নয় দুর্গা দশ অস্ত্র

 

দুর্গাপুজা শুরু হয়ে গেছে,কিন্তু জানেন কি কোন কোন দিন দেবী দুর্গা কি কি রূপে পূজিত হচ্ছেন বা মা দুর্গার দশভুজা রুপে দশটি হাত থাকে। দশ হাতে থাকে দশটি অস্ত্র। কথিত আছে, এই সবকটি অস্ত্রের সাহায্যেই নাকি সমগ্র অসুরকূলকে নিধন করেছিলেন মা দুর্গা। শুধু তাই নয়, মায়ের দশ হাতের দশটি অস্ত্রই আলাদা আলাদা অর্থ বহন করে। কোন অস্ত্র কি অর্থ বহন করে? কেন এই অস্ত্রগুলি থাকে মায়ের হাতে? আসুন মা দুর্গার নয়টি রূপ ও দশটি অস্ত্র সম্পর্কে জেনে নিই- 


শঙ্খ: পুরাণ মতে, শঙ্খের থেকে যে শব্দের উৎপত্তি হয় তার থেকেই জীব জগতের সমস্ত প্রাণের সৃষ্টি। সৃষ্টির প্রতীক এই শঙ্খ।

চক্র: মা দুর্গার হাতে ঘোরে চক্র। এর অর্থ হল সমস্ত সৃষ্টির কেন্দ্রে রয়েছেন দেবী দুর্গা। এবং তাঁকে কেন্দ্র করে সমস্ত বিশ্ব আবর্তিত হচ্ছে।

পদ্ম: দেবীর হাতের পদ্ম সমাজকে অসাধারণ একটি বার্তা দেয়। পাঁকের মধ্যে জন্মায় পদ্ম। কিন্তু তবু সে কত সুন্দর। তেমনই মায়ের আশীর্বাদে যেন অসুরকূলও তাঁর ভিতরের অন্ধকার থেকে যে মুক্ত হয়, এই বার্তাই দেয় পদ্ম ফুল।

তলোয়ার: তলোয়ারের ধার যেন আসলে মানুষের বুদ্ধির ধার। এই ধার দিয়ে যেন সমাজের সমস্ত বৈষম্য এবং নেগিটিভিটিকে মানুষ জয় করতে পারে, সেই বার্তাই বহন করে দেবীর হাতের খোলা তলোয়ার।

তীর-ধনুক: শক্তির চিহ্ন এই তীর-ধনুক। তীর পোটেনশিয়াল এনার্জির চিহ্ন। আর ধনুক কাইনেটিক এনার্জির চিহ্ন।

ত্রিশূল: ত্রিশূলের তিনটি তীক্ষ্ণ ফলার তিনটি আলাদা আলাদা অর্থ রয়েছে। মানুষ তিনটি গুণ বা ত্রিগুণার সমন্বয়ে তৈরি। তম:, রজ: অর্থাৎ এবং সত্য। ত্রিশূলের তিনটি ফলা এই তিনটি গুণকেই নির্দেশ করে।

দণ্ড বা গদা: দণ্ড আনুগত্য, ভালবাসা এবং ভক্তির প্রতীক।

অশনি: মায়ের হাতের অশনি দৃঢ়তা এবং সংহতির প্রতীক। এই দু’টি গুণেই মানুষ জীবনে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হন।

সাপ: চেতনার নিম্ন স্তরে থেকে উচ্চ স্তরে প্রবেশ এবং বিশুদ্ধ চেতনার চিহ্ন এই সাপ।

অগ্নি: জ্ঞান এবং বিদ্যার প্রতীক এই অগ্নি।

এই ৯ দিন মা দুর্গার কোন কোন রূপের পুজো করা হয়।

প্রথম দিন
রূপ:- মাতা শেইলপুত্রি।
মা দূর্গার এই রূপ হল শক্তির রূপ। এই রূপে একসঙ্গে থাকে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বর, ত্রিদেবের শক্তি।

দ্বিতীয় দিন
রূপ:- ব্রহ্মচারিনী মাতা
মায়ের এই রূপ সংযমের। এই রূপে মা ভক্তের সংযমে সন্তুষ্ট হলে তাকে সুখ, সমৃদ্ধির আশীর্বাদ দেন।

তৃতীয় দিন
রূপ:- চন্দ্রঘন্টা মা
মায়ের এই রূপ শান্তি ও শক্তির। মা দূর্গার এই ভক্তকে সাহস যোগায়, কঠিন পরিস্থিতির সঙ্গে লড়বার শক্তি দেয়।

চতুর্থ দিন
রূপ:- মাতা কুশমান্দা
মনে করা হয় মা দূর্গার এই রূপই হল বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি কর্তা। কুশমান্দা রূপী মা দূর্গার হাসি থেকেই সৃষ্ট হয়েছে পৃথিবী। তাঁর হাসির ফোয়ারাতেই পৃথিবী হয়েছে শস্য শ্যামলা।

পঞ্চম দিন
রূপ:- স্কন্দ মাতা
মা দূর্গার এই রূপ ভগবান স্কন্দ অর্থাৎ কার্তিকের মায়ের। মা এই রূপেই শিশু কাল থেকে কার্তিকের সঙ্গে থেকেছেন।

ষষ্ঠ দিন
রূপ:- কাত্যায়নি মাতা
গল্পে শোনা যায় মা দূর্গার অবতার ছিলেন মহর্ষি কাতা। মহর্ষি কাতার থেকেই সৃষ্ট হয়েছেন কাত্যায়নি মাতা। মায়ের এই রূপে মাকে গেরুয়া বসনে দেখা যায়। গেরুয়া রং হল সাহসের প্রতীক।

সপ্তম দিন
রূপ:- কালরাত্রি মা
এই অবতারে মা দূর্গা ভয়ঙ্করী। রং তাঁর অন্ধকারের মতো কালো, এলোকাশি চুলে মা এই রূপে নির্ভয়া। ত্রিনয়নী কালরাত্রি মা ভক্তদের শয়তানের হাত থেকে রক্ষা করেন।

অষ্টম দিন
রূপ:- মহা গৌরি মাতা
এই রূপে মা দূর্গা ধীর-স্থির, শান্ত। মায়ের এই রূপের পূজা করলে দূর হয়ে যায় ভক্তের মনের সব পাপ। গল্পে প্রচলিত আছে, দীর্ঘদিন জঙ্গলে তপস্যা করার পর কালো হয়ে গিয়েছিল মা দূর্গার রং। মহাদেব গঙ্গাকে নিয়ে এসে সব নোংরা ধূয়ে ফেলে ফিরিয়ে আনেন মায়ের ফর্সা রূপ। ময়ের এই নতুন রূপেরই নাম গৌরি।

নবম দিন
রূপ:- সিদ্ধিদাত্রী মা
মায়ের এই রূপ হল শান্ত রূপ। চার হাতের সিদ্ধিদাত্রী মাকে পূজো করলে মায়ের আশীর্বাদে ভক্তদের পুণ্য লাভ হয়।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত