| 19 জুন 2024
Categories
শিশুতোষ

শিশুতোষ গল্প: বাবার পতাকা । সাজ্জাদ সাঈফ

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
শাপলা কুড়াতে কুড়াতে সকাল গাঢ় হয়ে আসে। তমালের সব কিছুতেই ঝোঁক। মায়ের কাছে খালার কাছে ভাবীর কাছে বায়নাও ম্যালা। তবে সকলের ভালোবাসাও জুটে যায় তার।
 
বাবার নামাজের ঘরটা খোলা দেখে ঐদিকে পা বাড়ায় তমাল। মাকে দেখা যাচ্ছে না আশেপাশে। ভিটাঘরের পিছন থেকে গাঢ় ছায়া দিচ্ছে বাবার হাতে লাগানো জলপাই গাছ। এই ছায়া ধরে ধরে উঠানে চক্কর দেয়ার খেলাটা খুব প্রিয় তার। সেই হাঁটা শেখার বয়স থেকে এই ছায়াহাঁটা অভ্যাস করিয়েছেন মা।
 
মায়ের সকল গল্পের মুখে দাঁড়িয়ে থাকে এই গাছ, এর শেকড় ছুঁয়ে শুয়ে আছে তমালের বাবা। মায়ের সকল গল্প বাবাকে ঘিরে শীতে গ্রীষ্মে কুয়াশা ও বসন্তে আবর্তিত হয়।
 
– বাবা ছিলেন স্কুল মাস্টার, শিশুদের নিয়ে অবসর কাটাতে ভালোবাসতেন, সকলকে আঁকা ও লেখা শেখাতেই তার ছিল যত আনন্দ।
 
বাবার ঘরের দিকে যেতে যেতে সব ভাবনায় একবার ঘুরে এলো তমাল, মায়ের ফোঁপানির শব্দ টের পায় সে। তার সবদিকে ঝোঁক। দ্রুত হাঁটে সে। বাবার লাগানো জলপাই গাছের ছায়া ধরে। ভয়ে ভয়ে চৌকাঠ পেরিয়ে ঘরে ঢোকে সে। একটা ছোট ট্রাঙ্ক খুলেছেন মা। কি একটা খাতা জড়িয়ে কাঁদছেন।
 
মাকে হতভম্ব করে খাতাটা কেড়ে নিল তমাল, অনেকটাই ছেড়া। কয়েক পৃষ্ঠা জুড়ে মানচিত্র খচিত পতাকা, রক্তের ছোপ ছোপ দাগ। তমাল জানে এই পতাকা মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের পতাকা।
 
মা হতচকিতের মতো চেয়ে থাকে তার দিকে।
 
তমালের বাবা শাহেদ মাস্টার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে গ্রাম ছেড়ে যাননি। পাঠশালা খুলেছেন। শিশুদের জন্য পতাকার পর পতাকা এঁকেছেন। পাক কমান্ডার এই সংবাদ পেয়ে ছুটে আসে গ্রামে। বাবাকে নেওয়া হয় ক্যাম্পে। জিজ্ঞাসাবাদের পর আবার বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে।
 
বাবার খাতাসহ টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয় জলপাই গাছের নিচে।
 
ফায়ার করা হয় তাকে নির্মমভাবে, মা মূর্ছা যান তখনই।
 
সব কথা শোনার পর মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলে তমাল ও। এমন পিতার ছায়া ধরে ধরে দেশাত্মবোধের অনন্ত পথ চলায় এই জননীই যে তার একমাত্র অবলম্বন।
error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত