| 23 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
অনুবাদ অনুবাদিত গল্প

অসমিয়া অনুবাদ: রক্তের অন্ধকার (পর্ব-১৮) । ধ্রুবজ্যোতি বরা

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

ডক্টর ধ্রুবজ্যোতি বরা পেশায়  চিকিৎসক,অসমিয়া সাহিত্যের একজন স্বনামধন্য লেখক ২৭ নভেম্বর ১৯৫৫ সনে শিলংয়ে জন্মগ্রহণ করেন। শ্রীবরা ছাত্র জীবনে অসম্ভব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ‘কালান্তরর গদ্য’ ,’তেজর এন্ধার’ আরু ‘অর্থ’ এই ত্রয়ী উপন্যাসের লেখক হিসেবে তিনি সমধিক পরিচিত। ২০০৯ সনে ‘ কথা রত্নাকর’ উপন্যাসের জন্য সাহিত্য আকাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। বাকি উপন্যাসগুলি ‘ভোক’,’লোহা’,’যাত্রিক আরু অন্যান্য’ ইত্যাদি। ইতিহাস বিষয়ক মূল‍্যবান বই ‘রুশমহাবিপ্লব’দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ’,’ফরাসি বিপ্লব’,’মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ’। শ্রীবরার গল্প উপন্যাস হিন্দি, ইংরেজি, বাংলা, মালয়ালাম এবং বড়ো ভাষায় অনূদিত হয়েছে।আকাডেমিক রিসার্চ জার্নাল’যাত্রা’র সম্পাদনার সঙ্গে জড়িতরয়েছেন।’ কালান্তরর গদ্য’ উপন্যাসের জন্য ২০০১ সনে অসম সাহিত্য সভার ‘ আম্বিকা গিরি রায়চৌধুরি’ পুরস্কার লাভ করেন।শ্রীবরা অসম সাহিত্য সভার প্রাক্তন সভাপতি। 


অনুবাদকের কথা

আলোচ‍্য উপন্যাস ‘রক্তের অন্ধকার'(তেজরএন্ধার) একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ উপন্যাস। এটি লেখার সময় কাল ২০০০-২০০১ ছিল অসময়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত দুর্যোগের সময়। সেই অশান্ত সময়ে, আমাদের সমাজে, আমাদের জীবনে এক দ্রুত অবক্ষয়ের স্পষ্ট ছাপ পড়তে শুরু করেছিল। প্রতিটি অসমিয়াইমর্মেমর্মে   একথা উপলব্ধি করে ভেতরে ভেতরে শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। রাজ্যের চারপাশে দেখা দেওয়ানৈরাজ্যবাদী হিংসা কোনো ধরনের মহৎ রূপান্তরের সম্ভাবনাকে বহন করে তো আনেই নি, বরঞ্চ জাতীয় জীবনের অবক্ষয়কে আরও দ্রুত প্রকট করে তুলেছিল। আশাহীনতা এবং অনিশ্চিয়তায় সমগ্র রাজ্য ক্রমশ ডুবে যাচ্ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই যেন থমকে যেতে চায় কবির  কবিতা , শিল্পীর তুলি, লেখকদের কলম। তবে একথাও সত্যি যে শিল্পী-সাহিত্যিকরা সচেতন ছিলেন যে সমাজ জীবনের ভগ্নদশা’ খণ্ডহর’এর মধ্যে একমাত্র ‘সৃষ্টি’ই হল জীবন এবং উত্তরণের পথ। এই বিশ্বাস হারানোর অর্থ হল মৃত্যু । আর এই বিশ্বাস থেকেই সেই সময় লেখক লিখেছিলেন কালান্তর ত্রয়ী উপন্যাসের দ্বিতীয় পর্ব – রক্তের অন্ধকার ।

এবার উপন্যাসটির বাংলা অনুবাদ নিয়ে এলাম। আশা করি ইরাবতীর পাঠকেরা এই ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত অসাধারণ উপন্যাসটিকে সাদরে বরণ করে নেবেন ।নমস্কার।

বাসুদেব দাস,কলকাতা।


 

প্রেমকে সাইকেলের ক্যারিয়ারে তুলে নিয়ে বাস ধরতে যাওয়ার সময়সর্বা বলল–’ একটা সিনেমা আজই দেখতে হবে, বুঝেছিস প্রেম। টাউনে সিনেমা হল দুটো। তাই আজ একটাতে আগামীকাল অন্য একটাতে। একটা আমি দেখাব। আগামীকাল সকালে আমরা ডিসির অফিসে যাব। আজ বোধহয়সময় হবে না। হলে এক পাক যাওয়া যাবে। আমাদের গ্রামের জুরাম দাদার ভায়রা একজন সেখানে কাজ করে। তার কাছেও আমি একটি চিঠি লিখিয়ে নিয়েছি।’

ঘটাংঘটাং করে দুজনই লাইন বাসে যেতে থাকল। রাস্তায় দুই জায়গায় বাস অনেকক্ষণের জন্য থামে। শহরে বিক্রি করার জন্য নিয়ে যাওয়া শাকসব্জিরটুকড়ি এবং মাছের টিন সেই দুই জায়গায় বাসের ওপরে তোলা হয়।

শহরে পৌঁছাতে পৌছাতে বিকেল তিনটে বেজে গেল।

টাউনে গাড়ি-মোটর, মানুষের ভিড় দেখে প্রেমের মাথা ঘুরে গেল। খুব ক্ষুধাও পেয়েছিল। বাস থেকে নেমে সিন্ডিকেটের কাছে একটি চায়ের দোকানে ওরা চা-পরোটাখেয়েনিল । তারপর রিক্সায় উঠে ওরা হোটেল খুঁজে বের করল। 

এখনই চারটা বাজে ।’ সর্বা তাকে বলল । ওদের চা-পরোটা খেতে অনেক দেরি হয়েছিল।’ এখন ডিসির অফিসে যেতে যেতে পাঁচটা বেজে যাবে। এই সময়েগিয়ে কাউকে অফিসে পাওয়া যাবে না। থাকার জায়গাটা আগে ঠিক করে নেওয়া ভালো। নাহলে পরে জায়গা না পেলে খুব অসুবিধা হবে।’

প্রেম মাথা নাড়ল।

টাউনের জাঁকজমক দেখে তার চোখ ধাঁধিয়েগিয়েছিল। ভয়ওপেয়েছিল।

রিক্সায় উঠে ওরা দুজনেই পুলিশ থানার কাছে সর্বার পরিচিত আদর্শ হিন্দু হোটেলের সামনে গিয়ে নামল। সর্বাদামদর করে একটা রুম চল্লিশ  টাকায় ঠিক করল । রাতে কেবল দুজনকে একই বিছানায় শুতে হবে ।

হোটেলের পেছনদিকে অন্ধকার একটি ঘরে গিয়ে দুজন প্রবেশ করল। কাঠের বাটামের ওপরে টিন মেরে বানানো একটি ঘর। বাইরের দিকে একটু জানালা আছে। দরজা এবং জানালা খুলে দিতেইদেখতে পেললঘরের ভেতরে একটি তক্তপোষ  রাখা আছে । হোটেলের একটি ছেলে এসে একটি বাল্ব এনে লাগিয়ে দিল। সুইচটাদিতেই ঘরের ভেতরটা আলোকিত হয়ে পড়ল। একটা পুরোনো তোষক এবং রং চটে যাওয়া সবুজ রঙের একটা বিছানার চাদর  পেতে দিল। চ্যাপ্টা বালিশ একটা এনে বিছানার চাদরের নিচে ঢুকিয়ে দিল। চোখের সামনে ছোট্ট রুমটির এরকম রূপান্তর দেখে প্রেম অবাক হয়ে গেল। এই ঘরটিতে থাকবে বলে তার মনটা ভালো হয়ে গেল। বেড়ারটিনের ফুটোগুলি, চোখের সামনে ঝুলে থাকা মাকড়সার জাল এবং ঝুল একবারও কিন্তু তার চোখে পড়ল না।

‘চল, তাড়াতাড়ি মুখ হাত ধুয়েবেরিয়ে পড়ি।’– সর্বা বলল–’ সিনেমাটা দেখে আসি। না হলে টিকেট পাব না । ভাতের অর্ডার দিয়ে যাব । ফিরে এসে খাব ।’

দুজনেই দ্রুত সিনেমা দেখতে বেরিয়ে গেল। আর রাতে সিনেমা দেখে এসে হোটেলে মাছ- ভাত খেয়েশুয়েপড়ল।

পরের দিন সকালে ভাত খেয়ে দুজনেই ডিসি অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়েপড়ল। দশটা বাজার আগেই তারা ডিসি অফিসে গিয়ে উপস্থিত হল। সর্বা বাইরে তাম্বুল-পান  কিনে দুটো তিনটি করে আলাদা আলাদাপুঁটলিতে বেঁধে নিল । কেরানিদের দিতে হবে।

সর্বার কাজ- কর্ম দেখে প্রেম অবাক হয়ে গেল । সারি সারি টেবিল গুলি পাতা আছে । প্রতিটির উপরে স্তূপাকৃত ফাইল । দশটা বেজে যাবার পরও একজনও কেরানির দেখা সাক্ষাৎ নেই। ১০:৩০ থেকে একজন দুজন করে বাবুরা আসতে শুরু করল। প্রেম কে বারান্দার এক জায়গায়দাঁড় করিয়ে রেখে সর্বাজুরাম দাদার ভায়রাকে খুঁজতে গেল ।

ডিসি অফিসের লম্বা বারান্দায় লাঠিতে ভর দিয়ে প্রেম ত্রিভঙ্গ মূর্তি ধরে দাঁড়িয়ে থাকল।

কেরানির খালি টেবিলগুলি এবং একটি দুটি করে আসতে থাকা মানুষগুলির দিকে তাকিয়ে তার নিজেকে বড়োঅসহায় বলে মনে হল। তার বুকটা ধপধপ করতে লাগল।

এতগুলি মানুষকে মিথ্যা কথা বলে সে এখানে এসেছে। মিথ্যাকথার বন্ধনে বাঁধা পড়ে এখন ডিসি কোর্টে এসে হাজির হয়েছে। এখন এখানে যদি তাকে অপমানিত হতে হয় বা কোনো বিপদ হয়? টাকা দেব না বলে যদি বলে দেয়?

তার এবার সত্যিই ভয় হল।

বারান্দা দিয়ে পার হয়ে যাওয়ার সময় প্রতিটি মানুষই তার দিকে সন্দেহের চোখে  তাকাচ্ছে বলে প্রেমের মনে হল । মানুষগুলি যেন জানতে পেরে গেছে যে সে একটা মিথ্যাবাদী। তার মন অশান্ত হয়ে পড়ল। এখনই, এই মুহূর্তে চোখের জল যেন বেরিয়ে আসবে এরকমই মনে হল প্রেমের।


আরো পড়ুন: রক্তের অন্ধকার (পর্ব-১৭) । ধ্রুবজ্যোতি বরা


সর্বা কে বারান্দা দিয়ে দ্রুত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে দেখল প্রেম। তার প্রাণে যেন জল এল। প্রায় হাঁপাতে হাঁপাতে এসে সর্বা বলল– মানুষটা এখানকারই বড়োবাবু। ভালোই হল। আসল খবরটা আমরা তার কাছ থেকেই পাব।’

বড়োবাবুর দেখাদেখি নেই।

ওরা দুজন বারান্দা থেকে বড়োবাবুরচেয়ারটার দিকে উঁকি দিয়ে দেখতে লাগল, বারোটা বাজল, একটা বাজতে চলেছে। মানুষটার কোনো খবর নেই।

দুজনেই কিছুটা অধৈর্য হল। সর্বা একবার গিয়ে একজন পিয়ন এবং পাশের কেরানিএকজনের কাছ থেকে খবর নিয়ে এল।

‘ আসবে।’ সে এসে প্রেমকে বলল–’আজ নাকি সকালবেলাটাডিসি সাহেবের বাংলোর অফিসে গিয়ে কাজ করছে। ডিসি সাহেবের নাকি সর্দি জ্বর হয়েছে। জরুরি কাগজপত্র বাড়িতে বসেই দেখছেন।’

দুটোর পরে মানুষটা কাগজপত্রের গোটাকয়েকবান্ডিলনিয়ে এসে হাজির হল। চেয়ারে বসেই চেঁচামিচিশুরু করে দিলেন। কয়েকজনকে কাছে ডেকে এনে কিছু কাগজপত্র এবং নির্দেশ দিলেন।

সর্বা এবং প্রেম ইতস্তত করে মানুষটার কাছে গিয়েদাঁড়াল।

ফাইল থেকে একবার মাথা তুলে মানুষটা বেশ কঠিন স্বরেই জিজ্ঞেস করল–’এ্যাঁ কী চাই?’

সর্বা জুরাম দাদার দিকে চিঠিটা এগিয়ে দিল।

চিঠিটা পড়েমানুষটা কিছুটা যেন কোমল হল। সর্বা এবার পানের পুঁটলিটা ধীরে ধীরে দুই হাতে সামনের দিকে এগিয়ে দিল। মানুষটাপুঁটলিটানিয়ে একটা তামুল  পান মুখে ঢুকিয়ে বেশ কোমল স্বরে বলল–’ হয়ে গেছে। তোমাদের কাজ হয়ে গেছে। টাকা এসেছে। প্রায় এক সপ্তাহ হয় আমরা তোমাদের চিঠি দিয়েজানিয়েছি। হ্যাঁ চিঠি পাঠিয়েছি… এই যে বরঠাকুর…’ তিনি হঠাৎ বাঁজখাইগলায়চিৎকার করে উঠলেন।

প্রেম বজ্রাহত কবুতরের মতোদাঁড়িয়েরইল। তারমানে টাকা সত্যি এসেছে। বাড়িতে চিঠি গেছে… হায় বিধি। তার মিথ্যা কথাটা তাহলে মিথ্যা হল না।

‘ বরঠাকুর, বরঠাকুর, বরজরী গ্রামের কম্পেনসেশনের কেস ফাইলটা নিয়েএসো তো। পাল্টা আনতে বলে দিয়েহেসে প্রেম এবং সর্বার দিকে তাকাল।

‘ জুরাম ভালো আছে?’– তিনি জিজ্ঞেস করলেন। বাড়ির সবাই ভালো আছে? সর্ব মাথা নাড়ল– ভালো, ভালো, সে ভালো আছে। প্রত্যেকেই ভালো আছে।’

ফাইলটা খুলে নিয়ে তিনি বললেন– ‘তোমাদের কোনো খবরা-খবর  নেই। টাকা কবেই এসে গেছে। আমরা তোমাদের বাড়িতেরেজিস্ট্রি করে চিঠিও পাঠিয়েছি। এই দেখ।’ ফাইলটা খুলে তিনি একটি কাগজ দেখালেন।’ রেজিস্টার চিঠির রসিদটা ও এর সঙ্গে রাখা আছে। বারো তারিখেই চিঠি গিয়েছে। আজ ছয় দিন হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত পাওনি?’

সর্বা মাথা নাড়ল–’ না পাইনি।’া

‘ পাবে। রেজিস্টার ডাকে পাঠানো চিঠি। হারাবে না। ঠিকানাটা ঠিক আছে কি? শ্রীরতিকান্ত নাথ, গ্রামঃবরজরী…’ তিনি ঠিকানাটা পড়ে দিলেন।’

‘ ঠিকই আছে।’– প্রেম হাঁপাতে হাঁপাতে বলল।

আজকালের মধ্যেই পেয়ে যাবে। বাড়িতেহয়তো ইতিমধ্যে পেয়ে গেছে। চিঠির সঙ্গে একটা কাগজ গেঁথে  দেওয়া আছে। সেই পুলিশ থানা থেকে ফিলাপ করে সিলমোহর মেরে আনতে হবে। দাঁড়াও,চিঠি এবং কাগজের এক্সট্রা একটা কপি আছে। তোমাকে হাতে হাতেদিয়ে দিচ্ছি, নিয়ে যাও।’–ফাইল  থেকে তিনি দুটো কাগজ বের করে দিলেন।

‘ পুলিশ থানা ওয়ারিশ বলে সনাক্ত করে সার্টিফিকেট দিয়ে দেবে। কাগজটা নিয়ে এসে টাকাটা নিয়ে যাবে। চেক রেডি হয়ে আছে।’– মানুষটা ফাইলটা বন্ধ করল।

প্রেম এবং সর্বা দুজনেই কিছুক্ষণ কী বলবে বুঝতে পারল না। তারপরেসর্বা  মানুষটার একটু সামনে গিয়ে নিচু স্বরে বলল–’ দাদা ,একটা কথা। এ হল প্রেম। মৃতের দাদা। দুটি ছেলে। বাবা অসুস্থ। হাঁপানির রোগ। বিছানা থেকে উঠতেই পারে না। সব সময় যমে মানুষে টানাটানি। কোন দিন কী অঘটন ঘটে কেউ বলতে পারে না। টাকাটা– পুরোটা না হলেও অর্ধেক টাকা এই প্রেমের নামে করে দেওয়া যাবে নাকি? বড়ো উপকার হবে, যা খরচ লাগবে…’

‘ অসম্ভব।’ –মানুষটা সজোরে বলে উঠল। পিতা-মাতা জীবিত থাকা অবস্থায় ভাই টাকা পেতে পারে না। মৃত যদি বিবাহিত হত তাহলে পরিবার টাকাটা পেত। সরকারি নিয়ম। কোনো উপায় নেই। পিতা রতিকান্ত নাথের মৃত্যু হলে ভাই প্রেমকান্ত নাথ টাকা পেতে পারে– যদি মাতা ভোগেশ্বরীনাথ আপত্তি নাই বলে লিখিতভাবেজানায়। পিতার অবর্তমানে মায়ের অনুমতি সাপেক্ষে তুমি তোমার নামে টাকা পেতে পার।’– বাতাস

প্রেম শহরে যাওয়ার পরের দিন রতিকান্ত নাথ তাড়াতাড়ি উঠে পুনরায় হাঁপাতে হাঁপাতে সামনের দিকের কাঁঠাল পিড়িটায়গিয়ে বসল। হাঁপানিটা বেড়ে যাওয়ার পর থেকেই বুড়ো অনেক দেরি পর্যন্ত ভেতরের ঘরে বিছানায়শুয়ে থাকতেন। বেলা বেড়ে গেলে স্ত্রীর সাহায‍্যে কোনো মতে বাইরে উঠে আসতেন। দুপাহাঁটলেই নিঃশ্বাসের কষ্ট হতে থাকে। কেউ সাহায্য না করলে চলাফেরা করতে পারেন না।আজ কিন্তু মানুষটা স্ত্রীর সাহায্য ছাড়াই ছেঁচড়েছেঁচড়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন।কোনোমতে কাঁঠাল পিঁড়িটার কাছে ককীভাবে পৌছে গেলেন তা তিনি নিজেই বলতে পারেন না।পিঁড়িতে বসে তিনি অতি কষ্টে নিঃশ্বাস নিতে চেষ্টা করলেন।বাতাস যেন বুকের ভেত্র ঢুকতেই চায় না।রতিকান্ত চোখে-মুখে ধোঁয়া দেখতে লাগলেন।

কিছুক্ষণ স্থির হয়ে থাকার পরে ধীরে ধীরে তার নিঃশ্বাস হালকা হয়ে এল। আরাম লাগছে- একটু আরাম লাগছে। তিনি এবার পা দুটি ধীরে ধীরে এক এক করে, কাঁঠাল পিঁড়িটার উপরে তুলে দিলেন। এভাবে বসলে বেশ ভালো লাগে।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত