| 21 এপ্রিল 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

স্বাধীনতা দিবসের কবিতা । সাজ্জাদ সাঈফ

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
 
জয় বাংলা 
 
পানির নিচে লতায় পাতায় শৈবালে ধাক্কা খাচ্ছে মাছেরা, এই দৃশ্যে একটা মাছরাঙাকেই মানায় যার ফুল নয় ধান নয় সূর্য কিংবা ধূলি নয় চাই শুধু ফুটফুটে কানকোঅলা মাছ। এই পর্যন্ত ভেবে আধেক চাঁদকে সাথে নিয়ে কলোনি বাজার অব্দি পৌঁছানো ভালো। সদয় সন্ধ্যায়। এই পথে একদিন  ফরমান জারি হয়েছে মুর্শিদকুলি খাঁ’র, ঘোড়া চালিয়ে ছুটে গেছে ফিরিঙ্গি সাহেব। তখন দুয়ারে নীল চাষ। বুকের বায়ে ঘোড়ার খুরের আওয়াজ। ধরফর। দশটি অক্ষরে কতভাবে ফিরে যাওয়া চলে সুলতানী দরবারে। এখানে মৃত্যুই শেষ কথা নয়। ধূলায় ধবল হচ্ছে টেম্পল রোড। কূয়ার সামনে এসে নিজের মুখটি আরেকবার ঝুঁকে দেখে নেয় ইতিহাস। তাজ হোটেলে কায়েদে আজম। ধুতি গুছিয়ে নিচ্ছেন গান্ধীজি। হাত ধরে তোমাকে টানছে ইতিহাস। ধানের সুবাস কোনো আয়কর চেনে? খড়ের গাদারা? 
 
সব রাস্তায় এখন জ্বলে আধুনিক বাতি। মানুষের বুকে জ্বলে প্রতিযোগিতার খড়। তারও অনেক পর। মিছিল শব্দটি ভুলে গেছি আমরা। কতকিছু শিখিয়েছেন মা। আমি তাঁর অযোগ্য সন্তান শুধু কালো হরফে হেঁচড়ে নিচ্ছি জীবন। এদিকে একটি হাড্ডিসার মানচিত্রে নজর পড়েছে শেয়ালের। এতসব অনিশ্চয় নিয়েই পথে নামলাম। হাইওয়ের পিচ্ছিল শব্দে বৃষ্টি হচ্ছে খুব। আমাদের স্মৃতির ভিতর হতে মুছে যাচ্ছেন ভাসানী। আবছা হচ্ছেন মুনীর চৌধুরী। পিছন পিছন আসে বন্ধুর নীল গাড়ি। পরের পৃষ্ঠায় দেখো ক্ষুধিত কৃষাণ। প্রতিবেশিরা ক্ষুধার্ত। আমি তুমি আর ঐ জো বাইডেন নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছি। দূরে এক আধমরা নদী হাক দেয় ‘জয় বাংলা’।
 
 
 
জাতীয় পতাকা
 
মেঘাচ্ছন্ন দুপুরের পর এ যাবত আর কোনও যুগল ছবি নেই আমাদের।
 
মার্চেরও মেঘমালা ফুল থেকে নেয় রঙের ধারণা কিছু; গ্যাসবেলুনের মত মেঘ, কাহার আবেগ ফেলে ভাসমান তবু!
 
কে যেচে ক্রন্দন চায় মর্সিয়া বিষাদে লাল; 
ডালপালা ডুবে যায় হাওয়ায় হাওয়ায়!
 
আমাদের চারপাশে ভয়
প্যাঁচানো লতার মত ভয় হৃদয়ের স্বাধীনতা ঘিরিয়া রয়; পিছনে আগুন যেন ট্রয়ের ধুলায় বসে কাঁদছে হেলেন! সামনেই প্যানাভর্তি শ্লোগানে হোচট খাচ্ছে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ।
 
 
 
 
মিথ্যুক
 
 
গল্পের ভিতর হতে হাত নাড়ে মিথ্যা বলা লোকটি।
তারপর ঘামতে শুরু করে পাঠক, এর বেশি ফ্যান্টাসি তাকে মানায়?
 
আমরা সন্তুষ্টি নিয়ে খুব ভালো ঘুমাচ্ছি
হাওয়া খাচ্ছি সিঁড়িতে হেলান দিয়ে
আর ইতিহাস থেকে লাল পতাকার দিকে
উড়ে যাচ্ছে সূর্যোদয়ের দৃশ্য, মুক্তি ও মনস্তাপ
শ্রমিক ও আভিজাত্যের মাঝে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে 
উচ্চকণ্ঠ কলম।
 
গল্পের মানুষগুলি কি সহজে একে অন্যের ভাই খেলছে, বোন সাজছে, শূন্যতা ঢেকে রাখছে বুক আগলে;
 
আমরা সবকিছু আড়চোখে দেখি, সবাইকে খোলামনে সন্দেহ করি, আর যারা কিছু গাছপালা আঁকতে শিখেছি, যারা কিছু শহীদের উঁচানো হাত আঁকা শিখেছি, শৈশবে; জীবনভর সেই তারা শুধু বুকের ভিতরকার কলম আর আগুনের প্রজ্বলন ছাইচাপা দিতে দিতে গণভবনের দিকে কি সুন্দর মাথা নিচু করে হাঁটছি, বাবা!
 
 
 
 
জলোচ্ছ্বাস
 
শোক থেকে নেমে শস্যের কাছে যাই
ইরি ধানে সমূলে বাঁচি অধীর পাঁজর- 
 
যে কোনও জলোচ্ছ্বাস প্রাণঘাতী নয়;
গেটে এসে মারণাস্ত্রের নল, কান পেতে
শোনে তিলাওয়াত কার! শোনে বেয়নেট; 
বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে, দু ভাগে কাটা
চাপাতি-কিরিচ, ধারালো আওয়াজ বুকে!
 
তড়িঘড়ি নামি ফসলের জলে
হারানো ঘুমের তলে মেঘডুবুরি মনের অসুখ 
খুলে দেয় ক্ষতের সেলাই-
 
ফিরে পাই ফসলে ডোবানো পথের খসড়া;
স্বপ্ন হতে চেয়ে যে মানবিক ক্রু, আড়াল হল 
শতাব্দি-ক্রন্দনে; এরপর ডাকে ধানমন্ডির ঘর-
হাত নেড়ে ডাকে বাঙালির বুকে নিড়ানি দেয়া
শেখ মুজিবের মুখ!
 
আমি যে তাঁহার অভ্যুদয়ের কৃষক প্রতিভূ-
আমরা সকলে কাটা পড়া ঘুড়ি, আমরা ক’জন
মৃত্যুর দিকে মুজিবের গলার আওয়াজ পাই!
অঞ্জলি নাকি ভ্রম? ড্রিল মেশিনে লটকে রাখি 
দেয়ালিকাময়, তাঁকে!
 
যে কোনও জলোচ্ছ্বাস চিলের পাখায় করে 
উড়ে উড়ে ভেসে আমাদের ত্বকের গভীরে
এসে তুলে নিক দেয়াল নামক বিভেদের গ্রন্থিমালা!
 
তারপর বাংলাদেশ
তারপর, মুজিবের লাশে আছাড়ি পিছাড়ি
মানচিত্র!
 
শোক থেকে নেমে আসে পনেরো আগস্ট
নেমে আসে যুদ্ধকালীন বেতারগীতি!
 
এইভাবে অঙ্গার বুকে, নীতি ও নিদান-
হেসে খেলে জুতার কাদায় সাফ করছি
সম্প্রদায়িক কাঁটা!
 
error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত