assamese-poetry-by-jyotineelima-gogoi

অনুবাদ কবিতা: জ‍্যোতিনীলিমা গগৈ’র অসমিয়া কবিতা । বাসুদেব দাস

Reading Time: 2 minutes

১৯৮০ সনে লক্ষ্মীমপুর জেলার ঢকুয়াখনায় কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক এবং প্রাবন্ধিক জ্যোতিনীলিমার জন্ম হয়। ইংরেজি সাহিত্যের ছাত্রী জ্যোতিনীলিমার কবিতা ইংরেজি, বাংলা, হিন্দি এবং রাজস্থানী ভাষায় অনূদিত হয়ে পাঠকের প্রশংসা লাভে সমর্থ হয়েছে। প্রকাশিত গ্রন্থ ‘আবেলির সরাপাতর সুর’ (উপন্যাস), ‘পানীর মেঘর এটা ছাইরঙী চরাই তুমি’ (কাব্যগ্রন্থ), ‘ক’রবাত বেলির গোন্ধ’ (কাব্যগ্রন্থ) ইত্যাদি। বিভিন্ন পুরস্কারে কবি সম্মানিত হয়েছেন।


 
  তাঁরা অপরাজেয় শেওলায় ঢাকা একটা পথ দিয়ে তাঁরা পা টিপে টিপে আসছিল বুকে সামলে নিয়ে শূন্য আকাশের রং তাঁরা রক্ত আর চোখের জলে এঁকেছিল জীবনের ছবি অনন্য অন্বেষণ তাঁরা যুদ্ধ করেছিল যেভাবে তুফানের সঙ্গে যুদ্ধ করে বাবুই পাখির বাসা বন্যার সঙ্গে যুদ্ধ করে নদীতীরের মানুষ তাঁরা নিজের সঙ্গে নিজে দাঁড়িয়ে ছিল কথা বলছিল নিজের আত্মার সঙ্গে কাঁদছিল, অভিযোগ করছিল অন্ধকারে হাতড়ে বেড়াচ্ছিল নিভে যাওয়া প্রদীপটি তাদের জন্য এক মুঠো রং ছড়িয়ে দেবার অবকাশ ছিল না কারও স্বর্গসুখ এবং বিলাস–বৈভবের বাজারে ছিন্নমূল মানুষ অন্যেরা যে পথে যায় সে পথে না যাওয়া একমুঠো মানুষ শেওলায় ঢাকা পথটা চিনেছিল জঙ্গল কেটে তাঁরা খুঁজেছিল মৃত্যুঞ্জয় উৎস আর একদিন… রক্ত আর চোখের জলের ছবি আঁকা নিঃস্বদের উপহার দিল জীবনের সোনালি শস্য তাঁরা হয়ে রইল অপরাজেয়…।  
      বিচ্ছিন্নতা জীর্ণ গাছের পাতাগুলি খসে পড়ার মতো কখনও খসে পড়ি নিজের মধ্যে শামুকের মতো ঢুকে থাকি বহুদিন আপন খোলসে পাহাড়িয়া প্রগলভা নদীর মতো বেড়ে চলি কখনও তল দেখার মতো শুকিয়ে যাই হঠাৎ কখনও বা উল্কার মতো খসে পড়ি নিজের স্থিতি থেকে বিবেকের আদালতে অপরাধী সাজাই নিজেকে অনেক অনেক প্রশ্নবাণে হই ক্ষতবিক্ষত মাঝেমধ্যে আত্মঘাতী মানুষের মৃত্যুচেতনার ভার বয়ে বেড়াই হৃদয়ে উন্মাদ হত্যাকারীর মতো ছুরি বসিয়ে ছিন্নভিন্ন করব যেন নিজের বুক বিশ্বাস শূন্যতার সাগরে ভেসে বেড়াই তোমার জন্য দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মরতে চাই একটু একটু করে বেঁচে উঠি হৃদয়টা ফেলে রেখে স্মৃতির দূরান্তের বনে বিষন্ন ভাবের সাঁকোতে ঝুলে থাকে আন্দোলিত ব্যর্থ শোক।  

আরো পড়ুন:  প্রেম গগৈ’র অসমিয়া কবিতা । বাসুদেব দাস


  মুক্তি সেই পথে তুমি চলে গেলে হে কালো নক্ষত্র খুলে রেখে হাজারটা বন্ধ দুয়ার জানালার চৌকাঠে লিখে গেলে মুক্তির গান বিন্দু থেকে সিন্ধু হয়ে উঠলে সামগ্রিক জীবন জ্বললে এবং জ্বললে হে কালো নক্ষত্র তুফানের সঙ্গে বাজি রেখে নির্ভীক মন্ত্র দর্পণের মতো তুমি মুখ রাখলে শব্দে, কবিতায়, গানে, মানুষের বুকের ঘরে… তুমি দেখেছিলে বর্ণবৈষম্যের হিংস্র হাত রুদ্ধ কারাগারের লোহার জানালায় ছিটিয়ে দিলে রক্ত রাঙ্গা গোলাপ রক্ত আর ঘামে জীবন সিক্ত করে মেলে দিলে ইচ্ছার তেজস্বী ঘোড়া ইতিহাস সত্যি না মানুষ সত্যি এখনও প্যালেস্টাইন, সিরিয়ায় বর্ণবাদের ধোঁয়া মায়ানমার যেন গণতন্ত্রের কাঠগড়া দেশে দেশে তোমার রক্ত হে কালো নক্ষত্র জোহান্সবার্গ কেবল বিশ্রামের ঠিকানা মুক্তির আলো উৎস আদিগন্ত ছড়ানো… জিন্দাবাদ ম্যান্ডেলা।  
  খেলা কী আশ্চর্য ভৃত‍্য বলে ধরে নাও আমাকে পাহাড়টির ওপারে কবর খোঁড়ার জন্য পাঠালে আমি রোপণ করে এলাম একগুচ্ছ ফুল চাঁদটিকে জাল পেতে ধরতে বললে সারারাত তাকিয়ে দেখলাম নক্ষত্রখচিত পথে তার লুকোচুরি ফাগুনের পাগলা বাতাস আসার আগেই দরজা বন্ধ করে রাখলে জানালা দিয়েই পেতে দিলাম ঝরাপাতার গালিচা পুরোনো দেওয়াল ঘষে শেওলাগুলি ফেলে দিলে তুলে এনে তোমাকেই পেতে দিলাম শেওলার শয্যা… ভাবতে থাকি আসলে কে কার সঙ্গে খেললাম এই অমঙ্গলের খেলা…।  
জানালা একা বসে জানালার ফ্রেমে আঁকতে পারি স্বপ্নের এতটুকু পৃথিবী একা জানালা দিয়ে নিতে পারি বাতাসে ভেসে আসা বন‍্য ফুলের সুবাস জানালার কাছে নিরলে নির্জনে পরিবর্তিত করতে পারি সুখ– দুঃখ হাতড়ে দেখতে পারি স্মৃতির বিচিত্র নক্সা যদি জানালার ওপারে থাকে কল্পনার সামিয়ানা…।        

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>