| 30 মে 2024
Categories
অনুবাদ অনুবাদিত গল্প ধারাবাহিক

অসমিয়া অনুবাদ: রক্তের অন্ধকার (পর্ব-১৫) । ধ্রুবজ্যোতি বরা

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

ক্টর ধ্রুবজ্যোতি বরা পেশায়  চিকিৎসক,অসমিয়া সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য লেখক ২৭ নভেম্বর ১৯৫৫ সনে শিলংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীবরা ছাত্র জীবনে অসম্ভব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ‘কালান্তরর গদ্য’ ,’তেজর এন্ধার’ আরু ‘অর্থ’ এই ত্রয়ী উপন্যাসের লেখক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ২০০৯ সনে ‘ কথা রত্নাকর’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য আকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাকি উপন্যাসগুলি ‘ভোক’,’লোহা’,’যাত্রিক আরু অন্যান্য’ ইত্যাদি। ইতিহাস বিষয়ক মূল‍্যবান বই ‘রুশমহাবিপ্লব’দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ’,’ফরাসি বিপ্লব’,’মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ’। শ্রীবরার গল্প উপন্যাস হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা, মালয়ালাম এবং বড়ো ভাষায় অনূদিত হয়েছে।আকাডেমিক রিসার্চ জার্নাল’যাত্রা’র সম্পাদনার সঙ্গে জড়িতরয়েছেন।’ কালান্তরর গদ্য’ উপন্যাসের জন্য ২০০১ সনে অসম সাহিত্য সভার ‘ আম্বিকা গিরি রায়চৌধুরি’ পুরস্কার লাভ করেন।শ্রীবরা অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি। 


অনুবাদকের কথা

আলোচ‍্য উপন্যাস ‘রক্তের অন্ধকার'(তেজরএন্ধার) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ উপন্যাস। এটি লেখার সময় কাল ২০০০-২০০১ ছিল অসময়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্যোগের সময়। সেই অশান্ত সময়ে, আমাদের সমাজে, আমাদের জীবনে এক দ্রুত অবক্ষয়ের স্পষ্ট ছাপ পড়তে শুরু করেছিল। প্রতিটি অসমিয়াইমর্মেমর্মে   একথা উপলব্ধি করে ভেতরে ভেতরে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। রাজ্যের চারপাশে দেখা দেওয়ানৈরাজ্যবাদী হিংসা কোনো ধরনের মহৎ রূপান্তরের সম্ভাবনাকে বহন করে তো আনেই নি, বরঞ্চ জাতীয় জীবনের অবক্ষয়কে আরও দ্রুত প্রকট করে তুলেছিল। আশাহীনতা এবং অনিশ্চিয়তায় সমগ্র রাজ্য ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই যেন থমকে যেতে চায় কবির  কবিতা , শিল্পীর তুলি, লেখকদের কলম। তবে একথাও সত্যি যে শিল্পী-সাহিত্যিকরা সচেতন ছিলেন যে সমাজ জীবনের ভগ্নদশা’ খণ্ডহর’এর মধ্যে একমাত্র ‘সৃষ্টি’ই হল জীবন এবং উত্তরণের পথ। এই বিশ্বাস হারানোর অর্থ হল মৃত্যু । আর এই বিশ্বাস থেকেই সেই সময় লেখক লিখেছিলেন কালান্তর ত্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব – রক্তের অন্ধকার ।

এবার উপন্যাসটির বাংলা অনুবাদ নিয়ে এলাম। আশা করি ইরাবতীর পাঠকেরা এই ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত অসাধারণ উপন্যাসটিকে সাদরে বরণ করে নেবেন ।নমস্কার।

বাসুদেব দাস,কলকাতা।


কোথায় গেল? কোথায় গেল ছেলেটা?

চোখের সামনে কোথায় নাই হয়ে গেল? এইমাত্র গেট অতিক্রম করে ভেতরে এসেছিল হেম! তার হঠাৎ চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করল। তার বুকটা টনটন করে উঠল।

রতিকান্ত হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে থাকল‐’ আমি জানি টাকা আসবেই। আসতেই হবে। সরকার ঘোষণা করেছে। খবরের কাগজে ছাপিয়ে দিয়েছে। খোদ ডিসি ,পুলিশ অফিসার নিজে বাড়িতে এসে গেছে। টাকা না এসে যাবে কোথায়? সরকারি কাজে কিছুটা দেরি হয়েই থাকে; কিছু করার নেই। কেউ গিয়ে যেহেতু টাকা পয়সা খরচ করেনি, তাই কাজটা পড়ে আছে। কেরানিরা ফেলে রেখেছে। এই টেবিল থেকে সেই টেবিলে গড়িয়ে যেতেই মাসের পর মাস পেরিয়ে গেছে। না হলে এত দেরি হয় নাকি? যাইহোক এখন ডিসির কাছে এসে গেছে যখন আর বেশি দেরি হবে না। প্রেম নিজে গিয়ে খবর করে আসাটা ভালো হবে।না, যেতেই হবে। আমিতো নড়াচড়া করতে পারি না- নাহলে আমি নিজেই যেতাম। তখন আর কাউকে তোষামোদ করতে হত না।

বিড় বিড় করতে থাকা রতিকান্তকে সেখানেই ফেলে রেখে ভোগেই  ধীরে ধীরে চায়ের বাটিটা নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।

সামনের দিকে কাঁঠাল পিঁড়িতে বসে রতিকান্ত টাকাটা এসে পড়ার পরে কী কী জরুরি কাজ করতে হবে, সেই সবসময়ে ভাবা কথাগুলি পুনরায় একবার মনের ভেতরে নাড়াচড়া করে নিল।

প্ৰেম এবার শহরের ডিসি অফিসে যাবে বলে স্থির করল।

তাকে যেতেই হবে– নিজের কথায় সে নিজেই বন্দি হয়ে পড়েছে। মা বাবার সামনে মিথ্যা কথা বলার পরে সে এবার শহরে যেতে বাধ্য হল। এখন তাকে যেতেই হবে। কিন্তু সে একা যায় কীভাবে?

সৰ্বা, সর্বাকে বলতে হবে। তার সঙ্গে দেখা করতে হবে। সর্বা না গেলে প্রেমের পক্ষে একা যাওয়া সম্ভব নয়।

না ।তার সঙ্গেই দেখা করতে হবে।

তিন দিন ভেবে ভেবে প্রেম অবশেষে সেটাই ঠিক করল। এই কয়েকদিন বাবার হুলস্থুল  বেড়ে গেছে। টাকা আসার সঠিক খবরটা পাওয়ার পরেও শহরে গিয়ে ছেলেকে কোনোরকম খোঁজ খবর করতে না দেখে রতিকান্ত স্ত্ৰী  ভোগেকে  শাপ-শাপান্ত  করে চলেছে ।

‘ছেলে শহরে যাবার কথা বলছে কি?’– সে বারবার জিজ্ঞেস করছে।

‘কী জানি। কিছু একটা চিন্তা করছে বোধহয়। যাও বললেই অসুস্থ ছেলেটা চট করে যেতে পারে কি?’ –ভোগেই আস্তে করে উত্তর দিচ্ছে।

‘কীসের অসুস্থ? কী রোগ- ব্যাধি আছে তার?’- রতিকান্ত ঝাঁঝিয়ে উঠে উত্তর দিচ্ছে।’ তোর পা টা তো এখনও খোঁড়া হয়নি। সেই পা নিয়েই ছেঁচড়ে ছেঁচড়ে সে পুরো অঞ্চলটা ঘুরে বেড়াচ্ছে। রেল স্টেশনে যেতে পারে। কাছারি গ্রামে মদের গন্ধ নেবার জন্য আসরে যেতে পারে শহরে যাবার সময় রোগি হয়ে পড়েছে । সব কুঁড়ের দল। তুই ওকে লাই দিয়ে দিয়ে মাথায় তুলেছিস ।


আরো পড়ুন: রক্তের অন্ধকার (পর্ব-১৪) । ধ্রুবজ্যোতি বরা


ভোগেই বিশেষ কিছু না বলে ভেতরে ঢুকে গেছে । স্বামীকে সে কী বলবে ? যাই বলে তাতেই রেগে উঠে । ভাত খাবার সময় সেই নীরবে অসহায় ভাবে ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে কিন্তু প্রেমও কী এক চিন্তায় ডুবে থাকে। থালায় যা তুলে দেয় তাই মাথা নিচু করে সে খেতে থাকে। সে যে কিছু একটা চিন্তায় ডুবে আছে সে কথা মা বুঝতে পারে ।সমস্ত কথা তো সে জানেই । ছেলেকে কী বা বলতে পারে । বাইরের কাঁঠাল পিঁড়িতে বসে থাকা রতিকান্তের বিড়বিড়ানি সে না শোনার চেষ্টা করে।

তিন দিনের দিন সন্ধেবেলা সর্বার খোঁজে প্রেম বাড়ি থেকে বের হল ।

সর্বাদের বাড়িতে পৌঁছে সে জানতে পারল যে সে স্টেশনের দিকে বেরিয়ে গেছে। ফিরে আসতে  সন্ধে  হয়ে যাবে। কিছু সময় এদিক ওদিক করে সে ফিরে আসতে লাগল। সর্বা যদি স্টেশনে গিয়ে থাকে, তাহলে তার ফিরে আসতে দেরি হবে। পেছনের পাশের বস্তিতে দুয়েক  গ্লাস মদ না খেয়ে সে ফিরবে না। সে সর্বার মাকে যেভাবেই হোক তার সঙ্গে একবার দেখা করার জন্য বারবার অনুরোধ করে ফিরে এল।

ঠান্ডা পড়তে শুরু করেছে। শীতের দিনে অন্ধকারও তাড়াতাড়ি নেমে আসে। বাঁশবনের নিচটা ইতিমধ্যে অন্ধকার হয়ে উঠেছে। কৃষ্ণপক্ষ বোধ হয়। আকাশে চাঁদ-তারার  দেখাদেখি নেই। প্রেম দ্রুত ফিরতে লাগল। অর্জুন গাছটার নিচে ক্যারাম খেলার জায়গাটাতে বসে থাকলেই হয়তো ফিরে আসার সময় সর্বার সঙ্গে দেখা হয়ে যেত।সে তো এই পথ দিয়েই ফিরে আসবে।

আজও ক‍্যারম খেলার আলকাতরার ড্রামটা কাত হয়ে পড়ে আছে। সারাদিন ক্যারাম খেলে কে যে যাবার সময় ড্রামটা ফেলে রেখে যায় ? প্রেম ড্রামটাতে বসার সময় হঠাৎ পাশেই শুয়ে থাকাা একটা গরু উঠে দৌড় মারল।সে চমকে উঠল।ড্রামটার ওপরে বসে কাছেই লাঠিটা হেলান দিয়ে রেখে সে সর্বার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল।

অন্ধকার ভালোই ঘনিয়ে এসেছে।

একটা বিরাট কালো দৈত্যের মতো অর্জুন গাছটা পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গাছের ডালে কিচির-মিচির করতে থাকা পাখিগুলিও  ধীরে ধীরে নিস্তব্ধ হয়ে পড়ছে । গুনগুন করে কিছু ছোটো ছোটো মশা বের হতে শুরু করেছে । কানের কাছে গুনগুন করতে থাকা মশাগুলি গায়েও বসছে । প্রেম অনেকক্ষণ ধরে থাপড়ে  থাপড়ে  মশা তাড়াতে লাগল।

কিছুক্ষণ পরে তার বিরক্তি বোধ হল। এক গভীর অবসাদ তাকে চেপে ধরতে লাগল। সর্বা কখন আসে তার কোনো ঠিক নেই । স্টেশনের কাছে মদ খেয়ে সে বোধ হয় টলোমলো পায়ে সাইকেল চালিয়ে আসবে । তখন তার সঙ্গে কথা বলেও খুব একটা লাভ হবে না।

প্রেম আবার একবার অর্জুন গাছটার দিকে তাকাল।

ইস, সেদিন এই জায়গায়, এই অর্জুন গাছের নিচে বিধবা মালতী তার সঙ্গে বিয়ের কথা বলেছিল। ইঙ্গিত দিয়েছিল। হ্যাঁ মালতী তাকে   ইঙ্গিত দিয়েছিল। একবার তাদের বাড়িতে যেতে বলেছিল। আর ফুল গাছটার আড়াল নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। লজ্জিত ভাবে। লজ্জিত মুখে। 

হঠাৎ প্রেমের কান-মাথা গরম হয়ে পড়ল। সে বসা থেকে উঠে দাঁড়াল।

যাবে নাকি? ফুলদের বাড়ির ওদিকে একবার সে যাবে নাকি? আগে পরে কখন ও যায়নি! অথচ তার যেতে খুব ইচ্ছা করছে। যাবার জন্য সে মনের মধ্যে এক অদ্ভুত তাড়না অনুভব করছে। সংকোচ এবং তাড়নার দ্বন্দ্বে সে কিছুক্ষণের জন্য বিভ্রান্ত হয়ে গেল। তারপরে, প্রায় নিজের অজান্তে সে ক্রমে পথে উঠল এবং গ্রামের মাঝখানের রাস্তার মধ্য দিয়ে ফুলদের পাড়ার দিকে এগিয়ে গেল।

ফুলদের বাড়ির মুখে সে কিছুক্ষণ দাঁড়াল। সে এখন কী করবে? বাড়ির গেট লাগানো আছে। পাশেই কোথাও শেফালি ফুলের গাছ রয়েছে । শেফালি ফুল ফুটেছে এবং শেফালির মন মাতাল করা একটা গন্ধ বাতাসে ভেসে আসছে । সে গেটের সামনে দাঁড়িয়ে ঘরটার দিকে তাকাল। ছোটো  ঘরটা অন্ধকারের মধ্যে ডুবে রয়েছে । জানালার জালি দিয়ে জ্বলতে থাকা প্রদীপের ম্লান আলোয় ঘরের ভেতরের কিছুটা আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এখন অপেক্ষা করে প্রেম যতটা সম্ভব নিঃশব্দে গেটটা আস্তে করে খুলে ফেলল। তার কেমন যেন সংকোচ হল। ফিরে যাবে নাকি সে? এখন-ফিরতে হলে এখনই ফিরতে হবে।

হঠাৎ কুটিরটার  সামনের দরজাটা খুলে গেল। প্রেম বজ্রপাত হওয়া মানুষের মতো দাঁড়িয়ে পড়ল। তার বুকটা হঠাৎ ধপধপ করতে লাগল। এখন সে কী করবে? হাতে প্রদীপ একটা নিয়ে মানুষটা বেরিয়ে এল।

‘কে? কে ওখানে?’- প্রদীপটা তুলে নিয়ে মানুষটা বলে উঠল।

প্রেমের জিভ  শুকিয়ে কাঠ হয়ে গেছে বলে মনে হল। মানুষটা কাছে চলে এল। প্রদীপটা আবার সে তুলে ধরল। প্রেমের মুখে তখনও কোনো শব্দ নেই।

‘ও, প্রেম বাবা’‐- মালতি আগন্তুককে চিনতে পারল।‐-‘ এসো, ভেতরে চলে এসো বাবা।’ মালতী প্রদীপটা তুলে ধরে আলো দেখাল।

মালতীর পেছন পেছন নীরবে প্রেম গিয়ে ভেতরে প্রবেশ করল।

‘ তুমি এসেছ ভালই হয়েছে। আমি একটু বাইরে যাচ্ছিলাম।’

বারিকের বাড়ির বধূটি অন্তঃসত্ত্বা। খুব জোর ব্যথা উঠেছে। ফুলকে একা রেখে যেতে আমি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলাম। তুমি কিছুক্ষণের জন্য বসো। ফুল, ও ফুল, কোথায় আছিস? প্রেম এসেছে, চায়ের জল বসা।’‐- দ্রুত কথাটা বলে মালতী ভেতরে ঢুকে গেল।

     ভেতরের ঘরে রান্নার ব্যবস্থা। ফুল সেখানেই অপেক্ষা করেছিল। সে মায়ের দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে তাকাল।

মালতি মেয়ের হাত খামচে ধরে পেছনের দরজা দিয়ে পেছনে টেনে নিয়ে গেল।’শোন’–সাপের মতো হিস হিস  করে মালতি বলল–’ সে নিজে এসে উপস্থিত হয়েছে। এই সুযোগ ছাড়বি না। আমি বারিকের ঘরে যাই, তুই ভালো করে প্রেমের পরিচর্যা করবি।’

ফুল মাথা নাড়ল।

‘আর শোন’– মালতি পুনরায় সাপের মতো হিস হিস  করে উঠল।’ তোর কতদিন আছে? তিন দিন। আমার হিসাব মতো তিনদিন থাকতে লাগে, তাই নয় কি?’ ফুল একটু অবাক হওয়ার মতো মাথা নাড়লো । তাহলে কোনো ভয় নেই ‘– মা বলে গেল ।’ আমার জানামতে তার পা বাদ দিয়ে অন্য সব কিছু ঠিক আছে। পুরুষ মানুষের যদি ছেলে-মেয়ের জন্ম দেওয়ার ক্ষমতা না থাকে তাহলে … কথাটা নিজে দেখে শুনে নেওয়া ভালো, কথা–বার্তা বিয়ে-সাদির দিকে এগোনোর আগে। বুঝেছ।’

ফুল মাথা নিচু করল।

‘ বুঝেছ তো আমি কি বলেছি?’

সে মাথা নাড়লো। বুঝেছে, সে বুঝেছে । 

‘চল, ভেতরে।’– মা পুনরায় মেয়েকে ঠেলে নিয়ে যাওয়ার মত নিল।’ প্রেম বাবা’– মেয়েকে ঠেলে বের করে নিয়ে মা পুনরায় বাইরে এসে আওয়াজ দিল–’ প্রেম বাবা, তুমি প্রথম দিন এই দুঃখিনীর ঘরে পা রেখেছ, এদিকে আমাকে এবার বেরিয়ে যেতে হচ্ছে, বারিকের ঘরের বধুটির ব্যথা উঠেছে। বস বাবা বস, উঠলে কেন? ফুল তো রয়েছে বস, ফুল আমি যাচ্ছি। দরজাটা লাগিয়ে নে। প্ৰেম বাবাকে একটু জল দে। আমার দুই তিন ঘন্টা লাগবে।’ প্রেমকে কোনো কথা বলার সুযোগ না দিয়ে মালতী ঘর থেকে বেরিয়ে গেল বাঁশের দরজাটা সেই বাইরে থেকে লাগিয়ে দিল।

প্রেম বোকার মতো কিছুক্ষণ দরজার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সে ফুলের দিকে মুখ ঘোরাল।

ফুলের মুখে লজ্জা মিশ্ৰিত হাসি। অন্ধকারে তার চোখ দুটি জ্বলজ্বল করে জ্বলছে।

বন বিড়ালের মতো চোখ দুটি জ্বলছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত