| 18 এপ্রিল 2024
Categories
গল্প সাহিত্য

ছোটগল্পঃ মা বোধ হয় আর বাঁচবে না । হেমন্ত হাসান

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট
কথাটা শুনেই আমার যেন দম বন্ধ হয়ে এল। সমস্ত ঘোর কেটে গেল নিমিষে। কিংবা গোটা পৃথিবীকে আড়াল করে দিয়ে আমিই যেন কোন এক অজানা ঘোরে ডুবে গেলাম।লোকটা একবারই বলেছে কথাটা। আমার সামনের বেঞ্চটিতে বসা মানুষটি। হাসপাতাল গেটের উত্তর পাশের টং দোকানে আমি বসেছিলাম এক কাপ চা হাতে নিয়ে। ঢাকা শহরের জ্যাম এড়িয়ে ঠিক সময়ে অফিসে পৌছাতে এমনিতেই সকাল সকাল বের হতে হয়। আজ বের হতে হয়েছে আরও খানিকটা আগে। জহিরের বউ মা হবে। কাল রাতে পেইন ওঠাতে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। জামিল কাল রাত থেকেই খুব ভয় পাচ্ছে। রাতেই ফোন দিয়েছিল আমাকে। কথা দিয়েছিলাম, আসব। ডেলিভারি হয়নি এখনও। ডাক্তার আরেকটু অবজারভেশনে রেখেছেন পেশেন্টকে। আমি শুনে বড় আশ্চর্য হয়েছি। এই দেশের সমস্ত ডাক্তার যারা মাত্র বিশ হাজার টাকার জন্য সমস্ত মায়েদের পেট কেটে দুইভাগ করে দেয়, সারাজীবনের জন্য পঙ্গু করে দেয়- তাদের ভিড়ে এ কোন ডাক্তার ?
 
মানুষটা আমার সামনে বসা ছিল – আমার মুখোমুখি নয়। একটু আড়াআড়ি হয়ে, আমার দিকে প্রায় পিঠ ফিরিয়ে বসে ছিল লোকটি। আমি তার মুখ দেখতেই পাচ্ছিলাম না বলতে গেলে। তার ডান হাতে একটা পাউরুটি ।
 
বাম হাতের মোবাইল ফোনটা কানে চেপে ধরা। এক কামড় পাউরুটি মুখে নিয়ে লোকটি  প্রথম কথাটি বলল- “আম্মা মনে হয় আর বাঁচব না রে!” কথাটি বলতে বলতে মানুষটা উঠে দাঁড়াল। আমি স্পষ্ট বুঝতে পারলাম, লোকটার গলা বুজে আসছে। সে মুখের ভেতর পাউরুটির অংশটুকু গিলতে পারছে না আর। হাতের পাউরুটিটা বেঞ্চের উপরে রেখে লোকটা উঠে দাঁড়াল। দোকানদারের সামনে গিয়ে পকেট থেকে বিশ টাকার একটা নোট, তারপর পাঁচ টাকার আরও একটা কয়েন রাখল লজেন্সের বয়ামের উপর। টং দোকানের সামান্য এক পিস পাউরুটির দাম পচিশ টাকা হতে পারে না। তারমানে লোকটা চোখে দেখছে না আর। তার দুচোখ ভরা জল।
 
অথবা অর্থ কড়ির এই জাগতিক দাম দর তাকে আর ভাবাচ্ছে না একদম। যে সন্তান জেনে গেছে তার মা আর বেশিক্ষণ বাঁচবে না, তার কাছে এই গোটা পৃথিবীর মূল্যও – তার ফেলে যাওয়া আধখাওয়া পাউরুটির থেকে কম। শার্টের কোনায় চোখ মুছতে মুছতে লোকটা ভিড়ে হারিয়ে যায়।
 
লোকটা হারিয়ে যায়, আর আমি ফিরে পাই আমার বোধ। লোকটা যখন বলে যায়, তার আম্মা বোধহয় আর বাঁচবে না, তখন সে কথা শুনে আমার নিজের মায়ের কথা মনে পরে যায়।শার্টের কোনায় চোখ মুছতে থাকার দৃশ্যটি আমার বুকের পাঁজর ভেঙে দিয়ে যায় যেন। আরে, আমারও তো একজন মা আছে- যার মায়ায় আমিও নিয়মিত চোখ ভেজাতে পারি! কিন্তু কই, গত এগারোটি বছর তাকে আমার একটি বার মনেও পড়ল না! আমার গলা বুজে আসতে থাকে দ্রুত। আমার ভীষণ কষ্ট হতে থাকে।এগারো বছরের কান্না হঠাৎ সমুদ্র হয়ে ফুলে উঠতে থাকে আমার চোখে!
 
ইভার ফোন। মোবাইলে ভাইব্রেশন হচ্ছে। নিজেকে সামলাতে সামলাতে কল কেটে যায়। কিছুক্ষণ পর আবারও ফোন আসে। রিসিভ করে হ্যালো বললেও ওপাশ থেকে কেউ কথা বলেনা। আমি ডাকি, ইভা?
 
কী হয়েছে তোমার? কোথায় তুমি? একসাথে দুটো প্রশ্ন করে বসে ইভা। তার কণ্ঠে উদ্বেগ। প্রথম প্রশ্নটার জবাব নেই আমার কাছে। আমি দ্বিতীয়টার উত্তর দেই।
 
হসপিটালে। বের হচ্ছি।
 
কোন খারাপ কিছু? জহির ভাইয়ের ওয়াইফ…?
 
আরে না না। এমন কেন ভাবছ ? সব ঠিকঠাক আছে।
 
তোমার কণ্ঠ যেন কেমন শোনাচ্ছে…।
 
ইভাকে সাত আর পাঁচ বুঝাই। ফোন রেখে চুপ হয়ে থাকি। সিগারেট জ্বলে ওঠে। তাতে মনের অস্থিরতা পুড়ে যায়না। মন পুড়ে যেতে থাকে অনুশোচনায়। এগারো বছর আমি মায়ের সাথে কথা বলিনি! প্রায় এক যুগ আমি আমার মায়ের কোন খোঁজ রাখিনি! আমার মা। আমার নিজের মা। শার্টের হাতায় চোখ চেপে ধরে আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলি।
 
 
 
 
অফিসের চেয়ার আমাকে বসিয়ে রাখতে পারেনা। আমি উঠে হাঁটাহাঁটি করি বারবার। এসির ঠান্ডা বাতাসেও মন জুড়ায় না আমার। অস্থিরতা বাড়তে থাকে খুব। সিসি ক্যামেরার মনিটরে চোখ পেতে রাখা বস এর মনযোগ এড়ায় না কিছুই। আমার ডাক পড়ে তার চেম্বারে।
 
 
 
 
বাড়ি যাব স্যার।
 
 স্যারের ব্যাপার কী? কোন সমস্যা? চার শব্দের দুটি প্রশ্নের জবাবে একটি উওর দেই আমি।
 
বাড়ি যাবে? কোন বাড়ি? গ্রামের?
 
স্যার অবাক হন।প্রশ্ন করেন।উত্তরও দেন নিজেই। আমি মাথা নাড়ি।
 
হঠাৎ গ্রামের বাড়ি যাবে?
 
হ্যাঁ । মাকে খুব মনে পড়ছে স্যার।
 
মা? তোমার মা বেঁচে আছেন নাকি? কই কোনদিন তার কথা কিছু শুনিনি তো!
 
বাহিরে অনেক রোদ। এত রোদে দাঁড়িয়ে সিগারেটে টান দিতেই মাথা ঝিম ঝিম করতে থাকে। কিন্তু ফেলে দিতেও ইচ্ছে করেনা।  মনে হতে থাকে, সিগারেটটা ফেলে দিলেই আমি বড় একা হয়ে যাবো। কেন জানিনা দীর্ঘ দিনের চেনা এই শহরকে বড় বেশি অচেনা মনে হতে থাকে।হঠাৎ কেন জানি আমার মাথার উপর এক রাশ কালো মেঘ এসে ঘিরে রাখে। তারা বৃষ্টির মত ঝরাতে থাকে এক ভাবনা- এই শহরে তোমার কেউ নেই!
 
গনগনে রোদের নিচে জলন্ত সিগারেট হাতে আমি দাঁড়িয়ে থাকি। কিছু সময় পর, পাশে একটা রিক্সা এসে দাঁড়ায়। বুড়ো মতন চালক আমাকে জিজ্ঞেস করে, “মামা যাবো নাকি?”হ্যাঁ, আমি যাব। উঠে বসি। বাস টার্মিনাল যেতে বলি তাকে। আমার আঙুলের ফাঁকে সিগারেটটা তখনও পুড়ছিল। 
 
ঘুমিয়ে পরেছিলাম কখন জানিনা। পকেটে মোবাইলের কাঁপন ঘুম ভাঙায়। বের করতেই স্ক্রিনে ইভার মুখটা হেসে ওঠে।
 
ইভা?
 
হুম। বাইরে এখনও? অফিস যাওনি?
 
গিয়েছিলাম।
 
এখন?
 
মন টিকছিল না।
 
তাই বাইরে চলে আসছ, তাইতো?
 
হ্যাঁ।
 
কোথাও যাচ্ছো তুমি? গাড়ির শব্দ খুব।
 
এই শহরে মন ঠিকছে না আর!
 
মানে?
 
তাই শহরের বাইরে চলে যাচ্ছি।
 
কি বলছ তুমি! আবির কী হয়েছে তোমার?
 
আমি মায়ের কাছে যাচ্ছি ইভা।
 
দীর্ঘ সময় জ্যামে আটকা থেকে গাড়ি আবার চলতে শুরু করেছে । এসি বাস, ভেতরের টেম্পারেচার ঠিকঠাক। তবু দম বন্ধ লাগে আমার। বড় বেশি অস্থির লাগে। ইচ্ছে করে জানালাটা টেনে খুলে দিতে। নিজের গাড়ি আছে আমার। কিন্তু ড্রাইভার কাজে আসেনি আজ। ইভার লাগবে তাই গাড়ি নিয়ে বের হইনি। হলেই বা কী, মনের যে অবস্থা, ড্রাইভ করার অবস্থাতে আমি নেই।
 
মায়ের কথা মনে পড়ে আমার।এগারো বছর আগের মুখটাও বেশ স্পষ্ট। কিন্তু ভেবে ভীষণ অবাক হই, এতগুলো বছর মানুষটার কথা আমার একবারের জন্যও মনে পড়েনি! এ-ও কি সম্ভব? বিশ্বাসযোগ্য কোন কথা? জীবনের চরম যে শত্রু তাকেও তো মানুষ ভুলে যায়না। ঘুরেফিরে দেখা হয়ে যায় তার সাথে। তখন সৌজন্য বা সামাজিকতা- দু’একটা কথা না বলে পারা যায়না। সেখানে আমি কী করে পেরেছি, আমার আপন মা, যিনি আমাকে পেটে ধরেছেন, জন্ম দিয়েছেন, বুকের সবটুকু উত্তাপ দিয়ে আমাকে বড় করে তুলেছেন- তাকে চিরতরে ভুলে যেতে? আমি বড় হয়েছি, আমি সফল হয়েছি, কিন্তু মানুষ হতে পারিনি।
 
এদেশের প্রায় প্রতিটা ঘরে ঘরে, নিয়মিতই যে ধরণের মনমালিন্য হয়, মান-অভিমান হয়, ঠিক তেমনই এক সামান্য অভিমানেঘর ছেড়ে ছিলাম আমি । কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিলাম মায়ের সাথে, বাবার সাথে। আর সেভাবেই কেটে গেছে এগারো বছর! আগে কখনও অনুভব করিনি। কিন্তু আজ বুঝতে পারছি কতট নোংরা আমি।মানুষ হিসেবে কতটা ঘৃন্য।
 
বাড়ি যাব শুনে ইভা যেতে চেয়েছিল। বলেছিল, তাকে কেন জানাইনি? দুজনে এক সাথে গিয়ে মায়ের কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে নেয়া যেত। আমি ওকে বলেছি, আগে আমি ঘুরে আসি। পরের বার এক সাথে যাব। ইভার কথা শুনে আমার আবার এগারো বছর আগের অভিমানে মন ডুবে যেতে চায়। আমি নাহয় অমানুষ, মানুষ থেকে পশু হয়ে গেছি দিনে দিনে- ইভাও কীভাবে সব ভুলে বসে থাকলো? সেও-তো কোনদিন আমাকে জিজ্ঞেস করল না, আমার মা-বাবা কোথায়? কেমন আছেন তারা? তবে কি এই শহরই এমন ? এই শহরের আলো কিংবা বাতাসে কি তবে শুধুই ভুলে যাবার বিষ মেশানো?
 
 
 
 
যাদুর শহর নাম যে শহরের, সেই শহরের পথে পথে কি শুধু দূরে থাকার যাদু ছড়ানো?
 
 
 
 
 
 
 
যেখানে গাড়ি থামে সেখান থেকে বাড়ি পর্যন্ত সিএনিজি যায়, অটো যায়। আমি তবু পায়ে টানা একটা ভ্যানগাড়ি নিই।গ্রামের ভেতর দিয়ে ভ্যান চলে নিশ্চুপ। পাকা সড়ক। দুপাশে আবাদি জমি, মানুষের বসত বাড়ি। ঘাস খেতে থাকা গাই গরু। লাফাতে থাকা ছাগল ছানা। সাইকেল এর টায়ার নিয়ে ছুটে চলা উদোম শিশু। বাচ্চা কোলে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী। আকাশ ভরা রোদ, বাতাস ভরা সৌরভ। এলোমেলো করে দিতে থাকে আমাকে। আসরের আজান পড়ে।
 
মাঝবয়েসী ভ্যান চালক আমাকে জিজ্ঞেস করে, স্কুলের কাছেই নামব কিনা? আমি জানাই, হ্যাঁ, স্কুলের কাছেই নামব। আর খুব বেশি পথ বাকী নেই। এগারো বছরে পথঘাট, বাড়িঘর বদলে গেছে খুব। তবু কোথায় যেন সব আগের মতই আছে। আমার মন কৌতুহলী হয়ে ওঠে- আমাদের বাড়িও বদলে গেছে? আমাদের ঘর? আমার ঘর কিংবা উঠোন? বারান্দার সাথে লেবুগাছের ঝোপ?
 
আমার নার্ভাস লাগতে থাকে। আচ্ছা, এত বছর পর আমি কোন মুখ নিয়ে বাড়িতে ঢুকব? এতদিন পরে আমি খালি হাতেই চলে এসেছি কীভাবে? আচ্ছা বাবা কি বাড়িতে আছে? নাকি হাটে গেছে ? আজ কী বাজার করবে বাবা? মাছ কিনবে? মা কি এখন চুলার পাশে বসে আছে? রাতের রান্না  সেরে নিচ্ছে? আমার মায়ের হাতের মাছের ঝোল ঝোল তরকারি দিয়ে ভাত খেতে ইচ্ছে করে। আচ্ছা, আমাকে মা চিনতে পারবে তো? ধুর কী যে ভাবছি! মা কোনদিন সন্তানের মুখ ভুলে যায়? হয়তো আমি বাড়িতে পা রেখেই দেখব মা ভাতের হাড়ি মুছে ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। আমাকে দেখেই উঠোনে স্থির হয়ে যাবেন তিনি। আবেগে তার হাত থেকে ভাতের হাঁড়ি ফসকে না যায়! আমি কোন বিলম্ব করব না। উড়ে গিয়ে মায়ের পায়ে পরব। তারপর চোখের জলে তার পায়ের পাতা ধুয়ে দিয়ে বলব, মাগো আমাকে তুমি মাফ করে দাও। মা নিশ্চয়ই আমাকে ক্ষমা করে দেবেন। আমার মাথায় , চোখে মুখে হাত বুলাতে বুলাতে বলবেন, মুখটা এত শুকনা কেন, সারাদিন কিছু খাস নাই বুঝি? চল ঘরে চল বাবা, মাছের ঝোল দিয়ে গরম ভাত খাবি!
 
কখন স্কুলের পাশে চলে এসেছি জানিনা। ভ্যান চালক গাড়ি দাঁড় করিয়ে রেখে অবাক হয়ে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। আমি তার সামনেও আমার কান্না লুকাতে পারিনা !
 
বাড়িতে ঢুকারআগেই সরু পথের পাশে জামিলা ফুপুর সাথে দেখা। একা একা দাঁড়িয়ে ছিল আমের চারা গাছটার ডাল ধরে। আমাকে দেখে খুব স্বাভাবিক ভাবে বলল, আবির আইছ? যেন আমার আসারই কথা ছিল আজ। যেন আমি নিয়মিত আসি আর যাই। যেন আমাকে আসতে দেখে তিনি অভ্যস্ত খুব।
 
 
আমি কিছু বলার আগেই, আমাকে অবাক করে দিয়ে জামিলা ফুপু বলেন, আহো, তোমারে তোমার মায়ের কাছে নিয়া যাই। আমি কিছু বলিনা। জামিলা ফুপু হাঁটতে থাকে। ফুপু হাঁটছে এ বাড়ি ও বাড়ির পাশ দিয়ে। বাঁশঝাড় এর নিচ দিয়ে। আমার ভালো লাগেনা। আমার ভয় লাগে। জামিলা ফুপু আমাকে কোথায় নিয়ে যায়? জারুল আর জাম গাছের নিচ দিয়ে, জামিলা ফুপুর পিছন পিছন হাঁটতে গিয়ে আমার বুক কেঁপে উঠতে থাকে বারবার।
 
কী এক অজানা আশংকায় আমার দম বন্ধ হয়ে আসতে চায়। মা কী তবে বেঁচে নেই? জামিলা খালা কি আমাকে মায়ের কবরের কাছে নিয়ে যাচ্ছে?
 
না তেমন হতে পারে না। হয়তো আমার দুঃখী মা উদাস হয়ে বসে আছে কাঁঠাল তলায়। আমাকে দেখেই চমকে উঠবে খুব!
 
আচ্ছা আমার মায়ের কী ভীষণ অসুখ? শয্যাশায়ী? কত বছর? তিনি উঠে বসতে পারেন না? দাঁড়াতে পারেন না? জবান বন্ধ আমার মায়ের ? আমাকে দেখেও আমার মা আমার নাম ধরে ডাকতে পারবে না? দুহাত বাড়িয়ে আমাকে বুকে জড়িয়ে নিতে পারবে না আমার মা?  আমি আর ভাবতে পারিনা। আমার পা টলতে থাকে। আমার মাথা দুলতে থাকে। আমি পৃথিবী ভুলতে থাকি।
 
সেই কখন থেকে আমার কানের পাশে কে যেন অনবরত বলে যেতে থাকে-  আম্মা মনে হয় আর বাঁচব না রে..! 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত