অক্ষয়পাত্র

বনপর্বে দ্রৌপদীর অরণ্যকুটিরে ছিল ক্ষুন্নিবৃত্তির সরলতা। দুর্বাসাদের আতিথ্যগ্রহণ সেই সরলতাকে করেছিল দীঘল নদীজল। দ্রৌপদীরা শস্য, শষ্প, জংলি লতা, ফলমূল মধু জড় করে আনে আর এলাচবন, লবঙ্গলতা থেকে নেয় সুগন্ধ। সকলকে অন্নসুধা দেয়। কালে অরণ্য উজাড় করতে আসে কুরুবাহিনী। উজাড় বনের ধারে দ্রৌপদীরা অথৈ জলে পড়ে আর ভাবে কী তারা রাঁধবে বনমানব, বনশিশুদের স্বস্থ রাখতে। সানকিতে কাঁচালংকা আর বনশস্যের ভাত, সেই সঙ্গে মেশে দুচোখ থেকে দুই ফোঁটা জল। এমত সময়, আচম্বিত ঝড়বাতাসে কৃষ্ণের উদয় হয় আর সে বলে, ক্ষুধা নির্বৃত্ত করো বোন। আমি বুভুক্ষিত। দ্রৌপদী এঁটো থালার দিকে তাকায়, কী দিতে পারি? এই আমার ভাত, উচ্ছিষ্ট অন্ন। কৃষ্ণ আবদারের সুরে বলল, মুখে তুলে দাও এখনই। আমি বসলাম, আসনপিঁড়ি তোমার সম্মুখে।  আর সেই একদানা ভাতের স্বাদ কৃষ্ণকে দেয় নতুন চোখ, নুনের ঐশিকতা, কৃষ্ণ তখন কৃষ্ণা হতে পারে। কৃষ্ণ চোখ মুছে বলে, ভগিনী এ অমৃত কোথায় পেলে! আমাকে দিও তো আবার। কাঁচা অশ্রুর স্বাদে কী ছাইপাঁশ, দ্রৌপদী জানে না, তাই চেয়ে থাকে কৃষ্ণের দিকে। তারপর পা ছোঁয় মূর্তিমান অক্ষয়পাত্রের।

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত