এদুয়ার্দো গালেয়ানোর অণুগল্প অনুবাদ-জয়া চৌধুরী

Reading Time: 3 minutes

এদুয়ার্দো গালেয়ানোর পরিচিতিঃ

“শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ই নয় কিন্তু কিছু ইউরোপীয় দেশও পৃথিবী জুড়ে স্বৈরতন্ত্রের বীজ রোপন করেছে। আর তারাই এমন ভাব করে যেন তারাই শেখাবে গণতন্ত্র কি?”

এদুয়ার্দো খেমান উখেস গালেয়ানো ওরফে এদুয়ার্দো গালেয়ানো ১৯৪০ সালে উরুগুয়ের রাজধানী মন্টে ভিডিও তে জন্মগ্রহণ করেন। লাতিন আমেরিকার সবচেয়ের শক্তিশালী লেখক দে অন্যতম গালেয়ানো একজন সাংবাদিক- লেখক ছিলেন। ১৯৭১ সালে লেখা তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বই ‘লাস বেনাস আবিয়েরতাস আমেরিকা লাতিনা” বা “ লাতিন আমেরিকার খোলা শিরারা”। এটি আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং চিলে তে নিষিদ্ধ করে দেয় তৎকালীন স্বৈর তান্ত্রিক সরকার। লাতিন আমেরিকার ইতিহাসের একটি জ্বলন্ত দলিল১৯৮৪ সালে লেখা তাঁর আর একটি বই “মেমোরিয়া দেল ফুয়েগো” বা “আগুনের স্মৃতি” তাঁর অন্যতম মহান কীর্তি। সারাজীবন বিচিত্র পেশায় কাটিয়েছেন তিনি। কখনো স্কেচ শিল্পী, কখনো চিত্রকর, বার্তা দূত, টাইপিস্ট, ব্যাঙ্কের ক্যাশিয়ার, ইত্যাদি। তাঁর প্রভাব তাঁর লিখনীতেও সুস্পষ্ট। তিনবার বিবাহ করেন। এই বছরই ১৩ ই এপ্রিল। ২০১৫ তিনি লাংস ক্যান্সার এ প্রয়াত হন।

  এদুয়ার্দো গালেয়ানোর অণুগল্প অনুবাদ- জয়া চৌধুরী  

El Peligro বিপদ 

শ্রীমতি ‘ভা’-এর পা দুটি নগ্ন।

শ্রীমতি ‘লো’ হলেন ঢেঁকিকল বা দোলনা। তিনি স্বর্গ ও নরকের মধ্যে ক্রমাগত চলাচল করেন।

শ্রীমতি ‘বা’ এক বদ্ধ বৃত্ত। তিনি তোমার গলা চেপে দম আটকে রাখেন।

শ্রীমতি ‘সা’ অসভ্যের মতন গর্ভবতী।

– ভালো বাসার সবকটা অক্ষরই বিপজ্জনক বলে পরীক্ষা করে দেখেছে রোমি দিয়াজ পেরেরা।

অক্ষরগুলো যখন মুখ দিয়ে বের হয় মেয়েটা তখন শূন্যে তার ছবি আঁকা দেখে।

     

La pobreza গরীবি 

সংখ্যাতত্ত্ব বলে দুনিয়ায় অনেক গরীব আছে।

কিন্তু বাস্তবে তার সংখ্যা আরও অনেক বেশি।

অল্পবয়সী গবেষক কাতালিনা আলভারেস ইনসুয়া এটি গোণার জন্য বেশ কার্যকরী একটি ফরমূলা বের করেছিল। সে বলেছিল- “গরীব হল তারা যারা দোর বন্ধ করে রাখে।”

যখন এই কথাটা সে বলেছিল তখন তার বয়স ছিল তিন। সেটাই তো দুনিয়াকে উঁকি দিয়ে দেখবার ও তাকে পর্যবেক্ষণ করার সবচেয়ে সঠিক বয়স।

       

Ventana sobre el cuerpo

শরীরের ওপরের জানালা 

গির্জা বলে- শরীর হল পাপ।

বিজ্ঞান বলে- শরীর হল যন্ত্র।

বিজ্ঞাপন বলে- শরীর হল বাণিজ্য।

শরীর বলে- আমি এক উৎসব।

     

El Espejo আয়না 

রোদে পুড়ছে সূর্য। রাত যে ছায়াটা ফেলে রেখে গিয়েছিল তার বাকী ছায়াটা বয়ে নিয়ে যাচ্ছে সে। প্রতিটি দরজা নোংরা, ঘোড়ার গাড়ি জড় হয়েছে তার সামনে, বাতাসে কফ কাশি মাখা ঢিবির মত মাকড়সা ঝুলছে।

মেলোড্রামার রাস্তা দিয়ে হাঁটছে পেরেক। লোকজন তাকে গ্রামে পাগল বলেই ভাবে । হাতে একটা আয়না ধরা আর বুক ঢিপ ঢিপ করা ভয় নিয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে সে। আয়না থেকে চোখ সরাচ্ছে না।

  • কি করছিস পেরেক?

শত্রুদের নিয়ন্ত্রণ করতে করতে সে বলল- এখানেই আছি।

     

El jugador খেলোয়াড়

সেটা ৬৭ সালের কোন এক রবিবার ছিল। এক ধ্রুপদী রবিবার । সান্তা ফে ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচটা নিশ্চিত করল এল মিওনারিও-র বিরুদ্ধে।  বোগোতার গোটা শহরটা চৌমাথায় এসে জড় হল। স্টেডিয়ামের বাইরে এমন কেউ ছিল না যারা চিৎকার ও মারামারি শুনে প্যারালিটিক বা অন্ধ হয়ে যায় নি।  

ম্যাচটা ড্র হয়ে শেষ হচ্ছিল। ম্যাচের অষ্ট আশি মিনিটে এল সান্তাফের খেলোয়াড়  ওমার লোরেন্সো দেভান্নি বক্সের মধ্যে পড়ে যায়। রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। দেভান্নি উঠে দাঁড়ায়, হতচকিত। ওটা আসলে একটা ভুল ছিল। কেউ তাকে স্পর্শ করে নি। সে নিজেই পড়ে গিয়েছিল কারণ তার গোড়ালি মুচকে গেছিল।

সান্তাফের খেলোয়াড়েরা গোলপোষ্ট পর্যন্ত এগিয়ে যায়। তেকাঠির মধ্যে ফাঁসিকাঠ, পুরোহিত গোলকিপার সামনে দাঁড়িয়ে গোল পাহারা দিচ্ছে, গোটা স্টেডিয়াম গর্জে উঠছে, গোলকিপার নিচু হয়ে দাঁড়াল।

তারপর সাদা পেনাল্টি বিন্দুতে বল বসাল দেভান্নি, বলে বুক ভরা দম নিয়ে প্রাণপণে লাথি মারল অনেক বাইরে। বহু দূরে

   

.

   

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>