| 3 মার্চ 2024
Categories
ধারাবাহিক

ধারাবাহিক: রাণীয়ার রান্নাঘর (পর্ব-২) । ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

হোমডেলিভারি

অনসূয়ার বড় মেয়ে-জামাই মিঠি-শৈবাল। দুজনের চাকরি আপাততঃ ব্যাঙ্গালোরের দুই অফিসে। ঝকঝকে হাইএন্ড কেরিয়ার। উজ্বল ভবিষ্যত। তথ্যপ্রযুক্তি নিয়েই দুজনার দিনাতিপাত। ব্যস্ত জীবন আর পাঁচজনের মতোই ইঁদুরদৌড়ে সামিল। টারগেট রিচ করার বাসনায় মত্ত তারা।
এহেন জুটির বাড়িতে নিয়মিত রান্না বলতে শুধু ব্রেকফাস্টে ডিম টোস্ট অথবা টেট্রাপ্যাকের দুধ কিম্বা ফ্রোজেন ইয়োগার্ট দিয়ে সিরিয়াল। সঙ্গে কিছু ফলের টুকরো। একটু আধটু হান্ড্রেড পার্সেন্ট জ্যুস। আগের রাতে রোল্ড ওটসটুকুনিও শৈবাল কে মনে করে দুধ বা দইতে ভেজাতে হয়। তার মধ্যে গুচ্ছের ড্রাই ফ্রুটস, নানারকম সব দরকারি সিডস… চিয়া থেকে ফ্ল্যাক্স, সেসেমি থেকে পামকিন আর ব্লু বেরিজ, ক্র্যান বেরিজ… তাও মনে করে ছড়িয়ে দেয় সে। কোনদিন মুখ বদলাতে ফোনে বুঁদ হয়ে থাকা বউয়ের সিরিয়ালের কাচের বাটির মধ্যে এক মুঠো গ্রানোলা ফেলে দেয় তার বর। সোহাগিনী মিঠি বলে ওঠে, “ ইউ মেড মাই ডে ডিয়ার’’
শৈবাল বলে, উঁহু, তাই বলে রোজ নয়। ”খুব সুগারি কিন্তু গ্র্যানোলা’’  
এমন কী টেবিলে রাখা কলাটুকুনিও চাকা চাকা করে কেটে দিলেও ভালো হয় মিঠির। ছুটির দিনে ইডলি, দোসা। তাও অর্ডার করে। বাকী সবকটা মিলের মতই। বাড়িতে টক দইটুকুনিও পাতবে না মেয়ে। তার মা বলে বলে থকে গেছেন। মেয়ে বলে, কিনতে পাওয়া যায় সহজে তখন কাজ বাড়িয়ে লাভ কী? মিঠি তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছে তা।
শৈবাল একবার অবিশ্যি বলেছিল, জানো তো? ঘরে পাতা দইতে প্রোবায়োটিক ল্যাক্টোব্যাসিলস কিন্তু প্রোঅ্যাক্টিভ আমাদের গাটস এর জন্য। মিঠির এসবে হেলদোল নেই যদিও।
মাঝেমধ্যে ফ্রোজেন সসেজ, নাগেটস ভেজে নেওয়া…
এসবও শৈবালের ডিউটির মধ্যে পড়ে।

শৈবাল একসময় ভাবে এটাও একদিক থেকে ভালোই।বাড়িতে রান্নাবান্নার পাট না থাকলে একদিকে বেশ সাশ্রয়। আবার চাপ নিতে হয়না। গ্যাস ফুরোয় না, বাজার করতে হয়না, রান্নার লোকের মাইনে গুনতে হয়না। গ্রসারি কিনে এনে গুছিয়ে তুলতে হয়না। সেগুলোও মস্ত কাজ এক একটা। সবটাই তো শৈবাল কেই করতে হবে কী না!

শৈবালের মা সেই শুনে ছেলেকে ‘জরু কী গোলাম’, ‘হেন পেকড’ এসব বিশেষণে বারেবারে  ভূষিত করতেও ছাড়েন নি একসময়। একদিন তো ডাইনিং টেবিলেই চেঁচিয়ে সবার সামনে ‘মাগের ভেড়ো’ বলে ফেলেছিলেন মুখ ফসকে। অপরাধের কাঠগড়ায় শৈবাল বারেবারে। তার দোষ সে মিঠি কে নিজের মায়ের সামনে সাপোর্ট করেছিল সেদিন। আরও হয়ত কিছু বলার ইচ্ছে ছিল তার মায়ের কিন্তু শৈবালের বাবা টেবিল ছেড়ে উঠে যাওয়ায় মা আর মুখ খোলেন নি সে যাত্রায়। বুঝেছিলেন তিনি সীমা ছাড়াচ্ছেন। তার সাবধান হওয়া উচিত ছিল। তবে ভবি ভোলার নয়। সেই যে কথায় বলে না… স্বভাব যায় না মলে…  
তাই সেদিন মনে মনে তিনি বলেছিলেন, ব্যাটাছেলে গুলো সব এমনি হয়। চাঁদির জুতো মারছে যে ছেলের বৌ। তাও আবার সুন্দরী। সেই যে বউভাতের দিনেই তো আত্মীয় পড়শিরা সব বলেই ফেলেছিল… ও দিদি, এ তো রূপে লক্ষ্মী, গুণে সরস্বতী বউ তোমার! ব্যাস! সেই থেকেই তিনি বুঝেছেন। বউয়ের পায়া ভারি হয়ে গেছে। তায় আবার বাপের আদুরে মেয়ে বলে কথা।  সে কী আর কারোর কথা শোনে?
অথচ সেই বউয়ের কৃপায় প্রতিমাসে শ্বশুরের জন্য ফ্লুরিজের কেক, মহার্ঘ্য আইসক্রিম আসছে ঘরে…অবিশ্যি বৌ শাশুড়ির জন্যও আনতো কিনেকেটে। সুন্দর হাউজকোট এনে দিয়েছিল সেবার জন্মদিনে। এখন সেসব গল্প বন্ধ অনেক দিন। যবে থেকে ছেলে বৌমা ব্যাঙ্গালোরে পাড়ি দিল তবে থেকেই। এখন মাঝেমধ্যে অনলাইন ছেলে কিনেকেটে পাঠায় দরকারী সব জিনিষ। তাও মায়ের ফরমায়েশ মত।

তবে মিঠির ঈশ্বর কাঁচকলা দেখিয়েছে তার শাশুড়ির মুখের সেইসব ভাষায়। ধর্মের কল বাতাসে নড়েছিল যেদিন তাদের ব্যাঙ্গালোর যাবার ইমেইলটা এসেছিল। কর্কশভাষী শাশুড়িমায়ের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছিল সেই সুখবর।  


আরো পড়ুন: রাণীয়ার রান্নাঘর (পর্ব-১) । ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়


এযাবৎ সব ঠিকঠাকই চলছিল। সারা সপ্তাহ ধরে তাদের দুজনের থইথই কাজের চাপ। তার মাঝেও ঘরে বসে ছুটির দিনে সুদৃশ্য বিয়ারমাগে উপুচুপু চিল্ড বিয়ার হাতে মুভি দেখা কিম্বা অনলাইন শপিং কার্ট ভর্তি জিনিষপত্রের হইহই আগমনে বেশ মুড লিফটিং হত। বাবা মায়ের জন্য কলকাতায় অনলাইন কিনেকেটে কিছু পাঠানো বা তাদের ইলেক্ট্রিসিটি বা ফোন বিল, ডি টু এইচ কেবলের বিল, অনলাইন গ্যাস বুকিং… এসব কাজে কোনও খামতি রাখেনি শৈবাল। মিঠির সঙ্গে তার মায়ের তরজা তো ঘর ঘর কি কাহানী। তাই বলে বাবা মায়ের প্রতি কর্তব্যে সে অবিচল। মিঠিও এসবে নাক গলায় না কোনোদিনও। তাই বুঝি মিঠির প্রতি কোনও অনুযোগ নেই তার। মিঠি বলে, তোমার বাবা-মা। তুমি তাদের নিয়ে কী করছ আমার তাতে বিন্দুমাত্র নাক গলানোর ইচ্ছে নেই। শুধু আমার পায়ে তোমার মা ছোবল মারলে একটু দেখো শৈবাল। ওটা জাস্ট মেনে নিতে বড় কষ্ট হয় আমার। আমি কিন্তু কারো খাইনা, পরিও না। কারর মুখঝামটা আমি সহ্য করব না। তবুও শৈবাল চক্ষেহারা। সেটাই মিঠির একমাত্র সাপোর্ট।

শৈবালের অফিসে আজ অবধি কোনোদিনও মিঠি লাঞ্চবক্স ভরে দেয়নি। তা নিয়ে অবিশ্যি কোনও অভিযোগ নেই বউয়ের বিরুদ্ধে তার। কলকাতার মা ব্যাঙ্গালোরের আপিসে ফোন করে জিগেস করতেন আগে আগে। কী রে আজ বৌ কী টিফিন করে দিল তোকে? মায়ের তো প্রাণ। মনে হয় ছেলেটা বাড়ির করা খাবার খাক। শরীর ঠিক থাকবে। কিন্তু হালে পানি পান নি তিনি। শৈবাল বউয়ের বিষয়ে ভীষণ অ্যাকোমোডিটিং। সবাই কী সব কিছু পারে? সে মায়ের কথা এড়িয়ে এটা ওটা সেটা বলে। সেই দেখে মা আর জানতে চান না। কুলুপ এঁটেছেন মুখে।

তবে শৈবালও মানুষ। বিবেক বুদ্ধি একেবারে লোপ পায়নি তার। অফিসের লাঞ্চ আওয়ারে কলিগরা যখন তার জন্য মাঝেমধ্যেই এটা ওটা সেটা বানিয়ে আনতে লাগল তখন স্লাইট এমব্যারাসমেন্ট যে হলনা তাও নয়। কেউ দু পিস  মশালা ইডলি, কেউ একটা পনীর পরোটা অথবা কেউ একবাটি স্প্রাউট স্যালাড এগিয়ে দিলে মন্দ লাগত না তার। আফটার অল বাড়ির খাবার। হেলদি ফুড। আর কলিগদের ভালোবাসার ছোঁয়া তাতে। এইতো সেদিন তার কলিগ অর্চনা তার বিয়ের তারিখ উপলক্ষে চিকেন বিরিয়ানি আর রায়তা বানিয়ে এনেছে অফিসের সবার জন্য কৌটো ভরে। সুচিত্রা সবার জন্য কী সুন্দর চেট্টিনাড চিকেন বানিয়ে এনেছিল ছেলের জন্মদিন উপলক্ষে।

তার বৌ মিঠি যেন কেমন। এমন এক আধবার শৈবাল যে ভাবেনি তা নয়।কিন্তু বাঙালি মেয়েরা এমনও হয়? মিঠির মতে কেন মেয়েরা আজীবন রান্নাঘর নিয়ে পড়ে থাকবে? কেন এত রান্নাবান্না নিয়ে মাতামাতি করবে তারা? ছোটবেলা থেকে মা, দিদা, ঠাম্মা, জেঠিমা, মাসী, পিসি সবাইয়ের এই হেঁশেল প্রীতি দেখে শি ইজ সিক অ্যান্ড টায়ার্ড। থকে গেছে সে। রান্নাঘরের কুলুঙ্গী, পোড়া তিজেল হাঁড়িকুঁড়ি, শিলনোড়া, হামান দিস্তে… আরো কতকিছুর গল্প শুনে শুনে…মা, দিদা, ঠাম্মা একজায়গায় হলেই সেই কী ফোড়ন, কোন তেলে রাঁধা… এসব মেয়েলি গল্প! ইনকরিজিবল! বাড়ির ছেলেদেরও তো এ ব্যাপারে সমান ইন্টারেস্ট থাকা উচিত। সব মেয়েকেই কী তার মা অনসূয়ার মত রান্নাঘরে ঢুকতেই হবে? কে মাথার দিব্যি দিয়েছে? কোন শাস্ত্রে এসব লেখা আছে?

রাণীয়া এই নিয়ে একদিন দিদির সঙ্গে তুমুল ঝগড়া করেছিল বিয়ের আগে। তুই বাপু এক্ট্রিম ফেমিনিস্ট। এত রিজিড হলে চলে না ব্লা, ব্লা, ব্লা। মিঠি আর কথা বাড়ায়নি। বোন কে খুব ভালোবাসে সে। তবে সবসময় দুজনের মতের মিল হয়না। সেটাই অস্বস্তির বাতাবরণ তৈরী করত সেসময়।  

তা আজকাল অফিসের লাঞ্চ আওয়ারে শৈবালের অনারে সবাই নাকি এত হেলদি আর লিপ্সম্যাকিং খাবার দাবার আনতে শুরু করেছে যে শৈবাল সেগুলোর পুরোটার সদ্গতি না করতে পেরে ব্যাগে করে বাড়ি বয়ে নিয়ে আসছে। এসব দেখেশুনেই মাথা গরম হয়ে গেল মিঠির?
একদিন নিজে না খেয়ে সুচিত্রার রান্না করা চিকেন বিরিয়ানি সোজা বাড়ি নিয়ে এসেছে সে বউয়ের জন্য। একদিন অনুভার বানানো ফিশচপ। কিন্তু মিঠি বিষয় টা অন্যভাবে নিল। এসব সহ্য হয়না তার মোটেও।

– কী আমাকে অপমান করা এভাবে? দিস ইস সিরিয়াস ইস্যু কিন্তু। নিত্যনতুন সব আইটেম খাচ্চো খাও। তোমার বন্ধুরা ভালোবেসে তোমায় দিচ্ছে তাই বলে আমায় এভাবে হিউমিলিয়েট করবে তুমি?
শৈবাল বলেছিল, আহা! তোমার জন্য মন কেমন করে আমার। বাড়ির খাবার খেতে পাওনা। তাই ভাবলাম…ডোন্ট টেক ইট আদারওয়াইজ। সবকিছুর মধ্যে তুমি এত রাজনীতি খুঁজতে যেওনা মিঠি। এতে শান্তি পাবেনা জীবনে।

ইনফ্যাক্ট দিনকয়েক অফিসের বন্ধুদের তাড়নায় লাঞ্চ আওয়ারে প্রতিদিন ফুড অ্যাপে খাবার অর্ডার দেওয়া মাথায় উঠেছে তার। শৈবালের এসব অনুকম্পাকে প্রশ্রয় দিতে মন চায়না মিঠির। সে বলে, হাইটস অফ ইয়োর গ্যাস্ট্রোনমিক অবসেশন। আমি তোমার মত, আমার বোনের মত ‘লিভ টু ইট’ এ বিশ্বাসী নই। তুমি ভালোভাবেই জানো আমার কাজ আমার প্রায়োরিটি। ফুড সেকেন্ডারি।

শৈবাল কথা বাড়ায়না। কথায় কথা বাড়লে সংসারে টিকে থাকা বড় চাপের। বোঝে সে।

মিঠি বেশ ঝাঁঝের সঙ্গে বলে ওঠে, তুমি একদিন সবাই কে খাবার অর্ডার দিয়ে অফিসে লাঞ্চ খাইয়ে দিলেই তো পারো।
শৈবাল বলে এমনিতেই অফিসে এত পার্টি, হ্যাঙাউট চলে সারা মাস ধরে। কার সাকসেসফুল প্রজেক্ট। সেই অনারে পার্টি। কার বাচ্চা হল সেই অনারে খাবার এল। কোনও প্রডাক্ট প্রোমোশান তো কার প্রজেক্ট মাইলস্টোন। তারপর কার লেখা প্রোগ্রামের ঠিকঠাক এক্সিকিউশান হল তো অমনি সে খাবার অর্ডার করে বসল আপিস শুদ্ধ লোকজনের জন্য। এই সব আর কি। কর্তোপোরেট লাইফ স্টাইলের অঙ্গ এসব।  তোমাদের অফিসেও  তো হয় এসব। জানোই তো। বাইরের খাবার অর্ডার দিতেই হয় তখন। রোজকার লাঞ্চ আওয়ারে কেউ তাই বাইরের খাবার খেতেই  চায়না। বাড়ির খাবারটাই পছন্দ করে।

-ও তার মানে ওরা বসে আছে তোমার বউয়ের হাতের রান্না খাবে বলে? মিঠি বলে
– আহা! রেগে যাচ্ছো কেন? কেউ তেমন নয় এরা। অত প্যাঁচালো বুদ্ধি নয় এদের। খুব কুললি শৈবাল বলে ওঠে।
মিঠি বলে, তার মানে অফিসে কথাটা বেশ ভালো মত চাউর হয়ে গেছে বল? যে তোমার বৌ রাঁধে না? এই তো? তোমার বউ একটা হোপলেস। নিস্কম্মার ঢেঁকি।
শৈবাল বলে,  আরে এত চটছ কেন? আমি তাদের কিছুই বলিনি। বিলিভ মি সুইট হার্ট। তারা রোজ আমায় দেখে, বাইরের খাবার অর্ডার দিতে তাই…

শৈবালের মুখের কথাগুলো কেড়ে নিয়েই যেন মিঠি বলে, বাড়ি থেকে স্যনাডুইচ বানিয়ে নিয়ে গেলেই তো পারো। বিয়ের আগে তো এসব বানাতে ওস্তাদ ছিলে তুমি। আমি নাহয় কিচেন মাড়াই না। তুমি তো…
শৈবাল বলে কারণ তখন এত স্যুইগি, জোম্যাটোর রমরমা ছিল না।
 
মিঠি চুপ করে যায়। কিন্তু ভাবতে থাকে। এবার তার অন্য চিন্তা। এবার কেমন করে তবে শৈবালের অফিস পার্টি গুলোয় সেজেগুজে হাজির হবে? সবার মাঝে দাঁত বের করে হাসতে পারবে সে? মনে বড় টানাপোড়েন শুরু হয় তার। সত্যিই কী সে এতই অকেজো? সব মেয়েরাই তো তার মত চাকরি সামলিয়ে বর বাচ্চার জন্য লাঞ্চ বানিয়ে দেয়। মিঠি এখনও মা হয়নি। কী করবে সে তবে এরপর? রোজ বরের জন্যও কী সামান্য কিছু হলেও বানিয়ে দিতে পারেনা সে?
পরক্ষণেই মনে হয় ধুস! মিঠি সব মেয়েদের থেকে আলাদা আর এমন আলাদাই থাকবে সে। আবার মনঃসংযোগ করে নিজের কাজে। কম্পিউটারের স্ক্রিনে। কাজ, কাজ আর কাজ। কাজকে ঘিরেই তার জীবন। সেখানেই তার মুক্তি আলোয় আলোয়। কী করে যে রাণীয়া রান্নাঘরে মুক্তির আস্বাদ পায় কে জানে বাবা! প্রোগ্রামিং, কোডিং হল মিঠির স্ট্রেশ বাস্টার। তা না, বোন বলে একঘেয়েমির থেকে মুক্তি পেতে নাকি বেকিং এর জুড়ি আর কিছু নেই! ফালতু সব কথা! আসলে তোর জীবনে আর কিছুই  হল না রে! তাই অমন ভাবিস তুই রাণীয়া। ওসব অজুহাত আমায় দেখাস না। এইসব কোর সফটওয়ার প্রোগ্রামিং এর মূলে যেসব ইঞ্জিনিয়াররা থাকে তারাই এই প্রজুক্তির দুনিয়ায় শেষ কথা, বুঝলি… মিঠি  নিজের মনে এইসব বলতে বলতে একের পর এক মাউসের ক্লিকে, ল্যাপটপে খুলে রাখা অজস্র ট্যাব খোলাবন্ধ করতে করতে হারিয়ে যায়। নিজের মনে হেসে ওঠে সে। এ সৃষ্টির যে কী আনন্দ তা রাণীয়া আর বুঝবে কেমন করে? 

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত