Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com, Assamese literature Dipak Kumar Barkakati 10

মহানগরের নয়জন নিবাসী (পর্ব-১৩) । ডঃ দীপক কুমার বরকাকতী

Reading Time: 10 minutes

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com, Assamese literature Dipak Kumar Barkakati 1মিজোরামের আইজল শহরের পদার্থ বিজ্ঞানের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডঃ দীপক কুমার বরকাকতী (১৯৪৮) অসমিয়া সাহিত্যের একজন সুপরিচিত এবং ব্যতিক্রমী ঔপন্যাসিক। আজ পর্যন্ত আটটি উপন্যাস এবং দুটি উপন্যাসিকা, অনেক ছোটগল্প এবং প্রবন্ধ রচনা করেছেন। তাছাড়া শিশুদের জন্য দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তারই ইংরেজি ভাষার একটি নতুন দিল্লির চিলড্রেন বুক ট্রাস্ট থেকে ১৯৯২ সনে প্রকাশিত হয়। দেশ-বিভাজন, প্রব্রজন, ভেরোণীয়া মাতৃত্ব (ভাড়াটে মাতৃত্ব), ধর্ম এবং সামাজিক বিবর্তন ইত্যাদি তাঁর উপন্যাসের মূল বিষয়। আলোচ্য ‘মহানগরের নয়জন নিবাসী’উপন্যাসে ১৯৩২ সনে স্টালিনের বিরুদ্ধে লেলিনগ্রাডের নয়জন টলস্টয়বাদী গান্ধিজির অহিংসা নীতির দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়ে করা আন্দোলনের ছবি ফুটে উঠেছে। তাঁর ইংরেজি ভাষায় অনূদিত গ্রন্থ দুটি হল From Valley to Valley (Sahitya Akademi, New Delhi, 2010) এবং The Highlanders (Blue Rose Publishers, New Delhi, 2010)। বাংলা ভাষায় অনূদিত গ্রন্থ ‘স্থানান্তর’ (অর্পিতা প্রকাশন, কলকাতা, ২০০৭)। বাসুদেব দাসের অনুবাদে ইরাবতীর পাঠকদের জন্য আজ থাকছে মহানগরের নয়জন নিবাসীর পর্ব-১৩।


দুদিনের মধ্যে ফিয়োডর এবং নাটালিয়া লেনা অঞ্চলের য়াকুরিম গ্রামে যাবার জন্য প্রস্তুত হল।

ফিয়োডর বলল–‘ আমাদের পূবের ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলওয়ে যেতে হবে। আর এই রেল চলে মস্কো থেকে। তাই আমাদের প্রথমে মস্কো যেতে হবে।

নাটালিয়া সায় দিল। সে বলল–‘ হ্যাঁআমাদের অধ্যাপক ক্রিয়োসকোভের সঙ্গে দেখা করতে হবে। কী করেছি এবং কী করব বলতে হবে। তাকে ছুটির কথাও বলতে হবে। আর–

নাটালিয়া বলল–‘ মায়ের সঙ্গেও দেখা করতে হবে।

‘ সঙ্গে‘–ফিয়োডর বলল–‘ আমাদের গরম কাপড় আরও নিতে হবে। মস্কোর চেয়েলেনিনগ্রাড ঠান্ডাকিন্তু লেনার পারের য়াকুরিম গ্রাম নিশ্চয় আরও বেশি ঠান্ডা হবে । পথেঘাটে বরফ জমা হওয়ার সম্ভাবনা যে নেই তা নয় । মনে রাখবে আমরা সাইবেরিয়ায় যাচ্ছি ।

মস্কোর পাঁচ ঘণ্টার রেল যাত্রা পথে ফিয়োডর ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথের শুরুর কথা বলতে চাইছিল। কিন্তু নাটালিয়া ১৮৯১ সন থেকে ১৯১৬ সনের মধ্যে মস্কো থেকে জাপান সাগরের বন্দর ব্লাডিভস্টক পর্যন্ত প্রায় সাড়ে নয়হাজার কিলোমিটাররেলপথ নির্মাণ করার কথা ইতিমধ্যে জানতে পেরেছিল । সে এটাও জানতে পেরেছিল যে রেলপথটা উরাল পর্বতমালার ওপর দিয়ে পার হয়ে দিগন্ত পর্যন্ত হয়ে ছড়িয়ে থাকা বিস্তীর্ণ তৃণভূমি স্টেপি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে আরও বিশুদ্ধ জলের বৃহৎ বৈকাল হ্রদের তীর ধরে এগিয়ে গেছে । তাই ফিয়োডর সেই সমস্ত কথা না বলে খোঁজখবর করে সংগ্রহ করা ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ যাত্রার বিভিন্ন পথগুলির কথা একটা কাগজ দেখে দেখে বলতে লাগল।

সে বলল–‘ এর যাত্রাপথ প্রধানত চারটি । প্রথমটি প্রত্যেকের জানা পুরোনো রুট। এই পথে রয়েছে মস্কো থেকে ভল্গার পারের য়ারশ্লাভলউরাল পর্বত মালার একটেরিনবার্গবৈকাল হ্রদের দক্ষিণ পারের ইরকুৎস্ক এবং তারপরে আমুর নদীর পাশের খাবারভস্ক পার হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরের বন্দর ব্লাডিভস্টক ।

দ্বিতীয়টি হল‘– সে বলল–‘ ট্রান্স মঞ্চুরিয়ান পথ। এই পথটি বৈকাল থেকে কয়েকশো মাইল পরে পাওয়া টারস্কায়াপর্যন্ত প্রথমটির মতো এক। তারপরে দক্ষিণপূর্ব দিকে পাশ কেটে চীন দেশে প্রবেশ করে বেইজিং পর্যন্ত গিয়েছে।

ফিয়োডর বলে গেল –‘ তৃতীয়টিহল ট্রান্স মঙ্গোলিয়ান পথ। এই পথটিও বৈকাল হ্রদের পূব পারে বৌদ্ধধর্মের বুরিয়াৎসংস্কৃতির প্রাধান্য থাকা উলানউড  পর্যন্ত প্রথম ট্রান্স সাইবেরিয়ান পথের সঙ্গে একই। সেখান থেকে এই পথটি দক্ষিনে যাত্রা করে মঙ্গোলিয়ার উলানবাটর হয়ে বেইজিং পর্যন্ত গিয়েছে।

‘ আর চতুর্থটা হল‘– সে বলল–১৯৮৪ সনে মুক্ত করে দেওয়া বৈকাল হ্রদ পাওয়ার কয়েকশো মাইল পশ্চিমে থেকে উত্তরে পাশ কেটে যাওয়া ‘ বাম‘ নামের রেলপথটি।‘ বামই হল‘ বৈকাল– আমুর– মেইনলাইন। এরই বৈকালের উত্তরপার এবং দিগন্ত পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকা তৃণহীন তুন্দ্রা অঞ্চল পার হয়েউত্তরপূর্বে নেমে খাবারভস্ক এবং শেষে ব্লাডিভস্টক পর্যন্ত যেতে পারি।

ফিয়োডর বলল–‘ আমরা যাব লেনা অঞ্চলে। তাই ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ থেকে উত্তরে পাশ কেটে শেষের বৈকালআমুর মেইন লাইন দিয়ে আমাদের যেতে হবে।

মস্কো যাওয়ার পথে ফিয়োডর নাটালিয়াকেট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথের আরও খবর দিল। এই পথ দিয়ে মস্কো থেকে ওপাশে পশ্চিম পর্যন্ত যোগাযোগ রয়েছে। সেখান থেকে বার্লিন এবং প্যারিস পর্যন্ত যাওয়া যায়। বুডাপেস্ট পর্যন্ত যাওয়া যায়। সঙ্গে লেনিনগ্রাড হয়ে হেলসিংকি পর্যন্ত যাওয়া যায়। এই রেলপথ এতটাই দীর্ঘ যে পৃথিবীর পরিধির একতৃতীয়াংশ দূরত্ব এর মধ্যে ঢুকে আছে।

মস্কো স্টেশনে নেমে ফিয়োডর লেনা অঞ্চলের উষ্টকুটের দুটো টিকিট চাইল। সাত দিন পরের টিকিট পাওয়া গেল। ফিয়োডরবলল – নাটালিয়া ,তোমাকে জিজ্ঞেস না করেই আমি টিকিট করলাম । তুমি যাবে বলে ধরে নিয়েছি।

নাটালিয়া সায় দিয়েবলল– আমি তো যাবই। খালি মাকে একবার বলতে হবে।

সেই রাতেই নাটালিয়া মায়ের কাছ থেকে অনুমতি নিল। মা লিডিয়া পাভলভনা নাটালিয়াকে বলল–‘ নাটালিয়াফিয়োডর কেসটাতে জড়ানোর কারণ আছে– কারণ তার দাদুর নাম তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু তুই কেন সঙ্গে অনুসন্ধান করছিস?’

নাটালিয়া বলল–‘ মাআমিতো টলস্টয়ের বিষয়ে অধ্যয়ন করছিলাম। তার মধ্যে পেলাম টলস্টয় বাদের কথা। টলস্টয় যে সেই নয় জন টলস্টয় বাদীকেই নয়তোমার মতো মাসি নিনাঠাকুরমা নাডিয়াঠাকুরমা মারিয়া এবং মারিনার মতো মানুষকেও প্রভাবিত করে গেছে সে কথা জানতাম না। নতুন করে জানলাম। এই কেসটিতে ফিয়োডরের সঙ্গে মিলে বিভিন্ন জায়গা দেখার সঙ্গে সেই সব ইতিহাস পুনরায় জানার সুবিধা পেলাম। লেনিনগ্রাড দেখলাম এবং জানলাম। জায়গা গুলির সঙ্গে আমি মানুষগুলিকে ভালোবাসতে শিখলাম। এখন হয়তো আমি যদি ঠাকুরমা নাডিয়া পপভনার সঙ্গে দেখা করে আসিকেসটির শেষ পর্যায়টুকুও জানবই সঙ্গে গবেষণার বিষয়েও হয়তো ঠিক করতে পারব। তাই

নাটালিয়া কথাটা শেষ করল না। কিন্তু মা লিডিয়া পাভলভনা তার মনের কথা বুঝতে পেরে বলল–‘ বুঝেছি তুই যাবিই।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মা বলল–‘ তথাপি বলতো –– তোরা বৈকেলের দিকে যাবি নাকি?’

নাটালিয়া এবার যেন মায়ের মনের কথা বুঝতে পারল। বৈকাল হ্রদের তীরে ক্ষেত্র অধ্যয়ন করতে গিয়েই পিতা দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছিল।

সে মায়ের পাশে এসে হাতটা ধরে বলল–‘ মাকেন জিজ্ঞেস করলেবাবার কথা মনে পড়ছে?’

লিডিয়া পাভলভনা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল–‘ নাহে নাটালিয়াশীতকালে হ্রদটারজল জমাট বেঁধে বরফ হয়ে যায় ওপর দিয়ে মানুষ গাড়ি চালাতেও পারে। তুইও যদি পারিস সেটা দেখবি।

নাটালিয়া বলল–‘ আমরা বৈকাল পাওয়ার আগেই উত্তরের‘ বাম রেলপথ দিয়ে যাব। তাছাড়া এখন অক্টোবরের শেষ। পুরোপুরি শীত পড়তে এখনও বাকি।

‘ তথাপি‘– কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে মা পুনরায়বলল– সাইবেরিয়ায় যাওয়ার কথা– বুট জোতা এবং ফারের কোট নিতে ভুলে যাস না।

সমস্ত ব্যবস্থা হওয়ার পরেও নাটালিয়ার অবচেতন মনে ঢুকে থাকা প্রশ্নটা জাগ্রত হল–‘ ঠাকুরমা বেঁচে আছে তো

সে চিন্তান্বিত হয়ে পড়ল।

পরের দিন যখন নাটালিয়া মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্রিয়োসকভের সঙ্গে দেখা করল তিনি কথাগুলি জেনে নাটালিয়াকে যাবার জন্য উৎসাহিত করলেন। সেই সময় ফিয়োডর এসে উপস্থিত হল এবং অধ্যাপকের সঙ্গে কথাগুলি আলোচনা করতে লাগল। অধ্যাপক তাদের বলল– মনে রাখবেপ্রত্যেকদিনের জার্নাল বিস্তৃতভাবে টীকা নিয়ে রাখবে ।

কয়েকদিন পরে উষ্টকুটের উদ্দেশ্যে নাটালিয়া ফিয়োডরের সঙ্গে যখন ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলে ওঠল তখন সে মনে মনে উত্তেজিত হয়ে পড়েছিল। ট্রেনটা প্রথমে ধীরে ধীরে চলে উঁকি মেরে তীব্র ছন্দোবদ্ধ গতি নিতেই নাটালিয়ার মনে হল ফিয়োডর যেন উৎসাহিত হয়ে উঠেছে । দুই স্তরের শোবার ব্যবস্থা থাকা ওদের কামরার অংশের অন্য যাত্রীদের কথা না ভেবে সাধারণত যাত্রাপথে চিন্তা করে এবং মনে মনে বই পড়ে যাওয়া ফিয়োডরও নাটালিয়াকে নানান কথা বলতে লাগল।

সে বলল–‘ আমরা মস্কোর পরেই প্রধান স্টেশন হিসেবে য়ারশ্লাভল পাব। এই মহানগরটি ১০১০ সনে কিয়েভানরাসের জ্ঞানী রাজায়ারশ্লাভ তৈরি করেছিলেন। তারপর থেকে বয়ন শিল্প উদ্যোগ এবং ভল্গার বন্দর হিসেবে ব্যবসায়িক কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল । এখানকার ধনী সওদাগররা কলা শিল্পের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তাই তারা শত শত গির্জাতৈরি করে মহানগরটিকে চোখে পড়ার মতো করে তুলেছিল ।

কাজান পার হয়ে পাওয়া রেলে প্রথম প্রধান স্টেশনটি ছিল একটেরিনবার্গ। মহানগরটি আঠারো শতিকায় মহান ক‍্যাথেরিন দুর্গ হিসেবে স্থাপন করেছিলেন। এর স্থান উরাল পর্বতমালা এবং সাইবেরিয়ায় থাকা বিভিন্ন খনির পাশে হওয়ার ফলে এই অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন ধাতুরকারখানা গড়ে উঠেছিল।

নিজস্ব গতিশীল ছন্দোবদ্ধ শব্দ করে রেলগাড়িটা যেতে থাকল। উরাল পর্বতমালা পার হল। পাওয়া গেল সেলিয়াবিনস্ক। সেখান থেকেই সাইবেরিয়া অঞ্চল আরম্ভ হয়েছে। পশ্চিম সাইবেরিয়ার এই নিম্ন অঞ্চল ইনিছি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত । উত্তরে রয়েছে অ‘ নদীর পাশের জলাঅঞ্চল ।


আরো পড়ুন: মহানগরের নয়জন নিবাসী (পর্ব-১২) । ডঃ দীপক কুমার বরকাকতী


রেলের ভোজনালয়ের জানালা দিয়ে বাইরের দিকে তাকাতে তাকাতে ফিয়োডর বলল–‘ আমাদের যাত্রাপথ বহু দীর্ঘ। উষ্টকুট স্টেশন পেতে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ব্লাডিভস্টক পেতে সেখান থেকেও হয়তো আরও তিন দিন বেশি সময় লাগবে।

সে বলল–‘ উড়াল পার হয়েইনিস নদী পাওয়ার আগে আমরা স্টেপি অঞ্চল পাব। কিন্তু যখনই আমরা ইনিসের পারে অবস্থিত সাইবেরিয়ার সবচেয়ে পুরোনো শহর ক্রাসনয়ার্স্ক অতিক্রম করবতখনই আমরা সুবিস্তৃত চিরহরিৎ টাইগা অঞ্চলে প্রবেশ করব।

কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে ফিয়োডর বলল–‘ ইনিসি নদী থেকে লেনা নদীর মাঝখানটুকুই মধ্যম সাইবেরিয়ার মালভূমি এবং লেনার ওপার থেকে প্রশান্ত মহাসাগর পর্যন্ত পূর্ব সাইবেরিয়ার ভূমন্ডল।

সে পুনরায় বলল–‘ আমরা প্রধান ট্রান্স সাইবেরিয়ান রেলপথ দিয়ে বৈকাল হ্রদের তীরের ইরকুটস্ক নগরের দিকে যাব।

ইরকুটস্ক?’– নাটালিয়া উচ্ছ্বাসের সঙ্গে সজোরে বলল–‘ আমার সেখানে জন্ম হয়েছিল। শৈশবে মাবাবার সঙ্গে তার পুরোনো ভাস্কর্যদেখার জন্য যাওয়া আমার এখনো মনে আছে । আর সঙ্গে আছে বৈকাল হ্রদের তীরে বুরিয়াৎ যুবতির দল।

কথা বলতে নাটালিয়ার রঙ্গিন মনের আভাস পাওয়া গেল ।

সত্যি ?’– ফিয়োডর বলল – কিন্তু আমরা হ্রদটা এবং শহর পাওয়ার বহু আগেইপাশ কেটেউত্তর দিকে চলে যাব । সেদিকেই আঙ্গারস্কি পর্বতের শিখর এবং আঙ্গারা নদীর পাশে রয়েছে ব্রাটক্স নগর। সেখান থেকেই উষ্টকুটে যেতে পারব।

বুঝেছ নাটালিয়া ‘– সে বলল – ব্রাটক্স একটি ছোট শহর ছিল । কিন্তু আঙ্গারা নদীতে তৈরিবিশাল বাঁধের জন্য শহরটি ধীরে ধীরে মহানগর সদৃশ বিশাল হয়ে পড়েছে ।

ফিয়োডর অনর্গল কথা বলে যাচ্ছিল । কিন্তু নাটালিয়া ধীরে ধীরে অন্যমনস্ক হয়ে পড়ছিল।

তার পিতা নিকোলাই ডেভিডভিসের কথা মনে পড়ছিল কেননা পিতা আঙ্গারায় বাঁধতৈরির সময় এখানে চাকরি করত এবং কিছু একটা কাজে বৈকাল হ্রদের দিকে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল । মৃত্যুর স্মৃতি নাটালিয়ার মনেঠাকুমার বিষয়েও সংশয়জাগিয়ে তুলল। সে বহু সময় চিন্তা করে অন্যমনস্ক হয়ে রইল। হঠাৎ তার মুখ দিয়ে তার সংশয় বেরিয়ে এল‘ কিন্তু ঠাকুরমাঠাকুর মা বেঁচে আছে তো?’

ফিয়োডর কিছু বলল না। চুপ করে রইল। তারমনেও সেই একই প্রশ্ন দেখা দিল। সে নিস্তব্ধ হয়ে রেলগাড়ির ছন্দোবদ্ধ গতিতে দুলে দুলে যেতে লাগল।

উষ্টকুটের লেনা স্টেশন অতিক্রম করতে নাটালিয়া দের প্রায় পাঁচদিন সময় লাগল। উত্তর দিকে পাশ কেটে পথ দিয়ে ব্রাটক্স পার হয়ে আসার সময় রেলপথেজমা হওয়া বরফের পাতলা আস্তরণ শোঁ শোঁ করে কেটে যাবার শব্দ ওরা শুনতে পাচ্ছিল। প্রকৃতপক্ষে ইঞ্জিনের সামনের ভাগ থেকে বরফ গুলি গুড়ো হয়ে রেল পথের দুপাশে ছিটকে পড়ছিল।

শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রেলের কামরা থেকে নেমে উত্তর মেরুর তুন্দ্রা অঞ্চল থেকে বয়ে আসা বাতাসের স্পর্শ ওদের মুখে লাগল। সূর্য মাথার ওপরেতথাপি জায়গাটার বাতাবরণ শীতল। ওদের ঘড়িতে সকাল আটটা বেজেছে। প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা টিকিট পরীক্ষক ওদের প্রশ্নসূচক দৃষ্টি দেখে হেসে বলল–‘ আমাদের এখানকার সময় মস্কোর চেয়ে পাঁচ ঘণ্টা এগিয়ে। স্থানীয় সময় অনুসারে এখন দিনের একটা বাজে। ব্লাডি ভস্টকে এখনকার সময়ে আবার বিকেল চারটা বেজেছে ।

পরীক্ষকটি বললেন–‘ অনুগ্রহ করে আপনাদের ঘড়ি এগিয়ে নিন।

রেল স্টেশনের মুখোমুখি অনতিদূরে ছিল উষ্টকুট হোটেল । হোটেলটির কথা ফিয়োডর আগেই জানতে পেরেছিল । ওরা হোটেল পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গেল । ওদের চোখে পড়ল দূরের পাহাড়েরএক দিকে ঢালু নিচু অংশের এখানে সেখানে জমা হয়ে থাকা সাদা বরফের স্তর ।

হোটেলের লাউঞ্জের এক কোণেথাকা উনুনে টুকরো কাঠের আগুন জ্বলছিল ।ফিয়োডর উষ্ণ ঘরটিতে বসে থাকা রিসেপসনিস্টের কাছে গিয়ে নামঠিকানা লিখে জিজ্ঞেস করল – আমরা এখানকার  য়াকুরিম গ্ৰামে একজন মানুষের খোঁজে এসেছি । গ্রামটা কত দূরে ?’

রিসেপশনিস্ট একটু দূরে বসে থাকা বয়স্ক ম্যানেজারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলে বলল–‘ য়াকুরিম গ্রাম হয়তো বারো কিলোমিটার দূরে হবে।

‘ সেখানে যাবার কোনো ব্যবস্থা করে দিতে পারা যাবে কি?’– নাটালিয়া জিজ্ঞেস করল।

ম্যানেজারটি ওদের কাছে চলে এল। তিনি বললেন–‘ আমাদের এখানে খুব তাড়াতাড়ি সন্ধ্যা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার সময় অন্ধকার হয়ে আসে। এখন আপনাদের হাতে প্রায় চার ঘন্টা। বেরোতে এবং মোটরগাড়ি ঠিক করে সেখানে পৌঁছাতে দুই ঘন্টার বেশি লাগবে । ঠান্ডা ও বেশ পড়বে । আপনারা পৌঁছাতেপৌঁছাতে বাইরে কাজ করে থাকা গ্রামের মানুষরা ধীরে ধীরে ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়বে। তাই মানুষের ঘর খুঁজে বের করতে অসুবিধা হবে। আগামীকাল সকাল নটা দশটায় যাওয়াই ভালো হবে নাকি?’

ফিয়োডর সায় দিল । তার মনে পুনরায় ঠাকুমার বিষয়ে সংশয় জেগে উঠল। সে কিন্তু নাটালিয়াকে সে কথা বলল না।

হোটেলে মানুষ ছিল খুবই কম। সন্ধ্যাবেলা ওরা যখন রাতের খাবার খেতে এল তখন ওরা ছাড়া বাইরের অন্য দুই একজন মানুষ ভোজনালয়টি তেছিল‌।ফিয়োডররাখেয়ে উঠে লাউঞ্জের উষ্ণচিমনিটারকাছে বসার সময় তারা নিজের নিজের রুমে ফিরে গেল। একটু দূরে ছিল রিসেপশনিস্ট কাউন্টারের ওপারে দুজন মানুষ।

বয়স্ক ম্যানেজার ওদের কাছে এসে বলল–‘ মিস্টার ফিয়োডর । আমি খবর করেছি য়াকুরিম গ্রামটি এখানকার বহু পুরোনো আবাসিক এলাকা। আমার বলা কথাটা ঠিক– অর্থাৎ তার দূরত্ব বারোকিলোমিটার।

ফিয়োডর তাকে বসার জন্য পাশের চেয়ারটা দেখিয়ে দেওয়া সত্ত্বেও তিনি না বসে দাঁড়িয়ে থেকেইবললেন–‘ কিন্তু রেলপথ নির্মাণ করার সময় গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ সেখান থেকে উঠে চলে যায়।

ফিয়োডর জিজ্ঞেস করল–‘ আপনি এই অঞ্চলের নাকি?’

‘ হ্যাঁ ,আমি এখানকারই । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে রেলপথ নির্মাণ করার সময় আমার বয়স ছিল দশ বছর।

ফিয়োডর এবার দাঁড়িয়েমানুষটার সঙ্গে করমর্দন করে পাশের চেয়ারটায় বসার জন্যএক প্রকার জোর করল।

মানুষটা সঙ্কোচেরসঙ্গে বসতে বসতে বলল–‘ আমার নাম বরিস।

‘ বরিসবেশ ভালো কথা । এটা তো ভ্লাডিমিরেরমতো সম্পূর্ণ রাশিয়ান নাম ।ফিয়োডর বলল – আমার মতোবাইজেন্টাইন গ্রিক নাম নয় ।

ম্যানেজার বরিস হেসে বললেন – হ্যাঁআমরা অতি পুরোনো মানুষ।‘ 

নাটালিয়া মানুষটার দিকে আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়েজিজ্ঞেস করল–‘ আচ্ছা মিস্টার বরিসএই জায়গাটা কত পুরোনো?’

বরিস নামের ম্যানেজারটি তার দিকে তাকিয়ে বলল –‘ জায়গাটা তো পুরোনোইতবে আবাসিক এলাকার শুরু প্রায় তিনশো বছর আগের। এই উষ্টকুট ত্থেকে কুনের মালৈ পর্যন্ত থাকা লেনা নদীর দুইপারের টাইগা অঞ্চল পর্যন্ত ইনিসি নদীর পারের কসাক সম্প্রদায়ের ভেসিলি বুগর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে প্রথম এসেছিল । তাঁরা শীতকালে তুষারে ঢাকা ঝুপড়ি গুলি ছেড়ে পুনরায় নিজেদের জায়গায় চলে গিয়েছিল । তারা মুক্ত করা পথ অনুসরণ করে এই পান্ডব বর্জিত জায়গায় ধীরে ধীরে কিছু চাষবাস করা মানুষের প্রব্রজন হল। লেনার আশেপাশে গ্রাম স্থাপিত হল। অর গ্রামগুলি পথস্রষ্টা মানুষগুলির নামেনামে হতে লাগল।

বরিস নামে ম্যানেজার বলল–য়াকুরিম গ্রামের কথা যে আপনারা বললেনসেদিকে এবং নিম্ন অঞ্চল পর্যন্ত চল্লিশ বছর আগে পর্যন্ত এখনকারবরফহীন আবহাওয়ায় দুই পারের উঁচু উঁচু পাহাড়ের নিচে বয়ে থাকালেনা নদীর বুকে উত্তর থেকে আসা সারি সারি ব্যাপারী নৌকা দেখা গিয়েছিল । আনুমানিক পঞ্চাশ সনে আমার শৈশব কালে নদীতীরে অস্থায়ী আস্তানা গুলিতে ব্যাপারি দের কোলাহলশুনতে পাওয়া যেত। এক মাসের ব্যবসার শেষে তারা সকালের দিকের ফেরির ভেঁপু বাজলেই ফিরে যাবার জন্য একটা কাঠের ঘরের উঠোনে দলবেঁধে জমা হত। তারা উত্তরের তীব্র শীতকালটা পার করার জন্য ইতিমধ্যে পরিবারের জন্য খাদ্য সম্ভার বোঝাই করে নিয়েছিল। ফেরিতে উঠে জায়গা পেয়ে গেলেই তারা গরম কাপড়ের উপরে শিয়ালের ছাল দিয়ে তৈরি টুপির সঙ্গে লোমশ পা পর্যন্ত লম্বা জামা পরে নিত। ফেরি চলতে শুরু করলেই তারা নদীর পাশে থাকা কাঠের একটি বিশেষ ঘরের দিকে তাকাতে তাকাতে যেত । ঘরের চালে গাছের ডালপালার মতো দীর্ঘ একটা এরিয়েল দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। সেখান থেকে ওয়ারলেস অপারেটরভেতরের ঘন জঙ্গলে রেলপথ নির্মাণ করতে থাকা কোম্পানির ফিল্ডম্যান এবং ভূতত্ত্ববিদের সঙ্গে ক্ষণে ক্ষণে কথা হত। সেই মানুষগুলি রেলপথ কোনদিকে যাবে এবং নদীর কোথায় কোথায় সেতু তৈরি করতে হবে সেই বিষয়ে ভেতরের অঞ্চলগুলিতে ক্ষেত্র অধ্যয়ন করছিল । 

‘ সেই সময়ে‘– মানুষটা বলল ‘ এই আমরা থাকা জায়গা গুলির পাহাড়ের শিখরটা দূর থেকে একটি উইয়ের ঢিবির মতো মনে হত। বুলডোজারে কেটেকুটে ঢিবিটা সমান করে যেন লাল লাল মাটি গুলি ছত্রভঙ্গ করে ফেলেছিল। শেষে এতটুকু পর্যন্ত যখন রেলপথ হলততদিনে মালগাড়িতে যাবতীয় জিনিসগুলি আনতে পারার মতো অবস্থা হল। তারপরে সেইসব এখান থেকে নিয়ে ফেরিএবং নৌকা বোঝাই করে লেনার জলপথ দিয়ে ভিটিম এবং আকুটিয়ারের পাশে গড়ে ওঠা রেল কোম্পানিরশ্রমিক ক্যাম্পগুলোতে নিয়ে যাওয়া হল। এই‘ বাম‘ রেলপথ সাতটা পর্বতমালা পার হয়ে নির্মাণ করা হল। সঙ্গে অসংখ্য সেতু দিয়ে পার হল লেনাভিটিমআমুরজেয়া,বুরেয়া ইত্যাদি নদীগুলি । এখন –

বরিস নামে ম্যানেজার বলল – পাঁচ বছরই হলসেই তখন থেকে পঞ্চাশবছর ধরে নির্মাণ করে থাকা রেলপথটা সম্পূর্ণ হল। এখন ব্লাডিভস্টক পর্যন্ত দৈনিক ট্রেন চালানো সম্ভব হয়েছে । ফেরার পথ মস্কো পর্যন্ত।

নাটালিয়াজিজ্ঞেস করল – মস্কো যাওয়ার আজকের ট্রেনটা চলে গেল নাকি?’

‘ যায় নি।‘ – ম্যানেজার বলল–‘ সেটা আসবে রাত এগারোটায়। সেটা যাবার পরেই আমরা কাউন্টার বন্ধ করব।

ম্যানেজার বরিস চিমনির আগুনটাকে একটু খুঁচিয়ে দিল । সে ফিয়োডরের অনুমতি নেওয়ার জন্য জিজ্ঞেস করল – একটু পানীয়ের ব্যবস্থা করব বলে ভাবছি । কী খাব ,ভাহছ না মর্স ?’

একটু জলের সঙ্গে বেরির রস মিশিয়ে তৈরি করা পানীয়হল মর্স । অন্য ধরনের তৈরি করার প্রক্রিয়া জটিল এবং নেশা বেশি ।

ফিয়োডর নাটালিয়ারদিকে তাকাল । সে নিশ্চয়ই মর্স খাওয়া পছন্দ করবে। সে বরিসকে বলল –‘ মর্স।

পানীয়ের জোগাড় হওয়া পর্যন্ত ওরা লেনা অঞ্চলের কথা বলতে লাগল। উষ্টকুট থেকে টায়ুরা পার হয়ে খরস্রোতা নিয়া নদী পাওয়া যায়। তারপরে নিয়া স্টেশন মলসান সাইডিং ,নোওল সাইডিং এবং নিয়া সেডেল । দুপাশের চিরহরিৎ অরণ্যই দুপাশের কাঠের উদ্যোগগুলি লুকিয়ে রাখে।

মিস্টার বরিসবলল– উত্তরের এই অঞ্চলটা অন্বেষণকারীদের কাছে ভূস্বর্গ। এখানেই রয়েছে লেনারগোল্ডমাইন সঙ্গে মাইকার কুয়েরিগুলি। আর রয়েছে খনিজ তেল এবং গ্যাসের উৎস। উত্তরে রয়েছে আবাসিক অঞ্চল। সেই আবাসীরাবিশেষ করে শিকারি ,জেলে বা চাষি। তারা রেইনডিয়ার প্রতিপালন করে । বরফের ঘন আস্তরণে কুয়ো খুঁড়েমাছ ধরে। আর কোথাও বরফহীন এক টুকরো মাটি পেলেই চাষ করে।তারও উত্তরে  – মেরু অঞ্চলে থাকে এক্সিমোরা ।

ফিয়োডর জিজ্ঞেস করল – মিস্টার বরিস এদিকে উত্তরে নাকি কাজাচিনস্কয় নামের একটি অঞ্চল আছে তার বসতি নাকি ছয় হাজারের মতোতাই নয় কি ? ‘

বরিস নামে মধ্যবয়সী মানুষটা বেশ উৎসাহিত হল। হাতে থাকা পানীয়ের গ্লাসটিতে চুমুক দিয়ে তিনি বলে উঠলেন–‘ আপনারা গবেষক। সেই জায়গাটিও গবেষকেরবিশেষ করে ভাষাবিদদের গবেষণার বড় প্রিয় জায়গা। আপনি বলা অনুসারে সেখানেআসে কম জনসংখ্যার লোকেরাঅতীত থেকে সংরক্ষিত করে রাখা পুরোনো রুশ ভাষার দোয়ানের বিষয়ে অধ্যয়ন করার জন্য ।

নাটালিয়া বেশ আগ্রহী হয়ে পড়ল। সে জিজ্ঞেস করল– মিস্টার বরিস কীভাবে এই দোয়ান সংরক্ষিত হয়ে আছে?’

বরিস নামের মানুষটি বলল–‘ সাইবেরিয়ার কিছু মানুষ অতীতের। ইনিসি পারের কসাকদের কথা বলেছিলাম।তাছাড়া প্রথম পিটার – মানে মহান পিটার করা ধর্ম সংস্কারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কিছু মানুষ সেই তখনকার দিনেই এখানে উঠে এসেছিল । তাঁরা গির্জার সংস্কার এবং সাজ পোশাক দাড়ির আধুনিকতানা মেনেসেই তখনকার ধর্মবিশ্বাসকে গোঁয়ারের মতো আঁকড়ে রইল। তাঁরা নিজেদের অন্যের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখেসঙ্গে বাইরের কাউকে নিজের মাঝখানে না ঢুকিয়ে অতীতের পরম্পরাগত ভাষা সাজ পোশাক এবং প্রথাগুলিকে নিয়ে বসবাস করতে লাগল।

সে পুনরায় বলল–১৯ শতিকায়কিছু মানুষ ইউক্রেন বেলারুশ এবং পশ্চিম রাশিয়া থেকেও সাইবেরিয়ায় এসেছিল। তাঁরা এসেছিল দরিদ্রতার জন্য এবং আরও বড় সড়জমি দখল করে সুখে শান্তিতে থাকার জন্য।

আর‘– ম্যানেজার বলে গেল–‘ শীত এবং স্টালিনের কুশাসনের জন্যও সাইবেরিয়া হয়ে পড়েছিল রাজনৈতিক কয়েদিদের বনবাসের জায়গা। এখানে থাকাঅনেক লোক তাঁদের বংশধর।

চিমনির নিচের উনুনের আগুন ধিকিধিকি জ্বলতে শুরু করেছিল। গ্লাসের শেষ পানীয়টুকু চুমুক দিয়ে শেষ করে ম্যানেজার বরিস আগুনটা খুঁচিয়ে দিল। তারপর ফিয়োডরের দিকে তাকিয়ে বলল–‘ আগামীকাল সকাল নটার সময় সকালের আহার করে আপনারা তৈরি থাকবেন। সাড়ে নটার সময় য়াকুরিম গ্রামে যেতে পারার মতো ব্যবস্থা আমি করে দেব।

সে ঘড়ির দিকে তাকাল। দশটা বেজে গেছে।

সে বলল–‘ এগারোটার সময় ব্লাডিভস্টক থেকে মস্কো অভিমুখী ট্রেনটা আমাদের স্টেশনে এসে পৌঁছাবে। আমি একটু স্টেশনে যাই। কোনো যাত্রী নামলে এখানে রাতটা কাটানোর জন্য নিয়ে আসব।

বাইরে প্রচন্ড শীত পড়েছিল। পথের পাশের বিজলি বাতিগুলি একটু অস্পষ্টহয়ে পড়েছিল। তার নিচে দিয়ে জনশূন্য পথ দিয়ে ফারের পাপর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকা গরম জামা পরে ম্যানেজারএকটা ছায়ার মতো স্টেশনে বেরিয়ে গেলেন।

 

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>