| 20 এপ্রিল 2024
Categories
ইরাবতী তৃতীয় বর্ষপূর্তি সংখ্যা

তৃতীয় বর্ষপূর্তি সংখ্যা: সরদার ফারুকের কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
 
দেয়াল
 
ছোট চিরুনির দাঁতে দীর্ঘ এক চুল লেগে আছে
বেশ কিছুদিন কেটে গেছে নির্বাসনে, নিরানন্দ গৃহে
নখের ডগায় আরো গাঢ় হয় নিকোটিন-দাগ
ঝুলন্ত আয়না জুড়ে কয়েদির ছবি,
চোখের উঠোনে কালো ছায়া
আলমারি থেকে উঁকি দেয় ছেঁড়া অন্তর্বাস
 
পাতা-ঝরা দিন আসার আগেই যেতে চাই
শালবনে, মেঘের পাড়ায়
চোখ থেকে ঘুম মুছে ধারাজল খুঁজব আবার
এদিকে ওদিকে শুধু চিত্রহীন শূন্যের দেয়াল
 
 
 
 
 
প্রয়াত বন্ধুকে
 
গোরস্তানে ডাকঘর নেই, তবু তোমাকেই চিঠি লিখি
অবসর পেলে। আর কেউ ঠিক বোঝেনি আমাকে
কীকরে কাটাতে, বন্ধু, শেষের সময়?
নিরাসক্তি শিখেছিলে বেশ। কখনো শুনেছি তুমি
গুনগুন করে গান গাও, হেসে ওঠো বিনা কারণেই
 
বনপথে দেখি পাতার চেয়েও বেশি
কুর্চিফুলে ছেয়ে আছে গাছ
সাদা পতাকার মতো সেখানেও মিলন-সংকেত?
জানি, নিকটে না গেলে কোনোদিন কথা বলবে না
 
 
 
 
 
গর্ভগৃহে
 
ছাত্রের সামনে পড়ে মুখ লুকিয়েছে তরুণ শিক্ষক
ধর্মগুরু বড়সড় ছাতার আড়ালে
কেউ যেন কাউকে চেনে না – এভাবেই একে একে ঢুকে পড়ে
ছোট খুপরিতে, গলিতে তবুও ভিড়
অফিসের কেরানিকে দেখে ছোটসাহেবের লাজুক বয়ান–
“আপনার ভাবী, বুঝলেন, রোগশোকে পুরোই অচল।”
কেরানিটি হাসিমুখে বলে, “স্যার, বিয়েটিয়ে এক চতুর ব্যবসা
কাগজের জোরে শুধু উপগত হওয়া, ভালোবাসা নেই।”
বুড়ো উকিলের মুখে শোনা যায়, “মানবতা কোথাও কি আছে?
তারপর ভেবে দেখা যাক, উদ্বৃত্ত যৌনতা যদি ভেঙে ফেলে
সমাজ-সভ্যতা? তারচেয়ে এভাবেই প্রক্ষালন হোক।”
 
রোগাটে মালতী তার ঘরে ডেকে আনে পালাক্রমে তৃতীয় নাগর
যে ঠোঁটে খেয়েছে চুমু গরুর দালাল, সেখানেই ঠোঁট রাখে
অভিমানী কবি, সরকারি নেতা
যেন এক মন্দিরের গর্ভগৃহে পাপী আর পুণ্যাত্মার আশ্চর্য মিলন
যেন এক বিশেষ প্রার্থনা, অকাতরে বিষ বিনিময়

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত