| 2 মার্চ 2024
Categories
অনুবাদ অনুবাদিত গল্প

অসমিয়া অনুবাদ: রক্তের অন্ধকার (পর্ব-১৭) । ধ্রুবজ্যোতি বরা

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

ডক্টর ধ্রুবজ্যোতি বরা পেশায়  চিকিৎসক,অসমিয়া সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য লেখক ২৭ নভেম্বর ১৯৫৫ সনে শিলংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীবরা ছাত্র জীবনে অসম্ভব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ‘কালান্তরর গদ্য’ ,’তেজর এন্ধার’ আরু ‘অর্থ’ এই ত্রয়ী উপন্যাসের লেখক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ২০০৯ সনে ‘ কথা রত্নাকর’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য আকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাকি উপন্যাসগুলি ‘ভোক’,’লোহা’,’যাত্রিক আরু অন্যান্য’ ইত্যাদি। ইতিহাস বিষয়ক মূল‍্যবান বই ‘রুশমহাবিপ্লব’দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ’,’ফরাসি বিপ্লব’,’মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ’। শ্রীবরার গল্প উপন্যাস হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা, মালয়ালাম এবং বড়ো ভাষায় অনূদিত হয়েছে।আকাডেমিক রিসার্চ জার্নাল’যাত্রা’র সম্পাদনার সঙ্গে জড়িতরয়েছেন।’ কালান্তরর গদ্য’ উপন্যাসের জন্য ২০০১ সনে অসম সাহিত্য সভার ‘ আম্বিকা গিরি রায়চৌধুরি’ পুরস্কার লাভ করেন।শ্রীবরা অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি। 


অনুবাদকের কথা

আলোচ‍্য উপন্যাস ‘রক্তের অন্ধকার'(তেজরএন্ধার) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ উপন্যাস। এটি লেখার সময় কাল ২০০০-২০০১ ছিল অসময়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্যোগের সময়। সেই অশান্ত সময়ে, আমাদের সমাজে, আমাদের জীবনে এক দ্রুত অবক্ষয়ের স্পষ্ট ছাপ পড়তে শুরু করেছিল। প্রতিটি অসমিয়াইমর্মেমর্মে   একথা উপলব্ধি করে ভেতরে ভেতরে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। রাজ্যের চারপাশে দেখা দেওয়ানৈরাজ্যবাদী হিংসা কোনো ধরনের মহৎ রূপান্তরের সম্ভাবনাকে বহন করে তো আনেই নি, বরঞ্চ জাতীয় জীবনের অবক্ষয়কে আরও দ্রুত প্রকট করে তুলেছিল। আশাহীনতা এবং অনিশ্চিয়তায় সমগ্র রাজ্য ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই যেন থমকে যেতে চায় কবির  কবিতা , শিল্পীর তুলি, লেখকদের কলম। তবে একথাও সত্যি যে শিল্পী-সাহিত্যিকরা সচেতন ছিলেন যে সমাজ জীবনের ভগ্নদশা’ খণ্ডহর’এর মধ্যে একমাত্র ‘সৃষ্টি’ই হল জীবন এবং উত্তরণের পথ। এই বিশ্বাস হারানোর অর্থ হল মৃত্যু । আর এই বিশ্বাস থেকেই সেই সময় লেখক লিখেছিলেন কালান্তর ত্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব – রক্তের অন্ধকার ।

এবার উপন্যাসটির বাংলা অনুবাদ নিয়ে এলাম। আশা করি ইরাবতীর পাঠকেরা এই ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত অসাধারণ উপন্যাসটিকে সাদরে বরণ করে নেবেন ।নমস্কার।

বাসুদেব দাস,কলকাতা।


হ‍্যাঁ, ডিসির সঙ্গে দেখা করতে পারলে ভালো হবে। কেরানি দালালের হাতে পড়লে ঝামেলার সৃষ্টি হবে। টাকা পয়সা খেতে চাইবে। আসল খবরটাও পাবিনা। তুই ডিসির সঙ্গেই দেখা করিস’– জলখাবার খেতে খেতেযতীনের মা প্রেমকে উপদেশ দিল ।

প্রেম চা জল–খাবার খেতে খেতে মাথা নাড়ল।

‘ যা ,তুই ঘুরে আয় । ডিসির অফিসে গিয়ে তুই নিজে খোঁজখবর করবি। আমি  তোকে কিছু টাকা দিচ্ছি, নিয়ে যাবি। আমাকে এই টাকাটা ঘুরিয়ে না দিলেও হবে ।’

‘টাকাটা না পেলে আমাদের জীবন্মৃত অবস্থা হবে।’– প্রেম বলল–’ হেম থাকতে সে এদিক-ওদিক করে অনেক কিছু করত। বাগানের জিনিসপত্র নিয়ে বিক্রি করা, কারও বাড়িতে এটা ওটা কাজ করে দেওয়া, চাষবাস দেখাশুনা করা, এসব করে সে অনেকটা সামলে নিত। আমি তো খোঁড়া পা নিয়ে বিশেষ কোনো কাজ করতে পারি না। সে তো বাগানে দু একটি সব্জি করতে পারত। আমার দ্বারা  সেটাওহয় না। কোদাল তো চালাতে পারি না, একটা মোড়ায় বসে বসে আগাছা গুলি বেছে দিতে পারি মাত্র।’

যতীনের  মা কিছু সময় চুপ করে থেকে বলল– আমাদের ছেলেরা ডিসির কাছে টাকা পয়সার কোনো খবর করে থাকে যদি আমি জানিনা। সে সবে আমার কোনো আগ্রহ নেই, তুই তো জানিস। যা তুই একবার নিজে গিয়ে খবর করে আয়।’

যতীনের মা ভেতরে উঠে গেল। ভেতর থেকে তিনি প্লাস্টিকের একটা বেগে অনেক শাকসবজি ভরে প্রেমের হাতে তিনশো টাকা এনে দিলেন।

‘তুই হয়ে আয়। সত্যিই নিজে খবরা খবর না নিলে কোনো কাজ হয় না।’

টাকাগুলি এবং সব্জির ব্যাগটা হাতে নিয়ে প্রেম বোঝাতে না পারা এক ধরনের পাপ বোধে আরও সংকুচিত হয়ে পড়ল ।

‘তোকে একটা কথা বলব বলবভাবছি প্রেম, ভুলেই যাই। ‘‐- যতীনের মা আরম্ভ করল।

‘কী কথা ঠাকুরমা?’

‘ এবার তুই বিয়ে কর। তোদের বাড়িতে একজন মানুষের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

প্রেমের মাথাটা হঠাৎ ঘুরে গেল যেন মনে হতে লাগল। সে ধীরে ধীরে উত্তর দিল।–’ কথাটা ঠিক। বাবাকে দেখা শোনা করার জন্য একজন মানুষের প্রয়োজন। মা একা আর কত করবে। কিন্তু বিয়েশাদির কথা ভাবি কীভাবে? মেয়েটিকে এনে কী দেব, কী খাওয়াব,নিজেরই অবস্থা নেই।’

‘ বছরের ভাত- কাপড় তোদের আছে । অনেকের তো তাও নেই । তাবলে কি মানুষ বিয়ে না করে আছে? শোন বিয়েটা করে ফেল, আমরা তো আছি, এটা ওটা দিয়ে সাহায্য করার জন্য। একটা মেয়েও আমি দেখে রেখেছি। ফুলকে তো তুই দেখেছিস। বড়ো ভালো মেয়ে। ঘর সংসার করার মতো মেয়ে। আমাদের বাড়িতে এসে ফুল আমাকে অনেক কাজে সাহায্য করে।’

প্রেমের এবার মাথাটা সত্যিই ঘুরে গেল। তার নাকে এসে গত রাতের গন্ধটা লাগল– ফুলের গন্ধ। শেফালি ফুলের গন্ধ। ফুলের চুলের গন্ধ।

‘ মেয়েটির বাবা নেই। মা বড়ো কষ্ট করে বড়ো করেছে। দুষ্ট মানুষেরা দশটা খারাপ কথা বলে। সেসব মিথ্যে কথা। আমি তো সব কিছুই জানি। ও বড়ো ভালো মেয়ে।’– যতীনের মা বলে গেল।

‘ তোর কোনো আপত্তি আছে নাকি প্রেম, মেয়েটির বিষয়ে?’

প্রেম কিছুক্ষণ চুপ করে রইল । তার চিন্তায় জট পাকিয়ে গেল। আসলে সে কিছুই চিন্তা করতে পারছে না। তার মনে কেবল  ভেসে আসতে লাগল গত রাতের শেফালি  ফুলের গন্ধ।

‘ কী হলো প্রেম? চুপ করে রইলি যে?’

‘ আপনি যখন বলছেন আমার আর কিছু বলার নেই।’

‘ আপত্তি নেই তো?’

‘ নেই ।’

যতীনের মায়ের মুখে হাসি ছড়িয়ে পড়ল । বিয়ে-শাদি ঠিক করার ক্ষেত্রে মহিলারা অনুভব করা আনন্দে তার মুখটা আলোকিত হয়ে উঠল। বেশ নিজের মনেই তিনি বললেন–’ ভালো কথা। আমি জানি, তুই আমার কথা ফেলতে পারবি না। তুই কখন ও খারাপ পাবি না। আমিও অনেক ভেবে চিন্তে কথাটা বলেছি। মেয়েরমায়ের কোনো আপত্তি নেই। আমি তোর মাকে ডেকেছি বলে বলবি তো। কথাটা আমিই তোর মাকে বলব।’

‘ আচ্ছা।’– বলে প্রেম যাবার জন্য উদ্যত হল।

‘ তাড়াতাড়ি আসতে বলবি।’– যতীনের মা আবার মনে করিয়ে দিল।’ এখন থেকে কথা-বার্তা চালিয়ে গেলে তবেই বাৎসরিকটা হয়ে যাওয়ার পরে বিয়ের কথা চিন্তা করতে পারা যাবে। তরার বাবা তোর বাবার বন্ধু ছিল নাকি, জানিস কি?’


আরো পড়ুন: রক্তের অন্ধকার (পর্ব-১৬) । ধ্রুবজ্যোতি বরা


এক বোঝাতে না পারা উথাল-পাথাল মনোভাব নিয়ে প্রেম খোঁড়াতে খোঁড়াতে বাড়ি ফিরে এল। গতকাল থেকে যেভাবে যে গতিতে ঘটনাগুলি ঘটতে শুরু করেছে প্রেম একেবারে খেই হারিয়ে ফেলছে। কাল থেকে নয়– সেদিন থেকে যেদিন নুন ছাড়া ভাত খেতে হয়েছিল – দোকানে গিয়ে মিথ্যা কথা বলে জিনিসপত্র নিয়ে আসার পর থেকে অদ্ভুত ধরনে ঘটনাগুলি ঘটতে  শুরু করেছে। তার মনটা একটু ভালো লেগে গেল- যে মেয়েটিকেনিয়ে সে স্বপ্ন দেখেছিল সেই মেয়েটি, এবার সত্যিই তার হতে চলেছে। চলেছে নয় কাল রাতে তার হয়ে গেছে– এখন কেবল সামাজিকভাবেবাড়িতেনিয়ে আসাটা বাকি…।

হঠাৎ তার মনে হল যে এই সবগুলিই হল, এই সবগুলিই ঘটছে সেই টাকাটা আসার কথার জন্য । তার মানে তার বলা মিথ্যা কথাটার জন্য । কথাটা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সে রাস্তাতেই দাঁড়িয়েপড়ল। হাতে ঝুলিয়েনিয়ে যাওয়া সব্জির ব্যাগটা তার ভারী বলে মনে হতে লাগল। তার নিজেকে বড়োঅসহায় মনে হল। কিছু সময় স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে সে ধীরে ধীরে ঘরের দিকে এগিয়ে গেল।

ভোগে  রান্নাঘরে ছিল।

প্রেম মায়ের হাতে সব্জির ব্যাগটা দিয়ে ভেতরের রুমেশুয়ে থাকা বাবাকে শুনিয়ে জোরে জোরে বলল–’ পরশুদিন টাউনে যাওয়াটা ঠিক হয়েছে। সর্বাদাদা আমার সঙ্গে যাবে। এক রাত দু রাত সেখানে থাকতে হতে পারে। সমস্ত খোঁজ-খবর নিয়ে আসব।’

বাবা ভেতরের ঘরের বিছানা থেকে গলা খাঁকারি দিয়েজানিয়ে দিল যে তিনি শুনতে পেয়েছেন। গলার আওয়াজ থেকেই প্রেম বুঝতে পারল যে বাবা কথাটাতে খুশি হয়েছেন। ।

মা জিজ্ঞেস করল – টাউনে গিয়েএকরাতদুরাত  থাকতে হলে তো অনেক খরচ হবে।’ মা কথাটা খুব ধীরে ধীরে বলল যাতে বাবা শুনতে না পায় ।

‘সেসবের ব্যবস্থা আমি করেছি । তুই চিন্তা করিস না ।’– প্রেম ধীরে ধীরে উত্তর দিল।

বাবা বেড়ারওপাশ থেকে পুনরায় গলা খাঁকারি দিল। মা-ছেলের মধ্যে কিছু কথা চলছে এটা বুঝতে পেরেছেন । কী কথা বলছে সেটা জানতে চাইলেন। মা- ছেলে দুজনেই না শোনার ভান করল।

রাতে ভাত খাওয়ার সময় ভোগে ছেলেকে জিজ্ঞেস করল–’ আমার কাছে কুড়ি টাকা আছে। নিয়ে যাবি তুই।’

‘ এখন লাগবে না, তোর কাছে রেখে দে।’– ভাত খেতে খেতে প্রেম মাথা না তুলে উত্তর দিল–’ এবার টাকার যোগাড়হয়েছে। সর্বাদাও পঞ্চাশ টাকার মতো দেবে। তারও নাকি টাউনে কিছু কাজ আছে ।’

দুজনেই কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। প্রেম পুনরায় বলে উঠল–’ নিজে গিয়ে তবেই বুঝতে পারব টাকা এসেছে কিনা, কবে দেবে, কীভাবে দেবে। অন্যের মুখের শোনা কথার উপরে ভরসা করা যায় না। টাউনে গেলে তবেই আসল কথা জানা যাবে।’

ভোগেই চুপ করে রইল।

ভাত খেয়ে উঠে জল খাওয়ার পরে প্রেম বলল–’ মা ,তোকে যতীন দাদার মা একবার ডেকেছে। কী যেন কথা আছে। আমি টাউনে যাবার পরে তুই একবার গিয়ে দেখা করে আসিস।’

ভোগেই কোনো উত্তর দিল না।

‘ শুনছিস মা?’ প্রেম আবার একবার জিজ্ঞেস করল।

‘ সেই বাড়ির উঠোনে আমার ছেলেটিঅপঘাতে মরেছে। সেই উঠোন মাড়াতে আমার মোটেই ইচ্ছা নেই।’–ভোগেই ধীরে ধীরে উত্তর দিল।–’ তুইওওদেরবাড়িতে যাস আমি চাইনা।’

প্রেম স্থির হয়ে দাঁড়িয়েপড়ল। কিছুক্ষণ সে নীরব হয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে কোমল স্বরে মাকে বলল–’ শোন মা, যা ভাগ্যে লেখা ছিল তাকে তো আর আটকানো যায় না। পুরোনো কথাগুলি ধরে থেকে কোনো লাভ আছে কি? বিপদের সময় যে সাহায্যটা পেয়েছি সেটাও ওই বাড়ি থেকেই পেয়েছি । কাপড়চোপড় তো দিয়েছেই, টাউনে যাওয়ার খরচটাও যতীনদার মা দিয়েছে । তিনি নিজে যখন তোকে ডেকেছেন একবার গিয়ে দেখা করে আসিস ।

ভোগেই এবারও কিছু জবাব দিল না।

‘ যাবি তো মা?’– প্রেম কিছুটা অধীর হয়ে জিজ্ঞেস করল।

‘যাব।’–ভোগেই অবশেষে কথা বলল।

‘ ঠিকই ,না গেলে খারাপ পাবে।’ প্রেম আশ্বস্ত হল।’ পরশুদিন যাস।’ মা এগিয়েদেওয়া বাটাটা  থেকে সে পানটা তুলে নিল।’ পরশুদিন আমি টাউনে যাব, তুই সেখানে দেখা করে আসিস।’

ভোগে মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল। পানটা  মুখে ভরে নিয়ে প্রেম ধীরে ধীরেবাড়ি থেকে বেরিয়েগেল।সে সেদিন কেনা চারমিনার সিগারেটটা জ্বালিয়েনিল । নাক মুখ দিয়েধোয়াছেড়ে সে ভাবল – ফুল – ফুল এখন কী করছে। বাগানের শেফালি ফুলের গন্ধ এসে তার নাকে লাগল। তার পুনরায় একবার ফুলের বাড়িতে যেতে খুব ইচ্ছে করল। আঃসেই গন্ধ, সেই উত্তাপ! নিজের অজান্তেই তার গতি দ্রুত হয়ে উঠল। না না আজ যেতে পারবে না। পারবে না যেতে। কথা-বার্তা এমনিতেই ঠিকমতো এগিয়ে চলেছে । এখন যাবার কোনো অবকাশ নেই । অনেক কষ্ট করে সে ইচ্ছাটাকে দমন করল। ধীরে ধীরে সেবাড়িতে ফিরে এল। অন্ধকার হয়ে থাকা তার ঘরের দরজাটা বন্ধ করে সে শুয়ে  পড়ল। বেড়ারওপাশে বাবার কাশি আর জোরে জোরে  নিশ্বাস নেবার শব্দ শোনা যাচ্ছে । সে বিছানায়শুয়েছটফট করতে লাগল। তার সমস্ত শরীর গরম হয়ে উঠল, তালু শুকিয়েগেল।ইস,ফুল, সে এখন কি করছে ? আমার কথা ভাবছে কি ? বিছানায়পড়ে আমার মতোবালিশটাকে বুকে চেপে ধরেছে কি? তার নাকে পুনরায় শেফালি ফুলের কোমল গন্ধ এসে লাগল।

বাঁশের চাঙটাতেশুয়ে সে এপাশ-ওপাশ করতে লাগল। 

শহরে যাবার দিন দিনসর্বা সকালেই সাইকেল নিয়ে হাজির হয়ে গেল। টাউনে যাওয়া বাসটা নয়টারসময়চৌরাস্তা থেকে ছাড়ে। সর্বা সেখানেই একটা দোকানে সাইকেলটা রেখে যাবে। মা-বাবার কাছ থেকে বিদায়নিয়েওরা দুজনেই সকাল সাতটারসময়বাড়ি থেকে বের হল। মা দুজনকেই আটার শুকনো রুটি দিয়ে জল খাবার খাইয়ে পাঠাল। দুটো রুটি করে সঙ্গে দিতে চেয়েছিল। প্রেম সর্বা দুজনই সমস্বরে বলে উঠল–’ লাগবেনালাগবেনা, অসুবিধা হবে। রাস্তায় হোটেলে খেয়ে নেব। কোনো অসুবিধা হবে না।’

দুজনেই বেশ উত্তেজিতভাবেবাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল।

যাওয়ার আগের মুহূর্তে প্রেম মাকে বলল–’ মা তুই কিন্তু আজ যতীন দাদাদের বাড়িতে যাবি, ভুলে যাস না।’

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত