| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
অনুবাদ অনুবাদিত কবিতা

একগুচ্ছ অনুবাদ কবিতা । লুইস এলিজাবেথ গ্লিক

আনুমানিক পঠনকাল: 3 মিনিট

কবি পরিচিতি

 

লুইস এলিজাবেথ গ্লিক ১৯৯৩ সালে পুলিৎজার পুরষ্কার আর ২০০৩- ২০০৪ সালে পোয়েট লরিয়েট পুরষ্কার পেয়েছেন। তাঁর কবিতার উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে কেবল বৌদ্ধিক দিকই নয় বরং কিছু চিত্রাবলী, রূপকল্প প্রভৃতি কেমন করে যেন খুব নিভৃতেই জায়গা করে নেয় মনে। তিনি যখন মানুষের জীবন নিয়ে কবিতায় চিত্রকল্প ব্যবহার করছেন, আমি ভাবছি, এটা কি ফুলের জীবন নিয়ে বলছেন! আর তার পৌরাণিক কাহিনীর অসামান্য ব্যবহার বিভিন্ন কবিতায় মুগ্ধ তো করেই, পাশাপাশি সেই সব পৌরাণিক চরিত্রগুলোকে নতুন করে পরিচয় করিয়েও দেয়। তার সূক্ষ্ম মনস্তাত্বিক বিশ্লেষন বেশ মনোগ্রাহী। তার ব্যক্তিজীবন ভীষনভাবে ব্যাক্ত হয়েছ তার কবিতায় তাই কবিতাগুলো আমাদের হয়ে ওঠে খুব সহজে। তিনি ২০২০ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পান। 

নোবেলখ্যাত এই মানুষটি কয়েক মাস আগে ছেঁড়ে গেলেন পৃথিবীর মায়া। তাঁর স্মরণে সায়মা মনির অনুবাদে থাকছে ভূমিকাসহ একগুচ্ছ কবিতা।


 

কানাগলি

 

আমি বললাম, “শোন, দেবদূত, আমাকে এই ক্ষুদ্রতা থেকে আলাদা করো”।

বিচ্ছিন্ন করো ঘৃণা থেকে, এই অবিচলিত আহার তালিকার গালাগাল থেকে, 

যা আসলে খাদ্যশস্য, ভদকা আর টমেটোর

রসে সমন্বিত।

তুমি যে প্রেমের বীজ বপন করেছো

এই সব স্স্তা অলংকারের মাধ্যমে।

সেখানে থেকে যাওয়াটা

থাকতে না চাওয়ার তীব্র বাসনা উদ্রেককারী।

আমি তার রক্তশূন্যতার প্রবণতায়

চার মাস যাবত খাবার তৈরি করলাম।

এবং এই দুশ্চরিত্রদের সাথে

মান সম্পন্ন সহাবস্থান করলাম। কিন্তু ও আমার প্রিয়, যদি এখন আমি তোমার হাত

তোমার চুল স্বপ্নে দেখি

তবে তা হলো সেই জ্বলজ্বলে কানাগলি।

আমি মনে করি তা যেন দাবার মতো।

মনের বিরুদ্ধে মন।



লাল পপি

একটা মন আর অনুভূতি

থাকাই কেবল

যথেষ্ট তো নয়:

ওহ, আমার তো তা

আছে তবে,

তা আমায়

কেবলই শাসন করে।

স্বর্গে আমার

আছেন স্রষ্টা

যিনি অরুণ

আলোকচ্ছটায়

নিজেকে করে উদ্ভাসিত

তাতে হ্রদয়ে

আমার অনল

যেমনি অনল

জ্বলজ্বল

তাঁর উপস্থিতি। 

হ্রদয় ধারন করার মতন

গৌরব আর আছে কোথা? 

ও ভাইয়েরা বোনেরা, 

তোমরাও ছিলে কি আমারই মতন, 

অনেক আগে যখন তোমরাও ছিলে মানুষ?

নিজেকে কখনও

দিয়েছো কি অনুমতি 

শুধু একবার মুক্ত হবার, 

যে আর কখনোই হবেনা মুক্ত? 

কেননা আমি তাই বলছি 

যা করছো তোমরা।

আর আমিই বলছি 

কেননা আমিও এখন বদ্ধ।



সকাল নয়টায় স্বগতোক্তি

এই ক্যান্টাবাইলে আসা

নয় তুচ্ছ কোন বিষয়।

তার জ্বরের সাথে

বাস করা শুরু 

সেই ষোল বছর আগে।

আর এই ষোল বছর যাবত

অপেক্ষায় শুধু বসে থাকা

সব কিছু ঠিক হয়ে যাবে।

হাসি ছিল মুখে।

জানো, স্বপ্ন ছিল

হয় মরণ হোক

অথবা ও আবার

আমারই প্রেমে পড়ুক।

অন্য কারোর পায়ের

মোজার মতন ঘুরে দাঁড়াক।

ভেবেছি সে আছে।

ভেবেছি তার অনুপস্থিতি টের পাওয়া যাচ্ছে।

আর আজ সে একটা ডিমপোচের মতন

মৃত চোখে তাকিয়ে থাকলো।

তার টোষ্টটিও অস্পৃশ্য হয়েই আছে।

[বিঃ দ্রঃ কেন্টাবাইল এক ধরনের সংগীত যা যন্ত্রানুসঙ্গের সাহায্যে মানুষের কন্ঠস্বর নকল করতে ব্যবহার করা হয়।]

 

একটি উপকথা

দুইজন নারীএলো 

এক দাবি নিয়ে

জ্ঞাননিষ্ঠ এক

রাজার পদতলে।

নারি দু’জন

অথচ শিশু

মাত্র একজন।

রাজা নিলেন বুঝে

কেউ একজনতো

নিশ্চয়ই করছে মিথ্যাচার।

এবারে তিনি

যা বললেন, তা হলো

শিশুটিকে করা হোক

দ্বিখণ্ডিত ;

তবে কাউকেই

যেতে হবেনা আর

শুন্য হাতে।

সে তরবারি হাতে

হলেন উদ্যত।

ঠিক তখন

দুই নারীর একজন

স্বত্বত্যাগ করলেন:

এটাই ছিল ইশারা

এ অধ্যায়ের।

ধরো,

দেখলে তুমি তোমার মাকে

দুই কন্যার মাঝে

দ্বিখণ্ডিত হতে:

তখন তাকে বাঁচাতে

আর নিজেকে ধ্বসাতে

তুমি কী করতে পারো-

তিনি তখন নেবেন চিনে

কে ছিল সত্যি

যে মায়ের দ্বিখণ্ডিত

হওয়ার বেদনা

পারেনি নিতে মেনে।





‘‘ইথাকা’’,

প্রেমিকের বেঁচে থাকাটাই

মুখ্য নয়। সে তো প্রেমিকার

মনেই বেঁচে থাকে। সে তার প্রেমিকার

প্রেমের একাগ্রতার সুরে

অবিরাম সাদা কাফনের মতো

আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েই থাকে।

সে তো দুজন মানুষ ছিল।

সে একাধারে দেহ এবং স্বর ছিল, সহজ

চৌম্বকাবিষ্ট একজন জীবন্ত মানুষের, এবং তারপর

স্বপ্ন আর ছবি উদঘাটিত হতে লাগলো

যা সেই নারীর প্রেমেই আকৃতি পায়,

আক্ষরিকতায় বিশ্বাসী হলভর্তি করে

বসে থাকা মানুষের সামনে।

তুমি যে দুঃখ করো

প্রবঞ্চক সমুদ্র তাকে

চিরতরে নিয়ে যেতে

চেষ্টা করছে,

কেবল প্রথম মানুষটাকেই

নিতে পেরেছে,

যে আদতে আমার স্বামী ছিল, তোমার অবশ্যই

এই মানুষগুলোর জন্য দুঃখ করা উচিত: কেননা

তারা তো জানেনা যে

তারা যা দেখছে তাই সব নয়;

তারা এও জানেনা যে যখন কেউ এভাবে

ভালোবাসে, তখন কাফনের কাপড়ও

বিয়ের গাউনে পরিণত হয়।





error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত