| 18 জুলাই 2024
Categories
ধারাবাহিক

ধারাবাহিক: অমৃতস্য পুত্রা (পর্ব-৯) । অনিন্দিতা মণ্ডল

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

কিসসা

আজ উত্তরাধিকারের গল্প হোক। পূর্বপুরুষ যা রেখে যান সেই উত্তরাধিকার। আমার পূর্বপুরুষ তো শুধু বাবা ঠাকুরদা নন, আমার পূর্বপুরুষ মায়ের সেই বড় মেসোমশাইও। যিনি আসামে থাকতেন। তহসিলদার ছিলেন। একটা হাতিতে চেপে মুলুক তদারকে বের হতেন। মায়ের কাছে শুনেছিলাম তাঁর সেই হাতির গায়ে হাওদা ছাড়াও রোদ জল থেকে বাঁচার জন্য ছাতা ছিল। সেই হাতিতে চেপে তিনি উত্তরবঙ্গের যে শহরে মায়েদের বাড়ি, সেখানেও আসতেন। মায়েদের ভাইবোনেরা কেউ কেউ তাঁর সঙ্গে হাতি চেপে সারাটা দিন ঘুরে আসত। তাঁর হাতে একটা ছপটি থাকত। চলবার সময় গাছের ডাল বা আগাছা বাড়ি মেরে সরিয়ে দিতেন। কোথাও কোথাও কলা বাগান দেখে হাতি যেত দাঁড়িয়ে। খানিক জলযোগ সেরে নিতো। মাহুতের এমনই শেখানো ছিল নিশ্চয়। বলা বাহুল্য, দাদামশাই এই হাতির সওয়ারি হওয়াটা ভালো চোখে দেখতেন না। কিন্তু সম্পর্কে বড় বলে কিছু বলতে পারতেন না। দিদিমা অবশ্য ভালোবাসতেন বড় জামাইবাবুর এই ছেলেমানুষি। ছেলেপুলেদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কটা ছিল মধুর। ভয়ের স্থান ছিলনা। কিন্তু দাদামশাইকে সকলেই ভয় পেতো। বড় মেসোমশাইও পারতপক্ষে হাতির পিঠ ছেড়ে নামতেন না। উঠোনে দাঁড়িয়ে বলতেন, পুঁটি মা, ভালো থেকো।

দিদিমার বোনপো বোনঝিরা প্রায় তাঁর সমবয়সী  ছিল। বড় মেসোমশাই যে বাচ্চাদের বড্ড ভালোবাসেন সে তিনি বুঝতে পারতেন। তাঁর বাবার বয়সী এই জামাইবাবুকে নমস্কার করে তখন শুকনো খাবারের পুঁটলি সঙ্গে দিতেন। হাতি ফিরে যেত।  

একবার মায়েরা তিনসুকিয়া গেলো। মায়েদের সেজকাকা সেখানে রেলে চাকরি করেন। আলাদা সেলুন আছে তাঁর। ভারী মজা। অনেকে মিলে যাওয়া হল। সেই সেলুন তখন একটি রেললাইনে চুপ করে দাঁড়িয়ে। ভেতরে সেজকাকার একলা সংসার। সেই সংসারে এখন নাবালক কয়েকটি অতিথি। সেজকাকা রাতের ভাত চাপিয়েছেন। স্টোভে রান্না চলছে। একটি কুলি আছে সহায়তায়। বাইরে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। ঘন জঙ্গলের মাঝে সেলুন দাঁড়িয়ে। পরের দিন সকালে ইঞ্জিন এসে নিয়ে যাবে গন্তব্যে। হঠাৎ ছেলেমেয়েদের মনে হলো ডানদিকের ঝোপ কেমন দুলে উঠল না? তারা সে খবর সেজকাকাকে দেবার আগেই সেলুনের জানলা ঝপঝপ বন্ধ করে ফেলল কুলি। মায়েরা সবাই দুধারে সরে গিয়ে জোর চাপ দিয়ে দেওয়ালে ঠেস দিয়ে রইল।

ঝোপ ততক্ষণে দুলে দুলে কাছে চলে এসেছে। তারপর সেলুনের সে কী দুলুনি! কুলির তো মুখ শুকিয়ে সাদা। সেজকাকা দরজার গায়ে দাঁড়িয়ে চুরুট ধরাতে ধরাতে বললেন, ও কিছু না। হাতি। লাইন পেরিয়ে জঙ্গলে যাচ্ছে। সেলুনটা ওর চলার রাস্তায় পড়েছে কিনা। তাই একটু গা ঘষে নিচ্ছে। খানিক পড়ে দুলুনি থেমে গিয়ে বাঁ দিকের ঝোপে মড়মড় আওয়াজ উঠল। কুলি নিঃশ্বাস ফেলল। মায়েদের ভারি মজা। “জানো সেজকাকা, বাড়িতেও তো হাতি আসে। এমনি করেই গা ঘষে। আবার ভূমিকম্প হলেও এরকম করে আমরা দেওয়াল ধরে রাখি।”

মায়েদের বাড়িটা ছিল কাঠের। কতগুলো শক্ত কাঠের গুঁড়ির ওপরে দাঁড় করানো। পেছনে করলা নদী। সে নদী বর্ষায় ভয়ানক। আর সে বাড়ি তো আমার কাছে স্বপ্ন! আহা! চা বাগান আর জঙ্গলের মধ্যিখানে চিতার ছানা আর হাতির বাসার মাঝে কাঠের ঘর। কতগুলো শক্ত গুঁড়ি ওর ভিত। গুঁড়ি নইলে শক্ত ভিত হয়? কক্ষনো হয়না। বৃক্ষ ছাড়া এমন শক্তি কে দেবে? ইট কাঠ সিমেন্টের শক্তিতে কি প্রাণ আছে? বৃক্ষ যে প্রাণ দেয়! তার শক্তি সপ্রাণ। সে তাই শত ভূমিকম্পে শত বন্যায় শত হাতির ঠেলায় বাড়িকে বাঁচিয়ে রাখে। সে জানে, বাড়ি মানে প্রাণ। আমার সেই বৃক্ষদেবতার সঞ্চারিত শক্তিতে শক্তিমান বাড়ি খুঁজে নিতে ইচ্ছে করে। ইচ্ছে করে অন্ধকার রাতে রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা সেলুনে গরম গরম ভাত খেতে। সে ভাতের গায়ে সেজকাকার চুরুটের গন্ধ থাকবে। থাকবে কুলির তুলে আনা বড় বড় বুনো পাতার থালা। সেজকাকা নিশ্চয় আরও অনেক গল্প করতেন। সব শোনা হয়নি। কারণ সেজকাকা একদিন সেলুন সমেত উধাও হয়ে গিয়েছিলেন। দিদিমা বলতেন, সেজ ঠাকুরপো অমনি। বিয়ে থা করেনি। সংসারে কস্মিনকালে মন ছিল না। সন্নেসী হয়ে চলে গিয়েছে নিশ্চয়। আমি অবাক হয়ে ভাবতাম, কেউ কখনও খোঁজ নিলনা? মা বলেছিল, কে খোঁজ করবে? সবাই যে যার সংসারের ঠেলায় পড়ে আছে।


আরো পড়ুন: অমৃতস্য পুত্রা (পর্ব-৮) । অনিন্দিতা মণ্ডল


মনে আছে, কাশীতে একবার কেদার ঘাটের ধারে সিঁড়িতে এক সাধু দেখে মা তাড়াতাড়ি তাঁর কাছে গিয়েছিল। “আপনি সেজকাকা না?” মায়ের বিস্মিত স্তব্ধ চোখের দৃষ্টি সেই ন’বছরের বালিকার মতো। আমরা তখন হদ্দ ছয় সাত। মা যেন কী মাণিক খুঁজে পেয়েছে এমনি স্বরে বলেছিল, “সেজকাকা আমাদের সঙ্গে চলুন।” সাধুটি ঠেঁট হিন্দিতে বলেছিল, বিটিয়া ভুল করেছ। আমি তোমার কেউ নই।

মা কিন্তু সে কথা মানতে চায়নি। কেউ নয়? তাই হয়? যে সেজকাকা রেললাইন আর জঙ্গল থেকে আরও নির্জনে উধাও হয়েছিল এ সেই। সে না হয়ে যায়না। সে তো সাধু হতেই উধাও হয়েছে! আর কে না জানে সাধু মাত্রই কখনও না কখনও কাশীতে আসে?

আমার কানে সেই সাধুর ওই চারটে শব্দসহ বাক্য শুধু ভাসে। “আমি তোমার কেউ নই”। আমার রক্তের বীজ আর তোমার রক্তের বীজ এক নয়। আমি ভবঘুরে, সন্ন্যাসী। আর তুমি তো স্থাণু! দুনিয়াদারির কি জানো? দুনিয়া দেখতে হলে উধাও হও। পালাও। এই অজস্র বেড়ি পায়ে কাশী এসে কী মুক্তি পাবে?

এই যে বহতা জীবন, যে জীবনের পায়ে থাকে আপনজনের হাতের বাঁধন, সেই জীবনও মাঝে মাঝে উধাও হয়। মুক্ত হতে চায় সে। সামনের দিকে শুধুই ছুটে চলে। এমন ছুটে চলার সময় সে আর পেছন ফিরে তাকায় না। আপনজনের হাতের বাঁধন কাটা পড়ে। কোনো পিছুডাকই তাকে ফেরাতে পারে না।

কিন্তু ভুলোকাকা ঠিক সেরকম মুক্ত ছিল না। আমার মনে হয়, পায়ে সেই শক্ত বেড়ি ওর কখনোই গড়ে ওঠেনি। ওর পায়ে ছিল সেই বুনো ঘোড়ার মতো গতি। তাই পেছন থেকে টেনে ধরবার মতো কেউ বা কিছু ছিল না ওর। সে মুক্তির অধিকার নিয়েই জন্মেছে। তাই পেছনে তাকাতে তার কোনো কষ্ট নেই। বরং খানিক আনন্দ আছে। থিতু হয়ে না বসার ফলে শিকড় ওপড়ানোর কষ্ট নেই। তাই মায়ের সেজকাকার মতো ওকে পালিয়ে গিয়ে সাধু হতে হয়নি। মুক্তির জন্য জীবনকে অস্বীকার করতে হয়নি। এই জন্যেই ভুলোকাকাকে আমার বেশি সাধু লাগে। কাশী না গেলেও। ও কখনও বলেনি ‘আমি তোমার কেউ নই’। বরং, ও সবসময় বলেছে, আমরা ছাড়া ওর তেমন কেউ নেই। অবশ্য আতর বউয়ের কথাটা আলাদা করে বলবার কিইবা আছে! আতর বউ তো ভুলোকাকার অন্দরের পরিচয়। বাইরেটা নিয়ে ও এসে দাঁড়ায় আমাদের সামনে। আমরা ওকে ভেদ করে অন্দরে ঢুকে যাই। আতর বউয়ের ঘোমটা খুলে দেখি।

গরমের ছুটির পর ভুলোকাকা এসেছে আবার। স্কুল খুলে গেছে। ও রোগাই। কিন্তু ওর হাতেপায়ের শিরা আর পেশি রিক্সা টানার ফলে বেশ শক্তি ধরত। এবারে ভুলোকাকার সেই পেশিবহুল হাত পা যেন জীর্ণ হয়ে পড়েছে। চামড়া শিথিল হয়ে পড়েছে। আমরা নিজেদের মতো ভাবতে বসেছি। দিদি জিজ্ঞেস করল—তোমার অসুখ করেছিল ভুলোকাকা? ভুলোকাকা মাথা নাড়ল। “নাঃ, আমার না। হয়েছিল আমাদের খালপাড়ের ইকবালের। তো সে তো নেহাতই ছেলেমানুষ। তাই আমরা দোয়া করলাম। ইকবাল তো এই যায় কি সেই যায়। কিন্তু সক্কলের দোয়ায় ও ভালো হয়ে উঠেছে। তবে আমরা উপাস ছিলাম কিনা, তাই একটু রোগা হয়েছি”। সুতপাদি রেগে গেল। “দোয়া কেন? উপোষই বা কিসের? তোমরা ডাক্তার দেখাও নি? কী অসুখ হয়েছিল ইকবালের?” এত প্রশ্নের তোড়ে ভুলোকাকা দিশেহারা। কোনোরকমে বলল—না দিদি। ডাক্তার বদ্যি তো আমরা করতে পারি না। আমাদের বুড়ি দাদিনানীর যা জড়িবুটি আছে সেই সবেই সব অসুখ সারে। তবে হ্যাঁ। দোয়া করতে হয়। অসুখ সারাবার মালিক তো একজনই। তাই না দিদি? ভাই ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল—তুমি কেন রোগা হলে? ভুলোকাকা হেসে বলল—ইকবালের মা কান্নাকাটি করল কিনা, তাই আমি জিম্মে রইলাম। যদি খোদা ওর অসুখ সারিয়ে দেয়। কারোর যদি গোনা হয় তবে আমি তার জিম্মেদার রইলাম। তা গোনা তো কারোর হয়েছিল, তাই একটু অসুখ আমারও করল। ও কিছু নয়। ইকবাল সেরে গেছে।

আমি অবাক হয়ে গেলাম। এরকম হয় নাকি? খোদা দোয়া করে একজনের অসুখ আর একজনকে দিতে পারে?

সেদিন সন্ধ্যেয় বাবা ফিরলে আমরা তিন ভাইবোন বাবাকে ঘিরে ধরলাম। আজ বাবার মনটা ভালো। ভুলোকাকার কথাটা বললাম বাবাকে। ভাই বলল—ইকবাল মরে যাচ্ছিল, তাই ভুলোকাকা খোদার কাছে নিজে জিম্মে ছিল। ভুলোকাকা মরে যেতে পারত বাবা? একথাটা জিজ্ঞেস করার সময় ভাইয়ের গলাটা কেঁপে গেল। পাঁচ বছরের ভাই। বাবা আমাদের দিকে ভালো করে চাইলেন। হয়ত মনে মনে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কী বলা যায়। তাঁর সন্ততি সকলেই তো সুস্থ সবল নয়। তারপর কী মনে করে খুব উচ্ছল হয়ে উঠলেন। বললেন—টালা পাড়ার সে গল্পটা বলেছি? আমরা মাথা নাড়লাম। বাবা বলতে শুরু করলেন। “তোরা তখন হোস নি। ও পাড়ায় ছানুদের বাড়ির সবচেয়ে ভালো ছেলে, পড়াশুনোয় খুব ভালো, ছানুর খুড়তুতো ভাই বিনু পড়ল ঘোর অসুখে। তখন আমরা রাত্রিতে রকে বসে আড্ডা দিতাম। দিনেমানে কারোর সময় হত না। কানাঘুষো শুনছি, কে নাকি এক সিদ্ধবাবা ওদের বাড়ি যাওয়াআসা করছেন। বিনুর মরণাপন্ন অসুখ। ডাক্তার জবাব দিয়েছে। সেই সিদ্ধবাবা নাকি কিসব ক্রিয়া করে ওকে বাঁচিয়ে তুলবে। বেশ। ছানু তখন রকে আসা বন্ধ রেখেছে। বাড়িতে ভাইটার আজ নয় কাল। ওর আড্ডায় আসতে ইচ্ছে না-ই করতে পারে। কিন্তু দীপক বলল, তপু ওই সিদ্ধবাবা নাকি নিশি ডাকবে। বিনুর অসুখ নিশির ডাকে যে সাড়া দেবে তার গায়ে আসবে। সে মরবে, বিনু বাঁচবে। শুনেই মনটা খারাপ হয়ে গেল। বিনু সেরে উঠলে আমাদের আনন্দের সীমা থাকবে না। কিন্তু তাই বলে পাড়ার ছেলে ছোকরাদের কাউকে মেরে ফেলে ওকে বাঁচাবে? সেদিন অনেক রাত। তেমাথার মোড়ে নজরে এলো একটা ডাব। তার ওপরে একটা লাল চেলি আর কিছু ফুল ছড়ানো। দীপক সেপু ওরা বলল, আজ নিয়ে তিনদিন চলছে। ওরা কেউ রাতে জল খেতে বা বাথরুমে যেতে ওঠে না। কেউ ডাকলে সাড়া দেয় না। সকলেরই বাড়ির বড়রা বলেছে, তিনবার ডাকে সাড়া না দিতে। কারণ, ডাকের সময় বাবা বা মায়ের গলা নকল করে ডাক হয়। আমার শুনেই ভীষণ রাগ হল। এ আবার কি! ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে গিয়ে বলি নাকি! সোজা তেমাথার দিকে চললাম। ওরা আমাকে বারবার ফিরে আসতে বলল। কিন্তু এমন জেদ হল যে কোনো কথা না শুনে সোজা গিয়ে ওই ডাবের ওপরে হিসি করে দিলাম। পরের দিন পাড়া জুড়ে অস্বস্তি। সিদ্ধবাবা চলে গিয়েছেন। তিনি নাকি অন্তর থেকে নির্দেশ পেয়েছেন। অবিলম্বে তাঁকে গুরুপীঠে ফিরতে হবে। বিনু বেশিদিন বাঁচে নি। তাহলেই দেখো, এসব বুজরুকি। তবে সাদাসরল মানুষ যদি ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে তবে ভগবান শোনেন। এমন ছলচাতুরি করলে তো তিনি শুনবেন না! ভুলোকাকা তোমাদের খুব দয়ালু। তাই ওরকম উপোষ রেখেছিল। আর উপোষ করেই দুর্বল হয়েছে। তোমরা ওকে আমার নাম করে বোলো, উপোষ করলে ভগবানের কষ্ট হয়। ও বরং এমনিই প্রার্থনা করুক”।

ভাই সারাক্ষণ থরথরানো ঠোঁটে কান্না চেপে বাবার কথা শুনছিল। ও যেন সেই বিনুর চলে যাওয়া দেখতে পাচ্ছিল। চোখে ওর জল থমকে আছে। বাবা চট করে ওকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিলো। মায়ের ডাক পড়ল ভাইয়ের কষ্ট ভোলাতে। সে ভাই একদিন ওই বিনুর পথ ধরেই মা বাবার হাত ছাড়িয়ে চলে গিয়েছে। ওর চোখের সেই থমকানো জল এসে ভিড় করেছিল আমাদের চোখে।

পরের দিন আমরা ভুলোকাকাকে বেজায় বকাবকি করলুম। কী ব্যাপার কী, অ্যাঁ? দয়ালু কেন তুমি? উপোষ করো কেন? ভুলোকাকা মুচকি হেসে বলল—আমি কেন দয়ালু হবো? দয়ালু তো খোদা! তাই তো দোয়া করি। আর উপোষ? ও তো এমনিই করি।

তখন ক্লাস থ্রি। তাই ইতিহাসের পাতা থেকে জানলাম, নিজের সন্তানের জন্য বাবরও এমনি প্রার্থনা করেছিলেন। খোদা সে প্রার্থনা শুনেছিলেন। নিশির ডাকের মতো বাবরকে তিনি ডেকে নিয়েছিলেন তাই। আমি ভুলোকাকার মুখ মনে করে শিউরে উঠেছি। ভয়ের স্বপ্ন দেখে রাতে জেগে গেছি। তারপর দেখেছি, সন্তানের জন্য এ প্রার্থনা পিতা মাত্রই করে থাকেন। পড়েছি এক অদ্ভুত কবিতা।

“ধ্বংস করে দাও আমাকে যদি চাও

আমার সন্ততি স্বপ্নে থাক”।

বাবরের এই প্রার্থনা ভগবান শুনেছিলেন তো।  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত