সাহিত্য আমার সহজাত আকর্ষণঃ অঞ্জলি সেনগুপ্ত

 

আজ ৯ এপ্রিল। কথাসাহিত্যিক,সম্পাদক অঞ্জলি সেনগুপ্তের জন্মদিন। ইরাবতীর পাঠকদের জন্য রইল অঞ্জলি সেনগুপ্তের গল্প ও একটি সাক্ষাৎকার।। কথাসাহিত্যিক অঞ্জলি সেনগুপ্তের প্রতি রইল ইরাবতী পরিবারের পক্ষ থেকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা।


গল্পঃ কাঁটার গোলাপ

পাইন গাছের গুঁড়িতে ঠেস দিয়ে কুমার ঘোষ মশাই আয়েশে চোখ ঝিমুচ্ছিলেন। তাঁকে ঘিরে টিনা-মীনা-করণ সহ এক ঝাঁক তরুণ-তরুণীর ভিড়। ষাট ছুঁই ছুঁই কুমার নিয়মিত জিম পরিচর্চিত,পার্লার লালিত সুগঠিত দেহভঙ্গিমায় এখনো টান টান লেডিকিলার।শ্মশ্রুগুঁম্ফহীন মুখমণ্ডল, ব্যাকব্রাশ চুল , কানের দুপাশের জুলপিতে সামান্য সাদার ছোঁয়া, নীল জিনসের সঙ্গে কালো টি সার্ট। কুমার বিখ্যাত ঠিকাদার। তার থেকেও বিখ্যাত তাঁর বদান্যতা ,উদার চিত্ত, পরোপকারী ব্যক্তিত্ব। উষ্ণ স্নেহ বিতরণে তাঁর জুড়ি নেই। টাকা ছড়ান ফুলঝুরির মতো। তাঁর হৃদয় আকাশের মতো উদার ,দৃষ্টি সমুদ্রের মতো গভীর , স্নেহ অগাধ, অপার। এই স্নেহে যে একবার ডুবেছে , সে আর পার পায়নি। মধুস্নেহ ও ঘৃতস্নেহ যুগপৎ দুই স্নেহের অপার ভাণ্ডার তাঁর। তবে যত্রতত্র স্নেহের প্রদর্শনীও তাঁর পছন্দ নয়। নদী যখন অগাধ জলধির কাছে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ব্যাকুল ভাবে ছুটে আসে,তখনই দাতা কর্ণ কুমার স্যার পরম আশ্লেষে করুণ-কাতর হয়ে উঠেন। তখন তিনি বিপদভঞ্জন ও বটে। পরদুঃখে কাতর কুমার মশায় গোটা জীবনই দান করেছেন আর্তসেবায়।

 

জীবন তাঁকে সবই দিয়েছে ,কেবল বিদ্যা ছাড়া।  স্কুল ফাইনাল বেশ হইচই করেই পার হওয়া গেল ,গোল বাঁধল হায়ার সেকেন্ডারির বেলায়। মাধ্যম বিলেতি ভাষা , আর বিপদ ঘটল তাতে। যদিও কিনারা হয়, তো পার হওয়া বেশ দুষ্কর হয়ে উঠল। নিন্দুকেরা বলে বাপের অঢেল পয়সার জোরে কলেজ পেল কুমার। নতুবা–?

শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে কুমার গ্র্যাজুয়েট হল। পাথরকুঁচি গাঁয়ে সেদিন খানা পিনা নাচ-গান কাকে বলে দেখল গ্রামবাসী।

ছেলে পড়াশুনা নিয়ে অন্য ভাইদের মতো উৎসাহী নয় , তাই পৈত্রিক ব্যবসায় ( ঠিকাদার )বাপের পাশে শহরে জায়গা হল কুমারের। বছর ঘুরতে না ঘুরতে লক্ষ্মীর কোলচাটা ধন হয়ে উঠল কুমার। তখন তাঁর ধূলো মুঠি সোনা মুঠি। দেদার ইয়ার বন্ধু , পান , পানীয় ,খানা-পিনা ফুর্তি। কুমার হয়ে উঠে দিল দরিয়া। নিত্য নতুন বান্ধবী ,কিংবা বন্ধুনী। ওখানেও নিন্দুকদের ফুটকি টিপ্পুনী ,’কি জানি কীভাবে …’ । মোদ্দা কথা কুমারের সব কাজেই ব্যাঁকা নজর প্রতিবেশির।
কুমারের ভাগ্যের আকাশে নক্ষত্ররা দল বেঁধে স্নান করতে নামে। প্রায় কুড়িয়ে পাওয়ার মতো ক্ষমতাসীন দলের টিকিট নিয়ে ভোট জিতে বিধান সভায় আসে কুমার। ধন্য ধন্য রব উঠে চারদিকে।কুমার ভাবলো নাহ্ , জনতার জন্য এইবার কাজ করা উচিত। এই কাজের অছিলায় মুখ্যমন্ত্রীর নজরে তো আসা যাবে। আবার ধন্য ধন্য রব উঠলো , জিও লাল। পাথরকুঁচির শান।
ধূলো উড়িয়ে কুমারের রথ যায় ফুলকুমারীর ঘরের সামনে দিয়ে। ধুলোয় ডেকে যায় ছোট কুঁড়ের ঘর। তবু দীঘল কেশ এলিয়ে ফুল বাড়ির সামনে রোদ পোহায়। হাতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ সার্টিফিকেট , বাবা চাষা মানুষ অনেক স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে পড়িয়েছে। প্রতি বছর পাশ ,গ্রামে মুখ উজ্জ্বল বাপের। কিন্তু চাকুরির বাজারে ফুল নিত্যদিন নিষ্ফলা। সরকারী চাকুরী পেতে রেস্ত লাগে। আছে তোর বাপের ? ফুল মনিপুরী মেয়ে। রাজা বভ্রূবাহনের রক্ত শরীরে , যোগ্যতায় চাকুরী হাসিল করবে। বাপ ভাইদের হাড় মাস করা কামাই বেচে নয়কো। বন্ধুরা বলে আর হয়েছে তোর চাকুরী?

সেই বছর-ই কুমার মন্ত্রী হল। দেদার ক্ষমতা, আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ। দাতা কর্ণ হতে সাধ গেল কুমারের। কেউ বেকার থাকবে না পাথরকুঁচিতে। ফুলও নয়।
ফুলের অ্যাপ্লিকেশন কুমারের হাতে।

কুমারের সামনে ফুল। পাহাড়ি সরলতা ও সৌরভ অঙ্গে মাখা। বাঘের সামনে যেন হরিণী। ফুল ত্রস্ত।ক্ষুধার্ত নেকড়ের লেলিহান নজরের সামনে কুঁকড়ে গেল ফুল।

পালিয়ে এলো রীতিমতো।

কিন্তু খিদের পেট যে ! বাড়িতে হাড় জিরজিরে ভাই বোনদের সামনে কত যে অসহায় ফুল ! তবু ফুল গেল না। আত্মসন্মান বেঁচে চাই না কিছুই। ফুলেরা চিরদিন-ই একরোখা।

*
পাথরকুঁচি ছোট্ট গ্রাম। সুখ দুঃখে প্রতিজন প্রতিজনের। ফুলের চাকুরী পাওয়ার খবর বাতাসে বয়ে এলো। দীর্ণ জীর্ণ কুঁড়ে ঘরের সামনে থামলো রাজার রথ। কুমারের প্রেরিত প্রতিনিধির হাতে ফুল ফোটার বার্তা। শহরের হোটেল রিসেপসনিষ্ট এর পাকা চাকুরী কুমারের সুপারিশে। ভালো মাসমাইনে। ঘরে ছুটে এলো খুশির হাওয়া। নাহ্ , লোকটির মিছে বদনাম। কই ফুল তো ঘরে বসেই কাজ পেল। না কোন দক্ষিনা না কোন …
বেশ কাটল প্রথম মাসের মাইনে পেয়ে। গোটা টাকাটাই মায়ের হাতে তুলে দিল ফুল। মায়ের কুঁচকানো কপালে হেমন্তের মধুর হাসি। নতুন কাপড়, নতুন মোবাইল। ছোটদের বায়না টিভি চাই রে দিদি। ফুল আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দুপাক নেচে নিল।পৃথিবীতে ভালো লোকের অভাব নেই। কুমার সাহেবের প্রতি কৃতজ্ঞতায় নুইয়ে এলো ফুলের মাথা।

*
শীত পড়ব পড়ব করছে। এই শনিবারে ফুল বাড়ি যেতে পারেনি। হোটেলে সরকারী পার্টি আছে। ফুলের প্রচুর দায়িত্ব। ম্যানেজার খুঁটিনাটি কাজ বুঝিয়ে দিল ফুলকে। সেদিনই জানলো ফুল কুমার আসবে মুখ্য অতিথি রূপে। অজানা আনন্দের ঢেউ খেলে গেল,যেমন ধানের শীর্ষে বাতাস খেলে যায়। এই অবসরে একবার ধন্যবাদ তো জানাতে ভুল করবে না ফুল। কৃতজ্ঞতা ছাড়া আর কি-ই বা দিতে পারে।

এত বড় একজন মন্ত্রী। তাঁকে কি মনে রেখেছে?

প্রচুর গেস্ট,হৈ চৈ। কাছে যাওয়ার সুযোগ-ই পেল না ফুল। ডিনার হয়ে গেল। দূর থেকে ফুল নীরবে কৃতজ্ঞতা জানালো সন্মানীয় বহু মূল্যবান মন্ত্রী মহাশয়কে। সব অতিথি চলে গেল। মন্ত্রী ও তাঁর কাছের লোকজন ছাড়া।

হোটেলের নিভৃত কক্ষে কুমার ফুলের মুখোমুখি। বিছানায় পড়ে আছে ক্ষত বিক্ষত পাপড়িগুলো। তাজা নবীন ফুলের কোমল পাপড়ি শক্ত হাতের পেষনে থেঁতলে গেছে। স্যাঁতা পড়া ভেজা মুখটা কাঁপছে তির তির করে। ঘরে বড় রকমের ঝড়ের শেষের ধ্বংস চিহ্ন সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। কুমারের মুখে সিগারেট , ফুলের নত চোখে জল। শরীরের উপর প্রচন্ড ঘেন্না জন্মালো ফুলের। পাহাড়ের সৌন্দর্য কলংকিত করলো এক মাতাল শূকর।

কোথায় যাবে ফুল? ভাইবোনদের উল্লাসে ভরা চিৎকার এখনো কানে বাজছে, দিদি টিভিটা কী সুন্দর রে। দেখ কেমন দেয়ালে মুখ টিপে হাসছে। ওমা দীপিকা পাড়ুকোন যে এক্কেবারে তোর মতন রে। হ্যাঁরে দিদি সামনের মাসে বেতন পেলে একটা জিনিস দিবি …

পাথরকুঁচি গ্রামে ফুলকুমারীর কাঁচা ঘর পাকা হতে দেখল লোকে। কত আধুনিক জিনিস পত্রে ভরে গেল ঘর । আলোয় পূর্ণ হল গৃহের প্রতিটি কোন। শুধু ফুলের জীবনের সৌরভ চিরতরে মুছে গেল। প্রতিটি রাত বিক্রি হয় সস্তা দরে।

 

 

অঞ্জলি সেনগুপ্তের মুখোমুখি ইরাবতী

 

নমস্কার। কেমন আছো?

অঞ্জলি সেনগুপ্ত — ভালো খুব ভালো ।

অন্যদেশ নিয়ে কথা বলার আগে জানতে চাই তোমার সাহিত্যে আসার পেছনের গল্পটা কী?

— ভালোবাসার জায়গা থেকে । সাহিত্য আমার পঠন, পাঠন , সাহিত্য আমার পাঠ্য বস্তু ও পাঠদানের বিষয় । সাহিত্যে যাতায়াত বাল্য থেকেই । সহজাত আকর্ষণ বলতে পারো ।

পারিবারিক ভাবে রাজনৈতিক পরিমন্ডল ছিল তোমার করিমগঞ্জের বাড়িতে। রাজনীতি তোমায় টানেনি?

— এই প্রশ্ন একদম সঠিক নয় । রাজনৈতিক নয় , আমি একটি আধ্যাত্মিক পরিমণ্ডলে বড় হয়েছি । যদিও আমার পিতা দুর্গাপ্রসন্ন দেব বৃহত্তর ভারতবর্ষের স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশ সরকারে বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে একাধিক বার জেল কেটেছিলেন । কিন্তু সেইটি ছিল সময়ের আহ্বান । মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে অসহযোগ আন্দোলন , লবণ সত্যাগ্রহ , ভারত ছাড়ো ইত্যাদি আন্দোলন গুলিতে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করে কুমিল্লা ও দমদমে জেল কেটেছিলেন । তাঁর প্রথম জেলে যাওয়ার বয়স ছিল ১৫ । সেলে সঙ্গী হিসেবে যাঁদের পেয়েছিলেন তাঁরা খুব বিখ্যাত নাম । স্বাধীনতার পরবর্তীতে অধিকাংশ-ই মন্ত্রী হোন , আমার পিতা রাজনীতি ছেড়ে পুরোপুরি আধ্যাত্মিক জগতে ডুবে যান । প্রসঙ্গত বলতে পারি আমার পিতা যাঁদের সঙ্গে জেল কেটেছিলেন তাঁদের মধ্যে কয়েকটি সর্বজন পরিচিত নাম হচ্ছে প্রফুল্ল সেন (পরবর্তীতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ) , নৃপেন চক্রবর্তী (পরবর্তীতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী) , মহেন্দ্র হাজরিকা । তাঁদের মধ্যে মহেন্দ্র হাজরিকা ( আসামের খাদ্যমন্ত্রী ছিলেন ) আমাদের করিমগঞ্জের বাড়িতেও এসেছিলেন । আমার মায়ের হাতের খাবার খেয়ে তারিফ করেছিলেন । আর তখন-ই জানলাম আমার পিতার জেলের নাম দুর্গেশ । জেলে আমার পিতা গীতা পাঠ করে সকলকে শোনাতেন । স্বাধীনতার পরবর্তীতে পিতা আধ্যাত্মিকতায় ডুব দেন ।

তোমার মধ্যে একজন সংগঠক আছে।সেটা কি স্বাধীনতা সংগ্রামী বাবা দূর্গাপ্রসন্ন দেবের কাছ থেকে পেয়েছো?

— কোথায় ? ওই সবাইকে ভালোবেসে ডেকে নেই আর কী ? তবে বাবার প্রভাব তো ষোলআনা আছেই । আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেপেই তাঁর প্রভাব । তাঁর কথার সামান্য আভাস না দিয়ে নিজের কথা বলা অর্ধ তথ্য হবে
তিনি ছিলেন জন্ম উদাসীন । ব্রাহ্মণ বাডিযার তুলাতুলা গ্রামের মানুষ । বুড়িচর নদীর কাছে । ১৫ বছর বয়সে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন মহাত্মা গান্ধীর নেতৃত্বে । এস্রাজ বাজাতেন , ভালো বাসতেন সুর আর গান । প্রায় চার’শ এর বেশি স্বরচিত গান আছে । সুরও তাঁর । গলা আমার মায়ের । লিখেছেন অজস্র কবিতা , প্রবন্ধ । স্বাধীনতার পর রাজনীতির সংশ্রব ছেড়ে আউল ফকিরের ভাবাদর্শে আকৃষ্ট হয়ে বাইশ ফকিরের সত্য সমাজ দলে যোগদান করেন । এবং আমৃত্যু কাল ওই ভাব আন্দোলনকে লোকের কাছে নিয়ে যান । মাত্র ৩২ বছর বযসে বাইশ ফকির হাটেরমতো ফকিরচাদের ভাবী উত্তরাধিকারী রূপে কর্তাগুরু হন । সাম্যবাদ ওই দলের মুখ্য কথা , হিন্দু মুসলমান সব মানুষই সমানভাবে আদৃত ওই সম্প্রদাযে । প্রচুর লেখা রয়েছে সবই দর্শনের উপর কিন্তু অপ্রকাশিত ফকির হাটের জিম্মায । ‘মানুষেতে দরদ ভক্তি সহজ সাধন’- এই ছিল তাঁর দর্শন । হিন্দু-মুসলমানের যুগ্ম সাধন ধারায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য । ‘জেন্দা ফকির যেবা হবে সোনার মদিনা পাবে, হজরত নবী দেখতে পাবে চান্দের বাজারে’।
চলে গেলেও তিনি রয়েছেন আমার রক্তে , ভাবধারায় , চিন্তনে মননে ।

তোমার বেড়ে ওঠা সেই সময় টার কথা বলো।

— আমি একান্নবর্তী পরিবারে বড় হয়েছি । প্রচুর লোকজনের সংসার । সাধক পিতার আয় হোমিওপ্যাথ ডাক্তারি থেকে যা হত তা যথেষ্ট ছিল না । তাঁর উপর বাড়িতে যখন তখন ফকিরহাটের ভক্তের ভিড় ।আর্থিক সাশ্রয়ের মধ্যে বড় হই নি । কিন্তু অনটন ছিল না । খুব হেসে খেলে অনেক মানুষের মধ্যে সেবার আদর্শে বড় হচ্ছিলাম । দুটো ঐতিহাসিক আন্দোলনের সাক্ষী হয়েছি । একটি ৭২ বাংলা ভাষা আন্দোলন ও অপরটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন । আমি তখন স্কুলে পড়ি । করিমগঞ্জে বাচ্চু চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কোর্ট ঘেরাও আন্দোলনে যোগ দিয়ে কয়েক ঘন্টার বিচারপতি সেজে একদিনের জেলযাপন । সেই কী উন্মাদনা ! মায়ের রক্ত চক্ষু এড়িয়ে পুকুর পাড় ধরে পালিয়ে গিয়ে আন্দোলনে যোগদান । মাইকে চেঁচিয়ে গান , হাতে হাতে ধর গো । ওই উঠেছে শঙ্খ বেজে … এখনো গায়ে কাঁটা দেয় । তখন করিমগঞ্জ জেলা ছিল না । সাবডিভিশন ছিল । জেলা ছিল বৃহত্তর কাছাড় । আসাম সরকার নোটিফিকেশন জারি করেছিল , আসামের শিক্ষার মাধ্যম হবে অসমীয়া । এর প্রতিবাদে ৬১ –র ধাঁচে প্রতিবাদ অন্দোলন গড়ে উঠে । বাচ্চু চক্রবর্তী শহীদ হন । ওই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহণ করি । বাংলাদেশ ভূমিষ্ঠ হতে দেখেছি । করিমগঞ্জ সীমান্ত শহর । করিমগঞ্জ ও জকিগঞ্জ মধ্যে প্রিয় কুশিয়ারা । জকিগঞ্জ পূর্ব পাকিস্থানে । ভারতে করিমগঞ্জ । মুক্তিযুদ্ধের সৈনিকগণ করিমগঞ্জের সীমান্তে শিবির করেছেন । সেই শিবির লক্ষ্য অরে পূর্ব পাকিস্থান থেকে ছোঁড়া গুলি ও মেশিনগানের শব্দ ভেসে আসতো । করিমগঞ্জ তখন কার্যত ভারতীয় সেনা ও মুক্তিযোদ্ধার দখলে । ভারি বুট জোতার আওয়াজে কেঁপে কেঁপে উঠতাম ।

(আংশিক)

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত