কলংকিত ১৫ই আগস্ট ও আমাদের অন্ধকার দিনগুলো

মানব সভ্যতার ইতিহাসে জয় পরাজয়, ক্ষমতার লিপ্সা, রাজনীতির কুটিল ষড়যন্ত্র, নিষ্ঠুর হত্যাকান্ড, ছিল আছে এবং সম্ভবত আমরা চাই বা না চাই থাকবে। এ যেন মানুষের ক্রম বিকাশের ইতিহাসে সভ্যতার আবরনে ঢাকা অসভ্যতা আর নিষ্ঠুর বর্বরতার ইতিহাস।

১৯৭৫ এর ১৫ই আগস্ট দিনের প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের বুকে ঘটে যায় এক ভয়ংকর হত্যাকান্ড। সেদিন সকালে যখন আমাদের ঘুম ভেঙেছিল কেমন ছিল সেই সকাল! যতদূর জেনেছি সেদিন সূর্য ওঠেনি বাংলার আকাশে। থম থমে আকাশ মেঘে ঢেকে ছিল। কিছুক্ষণ বৃষ্টিও আকাশের কান্না হয়ে ঝরেছিল। সেদিন আকাশ বাতাস আলো হাওয়া জল সবাই স্তব্ধ হয়ে ছিল। ফুলেরা ফোটেনি। পাখীরা গায়নি কোন গান। কল্লোল তোলেনি নদী। আগষ্টের শেষ রাত গুলোর গুমোট গরম ভাঙিয়ে ভোরের বাতাস বয়নি মৃদুমন্দ। সেই বিভীষিকাময় দিনের কথা যাদের মনে আছে তারা আজো আমারই মত অসুস্থ বোধ করেন।

তখন স্কুল শেষ করেছি মাত্র। পরীক্ষার রেজাল্টের অপেক্ষায় আছি। ছুটির আনন্দে, কবিতা লেখার মিছে আয়োজনে কাটে রাত। সেদিনও ঘুমিয়েছিলাম দেরীতে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি কিছু একটা খুব বড় রকমের কোথাও ঘটে গেছে। সবকিছু স্তব্ধ আজ আমাদের খুলনার বাড়িতে।

অবাক হয়ে দেখছি আমাদের পড়ার ঘরের জানালার গ্রীলে মাথা ঠেকিয়ে বাবা ফুঁপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন। এ কি অবিশ্বাস্য ব্যপার! এর চেয়ে বিস্ময় তো আর কিছু নেই! বাবা কাঁদছেন! এদিক ওদিক চেয়ে মায়ের কাছে জিজ্ঞেস করব বলে ওঘরে ছুটে গিয়ে দেখি মা মাথা নুইয়ে কোরান শরীফ পড়ছেন আর টপ টপ করে চোখের জলে কোরানের পাতা ভিজে যাচ্ছে।

কি হয়েছে! আজকের সকালটা এমন কেন! কে মারা গেছে! আমাদের নানী আমাদের সাথেই আছেন। নানা মারা গেছেন মায়ের খুব ছোট বেলায় আর দাদা দাদীও আমার জন্মের পরপরই চলে গেছেন।  তাহলে! মা প্রতিদিন ভোরে সবার আগে উঠে অজু করে নামাজ পড়া হলে সুর করে কোরান শরিফ পড়েন বটে আর সেই সুরে সুরে আমাদের বাড়ির গেটে মাধবীলতাদের ঘুম ভাঙে। কিন্তু আজ এই কোরান পড়া অন্যরকম। যেনো আমাদের মা,বাবা আজ সর্বহারা হয়ে গেছেন।

বাবার সামনে টেবিলের উপরে রেডিও। সেই রেডিও যাতে আর শুনতে না হয়, মা সক্কাল্বেলায় বন্ধ করে দিয়ে গেছেন। এখন বাবা তা আবার অল্প আওয়াজে চালিয়ে রেখেছেন। সেখানে শুনি বঙ্গবন্ধু আর নেই। কারা যেন সপরিবারে তাঁকে মেরে ফেলেছে। বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, শিশু পুত্র রাসেলকেও ওরা ছাড় দেয়নি। হত্যা করেছে বঙ্গবন্ধুর নব বিবাহিত দুই পুত্র শেখ কামাল তাঁর স্ত্রী সুলতানা কামাল খুকি, শেখ জামাল ও তার স্ত্রী রোজীকেও। রেহাই পায়নি আত্মীয় স্বজন, কাজের লোক সহ ও বাড়ীর প্রায় কেউই! এ কি সর্বনাশ! কারা! কেন! কিভাবে! কি হয়েছিল! হাজারো প্রশ্ন!

বঙ্গবন্ধু নেইইই! হাউমাউ করে কাঁদছি আমরা তিন ভাইবোন। দাদা (আমার বড় ভাই) তো আমার আগেই এই খবর পেয়ে গেছে। সে মরিয়া হয়ে পার্টি অফিসে যেতে চাইছে আর অস্থির পায়চারী করছে ঘরের ভিতর। বাবা তাকে মানা করে দিয়েছে এখন পার্টি অফিসে যেতে। শহরে কারফিউ। আজ বাঙালী জাতির ইতিহাসে কলংকের কালিতে ডুবে যাওয়া একটি দিন। আজ আমাদের বড় শোকের দিন। আজ বাংলাদেশ কালো আঁধারে ছেয়ে গেল।

আমাদেরকে কেউ বলে দেয়নি তিনি জাতীর পিতা কিনা। আমাদেরকে কেউ বলে বলে বিশ্বাস করায়নি তিনি সাড়ে সাত কোটি মানুষকে একটি স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন কিনা। তিনি কেমন করে বাঙালী জাতির জীবনে এত বড় একজন হয়ে উঠেছেন কারো বলতে হয়নি। কারন আমরা সেই প্রজন্ম যারা একরকম তারই ছায়াতে জন্মেছি বেড়ে উঠেছি, বড় হতে হতে জেনেছি তাঁকে। জেনেছি তিনি বাঙালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান। তার জীবনের স্তরে স্তরে সংগ্রাম, প্রতিবাদ, মিছিল, মিটিং, জেল, জুলুম, নির্যাতন। যারা বেড়ে উঠতে উঠতে শুনেছি তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণ, যারা আমরা দেখেছি তাঁর হিমালয়ের মত মাথা উঁচু করা দৃপ্ত প্রত্যয়। শুনেছি তাঁর স্বাধীনতার ডাক,আর সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা, তারা আপনিই জানি তিনি মানুষের নেতা। তিনি বাংলা ও বাঙালীর নেতা ও স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

সেই ১৯৬৮, ৬৯ এ আওয়ামীলীগের অন্যতম সদস্য তৎকালীন ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ দিয়েছিলেন তাঁকে এই নাম। বঙ্গবন্ধু। তিনি প্রকৃতই এই নাম অর্জন করেছিলেন তাঁর জনপ্রিয়তা আর নেতৃত্ব দিয়ে। তিনি বাংলার বন্ধু , বাংলার জনগনের বন্ধু। বাঙালীর মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব।

এক নিষ্ঠুর নির্মম বিশ্বাস ঘাতক সেনা অভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে কোটি কোটি বাঙালির সেই প্রান প্রিয় মানুষটিকে ওরা হত্যা করল! জীবনের নানা সংগ্রামে প্রতিবাদ প্রতিরোধে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত তাকে হত্যা করবার সাহস কেউ দেখাতে পারেনি এমনকি ১৯৭১ সালে দেশে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন। সেসময় পাকিস্তানী সামরিকজান্তারা যা করতে পারেনি সেই কাজটিই অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে করেছে স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর পাকিস্তান পন্থী সদস্যরা। হত্যা করল খুব সামান্য সুবিধা, সামান্য রাজনীতি আর ক্ষমতার জন্যে।

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের নব গঠিত সেনাবাহিনীর সাথে পাকিস্তান প্রত্যাগত অমুক্তিযোদ্ধা অংশের বিরোধ, অসন্তোষ, ভয়ংকর ষড়যন্ত্র সেই সাথে আওয়ামীলীগের বিশ্বাসঘাতক সদস্যদের নিকৃষ্ট ক্ষমতার লালসার ফল এই ভয়ংকর হত্যাকান্ড। কিন্তু ওরা জানল না পলাশীর প্রান্তরে যে স্বাধীনতার সূর্য ডুবেছিল তাকে ফিরে পেতে কেটেছে দুই’শ বছর। আর ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট বাংলার যে সূর্য ডুবে গেল তাকে ফেরাতে কেটে গেছে দীর্ঘ সময় ও অগনিত জীবন। কি চরম মূল্য দিয়েছে এ জাতী তার খতিয়ান আছে জমা।

১৫ আগষ্টের ঘটনা নানা ভাবে বিশ্লেষনের দাবী রাখে। এই ষড়যন্ত্র মোটেই একদিনের নয়, সামান্য নয়। জানা যায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ফারুক, রশীদ, বজলুল হুদা, মহিউদ্দিন, ও ডালিমের সাথে এরশাদ আর জিয়াও যুক্ত ছিল। যুক্ত ছিল দেশী বিদেশী অনেক মহল। জিয়াউর রহমান ও হোসেন মোহাম্মাদ এরশাদ বঙ্গবন্ধু হত্যার সুবিধা ভোগ করেছে একশত ভাগ। নিজেরা ক্ষমতায় বসেছে। খুনীদেরকে বিচার না করে পুরস্কার হিসেবে দেশ থেকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে আবার সময়ে সময়ে বারে বারে তাদের পূনর্বাসিতও করেছে বাংলাদেশ সরকারের বৈদেশীক দূতাবাস গুলিতে।

রক্ত যেমন রকতের পথেই গড়িয়ে যায়, তেমনি বিশ্বাসঘাতক জিয়াকেও দিতে হয়েছে রক্ত। জিয়া হত্যার সাথে বিশ্বাসঘাতক এরশাদও জড়িত ছিল বলে ধারনা করা হয়। একই সাথে সেনা বাহিনী থেকে মুক্তিযোদ্ধা নিধনেও জিয়া এবং এরশাদ দুজনেই ছিল সিদ্ধহস্ত। সেনা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে একের পর এক অভ্যুত্থান করে, যেমন ওরা হত্যা করেছে জেলখানার অভ্যন্তরে জাতীয় চার নেতা স্বাধীন বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, প্রেসিডেন্ট সৈয়দ নজরুল, ক্যাপ্টেন এম মন্সুর আলী ও এ এইচ কাম্রুজ্জামানকে এবং ধাপে ধাপে অগনিত মুক্তিযোদ্ধাকে। তেমনি ওরা অবৈধ মোশতাক সরকার থেকে একে একে নানাভাবে অবৈধতাকে সাথে নিয়ে স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠিত করেছে। বাঙালী জাতীর জীবনে মোশতাক থেকে জিয়া, জিয়া থেকে এরশাদ এক ভয়াবহ সময়।

আবারো বলি ১৫ ই আগস্ট এক কালো, কলঙ্কময় দিন। সেদিন যদি সাহস করে জীবন বাজী রেখে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারতেন তৎকালীন সেনা প্রধান জেনারেল শফিউল্লা, তবে হয়ত সে ইতিহাস হত ভিন্ন। সে ইতিহাস হত জয়ের। জেনারেল শাফায়াত জামিল, জেনারেল খালেদ মোশাররফ সবাইকে সাথে নিয়ে অনায়াসেই তা করা যেত। কিন্তু ওনার ভীরুতা, অদক্ষতা অনাগ্রহ ও অসহায়ত্ব বড় ক্ষমাহীন। বঙ্গবন্ধু ওনাকে ডেকেছিলেন সেই সময়ে। মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে সাহায্য চেয়েছিলেন। যদি রুখে দাঁড়ানো যেত তাহলে পরবর্তিতে একে একে দেশ ও জাতির উপরে দীর্ঘ অবৈধ সামরিক শাসনের জোয়াল চেপে বসত না। মুলত ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত সামান্য কিছু সময় বাদ দিলে পুরো সময়টাই ছিল সামরিক স্বৈরশাসনের।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পরে গোটা দেশ জাতির জীবনে বদলে গেল মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, স্বাধীনতার অর্থ। বাঙালীদেরকে ভুলিয়ে দেয়া হল স্বাধীনতার ইতিহাস। দিকে দিকে বন্ধ হয়ে গেল জয়বাংলা স্লোগান। এক অদ্ভুত আঁধারে ঢেকে গেল বাংলার মানুষ। আমাদের সেই অন্ধকার দিনগুলোতে যখন আমরা বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে পারিনি। প্রানের প্রিয় স্লোগান জয়বাংলা বলতে পারিনি, স্কুল, কলেজ, অফিস, আদালত সকল জায়গা থেকে মুছে ফেলা হল শেখ মুজিবের নাম।  রেডিও, টি ভি সহ সকল মিডিয়া থেকে, নাটক থেকে, সিনেমা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম ছবি ইতিহাস নষ্ট করে দেয়া হল। লেখা ভুল ও মিথ্যা ইতিহাস। নাটকে, গন সঙ্গীতে থিয়েটারে কিম্বা বাংলাদেশ টেলিভিশনে, ভুলেও বলতে পারিনি রাজাকারদের নাম। এমনকি রাজাকার শব্দটিও। বাংলাদেশ টেলিভিশনের লোক নন্দিত একটি নাটকের নাটয়কার হুমায়ুন আহমেদ সেই কালা কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন মানব চরিত্রের মুখে নয় পাখীর মুখ দিয়ে বলিয়ে দিয়েছিলেন “তুই রাজাকার।”

জিয়া এবং এরশাদ এরা  দুজনেই অস্ত্রের মুখে হত্যাকান্ডের ভিতর দিয়ে ক্ষমতা দখল করেছে। গণতন্ত্রকে করেছে অবরুদ্ধ। রাজাকার, আলবদর, যুদ্ধাপরাধী ও বঙ্গবন্ধুর খুনীদেরকে করেছে পূনর্বসিত। এদের কেউ কেউ আবার মন্ত্রী ও সাংসদ হয়েছে। লাখো শহীদের পরিবার, লাখো নির্যাতিত নারী চেয়ে চেয়ে দেখেছে সেসব।প্রতিবাদ করতে দেয়া হয়নি। বাংলার মানুষ প্রত্যাশায় থেকেছে তবু, ভেবেছে একদিন আবার নূরলদিন আসিবে বাংলায়।

দীর্ঘ দীর্ঘ সংগ্রামের পরে ১৯৯৬ সালে জনগনের উদার অকৃপন ভোটে, ক্ষমতায় আসেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। তিনি ক্ষমতায় আসবার পর বিচার শুরু হয় বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের যারা বঙ্গবন্ধু কে সপরিবারে হত্যা করার উপহার হিসেবে দীর্ঘ দিন জিয়া ও এরশাদের কাছ থেকে পুরস্কৃত হয়েছে। ২০১০ এর ২৭ শে জানুয়ারী, যেসব খুনীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হয়। তারা হলেন সৈয়দ ফারুক রহমান, সুলতান শাহারিয়ার রশীদ খান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ এবং মহিউদ্দিন আহমেদ। এখনো দেশের বাইরে যারা রয়ে গেছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে বলে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে ডিসমিসড কর্নেল খন্দকার আব্দুর রশীদ। লেফটেন্যান্ট কর্নেল শারিফুল হক ডালিম। মেজর অব নূর চৌধূরী, মেজর অব রাশেদ চৌধূরী, ক্যাপ্টেন আব্দুল মাজেদ এবং রিসালদার মোসলেহউদ্দিন খান। ২০০১ সালে খুনী আজিজ পাশার মৃত্যু হয় জিম্বাবুয়েতে।.

ওরা কেউ কোনদিন ভাবেনি ওদের বিচার হবে। কারন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পরে খুনীদেরকে বাঁচাতে প্রথমে  খন্দকার মোশতাক তৈরি তৈরি করে ইমডেমনিটি অর্ডিন্যান্স।  পরে জিয়াউর রহমান সেটিকে ইনডেমনিটি এক্ট হিসেবে সংসদে পাশ করিয়ে নেয়।

“The Indemnity Act of  was formulated to give immunity from legal action to the persons involved in the assassination of president Sheikh Mujibur Rahman.The assassination took place on August 15, 1975. As the parliament of Bangladesh, the Jatio Shongshod was not in session, the law was promulgated on September 26, 1975, in the form of an ordinance by President Khondokar Mushtaq Ahmed. It was titled Indemnity Ordinance 1975, being Ordinance No. 50 of 1975. It was made a formal statute by Major General Ziaur Rahman and later approved by the Jatio shongshod by the fifth amendment to the constitution brought about on July 9, 1979, the Indeminity Act became enshrined in the Constitution of Bangladesh”

তিরিশ লক্ষ মানুষের রক্তে স্নাত এই দেশ। বাংলাদেশ। দেশটির জন্মই হয়েছে তাঁর জন্যে। তিনি এসেছিলেন এদেশের মানুষের মুক্তির দূত হয়ে। তিনি ছাড়া এই জাতী পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত হতে পারত না কোনদিন। সাড়ে সাত কোটি আজ বিশ কোটি্তে এসে দাঁড়িয়েছে। সেই সব মানুষের প্রানের অধিক প্রিয় তিনি। তাঁর নামে আজো হাসি মুখে জীবন দিতে পারে এদেশের মানুষ।

১৯৭১ থেকে বীরের জাতি বলে বাঙালীর যে গৌরব ছিল ১৯৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট সে গৌরব ধূলায় লুটানোর দিন। জয় বাংলার বড় পরাজয়ের দিন। আমার পরিবারের মত বাংলার অতি সাধারন লাখো পরিবার সেদিন যেমন স্তব্ধ হয়েছিল মর্মঘাতী বেদনায়, লজ্জায়, অপমানে। আজো তারা কাঁদে আর তাঁর নামে ঘরে ঘরে জ্বালে মঙ্গল প্রদীপ। বাজায় শঙ্খ ধ্বনি! পিতার অশ্রুতে ভাসে জানালার গ্রীল, মায়ের কন্ঠে বাজে সুরা ইয়াসিনের সুমধুর সুর আর তাঁর চোখের জলে ভেঁজে কোরানের পাতা।

তবু জানি বাংলার মানুষ উঠবে জেগে আবার। আবার নূরলদিন একদিন আসিবে বাংলায়, আবার একদিন কাল পূর্ণিমায় দিবে ডাক–’ জাগো বাহে—-কুনঠে সবাই।।

 

রেফারেন্সঃ

১ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, রক্তাক্ত মধ্য আগস্ট ও ষড়যন্ত্রময় নভেম্বর।- কর্নেল শাফায়াত জামিল,(অব)

২। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন স্বাধীনতা ও আজকের বাংলাদেশ।- গোলাম আকবর চৌধূরী।

৩। প্রিজন ডায়েরীস- শেখ মুজিবুর রহমান 

৪। গুগল ডট কম

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত