ভারতীয় পুরাণে মহাপ্লাবন
শতপথ ব্রাহ্মণ, পুরাণ এবং মহাভারতে মহাপ্লাবনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে প্রাচীন ভারতীয় ধর্মের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে। একটা বড় মাছ একবার এক ছোট মাছকে খেয়ে ফেলতে উদ্যত হয়। মনু ছোট মাছটাকে কেবল রক্ষাই করলো না; বিশালাকার হওয়া অব্দি দেখভাল করলো। ঠিক তখনই মাছটা আবির্ভূত হলো বিষ্ণুর রূপে।

সময়ের ব্যবধানে সমাগত হলো মহাপ্লাবন। বিষ্ণু মনুকে আগে থেকে জানিয়ে দিলেন সম্ভাব্য বিপদ। পরামর্শ দিলেন বিশালাকার নৌকা প্রস্তুতির। নৌকা প্রস্তুত করলো মনু। নিজের পরিবার এবং বিখ্যাত সাত ঋষিকে নিয়ে ভাসলেন নৌকায়। বেঁচে থাকলো নতুন করে পৃথিবীকে আবাদ করার জন্য। মানব বলতেই মূলত মনুর বংশধরকে বুঝায়।
এই মিথকে আক্ষরিক কিংবা রূপক হিসেবে পাঠ করা যায়। বড় মাছের ছোট মাছ খেয়ে ফেলার অর্থ সমাজের ক্ষমতাশালীর দ্বারা দুর্বলদের উপর জুলুম। মনু এমন এক রাজা; যিনি দুর্বলদের অধিকার নিশ্চিত করেছিল। পরিণামে দেবতা বিষ্ণু তাকে পরবর্তী পৃথিবীর বিশৃঙ্খলা থেকে উদ্ধার পাবার পথ বাতলে দেন।
