| 23 এপ্রিল 2024
Categories
অনুবাদ অনুবাদিত গল্প এই দিনে

অসমিয়া অনুবাদ গল্প: বাবা একটা পুতুল কিনে দিবি । চন্দনা পাঠক

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
বাংলা রূপান্তর – নন্দিতা ভট্টাচার্য     

আজ ১৭ এপ্রিল অনুবাদক, কবি ও কথাসাহিত্যিক নন্দিতা ভট্টাচার্য’র শুভ জন্মতিথি। ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।



এক
বাবা, একটা পুতুল কিনে দিবি?  রাঙ্গানদীর পারে হাট বসেছে ইটখোলার পাশে। সোনা-দানা চুড়ি বালা মনি-মুক্তো কিছুই চাইনা আমি আমাকে একটা পুতুল দে, তিন টাকাতেই পাবি।
— মামনি আমার!  মৌজাদারের ঘরে  গতর খেটে ত্রিশ টাকা পেলাম। ডালের দাম পঞ্চাশ টাকা কিলো। রেশনের চাল আনলাম। নুন খার দিয়ে ভাত খাব আজ। পুতুলের সাথে পরে খেলতে পারবি।
 
দুই
— বাবা, একটা পুতুল কিনে দিবি ?  মৌজাদারের মেয়ের মতো নয় – মোটাসোটা ভালুকের ছানা। হরেক মাল থেকেই কিনে দিতে পারবি। দশ টাকাতেই পাবি।
— মামনি, মামনি! তোর  মায়ের চাদর দেখ ফেসে গেছে। তোর জামাটিরও সেলাই খুলে গেছে। মৌজাদারের গোলামি করে টাকা কটা পেলে পুতুল নয়,  জামার সঙ্গে চাদর কিনতে হবে।
 
তিন   
— বাবা, পুতুল কিনে দিবি?  বলেন কাই-র দোকানে পাবি—নীল চোখের সোনালী চুল।
— মা। মাগো! এখন তুই বড় হয়েছিস। পুতুলের বিয়ে কি করে দিবি?  বাঁশের খুঁটির ভাড়ার ভেঙ্গে মেখলা-চাদর একজোড়া কিনে দেব। লাল রঙের পাথর বসানো আংটি ও মৌজাদারের মেয়ের মতো নখরঞ্জনী – এটা ওটা!
 
চার
— ও বাবা,  একটি পুতুল কিনে দিবি?  মৌজাদারের মেয়ের মতো নখরঞ্জনী দরকার নেই — বাইরের বেড়ায় যে মেহেন্দির ঝাড় আছে সেই মেহেন্দি পাতা বেটে হাতে লাগাব  নাহয়  আমি।
— মা,  ও আইজনি!  দৈর্ঘে – প্রস্থ্যে তো মায়ের সমান হয়েছিস। পুতুল নিয়ে কি করে খেলবি?  দু’দিন দিন পর বিদায় করব। তারপর তো  অন্য বাড়িতে গিয়ে তো হাড়ি কড়া ওথলাবি ! 
 
পাঁচ
—  বাবা, ও বাবা!  একটি পুতুল কিনে দিবিনা?  আমার জন্যে নয় আমার মেয়ের জন্যে। বাচ্চাটা বড় জ্বালাতন করে। বাপকে বললেও ক্ষেপে  ওঠে। হাল – লাঙ্গল চালিয়ে যা জোটে তাতে দু’ মুঠো ভাত ই মুখে তুলতে পারিনা …। 

(চন্দনা পাঠক আসামের শূন্য দশকের বিখ্যাত লেখক )

 

 

 

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত