| 27 ফেব্রুয়ারি 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

ইরাবতী সাহিত্য: তিনটি কবিতা । শুভ্র দাস

আনুমানিক পঠনকাল: < 1 মিনিট
ছায়ার ছবি
বৃষ্টি ভেজা সকাল শেষে রোদ ঝলমল দুপুর,
চোখ বুজলেই সেই কবেকার তক্তপোষে উপুড়।
 
দগ্ধ আকাশ, তপ্ত বায়ু, ভেজা কাপড় মেলা,
ঝুলতে থাকা তারের ওপর, চলতো ঝুলন খেলা।
খেলা ছিল লুকোচুরির, ছায়াই খেলা তখন,
সিক্ত কাপড় গা ছুঁয়ে কয় ঝাপসা মনের কাহন।
 
প্রেমিক-জামা ওই বাড়িতে, এ বারান্দায় শাড়ি,
আলো ছায়ার চোখাচোখি চলতো আড়াআড়ি।
 
পাঞ্জাবি আর সালোয়ারের ঘেঁষাঘেঁষি ভিড়ে ,
চাদর পরে হাত মিলেছে, নীরবে নিবিড়ে।
 
নৃত্য তালে নিত্য বসন, পর্দা ভেজা স্মৃতি,
ছেলেবেলা, মেয়েবেলা, শিশুবেলার ইতি।
 
আজকে যখন তপ্ত বাতাস, দমকা হাওয়া বয়,
সেই সেদিনের ছায়ার ছবি, ছায়াছবি হয়।
 
 
ঘটনা সামান্যই
কিশোরীবেলায়, বিয়ে বাড়িতে যখন
সবে ফ্রক থেকে ধার-করা শাড়িতে হয়েছে উত্তরণ,
সেজেগুজে গেছি এক উৎসবে।
 
ঝলমলে আলোয়, হাসিমুখে আমরা গিয়ে দাঁড়াতেই
ছুটে এলেন কাকিরা, মাসিরা, পড়শীরা,
“ওমা কি সুন্দর রং, কি টানা টানা চোখ,”
-সবই তাকে দেখে, আমার সথে এসেছিলো যে-
রূপ ছিল তার যথেষ্ট, রূপের অহঙ্কার আরও বেশী ।
সেই কাকিরা, মাসিরা, পড়শীরা-
আমায় শুধুই, “এস, এস, তুমিও এস।”
 
হৈচৈ, হাসিঠাট্টায়, গান বাজনায়
জমে গিয়েছিলো সেই অনুষ্ঠান খুব ।
অথচ, “এস এস, তুমিও এস,”
সেই কুঁকড়ে দেওয়া কথাগুলোই শুধু,
একটা পুরনো, জং-ধরা পেরেকের মত,
গেঁথে আছে মনে,
আজও।
 
আয়না
অন্তর হোক আরশিনগর, যেন তোমার হাতের আয়না
বিকেল শেষের পড়ন্ত রোদ,
যা যেতে যেতেও যায় না।
সেই তেমনই কনে দেখা আলো
আঁজলা ভরে মুখ রাঙাবো,
মন খারাপে, যখন লাগছে না আর ভালো।
অবহেলায় ফেলে রেখো তাকে
টেবিল পরে, উপুড় করে,
যেমন করে আয়না পড়ে থাকে ।
যখন আবার স্মরণ পড়বে কাজে
মনের ভেতর আসন পেতো,
মুখোমুখি, বসিও মাঝে মাঝে।
কথায় কথায় রাত্রি হবে পার,
সবকটা সুর ফিরিয়ে দেব, সুখটুকুও; ভেবো না হয়,
প্রাচীণ কোনো প্রতিধ্বনিই শুনলে আরেকবার।
 

One thought on “ইরাবতী সাহিত্য: তিনটি কবিতা । শুভ্র দাস

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত