| 18 জুলাই 2024
Categories
দুই বাংলার গল্প সংখ্যা

শুরু

আনুমানিক পঠনকাল: 6 মিনিট

                                                                    

Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.comসেই বিকেলটা কেমন যেন আগুন আগুন ছিল। যে রাস্তাটায় উদ্দেশ্যহীনভাবে হাঁটছিলাম তার ধার ঘেঁসে দাঁড়ানো সারি সারি জারুল গাছের পাতা চুইয়ে শেষ বিকেলের কমলা রোদ আমাকে ঘাম-জবজবে করে তুলছিল। বাতাসও ছিল না একরত্তি। আমি তবু হাঁটছিলাম আর হাঁটছিলাম। এমন নয়, রাস্তায় রিকশা গাড়ি ছিল না। আবার এমনও নয় যে সেগুলোতে চড়ার মত টাকার বড়-ছোট নোট বা খুচরোর কমতি ছিল। শুধু মাথার মধ্যে এত এত ওলটপালট ভাবনার অবিন্যাস্ত আসা যাওয়া চলছিল, এত অন্যমনস্কতা এত অবুঝ আবেগ, এত ‘কি এসে যায়’ পাগলামির দাপট  আষ্টেপিষ্টে জাপটে ধরেছিল যে, আমি আমার মধ্যেই একটা মস্ত গোলক ধাঁধায় আটকে গিয়েছিলাম।

খুব কি অযৌক্তিক এই মনের অবস্থা, যখন দশ বছরের কাজের জায়গায় একটা অর্থহীন ভাষায় লেখা ইস্তফা পত্র ছুঁড়ে চলে আসতে হয়? যখন বাবা মায়ের ভালবাসার জায়গায় কেবল প্রয়োজন আর স্বার্থের ঝলকানি দেখতে হয়? যখন দীর্ঘদিনের প্রেমিক অবলীলায় আরেকজনের হাত ধরে গুছিয়ে নেয় নিজের সংসার? অথবা, খুব কাছের বন্ধুটি বেছে নেয় আত্মহননের পথ। তখন নিজেকে একা ক্ষতবিক্ষত আর বিবস্ত্র ভেবে আনমনা, দুঃখিত হওয়া কি স্বাভাবিক নয়? এই সময়টুকুতে কারো সহমর্মিতা কি একেবারেই ডিজার্ভ করি না আমি? নাকি এতকিছুর পরও অপমান আর কটুকথাই আমার প্রাপ্য!

সহকারী সম্পাদক হিসেবে যে নামী পত্রিকাটিতে আমি কাজ করি… ওহ! আসলে করতাম! সেখানে তো নানা রকম মানুষ ছিল। হাতের পাঁচ আঙ্গুল সমান হয় না তা আমিও জানি। কিন্তু তাই বলে দিনের পর দিন বেতন বঞ্চনা, অসম আচরণ, কুটনামী আর সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট মুখ বুজে মেনে নেব এত নমনীয় মেরুদণ্ড আমার নয়। শুধু আমার প্রতি নয়, আরও অনেক মানুষের সাথে কর্তৃপক্ষের এই আচরণ দিন দিন অসহ্য ঠেকছিল। চিৎকার করে করে গলা মুখে ফেনা তুলতে তো আমি আসিনি। আমি এখানে চুপচাপ নিজের কাজটা করতে এসেছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি হ’লো? ওই নতুন রিপোর্টার মেয়েটাকে দিয়ে আজিম ভাই নোংরা পলিটিক্সটাই খেললেন।

সকালে অফিসে এসে ডেস্কে বসতে না বসতেই সম্পাদক সাহেব ডেকে বললেন, “আফরিন, আপনি কি অসুস্থ্য নাকি?’’

আমি আকাশ থেকে পরে বললাম, ‘না কবির ভাই, কেন?’

-‘তাহলে কাল আপনাকে খুঁজলাম, পরশু খুঁজলাম, সবাই তো বলল, অফিসে আসেন নাই’।

-‘আমি তো কবির ভাই, কাল গণভবনে গেছিলাম। আর পরশু তো অফিসেই ছিলাম। ফিন্যান্স মিনিস্টারের একটা ইন্টারভিউ এডিট করছিলাম। তখন আজিম ভাই আপনার কথা বলল, যে আমার কাজ কতদূর ওনার কাছে খোঁজ নিয়েছেন। আপনি ডেকে পাঠিয়েছেন তাতো বলেন নি।’

-‘আমি খোঁজ নিয়েছি মানে আপনি আমাকে আপডেট দিবেন, রাইট? আপনার তো কোন খবরই পাই না। এরকম করলে তো সমস্যা!‘

আমি বুঝতে চেষ্টা করলাম কি হয়েছে। আজিম তাহলে তলে তলে কবির ভাইকে আমার ব্যাপারে উলটা পাল্টা বলেছে। হয়তো অনেক সময় নিয়েই সে এই কাজটি নিষ্ঠার সাথে করে গেছে।

আমি তর্কের স্বর পালটে বললাম, ‘কবির ভাই, আমি তো এখানে অনেকদিন যাবত কাজ করছি, আপনি তো আমাকে চেনেন, আপনি ডাকছেন জানলে আমি আসবো না? আপনি নানা রকম ব্যাস্ততার মধ্যে থাকেন, তাই ভেবেছি একবারে কাজ কমপ্লিট করে দেখা করব।‘

-‘আপনি তো নাকি নানা রকম আন্দোলন চালানোর চেষ্টা করছেন। অরিন সেদিন কি বলছে, সেটা নিয়ে আপনি একটা অযথা ক্যাওস তৈরি করেছেন। আরও নানা রকম ইস্যু আছে এই পত্রিকায় কাজ করা নিয়ে। ফ্র্যাঙ্কলি স্পিকিং, আমি এগুলা আর নিতে পারছি না। আমি খুব খুশি হব যদি আপনার প্রতিভা আরও ভালো জায়গায় গিয়ে দেখান।‘

বিস্ফারিত চোখে বলতে চাইলাম, ‘মানে?’ কিন্তু সম্পাদক মহোদয়ের নির্লিপ্ত চোখ দেখে ঠোঁট পর্যন্ত এলো না একটা বর্ণও। অরিন আমাদের অফিসে রিপোর্টার। জয়েন করেছে মাস চারেক। নিউ ব্লাড, এম্বিশাস। আসার পর থেকে আজিম ভাইয়ের সাথে ভালো খাতির। বসের সাথে খাতির থাকলে খারাপ তা বলছি না। কিন্তু আজিম ভাই ওকে ইউজ করে নিজে সবকিছুর ক্রেডিট নিয়ে নিবে তা আমি জানতাম। ক্যান্টিনে চা খেতে খেতে অরিন একদিন কেঁদে কেঁদে অনেক কথাই বলল। সেটা হতে পারে তার কাজের ক্রেডিট আজিমের অন্যায় ভাবে নিয়ে নেওয়া অথবা পূর্বাচলে নিউজ কাভারের নামে রিসোর্টে নিয়ে অভব্য আচরন। ভয়ভীতি, মেন্টাল অ্যাবিউজ এসবের কথা নাহয় ছেড়েই দিলাম। হ্যাঁ, আমিই বলেছি এইচআরে রিপোর্ট করতে। আর তা নিয়ে অফিসে ব্যাপক তুলকালাম। আজিম তেড়ে এসেছিল। আমি চ্যাঁচামেচি করেছিলাম। কিন্তু অরিন নাকি এইচ,আর হেডকে পরে বলে এসেছে পুরো ব্যাপারটা আমার বানানো। আমি নিশ্চিত, এতে আজিমের মেনিপুলেশন আছে। কিন্তু এতটা নোংরা খেলার কি সত্যি দরকার ছিল। এই আমাকে নিয়ে। এই যে দশ বছর এখানে কাজ করলাম, একই নিউজ রুমে। কত স্মৃতি, কত কথা, সব একনিমেষে একটা ঘুণে ধরা পচা কাঠের মত হালকা এক বাতাসে খসে গেলো।

ওয়াহিদের সাথে যখন আমার বিয়ে হয়, তখন সদ্য এই পত্রিকায় ঢুকেছিলাম।  বাবার ঠিক করা ছেলে। ওয়াহিদকে চিনতে জানতে যে সময়টা দিতে হত সেই সময়টা আমি তাকে দিতে পারিনি। কিছু ভালো মুহূর্তের সাথে জন্ম নিতে শুরু করেছিল অজস্র ভুল বোঝাবুঝি। এই আজিম অথবা কবির, অথবা তিন মাসের ইন্টার্নে ঢোকা একটা হাড় লিকলিকে ছেলেকে নিয়েও ওয়াহিদের কত সন্দেহ! সন্ধ্যার পর বিট কভার করে ঘরে ফিরে ওয়াহিদের অন্ধকার মুখ। তারপর সেই গম্ভীর মুখে আস্তে আস্তে কটু কথা, নোংরা গালি, গভীর রাতে ফিরে ঘরে ঢুকতে না দেওয়া। আর তারপর এক নারীর প্রতি অসন্তুষ্টি থেকেই হয়তো পরকীয়ার সূচনা। ঘর বাঁচাতে সব রকম চেষ্টা করলেও এই পত্রিকার চাকরিটা ছাড়তে পারি নি। কেন পারি নি সে এক রহস্য অথচ, সব কিছুর মূলে ছিল এই চাকরি। সমাজ নারীর বহির্মুখী কাজ আজও অন্তর্গত ভাবে হজম করতে পারেনি।

ডিভোর্সের দগদগে ঘা বুকে নিয়েই তো কত প্রত্যন্ত এলাকায় ছুটেছি। সারাদিন না খেয়ে শুধু কাজ আর কাজ। ডিভোর্সিদের আমৃত্যু এক অদৃশ্য দাগ বহন করতে হয়। এক অমোচনীয় দাগ! সেই দাগ দোজখের বাসিন্দার মত জ্বলজ্বল করে কপালে লেগে থাকে। ধোওয়া যায় না, তোলা যায় না। সেই দাগের মহিমায় চেনা মানুষের মাঝেও এক দণ্ড শান্তি মেলে না। উঠতে বসতে নারী জীবনের অসফলতা আমার ঠিক কতখানি তার চুলচেরা বিশ্লেষণ চোখের সামনে তুলে ধরাই তো সমাজের দায়িত্ব! আমার কাজ নিয়ে এত আপত্তি, এত অভিযোগ, তারপরও আর্থিক প্রয়োজনে অবলীলায় হাত পেতেছে এই আমার পরিবার। তখন লজ্জা ঘেন্না কিছুই আটকায়নি। এত কিছুর পরও তো এই চাকরি ছাড়িনি। আর আজ বলে কিনা…!

কার কাছে যাবো? সান্ত্বনা, সহমর্মিতা, সামান্য একটু মানসিক আশ্রয় কে দেবে আজ? পরিবার? যেখানে নিজের প্রতি একরাশ বিতৃষ্ণা আর কিছু স্বার্থ প্রত্যাশী চোখ ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই! বন্ধুবান্ধব? এই যে এত বছর পার করলাম, আশে পাশে এত মানুষের সাথে মিশলাম, কেউ কি সত্যি বন্ধু হয়েছে, বা হলেও রয়েছে? শুধু ক্লাস এইট থেকে দীপান্বিতা ছিল। ও যেখানেই থাক, রোজ কথা হত আমাদের। আমার আত্মার প্রতিটা দীর্ঘশ্বাস, উচ্ছ্বাস ও বুঝতে পারতো। ও যখন এই শহরে ছিল তখন এমন কোন দিন বা রাত কি গেছে যখন ওর কাছে নিজের সুখ, দুঃখ, যন্ত্রণা, গোপন কথা মেলে ধরা হয়নি! সব কিছুই এক অক্সিজেনদায়ী গাছের মত শুষে নিয়ে শান্ত করে দিত। দীপান্বিতার পাশে কিছু না বলে বসে থাকাতেও শান্তি ছিল। সেই শান্তি আর কখনই পাব না আমি। সে তো এক দাম্পত্যের জটিল মার প্যাঁচে নিজেই গুলিয়ে গেলো। কিছু ঘুমের ওষুধে কি সত্যি মুক্তি! শান্তি পেয়েছিল ও? জীবনটা শেষ করার এক ঘণ্টা আগেও কথা হয়েছিল। বিন্দুমাত্র আঁচ করতে পারি নি। ওর জীবনের জটিলতা এতটা গাঢ় হয়েছে যে…।  লন্ডনেই হয়েছে অন্তিম শয়ন। খবরটা জানার পর বুঝতে, মেনে নিতে দুটোদিন লেগেছে। তবে ওকে শেষবার দেখার আফসোস জাগেনি। অতদূরে কাকেই বা দেখতে যেতাম। এক নিথর কবরকে? এত টাকা পয়সা, ভিসার ঝামেলা করে কি লাভ হত! সব কিছুই তো মেনে নিয়েছি। ঝড়ের মত এসেছিল অমিত বর্মণ। সেও পিঠ দেখিয়ে সরে গেছে। কেনই বা এলো আর কেনই বা কিছু সময় থেকে পালালো কিছুই বুঝতে পারি না। বয়স, অবস্থান, সমাজ, ধর্ম সব কিছুর ব্যবধান, সমস্ত প্রশ্নবোধক চিহ্ন এক নিমেষে ভুলিয়ে দিয়েছিল সে। তার হাত ধরে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখার সাহস করিনি সত্যি কিন্তু ভালোবাসা আছে এই বোধ বুকে নিয়ে ভেসে যেতে চেয়েছিলাম যতদূর যাওয়া যায়।

অমিতের সাথে পরিচয় এক মোবাইল ফোনের কাস্টমার কেয়ারে। সেখান থেকে সে-ই ফোনে, ফেসবুকে যোগাযোগ করে অবিরত। আমি দীর্ঘদিন ইগ্নোর করি। কারণ এরকম বহু ছেলেই একলা নারীর সান্নিধ্য পেতে চায়। তাদের কিভাবে এড়িয়ে চলতে হয়, আমি জানি। কিন্তু একটা পর্যায়ে গিয়ে নিজের একাকীত্ব, বিষণ্ণতার কাছে হেরে অথবা কাম নয়, একজন ভালোবাসা প্রত্যাশী সুদর্শন যুবকের নিরন্তর প্রচেষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ না করে থাকা সম্ভব হয়নি আমার পক্ষে।

আমি ডুবে গিয়েছিলাম পুরোপুরি। অমিতের প্রেমে। আমার বয়স কমে যাচ্ছিল হু হু করে। একটা মায়া নদীর জলজ ঢেউ সারাক্ষণ বুকে আছড়ে পড়ত। আমি টিনএজ বালিকার মত দিন রাত গুটগুট করে ফোনে কথা বলতাম, টেক্সট করতাম। একটা হাসি সব সময় আমার মুখে লেগে থাকত। অমিত ভিন্ন শহরে থাকলেও হুটহাট চলে আসত। আমরা কোথাও ঘুরতে যেতাম। নৌকায় জোছনা দেখতে দেখতে, অথবা কাশবনে হারিয়ে যেতে যেতে চোখ ভর্তি জল আসত।

এমন নয় আমি জানতাম না, অমিতকে একদিন হারিয়ে ফেলব। এমনও নয় যে অমিতকে আমি বিয়ে করতে চেয়েছি। বিয়ে বিষয়টা নিয়ে আমার ভেতর তীব্র বিতৃষ্ণা আর হয়তো আতঙ্কও কাজ করে। ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখে ভয় পাবে এ আর নতুন কি! তবে ভালবাসার মানুষের এমন প্রস্থান কেই বা চায়? যুক্তি, বাস্তবতা, জীবনের হিসেবের সব মারপ্যাঁচ আবেগ হজম করতে পারবে তাও তো নয়। একমাত্র সন্তান হিসেবে অমিত তার বাবা মায়ের আশা পূরণ করতে বাস্তবোচিত এবং উচিৎ সিদ্ধান্তই নিয়েছে তা আমিও স্বীকার করি। কিন্তু, আমার শূন্যতা, তীব্র একাকীত্বের দাঁতাল চেহারা আবার সদলবলে আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়বে আমি তা ভুলে গিয়েছিলাম। আমার দিনগুলো শুষ্ক আর রাতগুলো নিস্তব্ধ থেকে নিস্তব্ধতর হয়েছে। আমি আমার বোধ, বুদ্ধিহীন প্রেমের কথা মনে করে বোকার মত কেঁদেছি, সবার সাথে থেকেও আলাদা হয়েছি, কিন্তু মেনে তো নিয়েছি। এমনটাই হওয়া উচিৎ আমার সাথে। কিন্তু আজ, আমার কাজের জায়গাটাও থাকলো না।

আচ্ছা, আমার কি এখন মরে যাওয়া উচিৎ? দীপান্বিতার মত? নাকি আরও সুযোগ দেওয়া উচিৎ সামনের সময়গুলোকে, যাতে তারা আমাকে আরও ক্ষতবিক্ষত, আরও রক্তাক্ত করতে পারে! এসব ভাবনা বারবার ধাক্কা দিচ্ছিল। আমার মন খুব চাপ দিচ্ছিল কোন শ্যাওলা ধরা দীঘির বুকে সলিল সমাধি রচনা করতে। আর মগজ বলছিল, পাগলামি কোরো না! ঠিক সেই সময়, পথের ধারে এক বিবস্ত্র পাগলিকে দেখলাম। সে নিজের মত তার এক ছন্নছাড়া সংসার সাজিয়ে বসে আছে এক গাছের নিচে। তার মুখে অদ্ভুত এক হাসি। তার কিছুই নেই, তবু সে হাসিমুখে বসে আছে। তার মাথায় জট, গায়ে দুর্গন্ধ। সে নিশ্চয়ই প্রতিদিন অপমানিত হয়, লাঞ্ছিত হয়। তার মাথার উপর ছাদ নেই, খাবার নেই, তার আপন কেউ নেই। তাহলে সে এভাবে নিশ্চিন্ত মুখে বেঁচে থাকে কি করে? একটা ছোট কুকুর ছানা কোত্থেকে পায়ে পায়ে পাগলির কাছে গেল। পাগলি তাকে কোলে তুলে কি আদর! কুকুরছানাও গলে গলে পরছে আহ্লাদে। আমি তাদের ভালবাসা দেখছিলাম মন্ত্রমুগ্ধের মত। হঠাৎ, সম্বিত ফিরলো। জীবনের এক নতুন মানে সামনে এলো যেন। আমাদের জীবনের কত আয়োজন, কতই না দাবী, আর প্রয়োজনের ফিরিস্তি। কিন্তু, সুখ তবু অধরা। কেন? সুখ জিনিসটা কি আসলে? যার কিছু নেই সেও তো সুখী হয়। আমার প্রাপ্তিগুলো কি অপ্রাপ্তির চেয়ে কম?   

যখন সন্ধ্যার লাল আলো উঁকি দেয়, মনে হয় দিনটা মরে যাচ্ছে। কিন্তু, নতুন একটা দিন শুরু হবে বলে সাঁঝ নামে, রাত হয়। সামনে নতুন করে আবার সকাল হবে। , এই আমি কি আজ ঘরে ফিরবো? এই আমি কি আর ফিরবো?            

  

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত