| 5 মার্চ 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

গল্প: সাদা রঙ পরলে সাবধানে থাকতে হয় । মনিজা রহমান

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট
 
 
 
-আজকে আমি সাদা শার্ট পরেছি। সাদা পোষাক পরলে সাবধানে থাকতে হয়!
 
অন্ধ কোন মানুষের মুখে এমন কথা শুনে রীতিমত চমকে গেলাম। অন্ধ ছেলেটাকে আমি আগেও দেখেছি বহুবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের লাইব্রেরির যে টেবিলে বসে আমরা চার বন্ধু পড়াশুনা করি, ছেলেটা একটা টাইপরাইটারের মতো মেশিন নিয়ে পাশের টেবিলে বসে থাকে।
 
 
ওরাও থাকে দলেবলে। দেখেই বুঝতে পারি ওরা সবাই দৃষ্টিশক্তিহীন। এমন হতে পারে, ওদের মধ্যে কেউ আবছা মতো দেখতে পায়, সেই ওদের নেতৃত্ব দিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়, এক ক্লাস থেকে অন্য ক্লাসে, এক ভবন থেকে অন্য ভবনে নিয়ে যায়। তবে এ ব্যাপারে আমি যে ঠিক নিশ্চিত এটা বলব না।
 
 
এটা জানি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্ধদের জন্য যে কোটা আছে সেই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে এখানে ভর্তি হয়েছে ওরা। কলাভবনের আনাচে কানাচে ওদের মাথা উচুঁ করে হাঁটতে দেখলে মনটা অন্যরকম ভালো হয়ে যায়।
 
 
কিন্তু আমার মাথায় আসে না, ছেলেটা কিভাবে বুঝল- সাদা রঙ কিরকম হয়! সাদা রঙের পোষাক পরলে যে খাবার সময়, হাঁটার সমযে সাবধানে থাকতে হয়, কিভাবে জানল ও!
 
 
কথাটা কেন যেন মাথার মধ্যে গেথে গেল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন সংলগ্ন ক্যাফেটোরিয়াতে খেতে বসেছি চার বন্ধু মিলে। খাবার মানে ডিম চপ, ভেজিটেবল রোল আর লাল চা। এটাই আপাতত আমাদের চার বন্ধুর লাঞ্চ। তিনটায় ক্লাস শেষ হবার পরে যে যার বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হব। বাসায় গিয়ে ভাত খাবো।
 
 
আমাদের মধ্যে তিনজন বাসে করে বাসায় যাই, কাকলীর বাসা শান্তিনগরে হওয়াতে ও রিক্সায় করে যায়। বাকী তিনজনের বাসের রুট যে এক, তা কিন্তু নয়। আমি যাই উল্লাসে, রিমি শ্রাবণে, আর মৌসুমী যায় ক্ষণিকায়। বাসের রুট এক না হলেও আমরা তিনজন একসঙ্গে কলাভবন পার হয়ে রেজিস্টার বিল্ডিংয়ের সামনে দিয়ে বাস স্ট্যান্ডে যাই।
 
-তোমাদের কি মজা! বাস স্ট্যান্ডে গিয়ে আবার আড্ডা দাও।
 
কাকলী বলে ক্ষুন্ন স্বরে। অপরাজেয় বাংলার সামনে থেকে রিক্সা পেয়ে যায় ও। কাকলীর কথায় আমরা হাসি। আহারে! নদীর এপাড় কহে ছাড়িয়া নি:শ্বাস…
 
ক্লাসের ফাঁকে আমরা মাঝেমধ্যে চারবন্ধু মিলে কখনও নীলক্ষেত, কখনও নিউমার্কেটে যাই। চারজন মাঝেমধ্যে একই রকম পোষাক পরে ক্লাসমেটদের চমকে দেই। আমাদের সহপাঠিদের মধ্যে চমকে দেবার প্রতিযোগিতা চলে। কার বয়ফ্রেন্ড সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন, কার নামকরা ব্যান্ডের গিটারিস্ট- আমরা ক্লাসের অবসরে সেই আলোচনায় মেতে উঠি। গল্পগুজব আর আড্ডা যেন ফুরায় না। বাসায় যাবার সময় বাসের সিটে ব্যাগ রেখে বাইরে দাঁড়িয়ে গল্প করি।
 
কথা বলার সময় সেদিন ডান দিকে তাকাতে দেখি, তিনজন অন্ধ ছাত্র একজন আরেকজনের কাঁধে হাত রেখে নিজেদের বাস খুঁজছে। সঙ্গে সঙ্গে আমার সাদা শার্ট পরা ছেলেটির কথা মনে পড়ে যায়।
 
-আচ্ছা, অন্ধ মানুষ কিভাবে সাদা রঙ বুঝতে পারে? সাদা রঙ পরলে যে সাবধানে থাকতে হয়, ওরা কিভাবে জানল! ওদের কি রঙ সম্পর্কে কোন ধারণা আছে?
 
রিমি আর মৌসুমীর কাছে জানতে চাই। ওরা আমার সমবয়সী হলেও জীবনের অভিজ্ঞতায় সব সময় মনে হয় আমার চেয়ে এগিয়ে।
 
-ওদের রঙ চেনার কথা না। তবে মনে হয় শুনে শুনে জেনেছে সাদা রঙ পরলে কি করা উচিত।
 
রিমি মন্তব্য করে। মৌসুমী ওর কথায় মাথা নাড়ায়।
 
-দৃষ্টিশক্তি না থাকায় ওরা এক ধরনের আলাদা ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। আসলে অন্ধব্যাক্তির মতো দুর্ভাগা কেউ নেই পৃথিবীতে। কিন্তু সুরেন স্যারের কথা চিন্তা কর। জীবনের শেষ পাঁচ বছর ওনার দৃষ্টিশক্তি ছিল না। কিন্তু একবারের জন্যেও ভেঙ্গে পড়তে দেখিনি।
 
সুরেন বিশ্বাস স্যার শেষ জীবনে এসে অতিরিক্ত ডায়বেটিসের কারণে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। অসম্ভব মনোবলের কারণে ক্লাস –পরীক্ষা নেয়া বন্ধ করেননি। আমরা ছাত্রছাত্রীরা পালাক্রমে ওনাকে সাহায্য করতাম। ফুলার রোডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কোয়ার্টার থেকে ক্লাসে নিয়ে আসতাম। আবার দিয়ে আসতাম। কখনও বাসায় গিয়ে স্যারকে পত্রিকা পড়ে শোনাতাম।
 
-তোমাদের এত কষ্ট করে আমাকে পত্রিকা পড়ে শোনানোর দরকার নেই। আমি রেডিওতে নিয়মিত খবর শুনি।
 
আমরা চার বন্ধু একদিন স্যারের বাসায় গিয়েছি। স্যারের কোন সাহায্য দরকার কিনা জানার জন্য। কোন কাজ না পেয়ে ওইদিনের পত্রিকা পড়ে শোনাতে যাচ্ছিলাম। কিন্তু স্যারের কথায় থেমে গেলাম।
 
-তোমরা কি জানো, পৃথিবীর কত কোটি মানুষ রেডিও শোনে?
 
আমরা চারজন মাথা নাড়লাম। আমরা জানি না। রেডিও নিয়ে আমরা কেউ মাথা ঘামাই না। মাঝেমধ্যে এফএম ব্যান্ডে চটুল গান শুনি এই পর্য়ন্ত। স্যারের মুখে রেডিও শ্রোতার সংখ্যাটা শুনে চমকে গেলাম।
 
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকা অবস্থায় কিভাবে যেন একটি ক্রীড়া বিষয়ক পত্রিকার প্রদায়কের কাজ পেয়ে গেলাম। টিউশুনি আমার ধাতে সয় না বলে খুশিই হলাম। লেখা প্রতি বিল দেয়াতে হাত খরচের কাজ চালানো যাবে। আমরা করা প্রথম রিপোর্টটাই বাজিমাত করে দিল। ধানমন্ডি মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে হোস্টেলে থাকা দরিদ্র নারী সাঁতারুদের নিয়ে একটা মানবিক ফিচার লিখলাম ।কিভাবে অজপাড়া গাঁ থেকে পুকুরে সাঁতার কাটা মেয়েরা উঠে আসে, কিভাবে সামাজিক বিধিনিষেধের বেড়া ডিঙ্গায়- এসব। সাঁতারের পোষাকটা আমাদের রক্ষণশীল সমাজ যে মেনে নিতে চায় না, সেটাও লিখতে ভুললাম না।
 
 
আমার পরের এ্যাসাইনমেন্ট ছিল দাবা ফেডারেশনে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দাবাড়ুদের একটা টুর্নামেন্ট হচ্ছে, আমাকে সেই নিয়ে একটা ফিচার লিখতে হবে। নির্ধারিত দিনে পল্টনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের দোতলায় গিয়ে দেখি খেলা আগেই আরম্ভ হয়ে গেছে, বিভিন্ন টেবিলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে সবাই দাবার চাল দিতে ব্যস্ত। হঠাৎ এক কোনায় গিয়ে দেখি কলাভবনে সেই সাদা শার্ট পরা ছেলেটা চেয়ারে বসে আছে। বুঝতে পারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে খেলতে এসেছে ও।
 
 
আজ ছেলেটা পড়েছে হালকা সবুজ রঙের চেক শার্ট। নি:শব্দে আমি ওর পাশে গিয়ে দাঁড়াই। ওর খেলা শেষ হলেও প্রতিপক্ষের সঙ্গে পরের ম্যাচের জন্য অনুশীলন করছে। আমার নীরব উপস্থিতিও ওকে সচেতন করে তোলে, মুখ ঘুরিয়ে আমার দিকে তাকায়।
 
 
-আমি কি আপনার নামটা জানতে পারি? আমি এই টুর্নামেন্ট নিয়ে একটা রিপোর্ট করার জন্য এসেছি।
 
আস্তে করে পরিচিত ছেলেটাকে বলি।
 
-আমার নাম মোহাম্মদ মাহবুব হোসেন। আপনি কি মুন্নী সাহা?
 
আমি অবাক হয়ে গেলাম। হঠাৎ এত মানুষ থাকতে আমাকে মুন্নী সাহা ভাবার কারণ কি! তখন সুরেন স্যারের কথা মনে হল। শেষ জীবনে স্যার নিয়মিত রেডিও শুনতেন, এই মাহবুব হোসেন হয়ত টেলিভিশনে নিউজ শোনে, সেখান থেকে মুন্নী সাহার নাম জেনেছে।
 
-না আমি মুন্নী সাহা নই। আমি একটা পত্রিকায় ক্রীড়া বিষয়ক প্রদায়কের কাজ করি।
 
মাহবুব বুঝতে পারে। আমরা দুজনে দাবা খেলা নিয়ে অনেক কথা বলি। আমি যে কলাভবনে আগেও ওকে অনেকবার দেখেছি সেটা জানাতে ভুলি না।
 
যাবার আগে ওই দিনের প্রশ্নটা করব না করব ভেবেও বলে ফেলি।
 
-আপনি একদিন কলাভবনের খেতে গিয়ে বলছিলেন, সাদা শার্ট পরলে সাবধানে থাকতে হয়। পাশের টেবিল থেকে আমি সেটা শুনে ফেলেছি। আপনি কি আসলেই জানেন সাদা রঙ আসলে কি রকম?
 
মাহবুব হোসেনের বন্ধ চোখে যেন হালকা বিদ্যুত খেলে যায়। কি বলবে সেই জন্য মনে হয় নিজেকে গুছিয়ে নেয় সে!
 
-আমি যেদিকে তাকাই শুধু নিকষ কালো দেখতে পাই। শুধু অনুভবে মাধ্যমে বুঝতে চেষ্টা করি চারপাশের পৃথিবীতে কি হচ্ছে! তবু এরমধ্যে ঝলকানির মতো কি যেন দেখতে পাই। মনে হয় এটাই বুঝি সেই সাদা রঙ।
 
মাহবুব কথাগুলো যেন ওর হৃদয়ের একদম গভীর থেকে উঠে আসে।
 
-তবু এর মাঝে আপনি কত আনন্দে থাকেন। লাইব্রেরিতে দেখি ব্রেইল পদ্ধতিতে পয়েন্ট ধরে মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করেন।
 
হঠাৎ করে মাহবুবের আনন্দিত মুখটা বিষাদে ছেয়ে যায়। আমি ভয় পেয়ে যাই ওর কোন গোপন কষ্টের আঘাত করে ফেললাম নাতো!
 
-ব্রেইল পদ্ধতিতে আমরা পয়েন্ট স্পর্শ করে পড়াশুনা করি! কিন্তু প্রকৃত বর্ণমালা দেখতে কেমন আমরা জানিনা! আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে আদতে বর্ণমালা দেখতে কেমন? যে ভাষায় আমরা কথা বলি অক্ষরগুলি কিরকম দেখতে!
 
মাহবুবের শেষের কথাগুলি ফিচারে লিখতে গিয়েও লিখতে পারিনা। কথাগুলি এত বেশী ব্যাক্তিগত মনে হয় লেখার সাহস হয় না। তবু আমার এবারের লেখাটা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। একটি নামকরা দৈনিক পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক আমার পাক্ষিকের সম্পাদককে ফোন করেন লেখা পড়ে। আমি দৈনিক পত্রিকা কাজ করতে আগ্রহী কিনা জানতে চান!
 
ক্রীড়া সাংবাদিক হবার স্বপ্ন কুঁড়িতেই জলাঞ্জলি দিয়ে জীবনের প্রয়োজনে নিউইয়র্কে পাড়ি জমাই। ভিনদেশে এসেও নিজের সংস্কৃতিকে ভুলি না। তিন বন্ধু কাকলী, রিমি আর মৌসুমী ভাষা দিবস কিংবা স্বাধীনতা দিবস অথবা পহেলা বৈশাখে- আমার জন্য ঢাকা থেকে শাড়ি পাঠায়। ওরা এখনও নিয়মিত দেখা সাক্ষাত করে, কখনও শপিংমল কিংবা রেস্টুরেন্টে। ওদের সঙ্গে তখন ভিডিও কলে কথা হয়। মন খারাপ করতে গিয়ে নিজেকে সংবরণ করি।
 
এসব ভাবতে ভাবতে সেভেন ট্রেনে ম্যানহাটনের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল সাবওয়েতে পা রাখি। আজ একুশে ফেব্রুয়ারি, বাঙালির জন্য আজ শহীদ দিবস, আর সারা পৃথিবরি মানুষের জন্য মাতৃভাষা দিবস।পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহৎ রেলস্টেশনে বন্ধুদের পাঠানো সাদা শাড়ি আর কালো ব্লাউজ পরে হাঁটি।
 
নিউইয়র্কে আসার পরে পাতাল ট্রেনে চড়া হয় নিয়মিত। শহরের যানজটের জন্য বাস একটু এড়িয়েই চলি। কালেভদ্রে বাসে উঠলেই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের স্মৃতি এসে মাথায় জড়ো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে যখন ঢাকার যানজটের রাস্তা ধরে বাড়ি ফিরতাম, মনে হত আমার চেয়ে গর্বিত মানুষ আর কেউ নেই।
 
 
গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ট্রেন স্টেশন থেকে কয়েক ব্লক হাঁটলেই জাতিসংঘ ভবন, ওখানে শহীদ মিনার স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে পৌছাতেই পরিচিত মুখদের দেখতে পাই। সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরে দলবেধে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফ্রেবুয়ারি’ গানটা গাই। মনটা অন্যরকম আবেগে দুলে ওঠে।
 
শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ফেরার পথে সোনিয়া আপা নাম ধরে ডেকে ওঠেন। আমি থেমে যাই।
 
-তোমার শাড়ির আচঁল তো মাটিতে লুটাচ্ছে । চারপাশে বরফ জমে কালো হয়ে আছে। খেয়াল করছ না।
 
সোনিয়ার আপার কথায় তাড়াতাড়ি শাড়ীর আঁচল ঠিক করি। সেই সঙ্গে ধন্যবাদ জানাতে ভুলি না।
 
-তুমি জান না সাদা রঙ পরলে সাবধানে থাকতে হয়।
 
হঠাৎ বিদ্যুত চমকের মতো আমার মাহবুবের কথা মনে পড়ে যায়। বহু বছর আগে ক্যাফেটোরিয়ায় ও তো সোনিয়া আপার মতো একই কথা বলেছিল। অন্ধ হলেও ও জানতো, সাদা রঙের পোষাক পরলে সাবধানে থাকতে হয়। আর আমি কত বেখেয়াল।
 
শহীদ মিনারের গায়ে বসানো বাংলা বর্ণমালার দিকে চোখ চলে যায়। অ আ ক খ। একেকটি বর্ণমালা যেন একেকটি নক্ষত্রের মতো। আমার দুই চোখ ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে।
 
মাহবুবের কোনদিন জানা হয়নি বর্ণমালা আসলে দেখতে কেমন হয়!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত