লোকটি

অনুবাদ প্রবন্ধ: এজরা পাউণ্ড এক বেপরোয়া কবির গল্প

Reading Time: 5 minutes

“ডিমশাদা কাপড়ের ওপর সবুজ সেঁকোবিষের প্রলেপ,/থ্যাঁৎলানো জাম। এসো আমরা চোখ ভরে ভোগ করি।” — এজরা পাউণ্ড (অনুবাদ)

হঠাৎ একদিন রাত্রে জনৈকা পিয়ানোবাদিকার গৃহে গিয়ে উপস্থিত হলো এক মার্কিন যুবক। বয়স চব্বিশ-পঁচিশ। দরিদ্র। প্রায় বেকার। আলুসেদ্ধ আর বার্লির জল খেয়ে তার দিন কাটে। ছোকরার একদিকের জুলপি কামানো। কী ব্যাপার? না, আত্মভিমানের প্রতীক ওই বস্তুটা ও ছেঁটে ফেলেছে। মহালা প্রসন্ন হলে সে অন্যদিকের জুলপিটাও কামিয়ে ফেলতে প্রস্তুত। ফেললও একদিন। এমন কী, কবিতা লেখা ছেড়ে দিয়ে মহিলার জন্য সে প্যারিসে কনসার্টের ব্যবস্থা করতে উঠে পড়ে লাগল। নাছোড়বান্দা। শেষ পর্যন্ত রুথ হেইম্যান নাম্নী সেই মহিলা ভেনিস ছেড়ে পালিয়ে বাঁচে।

আ, লণ্ডন! এই তো কবিতার আসল জায়গা। এর পথে পথে কবিতার শব্দ, কবিতার উপকরণ। এখানকার মানুষ সঙ্গীত ও শিল্প নিয়ে ভাবিত। বহুভাষা আয়ত্ত করা এবার সার্থক হবে। লোকটিকে লণ্ডনের পথে, বইয়ের দোকানে, ব্রিটিশ মিউজিয়ামের আশপাশে ঘুরতে দেখা যায়। পরনে সবুজ প্যাৎলুন, গায়ে গোলাপী রঙের কোট, নীল শার্ট, মস্ত টাই গলায়। হাতে ছড়ি। একটা কাল্পনিক প্রতিপক্ষ খাড়া করে তার সঙ্গে তর্ক করতে দেখা যায়। শরীরের অনুপাতে মাথাটা তার বড়। ঘন লালচে সোনালী চুল ব্যাকব্রাশ করা। তাম্রবর্ণ দড়ি-গোঁফ খানিকটা ছাটা। কখনও মাথায় প্রকাণ্ড ছড়ানো এক চুপি। আর, একটা কানে বড় মাপের নীল মাকড়ি। দাড়ি-গোঁফ কখনও থাকে, কখনও থাকে না। লোকে বলে, ছিটগ্রস্ত। অথচ চার-চারটে কবিতার বই নাকি বেরিয়েছে ওর। একেবারে অন্যরকম স্বাদ ওর কবিতার, শব্দ দিয়ে বাজে।

কবিতার ভক্ত দুই নারী — ডরোথি ও তার মা অলিভিয়া — ওকে অপছন্দ করে নি। আর্টিস্ট তো একটু আধটু উৎকেন্দ্রিক হবেই। কেন, অস্কার ওয়াইলড ছিলেন না? আহা, এই সেদিন তাঁর দু বছরের কারাদণ্ড হয়ে গেল! অপরাধ, অশোভন আচরণ। এ কোনো অপরাধ হলো? একদিন এই মা ও মেয়ে লোকটিকে লোকটিকে প্রবীণ কবি ইয়েটর-এর বাসায় নিয়ে যায়। ইয়েটস কবিতা শোনান। সদ্য রচিত কবিতায় কিছু কিছু সংশোধনের প্রস্তাব করলে ইয়েটস অসন্তুষ্ট হন। লোকটি বাহুল্য একদম সহ্য করতে পারে না। কবিতায় ন্যাকামি দেখলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। ওকে শান্ত করার জন্য ডরোথি লোকটিকে বিয়েও করে ফেলল একদিন। শেষ পর্যন্ত লণ্ডন তাকে প্রত্যাখ্যান করল।  সেখানকার সভ্যভব্য সমাজ যথেচ্ছার সহ্য করতে পারে?

প্রায় কপর্দকশূন্য অবস্থায় লোকটি লণ্ডন ছাড়তে বাধ্য হয়।

আলগা রজ নাম্নী এক বেহালাবাদিকার সঙ্গে লোকটিকে এবার ইটালির শহরতলিতে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যাচ্ছে। প্রণয় চলছে দুজনের। এদিকে প্যারিসে ডরোথি অন্তঃসত্ত্বা। প্যারিস ওর ভালো লাগে না। অলগা একটি কন্যাসন্তান প্রসব করবে সেখানে। দুমাস পরে ডরোথির এক পুত্র জন্মাবে। কন্যাকে এক কৃষক রমণীর হাতে সঁপে দিয়ে এবং পুত্রকে তার দিদিমার কাছে লণ্ডনে পাঠিয়ে ওরা তিনজন ভূমধ্যসাগরের তীরে রাপালো নামক পল্লিতে বসবাস করতে চলে আসবে। দুই নারী ও একজন বেপরোয়া কবি। স্বামী স্ত্রী একটি বাসায়, অলগা কাছাকাছি আর এক বাসায়।

নানা দেশ থেকে কবিবন্ধুরা আসে রাপালোয়। লোকটির বাসায় ওঠে। কিছুদিন থেকে গল্পগুজব করে চলে যায়। অতিথি যদি নিজেকে প্রতিভাবান প্রতিপন্ন করতে পারে, তবে তার সমাদরের শেষ নেই। শিল্প বিষয়ে মৌলিক চিন্তা যদি না থাকে তার, তবে গৃহস্বামী তার ভূত ভাগিয়ে দেবে। নিজের কাজে লোকটির সময় ব্যয় হয় সামান্য, অধিক সময় যায় শিল্পীবন্ধুদের প্রতিষ্ঠিত করতে, তাদের ছবি বিক্রির আয়োজন করতে, তাদের বই ছাপানোর জন্য প্রকাশকদের তাগাদা দিতে। শিল্পীকে না রক্ষা করলে শিল্প কী করে বাঁচবে? তাই শিল্পীবন্ধু কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসা করাচ্ছে লোকটি, থানায় ধরে নিয়ে গেলে খালাশ করে নিয়ে আসছে, আত্মহত্যা করতে উদ্যত হলে নিরস্ত করছে তাকে। পেছনে ছুরি মারবে পরে, মারুক।

তার পাঁচতলার বারান্দা থেকে সমুদ্র দেখা যায়। লিখতে লিখতে তার চোখ পড়ে সমুদ্রের দিকে। ঠিক তেইশে মার্চ প্রতি বছর পরিয়ায়ী পাখির ঝাঁক এই বাড়িটার ওপর দিয়ে উড়ে যায় কাছের নদীতীরে। এক একদিন অতিথির জন্য মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে লোকটির। ইংরেজি কথা শোনার জন্য মনটা আনচান করে ওঠে। টম কী করছে এখন? কেমন আছে বিল? টম মানে এলিয়ট। বিল মানে উইলিয়ম কার্লস উইলিয়মস । তার দুই ঘনিষ্ঠ কিন্তু সমালোচক বন্ধু।

এভাবে কেটে যায় সতেরোটা বছর।

ডিসেম্বর মাস। একদিন বিকেলবেলা লোকটি রাপালোর বাসা থেকে বেরিয়ে ট্রেনে চেপে সোজা পৌঁছল ইটালির রাজধানী রোমে। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। জার্মানী ও ইটালির বিরুদ্ধে, আমেরিকা ও আর কিছু মিত্রশক্তি। রোমের সরকারি বেতারকেন্দ্র থেকে তার কণ্ঠস্বর শোনা গেল : “আমি এজরা পাউণ্ড কথা বলছি। ইংল্যান্ড ও আমেরিকার শ্রোতারা শুনুন। কথায় বলে, ইংরেজের মাথা কাঠ দিয়ে তৈরী আর মার্কিনীদের মাথা তরমুজফল। একটার মধ্যে কিছুই ঢোকে না, অন্যটার মধ্যে যা সহজে ঢোকে তা দশ মিনিটের মধ্যে বেরিয়ে যায়।”

মুসলিনির ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ এই লোকটি বলতে থাকে, “বন্ধুগণ, ইটালির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার মতো আহাম্মকি আর কিছু হয় না। পৃথিবীর মানুষের মুক্তি হিটলার ও মুসলিনির হাতে। আপনারা এই দুই নেতাকে সর্বতোভাবে সমর্থন করুন। এই যুদ্ধে ইঙ্গমার্কিন বাহিনীর জয় অসম্ভব। বিবিসি থেকে যা প্রচার করা হচ্ছে তা মিথ্যে। নিউইয়র্ক, বস্টন যা রটাচ্ছে তা মিথ্যে।”

সপ্তাহে দুবার করে এই কণ্ঠস্বর বিশ্বের মানুষ শুনেছে, এক বছর ধরে। কী, তারও বেশি। নাৎসিদের যাবতীয় অপকীর্তির সমর্থনে ধর্মযুদ্ধের যুক্তি, ইহুদিদের বিরুদ্ধে জাতির শুদ্ধতা রক্ষার যুক্তি। মিত্রপক্ষীয় সৈন্যের অবধারিত পরাজয়ের ভবিষ্যৎবাণী। তবু শেষ পর্যন্ত মিত্র পক্ষই জিতল। যুদ্ধ শেষ হলো ইটালি ও জামার্নীর বিপর্যয়ে।


আরো পড়ুন: অনুবাদ গল্প: শেষ স্যালুট । সাদাত হাসান মান্টো


এরপর একদিন দেখা গেল স্থানীয় প্রতিরক্ষীদলের দুজন সৈনিক এসে পাঁচ তলার ফ্ল্যাটের দরজায় বেল বাজাচ্ছে। দরজা খুলতে ওরা বলল, “চলে আয় বিশ্বাসঘাতক”। ষাট বছর বয়স্ক লোকটি তাড়াতড়ি তৈরি হয়ে নেয়। মানবধর্মী চীনা ধর্মগুরু কনফুসিয়াস রচিত একটি গ্রন্থ গোপনে পকেটে পুরে বেরিয়ে আসে। ফ্ল্যাটের দরজা টেনে বন্ধ করে দেয়। নিচের তলায় চাবিটা দেবার জন্য দাঁড়ায় একটু। নিচের তলার গিন্নী দেখেন, লোকটি একটু অপ্রকৃতিস্থ। বারবার নিজের গলার চারপাশ আঙ্গুল দিয়ে ডলছে। ওরা চলে যায়।

তিন সপ্তাহ পরে তাকে খোলা জিপে চড়িয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পিসায়, এক নিগ্রো খুনী আসামীর সঙ্গে হাতকড়া বাঁধা। সেখানে তাকে খাঁচায় বন্দী করে রাখা হয় ছ’মাস। ছ’ফুট বাই ছ’ফুট সেই খাঁচা তারের জাল দিয়ে ঘেরা, দেওয়াল নেই। তার ভেতর থেকে লোকটি অন্য খাঁচার বন্দীদের দেখে। তারা কেউ খুনী, কেউ পলাতক, কেউ নারীধর্ষক। হাওয়া এলে ধুলোয় ভরে যায় খাঁচার ঘর, বর্ষায় জল পড়ে। লোকটি দুহাতে মুখ ঢেকে বসে থাকে এক কোণে কিংবা কম্পল মুড়ি দিয়ে সিমেন্টের শক্ত মেঝেয় শুয়ে শুয়ে ঠকঠক করে কাঁপে। অন্য বন্দীরা দিনে একবার বাইরে যাবার অনুমতি পায়, সে পায় না। ওই খাঁচার মধ্যে আলো অন্ধকারে পায়চারি করে সে, আর মাঝে মাঝে কাল্পনিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে টেনিস খেলে, বকসিং করে। এর এক সময় অকারণে চিৎকার করে ওঠে। ছ’মাস এভাবে কাটবার পর তাকে আমেরিকার জেলে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে তার অপরাধের বিচার হবে।

দেশদ্রোহিতার অপরাধে অভিযুক্ত লোকটিকে প্রচণ্ড লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছে এই সময়। শারীরিক কষ্ট, অসম্মান। সাহিত্য ও শিল্পের এত বড় একজন বোদ্ধা, আধুনিকতার প্রবর্তক, সৌন্দর্যসন্ধানী কবি কিনা সাধারণ অপরাধীদের সঙ্গে হাজতে পচছে! হয়ত মৃত্যুদণ্ড হয়ে যাবে ওর, নয়তো সে মারা যাবে নিউমোনিয়ায়। সে কি বিশ্বের মানুষকে বোঝাতে চেয়েছিল যে, গণতন্ত্রে একদল নিকৃষ্ট লোকের প্রাধান্য, শিল্পীর পক্ষে যা কাম্য নয়? সাম্যবাদেও গোষ্ঠীর কর্তৃত্ব শিল্পচেতনাকে ধ্বংস করবে? রাজতন্ত্রে শিল্প মর্যাদা পেয়েছে, একনায়কতন্ত্রেও পাবে — এই কি ছিল তার বেতারভাষণের মূল তত্ত্ব? সে কি ভুল করেছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এখন সময় নয়। লোকটির বন্ধুবান্ধব বিশ্বময় ছড়ানো, প্রচণ্ড খ্যাতিমান এক-একজন ব্যক্তি তারা। তাদের চেষ্টায় লোকটির মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়। চারজন মনস্তত্ত্ববিদ লোকটিকে পরীক্ষা করে রায় দেন, সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছে। সে প্যারানইয়া রোগগ্রস্ত, আত্মপক্ষ সমর্থনে অপারগ, সুতরাং বিচারের পক্ষে অযোগ্য। তার চিকিৎসা হওয়া দরকার।প্রভাবশালী ব্যক্তিদের চাপে প্রশাসন এই রায় মেনে নেয় এই শর্তে যে, অতঃপর লোকটি আর উৎপাত করবে না।

লোকটি মুক্তি পেল। অর্থাৎ কারাগার থেকে পাগলাগারদে স্থানান্তরিত হলো। জীবন রক্ষা পেল। তারপর ১৩ বছর পাগলাগারদে বাস করার পর সে সত্যি সত্যি মুক্তি পায়। ইতিমধ্যে শ্রেষ্ঠ মার্কিন কবির পুরস্কার তাকে দেওয়া হয়ে গেছে। মুক্তি পেয়ে সোজা ইটালি রওনা দেয় সে। সেখানে পৌঁছলে, রিপোর্টাররা ছেঁকে ধরে। প্যাসিস্ট প্রথায় স্যালুট করে লোকটি বিপোর্টারদের বলে, “ওঃ, আমেরিকা থেকে চলে এলাম। পুরো দেশটা একটা পাগলাগারদ।”

অলগা রজ-এর একটি ছোট্ট বাড়ি আছে ভেনিস শহরে। লোকটি প্রতি বছর শীতকালটা সেই বাড়িতে কাটায়। গ্রীষ্ণকালে ফিরে আসে সেই পুরনো রাপালো পল্লিতে। সেখানে পাহাড়ের ওপর অলগার আর একটা আস্তানা। কন্যা মারিয়া থাকে সেখানে। খানিক নিচে ওই রাপালোতেই বসবাস করে তার স্ত্রী ডরোথি। লোকটি এখন বিখ্যাত। নানাদেশ থেকে মানুষ তার সঙ্গে দেখা করতে আসে। আমেরিকা থেকে আসে সাহিত্যের ছাত্ররা। লোকটি বলে “আমি যখন যুবক ছিলাম, তখন ভাবাবেগে মরে যাচ্ছিল। আমি তাকে বিষয়ের দিকে টানলাম। এখন কবিতা বিষয়ের ভাবে মরণাপন্ন। কবিতা সর্বকালেই কোনো না কোনো কারণে ম্লিয়মাণ।” লোকটি বলে, “কবিতা সেই প্রেরণাজাত অঙ্ক যা দিয়ে সমীকরণ সম্ভব। সংখ্যা, ত্রিভুজ, বর্গক্ষেত্র প্রভৃতির নয়, মানুষের ভাবাবেগের সমীকরণ। লোকটি যা বলে আধুনিক কালে তা-ই এখন বাণী।

একসময় তার কথা বলার আগ্রহ আর থাকে না। সে চুপ করে যায়। সাক্ষাৎপ্রার্থী কেউ এলে ঘন্টার পর ঘন্টা তার সামনে বসে থাকে, কোনও কথা বলে না। এইভাবে কেটে যায় আরও ১৩টি বছর। স্ত্রী, প্রণয়িনী ও কন্যা — এই তিন নারির শুশ্রূষা তাকে দীর্ঘ দিন বাঁচিয়ে রেখেছিল।

লোকটির নাম এজরা পাউণ্ড। বেঁচে থাকলে ২০২২ সালে অক্টোবর মাসে তাঁর ১৩৭ বছর পূর্ণ হতো। তিনি বেঁচে নেই কিন্তু এই শতকের জটিল জীবনের সঙ্গে কবিতাকে, শিল্পকে মেলাবার চেষ্টায় তাঁর কবিতা, প্রবন্ধ, সমালোচনা নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই।

কী রকম তার কবিতা? তা কি দু-চার কথায় বোঝানো যায়। অনুবাদে তো একেবারেই না। মানুষটির জীবনের দু-চার কথা শুনে যদি তাঁর সম্পর্কে আগ্রহ জানে, তবে পাঠক খুঁজে পড়ে নেবেন।

   

তথ্য : শরৎকুমার মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদ প্রবন্ধ

   

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>