা তার দিকে বিরক্তের চোখে তাকালেন। রাজ বুঝল মায়ের পছন্দ হয় নি কথাটা। কিন্তু তার মন থেকে সন্দেহটা গেল না। নির্ঝরের জেঠুর হাবভাব তার মোটেই পছন্দ হয় নি।কিছু একটা লুকিয়ে গেল মনে হয়। আশেপাশে দু-একটা পরিবার রয়েছে। ওদের জিজ্ঞেস করলে হয়? ওরা কিছু না কিছু জানে। সে বলল,“পাশের বাড়িতে জিজ্ঞেস করব?”

“না।“

রাজ চুপ করে গেল। মা কি যেন ভাবছেন।হয়ত ফিরে যাবার কথা বলতে পারেন।এমন ঝুট-ঝামেলায় যেতে তাঁর মন চাইছে না। মায়ের ব্যাগে রাখা  আইসক্রিমটা এখন গলে জল হয়ে গেছে। ওটা খেয়ে নেবার কথাও তার একবার মনে হল। কিন্তু মুখে সে বলতে পারল না। সে একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল,“ চল। ফিরি।“

 মা চারদিকটা একবার দেখলেন। তারপর সাইকেল স্ট্যান্ড করে বললেন, “দাঁড়া। আমি একবার কথা বলে আসি।“

রাজ চমকে উঠে বলল,“ লোকটা কিন্তু খুব ডেনজার মা। নির্ঝর নেই যখন আর গিয়ে কি হবে?”

মা হাসিমুখে বললেন,”দিনদিন ভিতু হয়ে যাচ্ছিস কেন? ভাই বলছিল রাতেও নাকি খুব ভয় পাস।“

“মোটেও না!”

“ভাই যে বলল। তুই একা শুতে পারিস না?“

রাজ প্রাণপন অস্বীকার করে বলল,”মোটেই না। ছোটমামা বানিয়ে বলেছে।“

মা বললেন, ”তাহলে কদিন আগে ভাই ছিল না। একা শুতে চাইলি না কেন?”

রাজ অন্যদিকে মুখ ঘোরাল। মা মুখ টিপে হাসছেন। ঠিক কথা। রাতে  একা থাকলে তার অস্বস্তি হয়। আসলে রাজের ঘরটা  একদম শেষে। বাবামায়ের ঘর থেকে একটু আলাদা। চারদিক অন্ধকার হলে রাজের কেমন একটা লাগে।ছোটমামা থাকলে সমস্যা নেই।কিন্তু  ছোটোমামা না থাকায় তার অসুবিধা হয়ে গেছিল। ছোটমামা দুএকদিনের জন্য বাড়ি গেছিলেন।পড়তে পড়তে কাজ মেটার পর সে দেখল মা -বাবার ঘর অন্ধকার, তারা ঘুমিয়ে পড়েছেন।তার বুকটা ছাৎ করে উঠল। আর পড়ায় মন বসল না। জানলার ধারে সেই পুরানো কলাগাছগুলোকে আবার তার মনে হতে লাগল ওর পেছনে কে যেন বসে আছে! সে প্রাণপণ ভুলে যেতে চাইল। ঠিক সে সময়ে ছাদ থেকে বা বাইরে থেকে ধুপ-ধুপ আওয়াজ হল। রাজ ভয় পেলেও  মনকে স্বান্ত্বনা দিয়েছিল। এসব শব্দ স্বাভাবিক, রাতে খুব সামান্য শব্দও  জোরে শোনায়।

 রাতটা খুব কষ্ট করে কাটিয়েছিল রাজ। পরের দিন সে বলেছিল সে একা শোবে না।যদিও সে কারণ বলে নি। তবু মা ঠিক বুঝেছেন। তাকে কথাটা বলে লজ্জায় ফেলে দিলেন। কিন্তু রাজছাড়ার পাত্র নয়। সে বলল, “ও কথা বাদ দাও। আমি সত্যি বলছি তুমি যেও না। লোকটা ভাল নয় মা। ধরো ওর হাতে যদি কোনো অস্ত্র থাকে।“

মা বললেন, “ ডিটেকটিভ বই পড়া একটু কমা রাজ। চুপ কর। আমাকে যেতে দে। আর শোন তোর মাকে তুই কি ভাবিস? আমাকে মারবে? এত সাহস!”

রাজ জানে মায়ের সাহসের কথা! ছোটমামা ,দিদু-দিদার কাছেও সে গল্প শুনেছে অনেকবার। মায়ের বিরাট সাহস।একবার নাকি  দাদুর বাড়িতে  চোর হানা দিয়েছিল।মা চোরটাকে জাপটে ধরে ফেলেছিলেন। চোরটা মায়ের হাত ছাড়াতে পারে নি।সুতরাং মা যে ঘাবড়ে যাবেন না সে জানে।

সাইকেলটা স্ট্যন্ড করলেন মা। সালোয়াড় কামিজের ওড়নাটা কোমরে বেঁধে মা হনহন করে সামনে এগোলেন। রাজ আর কি করে! সেও পেছন পেছন দৌড়াল। চারদিক তাকিয়ে ওর মনে হল একটা লাঠি পেলে ভাল হত। নির্ঝরেরজেঠু যদি বাড়াবাড়ি করতে চান সেও ছাড়বে না।

মা বললেন, “কোন বাড়িটা?”

রাজ দেখাল।

মা এগিয়ে গেলেন।রাজের বুক ধুকপুক করল।বাবার কথাই ঠিক মনে হল তার।  যে কোন ব্যাপারেই মায়ের এগিয়ে যাওয়া স্বভাব।বাবা মাকে সবসময় বারণ করেন। এখন মনে  হল ঠিকই করেন বাবা।

মা একবার দরজা ধাক্কা দিয়েছেন। জেঠু বেরোন নি। মা তার দিকে  একবার তাকালেন।সাড়া না দিলে কি আর করার আছে? রাজ ভাবে! এমনও হতে পারে  জেঠু ইচ্ছে করে দরজা খুলছেন না।

আরো একবার ধাক্কা দিতেই ঘর থেকে  একটা বিরক্তির আওয়াজ শোনা গেল।নির্ঝরের জেঠু চিৎকার করে বললেন, “কে রে?”

মা ইশারায় রাজকে কথা বলতে বললেন। রাজ বলল,” আমি।“

“আমি কে?”

রাজ বলল” আমি সৌম্যজিত।নির্ঝরের বন্ধু।“

“ও নেই। যতসব! নির্ঝরের বন্ধু। এই তো একজন ডেকে গেল! আবার!”

 তার কথাই  উনি  বলছেন কিন্তু গলা চিনতে পারেন নি। সে বলল,“একটু খুলুন না জেঠু। দরকার আছে।“

কিছক্ষন সাড়াশব্দ নেই। রাজ মায়ের দিকে তাকাল। মা তাকে ধৈর্য দেখাতে বলছেন। ইশারায় শান্ত থাকতে বলছেন। বন্ধ দরজার দিকে চুপ করে সে তাকিয়ে রইল। একটু পরে দরজা খোলার শব্দ হল।  রাজ  একটু দুরে সরে দাঁড়াল। কে জানে কেমন ভাবে আছেন! আবার তাকে দেখে হয়ত তেলেবেগুনে জ্বলে উঠবেন।

 জেঠু দরজা খুললেন,আগের মতোই চোখ কুঁচকে।এবার তাকে চিনতে পারলেন।তার দিকে  তাকিয়ে বললেন, “আবার! এই তো এলি তুই?”

“না।মানে।“

জেঠু তেড়েফুঁড়ে কি যেন বলতে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ চোখ ঘুরিয়ে মাকে দেখতে পেলেন।একটু অবাক  হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, “  আপনি?”

“নমস্কার। আমি সৌম্যজিতের মা।“

“হু! তা কি ব্যাপার! ও নেই তো।“

মা পায়ে পায়ে  কিছুটা এগিয়ে এলেন। নির্ঝরের জেঠুর মুখের  দিকে কিছুক্ষন চেয়ে রইলেন। তারপর  উত্তেজিতস্বরে বললেন, বঙ্কুদা না?”

 জেঠু হতবুদ্ধি হয়ে পড়লেন। মায়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কে?”

“চিনতে পারছ না?”

কিছুক্ষন ভ্রু-কুঁচকে তিনি দেখলেন । তারপর বললেন,“ইরা?”

“যাক চিনেছ!”

“তুই এখানে? কি ব্যাপার?”

“বলছি। ঘরে ঢুকতে দেবে না?”

“আয়।“

রাজ হাঁ হয়ে সব কথা গিলছে। নির্ঝরের জেঠুকে মা চেনেন?  কি যেন নাম বললেন? বঙ্কুদা! তার নামটা চেনা চেনা লাগছে। কে যেন বলেছিল? সে মনে করার চেষ্টা করে।

 

 

 

 

2 thoughts on “ইরাবতী ধারাবাহিক:ফুটবল (পর্ব-১৬) । দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

  1. 13 থেকে 16 এক সঙ্গে শেষ করলাম। শেষে আবার রহস্যের গন্ধ। চনমনে হয় উঠল মন। অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের।

  2. 13 থেকে 16 এক সঙ্গে শেষ করলাম। শেষে আবার রহস্যের গন্ধ। চনমনে হয়ে উঠল মন। অপেক্ষায় রইলাম পরের পর্বের।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত