ভ্রমণ

ভ্রমণগদ্য: গড়াই থেকে উইলামেট । মাহমুদ হাফিজ

Reading Time: 6 minutes

পদ্মা-গড়াই আমার শৈশব-কৈশোরের বাঁকে বাঁকে মিশে আছে। এ দুই নদী বাড়ন্ত সময়ের অনন্ত মায়াময় হাতছানি। দু’নদীর তীরে লুকিয়ে আছে জীবনের অমূল্য কৈশোরিক স্মৃতিসম্ভার।

পদ্মা দুহিতা গড়াই নদী বিধৌত কুমারখালীর ছাতিয়ান গ্রামের সন্তান আমি। জন্ম নানাবাড়ি- একই নদীর ভাটিস্রোতের গ্রাম কোমরভোগ মোল্লাহপাড়া। শৈশব-কৈশোরে নদীর মাছ ধরা দেখার বায়নায় কান্না জুড়তাম। জুলুমে অতিষ্ঠ বড় মামা আবুল হাসান মোল্লাহ সমবয়সী মামাতো ভাই কোরবান আলী সহ নদীতে ভাসমান  ‘নালু’র নৌকায় তুলে দিতেন। বলতেন-‘যাহ, মাছ ধরা দেখে আয়’।

অবুঝ বালক বয়সে ডিঙি বা ছইখোলা গয়না নৌকায় তাজা ইলিশ ধরার অভিজ্ঞতা স্মৃতিতে উজ্জ্বল বড়। ‘নালু’ মৌসুমের জেলে,সংবছরের মাঝি।গয়না নৌকায় গড়াই অতিক্রম-আকাঙ্খীদের পারাপারই তার পেশা। কখনো কখনো  রিজার্ভে যেতো। নৌকার ছইয়ের আলগা দু’পাশ শাড়িতে মুড়িয়ে নদী তীরবর্তী কুলবধুদের নাইওর করাতো। গড়াইতীরের কোমরভোগ, রমানাথপুর, আজইল, চাঁদট, রায়পুর, গণেশপুর, কাতলাগাড়ি, গোসাইডাঙ্গা, বনগ্রাম, বেতবাড়িয়া, একতারপুর, খুলুমবাড়িয়া তক তার সওয়ারি টানার সীমানা। নদীই ছিল তার জীবন কিংবা নদী জীবনই বেছে নিয়েছিল সে। নাইওর বা নদীকূলের কুলবধুদের বাপের বাড়ি আসা-যাওয়ার কাজ থিতিয়ে এলেও ‘নালু’ নদীকে বিদায় জানায়নি কখনো। ছই খুলে নৌকাখানা রাতারাতি জেলে নৌকা বানিয়ে ফেলতো। ইলিশ ধরার মৌসুমে নিজে খাওয়ার জন্য নদীতে মাছ ধরতো। জালে বেশি মাছ উঠলে বিক্রিও করতো। পাকা মাঝি আর মৌসুমী ধীবরের নৌকাতেই লাইভ মাছ ধরা দেখার কৈশোরিক এন্তেজামই করে দেন বড় মামা। জমি-জিরেত ও শিক্ষাদীক্ষার সুবাদে মোল্লাহ পাড়ায় মামাদের বড় প্রভাব। এমনকি তাঁদের বংশের নামেই পাড়ার নাম। হাসান মোল্লাহ’র ছেলে ও ভাগ্নেকে কদর করেই তাই নৌকায় তুলে নিতো নালু। মামা জানতেন, জালে মাছ ধরা পড়ুক বা না পড়ুক, নৌকা ডোবার ভয় নেই। পাকা মাঝি হিসেবে নালুরজুড়ি নেই। তাছাড়া ভাগ্নে ও ছেলেকে সে দেখেশুনেই বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে আসবে। 

নৌকার গলুইয়ে বসে বৈঠা বেয়ে বেয়ে আধমাইলে উজানে চলে যেতো নালু। সহকারীরা জাল ফেললে নৌকা আস্তে আস্তে ভাটির দিকে ঘুরিয়ে দিতো। একে তারা বলতো ভাটা। ‘মাছ ধরার ভাটা’। পরে বুঝতে পেরেছি, মাছ ভাটি থেকে স্রোতের উজানের দিকে যায়। নৌকা ভাটির দিকে চলতে থাকতো আর আমি ও কোরবান বসে উপভোগ করতাম দূরাগত বাতাসে নৌকার দুলুনি। দুলুনিতে নৌকা ডুবে গেলে কী হতে পারে সে ধারণাই তখন আমাদের হয়নি। একসময় হঠাৎ করেই জালে টান পড়তো। সহকারী মাল্লারা চিৎকার করে উঠতো ‘সাবধান মাঝি ভাই, ‘বেধেছে’, ‘বেধেছে’। ত্রস্থহাতে তারা জাল ঝট করে নৌকার পাটাতনে তুলে আনতো। তখন সেদিকে জোড়া জোড়া উৎসুক চোখ। পাটাতনে জাল তুলতেই সবার চোখ ছানাবড়া। ভিতরে লাফাচ্ছে  এক বা একাধিক ইলিশ। রোদের ঝিলিকে সেই রূপোলি ইলিশ আরও চকচকে, আরও সুন্দর। ইলিশবিচ্ছুরিত রুপোর ঝিলিক দেখে আমি আর কোরবান বিমোহিত হয়ে যেতাম।

এখন এশিয়া-ইউরোপ-আমেরিকা যেখানেই যাই, আশপাশের নদী হয়ে ওঠে অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্র। মনে পড়ে, পেশাগত জীবনে সাংবাদিক হিসাবে সরেজমিন ঘুর্ণিঝড়রের রিপোর্ট করতে একবার টাঙ্গাইল যাই। ঝড়ের তান্ডব দেখে প্রতিবেদন তৈরির সময় স্থানীয় প্রতিনিধি ফিরোজ মান্নাকে জিজ্ঞেস করি আশপাশে নদী আছে কী না ! তার চোখে বিস্ময়।  ঘুর্ণিঝড়ের ক্ষতি ও মানবীয় বিপর্যয়ের সঙ্গে নদীর কী সম্পর্ক! মান্না কীভাবে জানবে, স্মৃতির কোটরে নদী জুড়ে থাকায় সরেজমিন প্রতিবেদনের শিরোনামেই নদীর নাম জুড়ে দেবো ? ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম করার জন্যই নদীর খোঁজ। পাওয়া যায় অদূরে প্রবাহিত বংশী নদীর নাম। প্রতিবেদনের শিরোনাম হয়ে যায় ‘বংশীর তীরে তীরে এখন স্বজন হারানোর হাহাকার’- এরকম।

একবার কলকাতা থেকে দুইবন্ধু এক খ্যাতনামা লেখকের সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছি বশিরহাট। তিনি ভিন্ন ঘরানার কথাসাহিত্যিক-নাম লাস্টনেম মিশ্র। তিনি পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, কর্মস্থল বশিরহাট। কয়েকঘন্টার অফিস করার পর আমাদের মহাত্মন আমাদের স্থানীয় দ্রষ্টব্যে ঘোরাবেন বলে সেখানে সমাদর করে নিয়ে গেছেন। ‘প্লিজ ডু গেটিং এ্যারাউন্ড এ্যাট ইওর ওওন’ বলে কাজে ব্যস্ত হয়ে গেলেন তিনি।

দু’বন্ধু কী ভাবে দু’ঘন্টা কাটাই ভেবে পাই না! ঘটনা নব্বুই দশকের মাঝামাঝির, গুগলকাল না বলে সার্চ করার সুযোগ নেই। নদী নিয়ে জিজ্ঞেস করতেই লোকজন বললো, কয়েক মিনিট হাঁটলেই ইছামতি। পশ্চিমবাংলা ও বাংলাদেশের সীমান্ত-অতিক্রমী নদী। আমাদের আর পায় কে ! ঘাটে পৌঁছে ডিঙি নৌকা ভাড়া করে একবার উজানে, একবার ভাটিতে নৌভ্রমণ শুরু করি। ভাটির দিকে এলে মাঝি বললো, নদীর মাঝখান দিয়ে সীমান্তরেখা। ইছামতির একই স্রোত দু’দেশের ওপর বইছে নিরবধি। নদীছোঁয়া শান্ত বাতাসে বুঁদ হয়ে থাকায় কখন আমাদের সময় শেষ হয়ে গেছে টেরই পাইনি। যখন উপলব্ধির আকুতি এই-আহা দু’জনের জীবনস্রোত এক হয়ে বয়ে যাক নিরবধি ! ততোক্ষণে সময়ের স্রোত ইতোমধ্যে বয়ে গেছে বহুদূর !

সে যাহোক, এভাবে নদীর নিশানা আমার জীবন জুড়েই।

নদী নির্জন বুনোপথ

এখন গুগলকাল। আমেরিকার অরেগন রাজ্যের ইউজিন শহরে বেড়াতে আসার আগেই গুগলিং করে খোঁজ নিয়ে এসেছি। মানচিত্রে দেখি, নয়নকাড়া মায়াবতী পাহাড়ি নদী উইলামেট ধৌত করে যাচ্ছে এ শহর। দু’তীরে সবুজ বনানী আর স্ফটিকস্বচ্ছ পাহাড়ি জলধারা খরস্রোতা ইউজিনদুহিতা উইলামেট নদীর সম্পদ। উজানের পাহাড় থেকে উৎপন্ন হয়ে বয়ে চলেছে শহরের মাঝ দিয়ে। এই রূপবতী ইউজিনকন্যাকে  না দেখে, তার বাহুডোরে না গিয়ে থাকি কী করে !


উইলামেট উপত্যকার প্রাচীন সেটেলারদের মুখ


নদীর টানে দারা পরিবার পিঠে ব্যাগ বেঁধে বেরিয়ে পড়ি এক সকালে। অরেগন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে হেঁটে উত্তর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া  উইলামেট তীরের দিকে হাঁটতে থাকি। ‘অটজেন বাইক’ ব্রিজের কাছে পৌঁছার আগেই কানে ভেসে আসে নদীগর্জন। ব্রিজে পৌঁছে সবাই হুররে বলে আনন্দে চেঁচিয়ে ওঠে। নিচে চোখ জুড়িয়ে যাওয়ার মতো দৃশ্য। নিচে নদী তো নয়, আশ্চর্য এক জলপ্রপাত- সোঁ সোঁ গর্জনে বিপুল জলরাশি উৎপন্ন করে ছুটে চলেছে নিরন্তর। উৎক্ষিপ্ত জলরাশি সৃষ্ট ফেনিল শুভ্রতা ঝলমল রোদের সঙ্গে মিলে তৈরি করেছে রঙিন রঙধনু- ঐন্দ্রজালিক, ঐশ্বরিক আবহ।


আরো পড়ুন: ভ্রমণ: মায়ায় ভরা মৌলিনং । ক্ষমা মাহমুদ


দূর উজানে পাহাড়। ভাটির দিকে নদীতীরব্যাপি নিবিড় বনানী। পাহাড়ে উৎপন্ন দূরাগত নদী স্রোত ব্রিজের তলদেশ জুড়ে থাকা পাথর-নুড়িতে বাধা পাচ্ছে। পথের বাঁধায় নিম্নগামী স্রোত হয়ে উঠছে আরও প্রমত্ত, আরও প্রবল। ফুঁসে ওঠা জল গর্জনের বিপুল বেগ ধেয়ে নামছে নদীবক্ষ বেয়ে। আমরা ব্রিজে উঠে নদী গর্জন আর আশ্চর্য প্রাকৃতিক কলতানের সঙ্গে নিজেদের আনন্দ-কোলাহল ভাসিয়ে দিই। প্রকৃতি প্রশান্তির বড় মেডিসিন তা নতুন করে আবিষ্কার করি। না হলে পারিবারিক ভ্রামণিক দলের কনিষ্ঠ সদস্য তুসুর গোমড়া মুখ নদীতে এসে মূহুর্তে চনমনে হবে কেন? কেন বিষন্নতাময় নীরবতার পর আকস্মিক সে করে উঠবে আনন্দধ্বনি? আমাদের সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে হুল্লোড়ে মেতে ওঠে সে। আনন্দ-কোলাহলে যোগ দেয়। এমনকি ব্যাকপ্যাক থেকে বের করে নেয় গোপ্রো ভিডিও ক্যামেরা,সেলফি স্ট্যান্ডসহ ছবি-ভিডিওর নানা উপকরণ। তাঁর আনন্দধ্বণি ‘হেই,আই এ্যাম গোনা প্রোভাইড ইউ গাইজ অল দ্য টুলস ফর হ্যাপিনেস’।


উইলামেট নদীর ওপর দোঁহে


উইলামেট নদী উত্তর আমেরিকার উত্তরপশ্চিম প্রশান্তমহাসাগর অঞ্চলের উইলামেট ভ্যালির এক আশ্চর্য জলধারা। যা দীর্ঘ পথ বেয়ে আত্মাহুতি দিচ্ছে প্রশান্তদুহিতা কলাম্বিয়ারিভারে। উজানে নানা পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়েছে এ নদীর। ইউজিন, সালেম, স্প্রিংফিল্ড, পোর্টল্যান্ড ও অরেগন শহরে ছলনার খেলা খেলে রূপবতী উইলামেট আত্মনিবেদন করেছে কলাম্বিয়ায়। কলাম্বিয়া নদীর ১৫ ভাগ পানির উৎস উইলামেটের মূলস্রোতের দৈর্ঘ্য ৩০১ কিলোমিটার। এই নদীপথে ইউলামেট জলপ্রপাতও আছে। এসব উইকির তথ্য। বলার জন্য বলা। আমার আগ্রহ অন্যত্র।

উত্তরপারের ডান দিকে তীর সমান্তরাল হুইলামুট ন্যাচারাল এরিয়া। ক্রমশ: পাহাড়ি রূপ পরিগ্রহ করেছে। বামতীরের ঘন বনের পর ছো্ট্ট একটি ট্রেইলের পর ‘অল্টন বেকার পার্ক’। দু’পারেই হাঁটা ও বাইকপথ। নাম ‘রুথ বাস্কন রিভারব্যাঙ্ক পথ’। ইউজিন শহরের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পথ তৈরি করেছে, সংরক্ষণের দায়িত্বে তারাই। জঙ্গল,অভয়ারণ্য আর ঘনবনবেষ্টিত নদীতীর পথের প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী রক্ষায় জায়গায় জায়গায় নির্দেশিকা। আমরা উজানের দিকের তীর পথ ধরে অল্টন বেকার পার্কের দিকে হাঁটা শুরু করি।শুরুতে ঘনবনঘেরা তীর পথ। মাঝে হালকা জঙ্গল।

হাঁটাপথে আকস্মিক গৃহবন্ধু জলির পায়ের কাছ দিয়ে জঙ্গলের ভেতর ঢুকে যায় এক প্রাণী, সর্পিল তার গতি।  ঠিকই দেখেছি, তা এক বুনো সাপই। ভয়ে জড়সড় হয়ে সাবধানে পা চালাতে থাকি। সবার পিঠে ব্যাগ,হাতে ক্যামেরা,পায়ে কেডস জুতো আর গায়ে জড়ানো হুডি।

ট্রেইলে পার্কসহ পুরো ‘বাস্কন রুথ রিভারব্যাঙ্ক পথে’ সোলার সিস্টেম বা সৌরজগতকে তুলে ধরা হয়েছে। পৃথিবী থেকে প্লুটো পর্যন্ত নানা গ্রহজগতের তারকারাজির আদল ও বিবরণ বসানো আছে চলতি পথের নানা জায়গায়। পথটি সাইকেল বা হেঁটে ভ্রমণে সৌরজগত প্রদক্ষিণের সঙ্গে তুলনা করতেন ভূমন্ডলের তারকারাজির সমাহার।

পার্ক ও নদীতীরপথে প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ একা, যুগোল বা গ্রুপে গ্রুপে বেরিয়েছে। কেউ হাঁটছে। কেউ চুপচাপ নদীর ধারে বসে আছে। স্রোত দেখছে। বনের বিরতিতে গজিয়ে ওঠা সবুজ কিংবা পার্কের সবুজঘাসে শুয়ে আছে কেউ কেউ। সৌখিন বা পেশাদার এ্যাংলারগণ নদীতে মাছ ধরতে বসেছে ছিপ ফেলে। নদীকে ঘিরে ইউজিনবাসীর অর্থনৈতিক ও বিনোদন কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে তা স্পষ্টই বোঝা যায়।


উইলামেট ভ্যালির ইউজিন শহরে লেখক


অটজেন স্টেডিয়াম ডানে রেখে বুনোনদী পথ পেরিয়ে পার্কের শেষপ্রান্তে দাঁড়াই। এখানে বুনো নির্জনতার ধর্ম ভঙ্গ হয়েছে। সামনে ফেরি স্টেশন ব্রিজের ওপর দিয়ে হুসহাস গাড়ি ছুটে চলার নাগরিক কোলাহল। বুনো নির্জনতার শেষপ্রান্তে একটি ডাকপন্ড। হাঁসের অভয়ারণ্য। অরেগন রাজ্যের বন্যপ্রাণী হিসেব হংসপ্রজাতির প্রবলপ্রতাপ। রাষ্ট্রীয়ভাবে অবাধ স্বাধীনতা তাদের, মনুষ্যসন্তান কর্তৃক হাঁস বা বন্যপ্রাণী উত্তপ্তে রয়েছে কঠোর বিধি। এখানে উজানের কয়েকটি খাল, ক্রিক বেয়ে নেমে আসা জলধারা আটকে পার্কপ্রান্তে তৈরি করা হয়েছে বৃত্তাকার  হংস অভয়ারণ্য। পুকুরে বুনো হাঁসেদের দল নিরন্তর খেলায় মেতেছে। জল নিমগ্ন কংক্রিটের দেয়াল উপচে যাচ্ছে একটি প্রপাত। উপচানো পানি গিয়ে পড়ছে কয়েকগজ দূরের নদীতে। স্রোতের উজানে নদী থেকে মাছ উঠে আসে পন্ডে। সে মাছ হাঁসের খাদ্য। এক মৎস্যশিকারীকে বড়শি ফেলে মিনিটে একটা করে মাছ ধরতে দেখে দাঁড়িয়ে যাই। শিকারী জানায়,  ২৫ বছর ধরে সে মাছ ধরে আসছে সখের বশে। আট ইঞ্চির চেয়ে ছোট মাছ বড়শিতে ধরা পড়লেও আবার নদীতে ছেড়ে দেয়ার নিয়ম। নিয়মভেঙ্গে মার্কিনমুলুকে কেউ কিছু করতে পারে না।শিকারী এসব তথ্য দিতে দিতে একটি মাছু নদীতে অবমুক্ত করার সময় বলে-‘মাছের নামরেইনবো ফিস’।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে বহু হাঁটাহাঁটির দরুন আমাদের দিনমানের জীবনীশক্তির অনেকাংশ ক্ষয়েছে। হাঁটায় ভালই ক্যালরি ব্যয় হয়েছে বুঝতে পারি। চারজনই বসে যাই নদীতীরে লাগোয়া কংক্রিটের বেঞ্চে। ব্যাকপ্যাক থেকে খাবার বের করে খেয়ে নিই। বাড়ি থেকে বানিয়ে আনা স্যান্ডউইচ খেয়ে তৃপ্ত হই আমরা। তুসুর ক্ষুধা লাগে কম। কোক আর দোকান থেকে কিনে আনা এনার্জি বারেই সে সন্তুষ্ট।

পার্কপ্রান্ত দিয়ে বেরিয়ে বড় সড়কে এসে দাঁড়াই। বাসে চেপে ভিআরসি নামে খ্যাত ভ্যালি রিভার সিটি মলে যাওয়া যায়। আমাদের পরিকল্পনা নদীতীরের এই বুনো নির্জনতার ছোঁয়া নাগরিক কোলাহলে ছড়িয়ে দেয়া। ভ্রমণে নির্জনতা ও কোলাহলের ভারসাম্য। ভাবতে না ভাবতেই বাস এলো। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভিআরসি শপিংমলের কুজন-কোলাহলে মিশে গেলাম। স্মৃতির বড়শিতেই গেঁথে রইল নদীনির্জন বুনোপথ পরিভ্রমণের এক আশ্চর্য পেইন্টিং।

 

ছবি লেখকের সৌজন্যে