একগুচ্ছ অরুণেশ ঘোষ

Reading Time: 7 minutes
আজ ২৯ ডিসেম্বর কবি অরুণেশ ঘোষের শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে তাঁর লেখা কবিতাগুচ্ছে জানায় বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
ইঁদুরেরা
স্বপ্নের ভেতরে যেমন সারিবদ্ধ অশ্বেরা এসে যায় তেমনি আমি পানউলীর নিকটে নতজানু সে এতটা রূপসী ছিল যে তার আঙুলের ডগায় খয়েরের মৃদু দাগ দুচোখ চুনে লেপা সে হেসে পা থেকে পোশাক সরিয়ে নিয়ে টেক্কার মতন পীতাভ পানের সজলতা মুছে নিয়েছিল, তার উরু, আমি সে সময় আধবালতি জলে মদের বোতল ভিজিয়ে রাখছিলাম ঘাড় ঘুরিয়ে শুনলাম কোথায় যেন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লেগেছে তদ্বির করতে গিয়ে দেখি, পাখি ও পশুরা বড় বেদনাদায়ক সংগ্রামে লিপ্ত তাদের প্রত্যেকের পায়ে ছুরি বাঁধা। এ কি মানুষের কারসাজি নয়? পাখি ও পশুতে গৃহপালিত ও আরণ্যক পশুদের মধ্যে তুমুল যুদ্ধ, আমি গিয়েছিলাম রঙিন চশমা ও টুপি পরে, সর্বস্ব খুইয়ে এলাম, একমাত্র ইঁদুর আমাকে সাহায্য করল, খুব সন্তর্পণে নিয়ে এল তার পাতালস্থিত অন্ধকার ঘরে অথচ তুমি সেখানে শুয়ে ছিলে, কেন? তোমাকেও কি এরা উদ্ধার করেছে? পরমুহূর্তেই চমকে উঠে দেখি, ইঁদুরেরাও কি লম্পট, আশ্রয় দেবার ছলে তাকে ধর্ষণ করছিল, এক ঝাঁক ইদুরের মধ্যে থেকে সে আমার দিকে কাতর চোখে তাকিয়ে আছে, এক সময় ইঁদুরেরা আমার লিঙ্গ দাঁতে কেটে নিয়ে রূপসী পানউলীর দিকে এগিয়ে গেল।
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
এবার রাক্ষসী
এবার রাক্ষসী এসে ভাত খাবে রাত্রির শেষ অন্ধকারে
এবার রাক্ষসী এসে খুলে রাখবে পরচুলা ,মুখোশ ও দাঁত
তাকাবে ঘুমন্ত স্বামী পুত্র কন্যাদের দিকে ,উদ্গত বমি চেপে
থুতু ফেলবে ,দেবে অভিশাপ ….
আমি তাকে ডেকে উঠবো ফিসফিস ,মদিরাক্ষী পিসি
পেচ্ছাপ করতে যাব ,একটু দাঁড়াও তো দেখি
চমকে উঠে স্তব্ধ হবে ,তুই ঘুমাস নি সারারাত ?
আকাশের একটি তারা তো চিরকাল জেগে থাকে অপেক্ষায়
রাক্ষসী ফেরে কিনা আর !
হায় ,রাক্ষস পোশাক ছেড়ে মানুষী পোশাকে সে
যে মুহূর্তে যেতে চেয়েছিল আমকে জাগ্রত দেখে ,
সে -পোশাকও বাঁ পায়ে সরিয়ে দেয়
জ্বলন্ত মোমের নগ্ন ধ্বস্ত নাভিদেশ
কাছে এসে ঝুঁকে বলে ,চল ,বাকিটুকু করে আসি শেষ …
এবার রাক্ষসী এসে চুমু খাবে ,শুষে নেবে ,ঠোঁটে রক্ত
চোখ ভরা জলে
কালো গর্ত হয়ে যাওয়া মৃত তারকারে ।
[৫ ই অক্টোবর ,১৯৯৬ দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ।]
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
জয়ন্তীর ঘর
‘এই ঘর জয়ন্তীর ছিল’ একই লোহার খাটে
নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে হেসে ওঠে স্বাতী, হাসে
কেন ? ‘জয়ন্তীও এই ঘরে ছিল…ওই যে ওপরে
সিলিং-এর হুক, কি করে ওখান থেকে এক রাতে
নিজেই ঝুলেছে— নিজেরই চুল দিয়ে ফাঁসি দেওয়া—
বিশ্বাস হয় ?— কারা এসে তাকে এভাবে যে খুন করে
গেছে…?’ মালতীও হাসতে চায়, ভয়ে সে নিজেকে
উলঙ্গ করে আলনার বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে— এই পারে শুধু ?
কোন ত্রাসে আয়নার পর্দা টেনে দেয়, কোন উল্লাসে
এক হাতে তুলে নেয় নেশা, অন্য হাতে সিগারেট, হাসে
কুটিল ঢেউয়ের মত হাসি, ধ্বক্‌ ধ্বক্‌ করে ওঠে চোখ— ইলা
একবার বসে ছোট টুলটিতে আর একবার উঠে হেঁটে যায়
দেয়ালের কাছে— সাদা মদ স্তনের ওপর দিয়ে নাভির
গভীরে নেমে আসে, ‘জয়ন্তী নই আমি,—জয়ন্তীর ঘরে
থাকি— জয়ন্তীর আত্মাকেও ঘৃণা করি— আত্মা তার আছে ?
ছিল কোনদিন ? গা রি রি করা তার সেই ভালবাসা…
বার বার শুনি, বার বার জ্বলে উঠি বিতৃষ্ণায়, হাসি
কি চাও আমার কাছে ? কোন ভঙ্গি— কোন রক্ত ?— কোন
কল্‌জে ঝুলে আছে জরায়ুর নিঃসীম আকাশে ? এসো
দুজনে আঘাত করি—আঘাত, আঘাত— ছিঁড়ে ছিঁড়ে যাই…
তাকাও নীচের দিকে— মাটি… আমাকে জয়ন্তী ভেবো না’
রাত্রির নদীর কাছে কেউ কি আসিনি ? নদী কি আসেনি
শহরের মধ্যরাতে ? শহরের পথগুলি নদী ! কোন ঘরই
নেই— একে অন্যকে দেখি হাত দিয়ে— একে অন্যকে শুধু
স্পর্শ করে জেনে নিতে চাই— হাতে উঠে আসে, জল, ছাই, বালি।
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
শব ও সন্ন্যাসী
তুমি যখন বসো তার ওপর, কি ভাবো…
কোন্‌ সংকেত দূর ও অনাবিষ্কৃত
নক্ষত্র থেকে তোমার দিকে তুমি
তার শরীর জুড়ে বসে তাকিয়ে আছো উর্ধে…
যখন উঠে যাও উর্ধে একই রকম
দূর নক্ষত্রের পাশাপাশি, কাছ ঘেঁসে
তুলে ধরেছো মাথার উপরে দুই হাত
নয়ত চিৎ হয়ে ছড়িয়ে দিয়েছো দুই পা
খুবই কাছাকাছির দুই গ্রহে
তখনও তোমাকে ছুঁয়ে আছে, জুড়ে ও জড়িয়ে
থাকে মৃতদেহের ঠাণ্ডা, তার হা
ভেসে চলেছো প্রবল পাগল হাওয়ায়
ভেসে চলেছো তার ওপর, সেই খোলা
ও নগ্ন শরীর, যোনি ও তলপেট জুড়ে তোমার নিতম্ব
স্তন ও জানু আঁকড়ে ধরেছো দুই থাবায়
ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে এক নক্ষত্র থেকে আরেক নক্ষত্রে
এক না-বাতাস, কালো ও নিঃসীম শূন্যতা
তুমি যখন বসো তার ওপর, কি ভাবো…
আর এই তো সেই চেনা শরীর, উষ্ণ ও মৃত
যা তুমি বয়ে এনেছো, যা তুমি দূর
ভোর রাত্রির অস্পষ্টতা থেকে বয়ে এনেছো
কালো কুয়শার মধ্যে গজিয়ে ওঠা
শহর ও গ্রাম কারখানা ও কারাগার ভেঙ্গে
এ কোন পাথর ? এ কোন ধরণের জল ? যা তোমাকে
যা তোমাকে টানে নীচে— মাটীর অনেক নীচে
জেগে ওঠে বিশাল ঢেউ, মুছে ফেলতে চায় সবটাই
আর এই তো সেই যুবতীর মৃতদেহ, উষ্ণ ও রক্তিম
ছিল হাহাকার ও ক্ষুধা, উঠে বসেছে দুদিকে
ছড়িয়ে দুই পা, কামড়ে ছিঁড়ে নিয়েছে রুটি ও আকাশ
যাকে তুমি বয়ে এনেছো বার বার, বার বার
একই শরীর থেকে, আকারহীন একই আরোহণ থেকে
যা তোমাকে পেড়ে আনতে হয় প্রতিটি মধ্যরাত্রে
প্রতিটি মধ্যরাত্রে তোমাকে পেরুতে হয় নিরুদ্বেগ
নরক ও নক্ষত্রলোকের নদী, কোথায় স্পষ্টতা ?
খুলে দেখেছো একের পর এক
একের পর এক খুলে দেখে
ছুঁড়ে দিয়েছো আকাশময়, চারপাশে
খা খা, শূন্য ও সারবদ্ধ, বিশৃঙ্খল
আর উলটে পালটে ঘুরে বেড়ায়, তবু তুমি
হাত বাড়িয়ে দাও, টেনে আনো একই রকম যত্নে
ভালবাসায়, হাতের তালুতে রাখো একেকটি ফাঁপা ভ্রূণ
স্বপ্ন থকে স্বপ্নে, গর্ভ থেকে গর্ভে…
কে আচমকা মাথা তুলেছে ঘুম ও ধুলো থেকে
কে আচমকা দেখে নিতে চায় আরও স্পষ্ট করে
আরো, আরো ঠিকঠাক বুঝে নিতে চায় প্রাণপণ
এই যে সহজ ও সরল আত্মা, উঠে গেছে শান্ত ও সাকার
ভেদ ও অতিক্রম করে উল্টো দিক থেকে, অ-সহায় ও উদাসীন
এ কোন যোনি ?… দিব্য ?… ব্রহ্ম ? কেন মাংসল ও লালাভ ?
কেন পাপড়ির মত মেলে ধরেছে প্রতিটি স্তর ও শূন্যতা ?
প্রতিটি পাত্রই নিঃশেষ, হা খোলা প্রতিটি গহ্বর
ছড়িয়ে পড়া বীর্য তোমায় ধরে রাখেনি কোথাও
কোন উন্মুখ উত্তাপ, পড়ে আছে টুকরো টুকরো ঠাণ্ডা
পঙ্গু ও উন্মত্ত বেরিয়ে আসে ঝাঁকে ঝাঁকে, দ্যাখো, ঘিরে ফেলে তোমাকে
সবকিছু তৈরি ছিল, তোমাকে দেখা মাত্র গর্ভপাত শুরু হবে
তোমাকে দেখা মাত্র জেগে উঠবে অসম্পূর্ণ…ভাঙচুর…
হেসে, বাঁ হাতে সরিয়ে দাও সব হা-হাস্যকর
শুধুই একটি আঙ্গুলে স্পর্শ করো মাটি ।
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
অসম্ভব অনুগত
নদী শোন, উপাখ্যান শোন, আমাদের সে-সব নারীরা
পাথরের মুখ নিয়ে আমাকে দেখেছে নেড়ে, অখাদ্যে অনীহা!
নদী শোন, উপাখ্যান শোন, আমাদের সে-সব নারীরা
গর্ভে ভ্রূণ নিয়ে, হয়তো-বা শূন্যগর্ভে কতবার করে গেছে রতিক্রীড়া
দ্যাখ, শেষ রাতে তোর জলে নামি, অর্ধেক মানুষ আমি অর্ধদেহ ঘোড়া
অর্ধেক শৈশব আমি চল্লিশ পেরিয়ে যায় প্রৌঢ় বিষন্নতা ।
নদী শোন, উপাখ্যান শোন, আমাদের সে-সব নারীরা
অশ্ব বা মানুষমেধে আমাকে ছুটিয়ে দেয়, তুই কি লুকিয়ে রাখবি না ?
অগ্রন্থিত কবিতা (১৯৬২-১৯৮৪)
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
মাকে
জয়পুর থেকে আমার চিঠি যায়
তুমি ডাকপিয়নের কাছ থেকে হাত বাড়িয়ে নিয়েছ সেই চিঠি
আমি ভাবতে পারি, তোমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসে
তুমি পড়তে পারো না, ছানি ফেটে বেরিয়ে আসতে চায় তোমার চোখ
তোমার যুবা বয়সের সেই চকচকে চোখের মণি
তুমি চিঠি পড়তে পারো না, মা আমার
তোমার সাদা ছানি ক্রমে রক্তিম…ক্রমে নীলাভ হয়ে যায়
সেই হিজিবিজি আঁকা একখণ্ড কাগজ হাতে নিয়ে তুমি বসে থাকো
তুমি বসে থাকো সারা দুপুর, দুপুর থেকে গড়িয়ে গড়িয়ে
সন্ধ্যাবেলার দিকে যাও
আমি দেখতে পাই, লাইটপোস্টের তলায় তুমি বসে আছ
ভিখিরির মতো তোমার পোশাক ভিখিরির মতো তোমার চুল
আধা-অন্ধ দু-চোখ তুলে তুমি তাকাও
মেয়েদের হল্লা গলির ভেতর থেকে ভেসে আসে, তুমি শুনতে পাও
শুনতে পাও মাতালদের হা হা হাসি, তুমি বসে থাকো
আমার হাত ধরে সেই ছেলেবেলায় যেখানটায় এসেছিলে
সেখানেই থেকে গেলে চিরটা দিন
আমি তো কত দেশ ঘুরে বেড়ালাম কত সরাইখানায়
আকন্ঠ মদ্যপানের পর আমার স্বপ্নহীন ঘুম
শেষ হয়ে গেল
এক সরাইখানা থেকে আরেক সরাইখানায় হেঁটে যাবার পথে
আমার সঙ্গে আলাপ হল বেশ্যাদের
ক্লান্ত ঘুম জড়ানো তাদের চোখ, চোখ কচলে হাই তুলে
শায়া ও ব্লাউজ পরা মেয়েরা বেরিয়ে এল আমার গলা শুনে
আমাকে ছুঁয়ে দেখল, ওদের ঊরুসন্ধিতে দুই বুকের মধ্যিখানে
মুখ ডুবিয়ে আমি আমার অজান্তে খুঁজে বেড়ালাম
খুঁজে বেড়ালাম ছেলেবেলা
মা আমার, চিঠি শুঁকে দ্যাখো তুমি—সেই গন্ধ
সেই পুরনো গন্ধ—যা তোমারই, তোমার গর্ভের
চোলাইয়ের গ্লাসে আমার সাদাটে ঠোঁট নড়ে ওঠে
চোখ ও চশমাসুদ্ধ আমার মুখের ছায়া
নাথুতা শালবাড়ির নেপালি মেয়েদের হো হো হাসির মধ্যে
আমার দাড়ি ধূসর হয়ে আসে আর আমার চুল
মা
আমাদের কোনো দুঃখ নেই আর, কোনো শোক
দুজনেই মরে পড়ে থাকব, দুজনেই
দুই দেশের দু-রকম রাস্তার পাশে
একইরকম ভাবে
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com
এই আমার শহর
১টি বেশ্যাপল্লী রয়েছে এই শহরে
আর আছে ১জন সাধু
১টি মাত্র সরকারী পেচ্ছাপখানার পাশে
আড্ডা জমায় ১দল গেঁজেল
ধ্বসে পড়া আর ভাঙ্গা ১টা সিনেমা হল্‌
আর আছেন ১জন ইণ্টেলেক্‌চুয়াল
পোস্টারে লেঙটি পরা মেয়েছেলে
ভাটিখানার সামনাসামনি থানা
আর তিনি সন্দেবেলা খুলে বসেন হাইডেগার
৪ তলা সেই আপিশ বাড়ি যার পাশেই
নেপালীদের বেআইনী চোলাই আর মাগীর ব্যবসা
১জন প্রাক্তন বিপ্লবী বাস করে এই শহরে
যে একবার ঢুকেছিল জেলে
আর ১জন চোর, ১টা পকেটমার, ১জন খুনে
যারা পরস্পরকে ঘেন্না করে একই কারণে
১টা বিশাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসে একজন বামন
জেলখানার ছাদ থেকে দেখা যায় বেশ্যাবাড়ির
রান্নাঘর
এখানকারও পাঁচিল টপকে পালিয়েছে ৩টি ছেলে
পুলিশের গুলিতে রাস্তায় ঘাড় গুঁজে পড়েছে
১টি কিশোর
যার গলা থেকে বেরিয়ে এসেছে পশুর মতন
বোধ্য আওয়াজ
ভাটিওয়ালার সঙ্গে দারোগার তক্ক শুরু হয়ে যায়
বিনে পয়সায় মদ খাওয়া নিয়ে
বেশ্যার সঙ্গে তার খদ্দেরের
কেরাণীবাবুর সঙ্গে রিক্সাওয়ালার
প্রৌঢ়া মায়ের সঙ্গে যুবতী মেয়ের
ভিখিরির সঙ্গে বিধাতার
কনস্টেবলের সঙ্গে ধোলাইওয়ালী নেপালী বুড়ির
দুধওয়ালার সঙ্গে বাসী মেয়েছেলের
কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে আবার ১সময় শেষ হয়
এই আমার শহর, আমি ঘুরে বেড়াই এই শহরে
আয়নার ভেতরে গজিয়ে ওঠা ১ পানের দোকান থেকে
হাত বাড়িয়ে কিনে আনি চার্মিনার
পোস্টার ছেড়ে নেমে আসে হিন্দী ছবির মেয়েমানুষ
তার যৌনাঙ্গ থেকে পেলাম কুচি কুচি কাগজের স্বাদ
দুপুরবেলা আমার পকেটে রুমাল থাকে না
থাকে না দেশলাই
আমার বাপের রুমাল ছিল না অথবা তার বাপের
অথচ আমার মায়ের রুমাল ছিল এবং তার মায়েরও
অর্থাৎ রুমাল-সভ্যতা এসেছে মেয়েদের কাছ থেকেই
দুপুরবেলা ভাটিখানার বেঞ্চে বসে আমার হাসি পায়
মাসিকের সময় গুঁজে দেবার জন্য যে ন্যাকড়া
কোন শতাব্দীতে তার কোলে ফুটে উঠল গোলাপের ফুল ?
১ পাগল এই শহরের চূড়ায় উড়িয়ে দিয়েছে তার লেঙ্গট
১ সিফিলিস রুগী পতাকা হাতে মিছিলের আগে
১ রোবট নিজেকে মনে করে আগামীকালের শাসক
১ মূর্খ ঘুমিয়ে থাকে শহর-শুদ্ধ জেগে ওঠার সময়
১ অধ্যাপিকার যৌনাঙ্গে গজিয়ে ওঠে অশিক্ষিত কালো ঘাস
আর ১ পাগল কবি দু’পা ফাঁক করে পেচ্ছাপ করে দ্যায়
শীতের ভোর রাত্রে— মধ্যবিত্তের স্বপ্নহীনতার ভেতর
আমাকে দেখে হো হো করে হেসে ওঠে বেশ্যাপাড়ার মেয়েরা
আমি দুপুরবেলা ঘুরে বেড়াই
১ বুড়ি আমাকে দিয়ে পড়িয়ে নেয় তার জারজ ছেলের চিঠি
১ প্রৌঢ়া আমাকে দিয়ে করিয়ে নেয় তার
১১ বছরের লাইনে না-নামা মেয়েকে
১ নেতা আমাকে দিয়ে আনিয়ে নেয় তার বাড়ির জন্য বাজার
এই শহর থেকে প্রতিদিন ১টা ট্রেন
আরও এক বড় শহরের দিকে ছেড়ে যায়
শহরময় ঘুরে বেড়ায় তার কালো ধোঁয়া
Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>