| 1 মার্চ 2024
Categories
ইরাবতী তৃতীয় বর্ষপূর্তি সংখ্যা

তৃতীয় বর্ষপূর্তি সংখ্যা কবিতা: দ্রাঘিমালন্ঠন । সাজ্জাদ সাঈফ

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট
দ্রাঘিমালন্ঠন-১১
 
স্পর্শের বাইরে থেকে ডাকে অতুল কুহক!
 
রহস্য থেকে যায় যাপনবৃত্তে, রহস্য কি রাবার নাকি?
আগ্রহের টান পেয়ে কেন্দ্রীভূত হয়?
 
যেন এক নিশিতোয়া গাছ, পাতাদের ডেকে কথা বলে ঝুম-
 
কাছেই হাসপাতাল, জন্মকে ভাষা দেয় নবজাতকের চিৎকার; আরও উঁচুতে মেঘ, উঁচুতে পাখনা মেলা গান; মেঘেরাও নাকি এম্বুলেন্স, পেটে করে নিয়ে যায় অসুখী বাতাস, পুত্রের অসুখ থেকে ঝরে ঘাম আর অবিরাম কাশির দমক নীল!
 
 
 
 
দ্রাঘিমালণ্ঠন-১২
 
এত জোরে বৃষ্টি হচ্ছে আর তোমার ভিতর শব্দ করে আছড়ে পড়ছে গাছেরা একে একে এর কিছুই আমাকে জাগাতে যথেষ্ট নয় জেনে এক কাঠবিড়ালির হাঁটার আওয়াজ নিয়ে চোখে আটকায় নিকট অতীত। এই যে জন্ম ও জন্মতিথির তারা, তোমাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে আর আকাশ হতে ছুরিকাঘাত নেমে আসে বজ্রধ্বনিতে এর কিছুই গ্রন্থে ছিলো না লেখা, তবু এইসব দুয়ার ও দক্ষিণে কবি এক অতীন্দ্রিয় রুহ, তোমার ভিতর জেগে থাকা ধূসর সব ক্ষতের কিনারে থেমে বাদ্যযন্ত্রে জিকির তুলছে ক্রমে, এত জোরে বৃষ্টি হচ্ছে, এতসব বিদীর্ণ হর্ন চারধারে যে নভোরক্তিম কন্ঠস্বর আমরা কেউই শুনতে পাচ্ছি না আজকাল।
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-১৩
 
এখন খুবই হালকা স্বরে লিখি, হৃদয় যেখানে হেরাগুহাকে মান্য করে হাটু মুড়ে বসে গেছে পথে আজ সেখানে ঝড়ের পূর্বাভাস। এখন অতীত এসে কাছে বসে, অনেকক্ষণ গল্প করে যায়। আর যারা খুশিমুখে উদযাপন করছে আমার থমকে যাওয়াকে তারা কেউ কেউ লিখে রাখছে সব।
 
একদিন পৃথিবীর দিকে মুখ করে শিশুর মতন জেদ নিয়ে লিখে গেছি অনন্তস্বর, এখন ঘাড় মুষড়ে গেছে, সিনা থেকে নেমে গেছে উদ্যম। একটা উজ্জীবিত আকাঙ্ক্ষা সামনে রেখে অনেক লিখেছি ধুলি ও দন্ত্যন, তারপর সময়কে ঘুমিয়ে পড়তে দেখে কদাচিৎ বিশ্রাম নিয়েছি। এখন আর নামতার সুর নেই, ভিড় কমছে তোমাদের, আর তোমাদেরই খোশ গল্প হতে অন্যত্র লাফিয়ে যাচ্ছে ঈশপের খরগোশ।
 
 
 
দ্রাঘিমালণ্ঠন-১৪
 
এইভাবে কোনও কোনও রাতে
দ্রাঘিমালণ্ঠনে আলোকিত হয় সম্পর্কের ঝাড়!
 
সুদূর বনানী জ্বেলে এক পরাহত জোছনার মুখ
উজ্জ্বলতর, এইভাবে গোপন দরোজা খুলে
বেড়িয়ে পড়েছে রাত, ক্ষীণ স্বরে গায় অন্তিম ব্যাঞ্জনা!
 
আর এইদিকে স্মৃতির বাগান পেয়ে
পালকঝরা পাখির ফোঁপানো মুখ অবিকল রক্তবর্ণ লাগে-
 
যেনো তুমি অপাপবিদ্ধ কেউ, অচেনা সবুজবীথি
কুড়াতে এসেছো গাঁয়ে!
 
অথচ কটুক্তিকে অধ্যাদেশ ভ্রম হয়, কেউ যেচে আরতিভ্রষ্ট করে তোমার, যেন-বা খল মেঘে ছেয়ে আছে ঘর, চেনা অক্ষর!
 
 
দ্রাঘিমালণ্ঠন-১৫
 
ছায়া ভরে আছে মিষ্টি বাতাসে-
ও’তে ভর করি নিরঙ্কুশ, করোটি জাগিয়ে রাখি নীল নিদ্রার ধারে, কঙ্করে!
 
যে কোনো প্রতিশ্রুতি তারকাখচিত জামা, ঝলমলে আর খুব সতর্কতাকে চায়!
 
হেঁটে আসে অবগাহনের কাল, অস্তিত্বের টিমটিমে আলো নিয়ে যতখানি হাঁটা যায়; ঘুমের ভেতর জলে ভর্তি দ্বিধার নদী বয়, উথাল পাথাল ডাকে।
 
সমস্তই প্রেতপরিহাস।
জ্যোতিরাডারের নীচে সবটাই উড়ুক্কু মাছের খেলা।
পাতা ওল্টানোর শব্দমাত্র বই থেকে মধু ও ময়ূরের চোখ
গভীর অরণ্যে জ্বলজ্বল করে।
 
 
 
 
দ্রাঘিমালণ্ঠন-১৬
 
এই যে ঘুরে বেড়াচ্ছে শিস, পাখিদের গতজন্ম, মেঘশিকারী ঠোঁটের পাখিরা তোমাকে চেনে? আগজন্মের ডানা?
 
আর তুমিই বা কেমন হাভাতের মতো চাও
শরতগুল্মের ছোঁয়া, পারাবত ঘূর্ণি, যেদিকে চোখ যায়
পাতাবাহারের ধারে ঘর, ঠুমরি বাজছে কারো অশান্ত মগজে আজ, স্নেহ চাও তুমি? নৈরিৎ কাঞ্চন?
 
তোমাকে হীরণ বর্তুলে কেউ ফেলে গেছে নাকি প্রেম?
চারিদিকে ঠাট্টার‌ সমাবর্তন, কোনদিকে যাবে তুমি?
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-১৭
 
আমাকে স্বপ্নের ভিতর থেকে নাম ধরে তুমি ডাকবে
এরকম তুচ্ছ চাওয়াকে বুকে নিয়ে ঘুরছি মেঘ ও মন্ত্রমুগ্ধতায়!
 
ঈর্ষা করার মতই সুনীল চাহনী তোমার
আর সেই চাহনীর সাঁকো পার হয়ে
একটা গোলগাল সবুজ মাঠের দিকে
যাত্রা আমার!
 
সেখানে দাড়িয়াবান্ধা খেলে আমাদের শিশুকাল, যেন ভারতচন্দ্রের জীবনী থেমে একদৃষ্টে চেয়ে আছে সেইদিকে!
 
আমি তত স্বপ্ন দেখছি না আজকাল, তত লিখতে পারছি না আম্মাকে নিয়ে টিকিটবিহীন স্মৃতিযাত্রার গল্প।
 
অথচ তুমি ডাকবে বলে সমস্ত আভিজাত্য হেলায় ফিরিয়েছি। সবুজের সান্ত্বনা বুকে, পেলেপুষে রেখেছি একটা জীবন!
 
 
 
 
দ্রাঘিমালন্ঠন-১৮
 
সাধুপুরুষের করাতকাটা মুন্ডু তুলে ঘাতকেরা উল্লাস করবে যেদিন, বড় ভয়ে ভয়ে হিস্টিরিয়া দেখা দেবে দর্শকের, সারা দেশ হবে বধ্যভূমির খাতা, লেখা হবে মৃতের কবিতা লাল।
 
যেইভাবে হেলানো দুনিয়া লোরকাকে সাধে বুলেটের ঝিরি, যেই হাতে চুমু খেয়ে হাসে ঘাতক জুডাস, তাদের দিকে চেয়ে নিজে খুলে দেয় আকাশ দুয়ার নিজের, যেন এই পথে যীশু ফিরবেন।
 
গোটা পৃথিবীটা ঝানু সীমারের হাত
সেই হাতে হোসেনের খুলি, রক্তস্নাত;
সে-ই থেকে বুকে উৎপাত করে খুনীর চোয়াল!
 
সে-ই থেকে চতুর এজিদ
ভোল পাল্টিয়ে গায় গণতন্ত্র!
 
সেই গানে ধুয়ে ভেসে যাবে নাকি মানুষের কীর্তি?

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত