| 17 জুন 2024
Categories
শারদ অর্ঘ্য ২০২৩

শারদ অর্ঘ্য গল্প: নোনাজলের চলন । পবিত্র মন্ডল

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

 

পুরো ভাদ্দর। চৌদিক প্যাঁচপেঁচে। বৃষ্টির চোটে প্রাণীকূল ঝালাপালা। আবার মাঝে মাঝে গরমে গা জ্বালাপোড়া। অসহ্য।

সকালে আজ চোখবোজা রোদ্দুর। ঝাপসা ধুলোময়লা জড়ানো চাদোর টেনে আসমান যবুথবু। সরেও না মেঘের গুলুনি। এসব দিন রবীনের ভাল্লাগে না।

সে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে কলাবাগানে। চোখ তার মাঠমুখো। ফ্যালানো জমিজিরেত চেঁচো আগাছার চোটে ফলনহীন। আমনের চাষ এবার ফই গেছে – হয়নি। ভর ঘের-বন্দ খাবলা খাবলা সবুজ। মাঠে হাঁটু তুপুত জল থাকলেও নোনা কাটেনি। লকলকিয়ে সংসার জাঁকিয়ে বসেছে চেঁচো।

দূরে দূরে দু-একটা লাঠি-কাঠি চেঁচো ফুঁড়ে মাথা উঁচিয়ে খাঁড়া। তা জড়িয়ে ফাঁসজালের ঘেরা। ভেটকি, গুলে, ট্যাঙরা, গাঙের কাঁকড়া। জাল ফুঁড়ে ওপারে যাওয়ার আগেই কাৎ। তা বিক্রিবাটা করে অনেকের বাড়তি আয়।

সেও বড্ডো আশা করে জালদড়া কিনেছিল। মন্দ কামাই হত না। এক দিন নোনা জলের বিষাক্ত জলকেরালি সাপ পেঁচিয়ে বিরাট ব্যাগড়া। যে কোনও সাপে তার হদ্দো ভয়। তার উপর জলকেরালি। এক বার বাগাত মতো ছোবল ফেলতে পারলে জান নিয়ে টানাটুনি। সেই থেকে তার সাধের ফাঁসজাল ক’টা তিনবছুরে নারকেলের ডেগোয় ঝুলছে। কিন্তু ওই ছাড়া আর মনে হয় স্থানীয় আয়ের অন্য উৎস নেই। এখন ফাঁকা জায়গায় খ্যাপলা জাল ফেলে চিংড়ি, গুলে, ছোটোখাটো ভেটকি গোটায়। সকালে, বিকালে ব্যাপারি ঘোরে পাড়ায়। নগদে, না হয় বাকিবকায় কম-বেশি দিলেও দুচ্চার পয়সা ঘরে ঢোকে।

‘ও দাদু, তাড়াতাড়ি নিয়ে এসো!’ মাছ-কাঁকড়া নিতে আসা ছোকরা ভারী-ব্যাপারির হাঁক।

দুপা এগিয়ে রবীন মুখে হাসি খ্যালায়, জবাব টানে, ‘আজ আর সকালে যায়নি, দাদু।’

‘কেন?’

‘শরীরটা ভালো নেই। সারা গা-গতর ম্যাজম্যাজ করছে। জ্বর জ্বর।’

‘আজ আমার কাছে ভালো দর ছিল।’ ব্যাপারির কথায় অবিশ্বাস। ভাবছে দাদু ওকে ধোকা দিচ্ছে।

‘না গো, একটাও মাছ-কাঁকড়া নেই। যাইইনি।’

ব্যাপারি সন্দেহ চেপে বাঁশের বাঁক কাঁধে তোলে। ফাও আর দাঁড়ায় না। দুপাশের দুই হাঁড়ি ব্যাপারীর হাঁটার ছন্দে তাল ধরে। দোলায় দোলায় এগোয় ছোকরা ব্যাপারী।

ভারী-ব্যাপারীর অভাব নেই। এক জন সরে গেলে আর এক জন তাগাদা লাগায়। রবীনের ‘না’ বলা ছাড়া উপায় নেই আজ। অন্য দিন রাত গড়াতে না-গড়াতেই দুজনে, রবীন আর রমলা খ্যাপলা জাল, ছোটো দস্তার হাঁড়ি, প্লাস্টিকের বালতি নিয়ে অনেকের মতো মাঠে নামে। যে মাছই পাকনা কেন হাঁড়িটায়, বালতিতে কাঁকড়া। রবীন জাল ঝাড়লে রমলা খুঁটে বেছে গোছায়। ঝপাং ঝপাং জাল ফ্যালে রবীন। এই করেই এ সনে সংসারের পেট গড়াবে, অন্য কোনও উপায় নেই।

বিঘে তিনেক যে ধেনো জমি আছে রবীনের চেঁচোয় চেঁচোয় ছয়লাপ। জষ্টি মাসের কোটালে গাঙবাঁধ ধ্বসিয়ে যে কম্মটা করে গেছে নোনাজল, ঘা আর শুকায়নি। মাটির ফাটা হা ফুঁড়ে কদ্দুর যে সাঁধিয়েছে নুনজল! সবাই ভেবেছিল এত বৃষ্টি যখন, লবন ধুয়ে মাটি চাষযোগ্য হবে। আশায় আশায় বৃষ্টির পয়লা ক’বারের জল শ্লুইজগেট খুলে গাঙে ফেলে শান্তি। কেউ কেউ পাওয়ারট্রিলার লাগিয়ে বীজতলাও বুনেছিল। নোনাশ্রী, রঞ্জিতের মতো নোনাকাটা ধান। এত সার, চুন, পটাশ, কীটনাশকেও টেঁকানো গেল না। দুই-এক পা পেছনে যারা ছিল, এগোল না কেউ। রবীনও গা করেনি।

ভিটের ওপর দুচ্চারটে খন্দপাতি বর্ষায় ডগিয়ে সবুজ বাড়ায় এসময়। সব্জিপাতি না কিনলেও খাওয়ার পাতে ভেন্ডি, ঝিঙে, বরবটি, পুঁই, ডেঙোশাক পড়ত। তাও নেই। নোনা জলের খেলায় গুষ্টিশুদ্ধ শেষ। বেগুন, ভেন্ডির ক্ষয়িষ্ণু কান্ড ভোঁতা মেরে খেতখন্দের চিহ্ন ধরে ধূসর। উদোখুদো খেতের গা নোনাজলের স্রোত ঠেকিয়ে ত্যালতেলে সমান। কলাগাছগুলো খানিক ভেঙেচুরে যাওয়ার পরও নোনা জলের চলনে ম্যাড়মেড়ে। আম, জাম, পেয়ারার সব পাতা ঝরে মুড়ো। নারকেল গাছগুলোয়ও যেন দূঃখ লেগেছে।

এখন ভর বৎসর যে খাবে কী! সব কিনেকেটে আর কত পারা যায়! গচ্ছিত রেস্ত টাকা আর কদ্দিন! সেও তো লাখ-লাখ হাজার-হাজার নেই। হাতে গোনা। বসে বসে খেলে কি কুলোবে! আয়পাতির অনুসন্ধান না করে বসে বসে ঠ্যাঙ নাচালে রাজার অর্থভান্ডারও ফতুর।

‘এই যে মরা ছেলের বুড়ো বাপ!’

রবীন ঘাড় ঘুরিয়ে দৃষ্টি চালান করে। তার একমাত্র নাতি নবীন। এমন অপমানকর সম্বোধন সে নাতির কাছে আগে পায়নি। অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে বৃদ্ধ। ছেলে রথীন করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ঠেলায় আর ‘বাবা’ ডাকার সময় পায়নি। চোখে দেখারও সুযোগ হয়নি জলজ্যান্ত ছেলেটাকে। অভাবের ঠ্যালায় ব্যাঙ্গালোরে কাজে গিয়েছিল। সেখানেই রমলার কোল খালি। গুমরানি মোচড়ানিটা গোপনে ঘুমিয়ে ছিল মনের ঘরে। নাতির সুরেলা ডাকে ব্যথাটা আবার চাঁড় খেল বৃদ্ধ বাপের।

‘ওভাবে তাকালে হবে! গতকালের কথাটার কিছু বল্লে না যে!’

নবীনপানে বৃদ্ধ পলোকহীন তাকিয়ে অনড়। দুদিন পর পেট তিনটে কী করে গড়াবে তার ঠিক নেই। হাতে পয়সাকড়ি ফক্কা। আগে রথীন পাঠাত। না বলে সে চলে যাওয়ার পর ক’মাস হেলেদুলে চলেছিল। ব্যাঙ্গালোরের কোম্পানীটা রথীনের পি এফের টাকা দেবে বলেছিল। ফোনে ফোনে কী সব কাগজপত্র চেয়েছিল, পাঠানো হয়নি। গিয়ে তদ্বির করাও সামর্থে কুলায়নি তার। রবীন ভালো করে ঘুরে দাঁড়িয়ে কথা ফোটাল, ‘নিজে থেকে একটা করে নে না! আমি এই বয়সে আর কত করব! দামড়া হয়েছিস তো!’

‘কী বল্লে, আমি দামড়া?’

‘তোর জুড়ি ছেলেদের দ্যাখ, তারা তোর মতো বসে বসে গান্ডেপিন্ডে গেলে না। উদয় জঙ্গলে মাছ-কাঁকড়া মারতে যায়, তোর বন্ধু ব্যাকা হরি এই গোনে ফাও মাছের ব্যবসা করছে, সুবোধও; রানা ব্যাঙ্গালোর-তামিলনাড়ু। তারা কী করছে, আর তুই!’

‘খাচ্ছো কী?’

বৃদ্ধ থত্থরিয়ে ওঠে।

‘নেতাদের কাছেপিঠে থাকি বলে এখনও খাচ্ছো। ত্রাণের একটাও কুপন তোমার বাদ যায়নি। সব ক’টা পাইয়ে দিয়েছি। এটা তুমি, তো ওটা তোমার বউ পেয়েছে। ঘরে ছ-সাত মাসের মাল মজুত। ক্ষতিপূরণের কুড়ি হাজারও পাবে। পাবেই। সব লাইন করে দিয়েছি। তুমি আবার গরীব নাকি! এবার পুজোয় দেবে না, মানে!’

 আর থির থাকতে পারে না রবীন, ‘আর কত দেব! এই সেদিন আঠারো হাজার টাকার মোবাইল নিলি। মাসে মাসে ফোনে টাকা, টিভিতে খরচ। খাওয়াদাওয়ায় একটু নিরামিষ হলেই নাক শিটকানি। ভালোমন্দ জামাকাপড় তোর যে নেই, তা তো নয়!’

‘থাকুক, আমার হাজার গন্ডা থাকলেও এবার পুজোয় তোমার দিতেই হবে।’

‘দিতেই হবে!’

‘তা, দেবে না!’

রবীন আর কথা বাড়ায় না। নবীনের ভাবসাব সে জানে। বাবা মারা যাওয়ার পর এবাড়ির কাউকে আর মানে-গোনে না। এখনই হয় তো হ্যানের ছেলে, ত্যানের ছেলে বলে মুখের ওপর চোপা করবে। অশ্রাব্য কথা ছাড়বে।

‘চলে যাচ্ছ যে! না হয় কম করে হাজার দুয়েক মাল্টু ছেড়ো।’

‘জামা-প্যান্টের জন্য দু-হাজার টাকা!’

‘এ বুড়ো এবার কোপ খাবে। মরণ হয়েছে দেখছি বুড়োর।’

আর দাঁড়ায় না বৃদ্ধ নবীন।

 

।। দুই ।।

মাছ-কাঁকড়া ছাড়া এ বছর আর বাঁচার উপায় নেই। সাপের ভয় মেরে এখন রবীন ফাঁসজাল দেয়, আটোন ঘুনি পাতে, খ্যাপলা জাল ফ্যালে। দুচ্চার পয়সার মুখ দ্যাখে হাতের তালুতে। কিন্তু মনের শান্তি আকাশে। আদোরের নাতিটা নতুন জামাপ্যান্ট-জামাপ্যান্ট করে বড্ডো জ্বালা পাকাচ্ছে। আগে এমন ছিল না। খুব আদোরে আদোরে বাঁদর মেরে গেছে নাতিটা।

বউমা চলে যাওয়ার পর চোখ-কান ফুটেছে নবীনের। তার চলে যাওয়াও ভাবতে পারেনি তারা। কিসের যে এত অভাব ছিল ঘরের লক্ষীর! খাওয়া পরার তেমন অভাব ছিল না তখন। ঘরে আয় করার লোক দুজন – ছেলে আর ও। ফি দিন ভালো-মন্দ না জুটলেও কেটে যেত ভালোই। বউমাকে নিয়ে প্রথমে মন কসাকসি থাকলেও পরে মরে এসেছিল। তবুও চলে গেল বউমা। রথীনের বন্ধু নেতাইয়ের সঙ্গে। পালিয়ে গিয়েছিল। এবাড়ির মতো সুখ সে আর কোন মুলুকে পাবে! একটাও কাজে হাত না দিলেও চলত, রবীনের কোলের মেয়েলোকটা সামলাতো। নচ্ছার মেয়েছেলে এখন যেখানে পারে শান্তিতে কাটাক গে। পরে সব্বাই জানতে পেরেছিল। কিন্তু বউমার ছ্যাঁচড়ামি মানতে পারেনি। রথীনের রাগ মরেনি। রবীনও ফিরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় করেনি।

নবীনের কত আর বয়স তখন! পাঁচ-ছয় হবে। মাকে না পেয়ে খুব কেঁদেছিল ক’দিন। একা একা ঘুরত ফিরত। পাড়ার ছেলেপুলের সঙ্গে মিশত না। ঠাকুদ্দা ঠাম্মাই তার বড্ডো আপন তখন। রথীনেরও মতিগতির ঠিক নেই। এর ওর বাড়ি কাজ-কাম, ফাইফরমাস খেটেখুটে বেড়ায়। নবীনের দিকে তার মন নেই। উড়ু-উড়ু ভাব। দেখলেও কেমন দুঃখ-দুঃখ হয়। দ্বিতীয় বিয়েতেও বাধা। বউমা ডিভোর্স দিয়ে যায়নি। গায়ের জোরে বিয়ে দিলে ফাঁদ পাতা। ওসব হ্যাপা সরিয়ে নাতিটার দিকে তাকিয়ে রথীনকে বিয়ে দিতে চাইলেও ছেলেটার ‘না’।

ফাইভ-সিক্স গড়ারে না-গড়াতে নবীন খেদিয়ে উঠল। বিড়ি, মদ, গাঁজা খোরদের সঙ্গে ওঠা-বসা জমাল। রথীন এক দিন হদ্দো পেঁদিয়েছিল। কিছু দিন ভালো। ফের পুরানো সঙ্গীসাথীদের টান। গোপনে গোপনে দেখাসাক্ষাত, আড্ডা। নবীন আর গা করেনি। মনে হয় পেরে ওঠেনি ছেলের সঙ্গে। ঠাকুদ্দা-ঠাম্মার কথা তখন থেকে কানে না তোলা নবীনের অভ্যাস। বড়ো বড়ো লাটসাহেবি চাল। কথায় কথায় মিথ্যে, নানান ছুতোনাতায় বাহানা। ওর বাবার যৌবনের গোড়ায় খানিকটা এমন লক্ষণ দেখা গেলেও রবীনের বেড়োবাড়িতে সিধে। নবীনের বেলায় আর পারা গেল না। নাতি তো!

পুজো সুমুখে আসছে। নবীনের মেজাজ চড়া। মাথায় নতুন জামাকাপড়ের ভুত। না দিলে একটা হেস্তনেস্ত বাধানোর ইঙ্গিত ফেলেছে রমলার কানে। রবীন নিরুপায়।

 

।। তিন ।।

‘বাবা, আমাকে ক্ষমা করুন। আমি ভুল করেছিলাম।’

‘পা ছেড়ে ওঠো।’

‘আমাকে ক্ষমা না করলে ছাড়ব না।’

‘ওঠো।’

‘আমি মহা পাপি। সারা শরীরে পাপ। আগে বলুন!’

রবীন নীরব। নবীন দাওয়ায় ঠ্যাং ঝুলিয়ে বসে আছে, কটমট তাকায় বউটাপানে। রমলার চোখেমুখে রি রি তেজ।

বেলা দুপুর। চড়চড় রোদ্দুর। নীল আকাশে সাদা মেঘের সাঁতার। হালকা হাওয়ার চোটে গরম ঝিমিয়ে ঠান্ডা। তবু যেন ঘামছে রবীন। মুখ খুল্ল, ‘তুমি তবে ফিরলে?’

‘হ্যাঁ, বাবা।’ এতক্ষণে বউটা মুখ তুল্ল, ‘যে ভুল করেছি, ক্ষমা হয় না জনি। তবু – আমি আর কোথায় যাব!’ দুচোখে টলমল জল।

‘সেই এলে, কত্তো দেরি হয়ে গেল।’ সব রাগদ্বেস হজম মেরে রবীনের দুচোখ ভিজে উঠল।

‘সব জানি, বাবা, ওর খোঁজখবর রাখতাম।’

‘সব জানো!’ এতক্ষণে বউটাপানে ঠিকঠাক লক্ষ্য নামল রবীনের। কপালে সিঁন্দুর, হাতে শাখা, পলা নেই। থান নয়, রঙিন কাপড়ে তার ঝলসানো বউমা আশা। পুড়ে পুড়ে অনেক লড়াইয়ে নিরেট হয় তো।

‘আমার নব কোথায়, বাবা?’

রবীন নবীনপানে তাকায়।

নবীন মুখ ঘুরিয়ে অন্যমুখো। উঠে বাহির বাড়ি, রাস্তামুখো।

দিনভর আর বাড়ি ফেরেনি রবীনের নাতি।

বউমা ফিরে আসায় একটা ব্যাথা, আনন্দও। তাদের শেষ বয়সে অন্তত দেখার কেউ হল। নবীনের সঙ্গে ওর মায়ের আপাতত পটবে না – রবীন বুঝতে পেরেছে। তবে দিনে দিনে মিটে যাবে হয় তো।

রবীন বিকালে বাজারে হেঁটেছিল। নিজের বাদে আর সব্বার জামাকাপড় আনল ধারে। দোকানদারের সঙ্গে বলাকওয়া – হালখাতায় শোধবে। নবীনের জন্য একটা দামী জিন্সের প্যান্ট, টি-শার্ট। আনন্দে আনন্দে ফিরল বাড়ি।

আশা কাপড়চোপড় নিয়েছে। খুব, খুব কেঁদেছে। প্রথমে বাধা দিলেও, ঠেলে দেয়নি। রমলা নতুন শাড়ি পেয়ে ফোকলা হেঁসেছে, ঠেঁস মেরেছে – বুড়ো বয়সের ঢঙ বলে। দুজনে অনেক গুঁতোগুঁতির পর রবীন রাজি হয়েছে – কাল নিজের জন্য যা হয় একটা নতুন কিছু আনবে। নবীনেরগুলো, বউমাকে বলে, খাটের ওপর পাতিয়ে রেখেছে রবীন। বাড়ি ফিরলেই উপহার দেবে।

ভররাত নবীন বাড়ি ফেরেনি। রবীনেরও এটা-সেটা চিন্তায় চিন্তায় ঘুম উড়েছে। ভোর রাতে ক্লান্তির সাড়ায় দুচোখ মুদে এলেও উপায় নেই, বেরিয়ে পড়ল। নাতিটা তার বড্ডো অভিমানী। কোনও বন্ধুর বাড়ি হয় তো রাত উতরেছে।

নবীনের গাঁটির বন্ধুদের দোরে দোরে খোঁজ পাড়ল বৃদ্ধ।

বিফল। নাতিটা তার এ তল্লাটে নেই। অনেক কথাবাত্রার পর বুঝল, রাত চারটের ভুটভুটিতে সে নাকি চলে গেছে। একা যায়নি, বন্ধু রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে গেছে। বিদেশ-বিভুঁইয়ের কাজে। তামিলনাড়ুমুখো। ট্রেনের টিকিটও নাকি কাটা নেই তাদের, পথে ব্যবস্থা করে নেবে।

সব শোনার পর নবীন আর থির থাকতে পারল না। নতুন জিন্স, টি শার্ট, দুগ্গাপুজো, নীল আসমানের বুকে সাদা মেঘ।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত