অসুখ

স্বামী রাতে পাশে শুয়ে একটু কাছে টানতেই সুনয়না বলে উঠলো— আহ্ বয়স হয়েছে ছাড়ো তো! সারাদিন ছেলে ঠেঙিয়ে, হেঁশেল ঠেলে তারপর আবার তোমার এই গুতোগুতি এমনিতেই আমার আধকপালে হয়ে রয়েছে তুমি জানো। উহ্ মাথাটা ধরে রয়েছে, আর তুমি জানো আমার মাথা ধরলে গা গুলোয়, গা গুললে বমি পায়, বমি করলে আর খেতে পারি না, খেতে না পারলে পেটে গ্যাস হয়, পেটে গ্যাস হলে বুকে ব্যথা হয়, বুকে ব্যথা মানেই হার্টে চাপ আর হার্টে চাপ মানেই হাত পা অবশ হয়ে আসা। উহ্ মাগো আমার হাত পা অবশ হয়ে আসছে প্লিজ আমার হাত পা একটু ম্যাসাজ করে দাও মরে গেলাম গো…

সুনয়নার স্বামী বিধান কী করবে ভেবে পাচ্ছে না। এই মুহূর্তে কী করা উচিত হাত ম্যাসাজ করবে না পা, নাকি মাথা। মাথায়  বাম  লাগায় তো পায়ে তেল পায়ে তেল তো হাত ঘষে গরম করা শেষে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে সুনয়নাকে বাড়ির লোকের হাতে ছেড়ে দিলো।

বাড়ির লোক হাসপাতাল নিয়ে গেলো, শ্বাসকষ্ট দেখে অক্সিজেন লাগিয়ে দিলো, হাত পা অবশ দেখে স্যালাইন ঝুলিয়ে দিলো। শেষে সব স্পেশালিস্ট এলো এক-এক করে হার্ট, লাংস, নিউরোলজিস্ট, গাইনোকলজিস্ট, কিডনি। কিছুতেই অসুখ ধরা পড়ে না, অসুখ সারে না। সব শেষ হোমিওপ্যাথি  আরও পরে জল পড়া ঠাকুরবাড়ি কিছুতেই অসুখ সারে না।

পাড়ার লোকে যদি একবার জিজ্ঞাসা করে— হ্যা গো আজ কেমন আছো? তো সেইদিন তার একঘন্টা লাগে সুনয়নার অসুখের ফিরিস্তি শুনতে।

একদিন আমি জিজ্ঞাসা করলাম— হ্যা গো সুনয়না আসল রোগ কী? শুরু করলো মাথা যন্ত্রনা থেকে শেষ হলো পায়ের নখের নখকুনি দিয়ে। সব শুনে বললাম— ভাই বিয়ের আগের প্রেমিকের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করো!

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত