সামনে অস্ট্রেলিয়া ভীত নয় আফগানিস্তান

২০১৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার ৪১৭ রানের জবাবে এই দলটি করেছিল ১৪২ রান। ম্যাচ টি হেরেছিল ২৭৫ রানে। তারপর ডার্লিং নদী দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে।
অস্ট্রেলিয়া শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকলেও অঘটনের আশায় মজে আছে আফগানরা। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আজ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের এ ম্যাচ দিয়েই ক্রিকেটের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের পুনরায় প্রমাণ করতে চাইবেন স্টিভ স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার।
বল বিকৃতি কাণ্ডের জেরে এক বছর নির্বাসনে থাকার পর কিছু দিন আগেই মূল ক্রিকেটে ফিরে এসেছে এই দুই উল্লেখযোগ্য ব্যাটসম্যান। সম্প্রতি আইপিএলে সব থেকে বেশি রান করেছেন ওয়ার্নার। ওয়ার্ম আপ ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শতরান করেছেন স্মিথ। এ বার বিশ্বকাপে মূল ধারার ক্রিকেটে তাঁদের প্রত্যাবর্তন কেমন হয় তা দেখার জন্য উন্মুখ হয়ে রয়েছে ফ্যানেরা।

গত বছর খুবই খারাপ গেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার। তবে এ্যারন ফিঞ্চের নেতৃত্বাধীন দলটি সঠিক সময়েই ফর্মে ফিরেছে এবং ৫০ ওভারের এ টুর্নামেন্টে অন্যতম ফেবারিট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
গত মার্চে ভারত সফরে প্রথমে পিছিয়ে পড়েও পাঁচ ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে জয়ী হওয়া দলটি স্মিথ ও ওয়ার্নারকে স্বাগত জানিয়েছে। যদিও ইনজুরির কারণে আগামীকালের ম্যাচে ডেভিড ওয়ার্নারের খেলা এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ওয়ার্নার খেলতে না পারলেও অবশ্য যোগ্য বিকল্প প্রস্তুতই আছে অস্ট্রেলিয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে দুরন্ত ফর্মে আছেন আরেক ওপেনার উসমান খাজা।
প্যাট কামিন্স এবং মিচেল স্টার্কের নেতৃত্বাধীন জেসন বেহরেনডর্ফ, নাথান কালটার নাইল ও কেন রিচার্ডসনকে নিয়ে একটি শক্তিশালী পেস আক্রমন বিভাগও অস্ট্রেলিয়া দলে রয়েছে।
দুই স্পিনার এডাম জাম্পা ও নাথান লিঁয়র বোলিং আক্রমনে আছে ভিন্নতা। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিযার বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচেই তার প্রমান রেখেছেন স্পিনাররা।

কেবলমাত্র দ্বিতীয়বার ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ খেলতে নামা আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্রিস্টলে অপ্রতিরোধ্য ফেবারিট হিসেবে শুরু করবে পাঁচ বারের চ্যাম্পিয়ন অসিরা।
ক্রিকেটের কুলিন অঙ্গনে হারানোর কিছু নেই উন্নিতির শিখরে থাকা আফগানিস্তানের।আফগানিস্তান দলের বিশ্বকাপ অভিষেক ঘটে ২০১৫ আসরে। লীগ পর্বে ‘এ’ গ্রুপে ষষ্ঠ অবস্থানে থেকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয় দলটি। টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটিতে জয়ী হয়ে মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়েই ছিটকে পড়ে আফগানরা। তাদের একমাত্র জয়টি এসেছে তৃতীয়বার বিশ্বকাপ খেলা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এশিয়ার দলটির জয়ের হার ১৬.৬৬ শতাংশ।
টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই মাস আগে অধিনায়কত্বে পরিবর্তন এনেছে দুর্বল আফগানিস্তান। অভিজ্ঞ আসগর আফগানকে সরিয়ে তার জায়গায় কম পরিচিত গুলবাদিন নাইবকে ওয়ানডে অধিনায়ক করা হয়েছে। দলের অনেক সিনিয়র সদস্যই যা ভাল চোখে দেখেননি। তবে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখন তাদের মধ্যে কোন ভেদাভেদ নেই।
দলের আশা আকাংখার প্রতীক হয়ে উঠবেন এক দিনের ক্রিকেটে আইসিসি বোলিং র‍্যংকিংয়ের তৃতীয় ও টি-২০ র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা তারকা স্পিনার রশিদ খান। তাঁর স্পিন সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিশ্বের তাবড়-তাবড় ব্যাটসম্যানরা। অস্ট্রেলিয়ার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল পর্যন্ত বলে দিয়েছেন, রশিদকে সামলানো বেশ কঠিন।
ভিন্ন ধর্মী বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের বোকা বানানোর সক্ষমতা আছে নবীদের।
তবে বিশ্বকাপে ফলাফল যাই হোক না কেন, যুদ্ববিধস্ত আফগানিস্তান তাদের ক্রিকেটারদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে প্রস্তুত।

 

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত