| 24 জুলাই 2024
Categories
শারদ অর্ঘ্য ২০২৩

শারদ অর্ঘ্য অনুবাদ: মেরী এলিজাবেথ ফ্রাই । ঈশিতা ভাদুড়ী

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

মেরী এলিজাবেথ ফ্রাই, আমেরিকান কবি (১৩.১১.১৯০৫ – ১৫.০৯.২০০৪), ওহিওতে ডেটন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাঁর নাম ছিল মেরি এলিজাবেথ ক্লার্ক। তিনি তিন বছর বয়সে তাঁর বাবা-মাকে হারিয়েছিলেন, এছাড়া তাঁর শৈশব সম্পর্কে খুব বেশি কিছু জানা যায়নি। পরবর্তীতে তিনি বাল্টিমোরে চলে যান। এবং সেখানেই ২২ বছর বয়সে মেরি ক্লড ফ্রাইয়ের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন। তাঁর স্বামী একটি পোশাকের ব্যবসায় নিযুক্ত ছিলেন। আর তিনি ফুলের ব্যবসা।

১৯৩২ সালে, মার্গারেট শোয়ার্জকফ্ফ (Margaret Schwarzkopf)  নামে জার্মানির এক যুবতী ইহুদি মেয়ে ফ্রাইয়ের বাড়িতে এসে থেকেছিল। মার্গারেটের মা জার্মানিতে অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু মার্গারেট তাকে দেখতে যেতে ভয় পেত। ইহুদি-বিরোধী অস্থিরতা এতই বেড়ে গিয়েছিল, মার্গারেট জার্মানিতে যেতে পারেনি কারণ সে সেখানে গেলে তাকে কারারুদ্ধ করা বা হত্যা করা হত এমন আশঙ্কা ছিল। মার্গারেটের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সময় তার মা জার্মানিতে মারা যান। মায়ের মৃত্যুপূর্বে মার্গারেট তার মায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায়নি।

মার্গারেটের দুঃখ মেরী এলিজাবেথ ফ্রাইয়ের হৃদয়কে অত্যন্ত গভীরভাবে স্পর্শ করেছিল, কেননা তিনি মাতৃহারার শোক জানতেন। কথিত আছে যে, তিনি এমন বিহ্বল হয়েছিলেন যে একটি কবিতা লিখেছিলেন ‘সমাধির পাশে দাঁড়িও না, কেঁদো না’ নামে। এবং সেই কবিতাটির জন্য তিনি বিখ্যাত হয়েছিলেন, সেটি মূলত একটি ব্রাউন পেপার শপিং ব্যাগের ওপর লিখেছিলেন। যারা প্রিয়জনকে হারিয়েছিল, তাদের কাছে এই কবিতা খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল। এই জনপ্রিয়তার কারণ হল জাতি, ধর্ম বা সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে এই কবিতার কোনও সংযোগ নেই, এই ঘটনা যে কোনও মানুষের জীবনেই ঘটে থাকে।

লোকেরা কবির এই বারো-লাইনের শিরোনামহীন কবিতাটি পছন্দ করায় ফ্রাই অনেকগুলি অনুলিপি তৈরি করেছিলেন এবং সেগুলি ব্যক্তিগতভাবে প্রচার করেছিলেন। কবিতাটি দেশজুড়ে এবং এর সীমানা ছাড়িয়ে যেতে শুরু করেছিল। ১৯৩২ সালে যখন কবিতাটি রচনা করা হয়েছিল, তখন থেকে সেই কবিতা হাজার হাজার শোক-পত্রে লেখা হয়েছে এবং হাজার হাজার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় পঠিত হয়েছে।

১৯৯৫ সালে বিবিসি যখন তার টিভি প্রোগ্রাম বুকওয়ার্মে কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন তারা কবিতাটির কপির জন্য ত্রিশ হাজারেরও বেশি অনুরোধ পেয়েছিল। বিস্ময়করভাবে পরের বছর এটি “জাতির প্রিয় কবিতা” হিসাবে স্থান পায়। ‘সমাধির পাশে দাঁড়িও না, কেঁদো না’ কবিতাটি এমন ছিল –

সমাধির পাশে দাঁড়িও না, কেঁদো না।

আমি সেখানে নেই, আমি ঘুমাইনি,

আমি সহস্র বাতাস হয়ে বয়ে যাই,

আমি তুষারের ওপর হীরক দ্যুতি,

আমি পাকা শস্যের ওপর সূর্যের আলো,

আমি মৃদু শরতের বৃষ্টি।

 

স্নিগ্ধ সকালে জেগে ওঠো যখন তুমি,

আমি শান্ত পাখিদের বৃত্তে দমকা উড়ান তখন।

আমি রাতের নরম উজ্জ্বল তারা।

সমাধির পাশে দাঁড়িওনা, কেঁদো না,

আমি সেখানে নেই, আমি মরিনি।

 

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত