| 15 এপ্রিল 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

ইরাবতী সাহিত্য: একগুচ্ছ কবিতা । চাষা হাবিব

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট
পঞ্চাশ বছর
 
তখনও ধ্রুবার্বত জীয়ন কূপে
ঢালছিল বিবস্ত্র জল;
উড়তে উড়তে উড়নচন্ডী দেহখান কইতে থাকে
হামার বাড়িত আছিলো বড় বড় মোটকা ভর্তি চাল;
আজ সেই চালে মায়ার চাদর বালিশ চাপাকল
উত্তেজনা আর পঞ্চাশ বছরের পুরান একরত্তি
ছিপছিপে বংশাল শাল। এখনো ঢালে ধ্রুবজল
হামরা হাপসাই যাই;
দমের ভিতর শালখানি গন্ধছড়ায়
দাদার বিড়ির গন্ধ-তামুক-খুঁইনি
পঞ্চাশ বছরের পুরান একরত্তি ছিপছিপে শাল।
 
 
 
 
 
 
 
 পরচুল
 
অবাঞ্চিত লোমগুলো ক্রমশ লম্বা হচ্ছে
ঢেকে ফেলছে ফালি চাঁদ। কৃষ্ণ স্পষ্ট
অদেখা মৎস পুচ্ছ নিয়ত সুহেনীর শাকাসী।
আমি ধেয়ে চলেছি সাময়িক কালচক্রে
অপংশক কুহেলীক নীতিভ্রষ্ট যান অকস্মাৎ
গ্রোথ সূচক কাঁটা ছঁই ছুঁই দারিদ্র সীমা বরাবর।
বেণীকেশ ভেংচিয়ে দুলিয়ে চলে চপল কুমারী।
সাদা পোড় কেশগুলো হাওয়ায় দোলে
নড়বড়ে উঠে যায়, খসে পড়ে দন্ধ অভিখ্যানে ।
অতশিপুর জামাতা পরজীবি কলষ্ট্রামে।
 
আমি অস্বস্তিতে ভুগি-
খোঁয়া যাওয়া কেশ আমার শোভো
পায় চকচকে টাক-আবৃত চৌর্যমস্তকে।
 
 
 
 
 
 ভালবাসা তালাবদ্ধ গুদামঘর
 
বিবর মনীষা কোথায় খেলে নোঙ্গর তোলা সাম্পান
ভালবাসা তালাবদ্ধ গুদামঘর এসটে গন্ধ
প্রশ্নবোনা কন্ঠ নীত বন্ধুর স্রোতমাঠ।
 
সঞ্চালক এগিয়ে দেয় অনিশ্চিত ধুম্র মন্ত্রে
জেগে থাকা পাহারাদার ভবিষ্যৎ জালবোনা
চায়ের চুমুক নিদ্রাভঙ্গের টক্সিন রশিছেড়া সাম্পান
মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ যন্ত্রনায় অসহ্য প্রেষন।
 
 
 
 
 
 
 দৃশ্যকাব্য
১.
লোক টা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে
ম্যানহোলে
ল্যাম্পপোস্টে হিসু করে নেড়িকুত্তা
পা তুলে।
২.
ত্রাণের লাইনে দাঁড়িয়ে বৃদ্ধ
লুঙ্গির কোঁচাতে
গুজে রাখে বিড়ির আধুড়া
সুখটান গিলে খেয়ে।
 
৩.
ফেলানীর ওড়না
ছিড়ে দেয় জামবুট
ফু মেরে বাঁশিতে চেটে খায়
গু মুত।
 
৪.
ছেঁড়া পোস্টার
পিতার মুখ ঢেকে ফেলে
স্যান্ডো গেঞ্জিতে বুকে দাগ দিয়ে
বউয়ের মুখ মোছে।
 
৫.
ব্রা মুখে পরে
ঘুম যায় বিবেক
ন্যাপকিনে ঢেকে ফেলে
খড়িমাটি আর ভাঙা প্লেট।
 
৬.
চন্ডিদাস বঁড়শি ফেলে রঁজকিনীর আসে
রঁজকিনী আর আসে নি
সেই যে গেছে বানের জলে ভেসে।
 
৭.
অনুজ পান্ডের সেই দোতালা বাড়ি
আজ অট্টালিকা-
এ্যভ‚ন্যুর মোড় আজ ন্যুড তালে
বেতাল।
 
৮.
জলের অক্ষর মুছে গেছে সেই কবে
পিলারের ক্ষত স্থান শুকায় স্মৃতি জেগে।
 

 

 

দশপ্রেম খেয়ে নেয় বুকের পাঁজর

কাটাতারের ঐ নগ্নতায় ছেঁয়ে আছে আমার সব। চেতনগড়ে চিন্তারা খেয়ে নিচ্ছে মগজের গুহ্যকূপ। আমি ঝিম ধরে বসে আছি। ঈশ্বর রেগে যাবেন বলে বসে বসে দেখছি পাশা খেলা, আর কি অবলীলায় খেয়ে চলেছি দেবালয়ের লুচি সিংগারা আরও কত কি। অথচ তুমি সীমানার ওপার থেকে শুষে নাও তাপ। যেন ঝিঝি পোকার হঠাৎ চিৎকারে ফেটে যাবে মাটির কাঁসা সব, এমনিই ত্রাহি অবস্থা। সে ভয়ে তুমিও আসছো না এপারে না আমিও। কি দারুণ নিয়মে চলেছি মেঠে আইল থেকে কুঁড়ে নখরের পীচঢালা ছেঁচে ফেলা জীবনে। নারদ নকশায় ভাঁজের মন্ত্রে। একদিন ঠিক একদিন আজ থেকে ধরো কোন এক সন্ধ্যায় আমিও তো বুদ্ধগুপ্তের মতো দিকবিদিক ছুটে কুড়িয়ে এনেছিলাম মালা-শিউলি-বকুল-তমালের ঘরে বিদেশি অর্কিড, জিপসি আরও কত কি বর্গী প্রেম। সমুদ্রের নোনা স্রোত ভেসে ভেসে বঙ্গ থেকে সিংহল-সুমাত্রা-জাভা আর মালয়ের চিকন সারি দেহের ভাঁজ ছুয়ে অবশেষ নগ্ন প্রণালি ভেদে তোমার উজান এঁদোমাটির জমিন। তোমার সে বুকে আমিই তো রোপন করেছি ভাত সভ্যতার ফুল আর তুমি সে সভ্যতায় ফলিয়েছো ভাটফুল, ছেঁড়া আঁচলে মাঘের শীত। আর বিদিশার শরম চোখে লাগিয়েছো বাঙলার ঘোলা তেঁতো জল। যেন রাতের অন্ধকারে ছুয়ে দেওয়া নিঃশ্বাস যেমন জাগিয়ে দেয় ক্ষীণ দেহে আদি ঘ্রাণ। আমিও সে ঘ্রাণে ঝাঁপ দেই বাঁচার স্বপন ভেবে তোমার মরন ছোবলে। এভাবেই একদিন তোমার আঁচল ছিঁড়ে দু’ফাঁক হয়ে দাঁড়িয়ে যায়, গজে ওঠা আগাছার দেয়াল-কাঁটাতার। আমি এপাশে তুমি ওপাশে যেন আদি গঙ্গা ভাগ হয় অজাত শশ্রুর বুড়ি গঙ্গায়। যেখানে আজ খেলা করে বোকা চাঁদ হাটু জলে আর নুন পিরিতির বাঁসর হয়ে ওঠে দেশপ্রেম যেনো খেয়ে নেয় বুকের পাঁজর।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত