| 1 মার্চ 2024
Categories
রাজনীতি

গণতন্ত্রের জন্য সতর্কবাণী

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

কোনো রাজনৈতিক পদ্ধতি আজো শতভাগ সঠিক বলে প্রমাণিত হয়নি। রাষ্ট্র ও সমাজ চলমান। তাই কোনো স্থির নীতি দিয়ে তাকে পরিচালনা করা যায় না। গোত্রতন্ত্র, রাজতন্ত্র থেকে শুরু করে আধুনিক গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র সকল নীতিকেই পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যেখানে সহনশীলতা, স্বচ্ছতা, নমনীয়তা এবং সত্য প্রকাশের সব পথ খোলা থাকে- সেটাই শেষ অবধি বেশি গ্রহণযোগ্য। এই সব বিচারে এখন অবধি মানুষ গণতন্ত্রকেই তুলনামূলক ভালো পদ্ধতি বলেই গত কয়েক শতক ধরে গ্রহণ করে আসছে।

কিন্তু সাম্প্রতিক কালে পৃথিবীজুড়েই গণতন্ত্রের একটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষ ঘটাচ্ছেন না, গণতন্ত্রের ভেতর থেকেই একধরনের স্বৈরতন্ত্রী নেতৃত্বই ঘটাচ্ছে। এরা প্রথমেই কোনো একটি উগ্র ইস্যুর মাধ্যমে একশ্রেণির মানুষের মনকে উসকে দেয়। গণতন্ত্রে যেহেতু ক্ষমতায় যেতে সকলের সমর্থন লাগে না, শুধু সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন লাগে- এরা সেই সুযোগটি নিচ্ছে। তারা একশ্রেণির মানুষকে উসকে দিয়ে কোনো না কোনোভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন অর্জন করে। সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় গেলেও, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো বিজয়ীকে সকলের হতে হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালের এই গণতন্ত্রের ভেতরের এই স্বৈরতন্ত্রী নেতাদের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তারা বিজয়ী হয়ে সকলের হচ্ছেন না। বরং যে বিভাজন সৃষ্টি করে ক্ষমতায় আসছেন, এই বিভাজনকে রাষ্ট্র ও সমাজে আরো তীব্র করে তুলছেন।

এই বিভাজনের চরম ক্ষতিকর এবং ভয়াবহ রূপটি দেখা গেল ৭ জানুয়ারি আমেরিকাতে। ট্রাম্পের উগ্র সমর্থকরা নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের বৈধতা ঠেকাতে সশস্ত্রভাবে ঢুকে পড়ল আমেরিকার কংগ্রেস ভবনে। ট্রাম্প সমর্থকদের ওই হামলা শুধু আমেরিকার সমাজ ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নিম্নগতি প্রকাশ করেনি; সাম্প্রতিক কালে গণতন্ত্রে শক্তিশালী নেতা প্রয়োজন বলে যে তত্ত্ব চালু হয়েছে, তার ভয়াবহতা বিশ্বের সামনে প্রকাশিত হলো। তাই আমেরিকার এই কংগ্রেস ভবনে হামলা বর্তমানের গণতান্ত্রিক বিশ্বের জন্য একটি নতুন শিক্ষা। আর সে শিক্ষা- গণতন্ত্রে সিস্টেম, দল, প্রতিষ্ঠান এগুলোই শক্তিশালী হতে হবে-  ব্যক্তি নয়। ব্যক্তি ট্রাম্প রিপাবলিকান পার্টির থেকে শক্তিশালী হয়ে উঠেছিলেন, পার্টি তাকে ঠেকায়নি। তাই তিনি আমেরিকার ও গণতন্ত্রের এই ভয়াবহ অধ্যায় সৃষ্টি করতে পারলেন। রিপাবলিকান পার্টি যদি ট্রাম্পের থেকে শক্তিশালী হতো তাহলে ট্রাম্প আমেরিকা ও গণতন্ত্রের এই ক্ষতি করতে পারতেন না। পৃথিবীর দেশে দেশে এখন গণতন্ত্রের নামে এমনি স্বৈরতন্ত্রী নেতার আবির্ভাব ঘটছে। আমেরিকার কংগ্রেস ভবনে হামলা তাই গণতান্ত্রিক বিশ্বকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে, পদ্ধতিকে শক্তিশালী করতে হবে- ব্যক্তিকে নয়।

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত