হেমন্তের কবিতা

 

পরিচয়

সোনালি সবুজ ধানের ক্ষেত,
শৈশবে নির্জন দুপুরে একলা চলা
মাটির মমতায় আঁকা সেই সরু আলপথ
হেমন্তে পড়ে থাকা খড়ের ধু ধু বিজন মাঠ,
শূন্য হাওর পেরিয়ে জলহীন উলঙ্গ নদীর কিনার,
চরমহল্লা, রাজাগঞ্জ বাজার
আজো স্মৃতির পাজরে গাঁথা।
আমি ওই আমে ভরা গ্রামের,
জারুল, জামরুল, করচ ভরা
আফালে উদ্বেলিত হাওরের,
সুরমা, ধানসিঁড়ি নদীর
এক অপার মুগ্ধ বালক।

 

 

কি জানি কোন অভিমানে

পউষের সোনালি ধূসর খড়ের মাঠ, নিষ্প্রাণ
ফেলে আসা অঘ্রানে, উঠোনের কোণে পাই স্তুপ স্তুপ জমে থাকা ধানের ঘ্রাণ।
রা ত ভ র শিশির পড়ে ভিজে যায় সবুজ দুর্বাঘাস
পেঁচাদের মতো গোপনে কাঁদে আজও পৃথিবীর পুরনো দীর্ঘশ্বাস।
স্মৃতির উঠোন জুড়ে চেয়ে দেখি করুণ দুটি আঁখি বালিকার
সাধ হয় তার গোল্লাছুট মাঠে রঙিন প্রজাপতি পাখা মেলে উড়িবার।
উচ্ছল বালিকা আজ বধূ
দ্বিপ্রহর শিয়রে জেগে থাকে অজস্র দুঃখেরা শুধু ।
ক্লান্ত বধূ শ্রান্ত আজ হঠাৎ কিশোরী হয়ে ওঠে, পা ভিজে তার রূপোলি শিশিরের ভোরে
চেনা পৃথিবীর কোলাহল ভীড় ছেড়ে যেতে চায় দূরে, আরও দূরে।
কি জানি কোন অভিমানে।

 

 

আজীবন আলিঙ্গন

স্মৃতির মুখর মিছিল আমাকে বিহ্বল করে
ফিরে আসে জোনাক পোকার মত
ঝাঁক বেঁধে, দলে দলে।
স্মৃতিরা আচমকা আলিঙ্গন করে, বিহ্বল করে, অবশ করে
আমি পারি না এড়াতে।
স্মৃতিরা আমাকে আজীবন আলিঙ্গনে বেঁধে রাখে
ঊনবর্ষায় সুরমার শুষ্কপ্রায় জলের মত
অঘ্রানে খড়ের পরে ক্ষীণকায় পথের ধারার মত।
স্মৃতির আলপথ ধরে হাঁটতে থাকি
পউষে উদাসী একলা বালক
পাখির পালক পড়ে থাকে
পাখিরাও কী আলিঙ্গন করে স্মৃতির অযুত নিযুত নামতা?

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত