| 30 মে 2024
Categories
কবিতা সাহিত্য

ইরাবতী সাহিত্য: তানিয়া কামরুন নাহারের একগুচ্ছ কবিতা

আনুমানিক পঠনকাল: 2 মিনিট

 

 
 
তার স্বপ্ন
 
সে যখন আমাকে স্বপ্নে দেখে,
না জানি তাকে কেমন সুন্দর দেখায়!
কী দেখে সে স্বপ্নে?
আমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে আঁতকে উঠে কি সে?
তার ঘুম ভেঙে যায় তখন?
আহা, এমন স্বপ্ন যদি সে দেখতো!
যেমন আমি দেখি!
 
 
 
 
 
 
 
 
পম্পেই 
 
তোমার বুকে ঘুমিয়ে থাকা এক আগ্নেয়গিরি
পুড়িয়ে দিলো আমার ছোট পম্পেই নগরী।
ঐ জ্বালামুখ যেন পোড়াচোখ, অশ্রু তোমার লাভা,
জমাট পাথরে থাক লুকিয়ে গত জীবনের আভা।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
পৃথক অস্তিস্ত্ব
 
দিন দিন  কিভাবে তোমার অচেনা হয়ে যাচ্ছি,
তুমি সেটাই অবাক হয়ে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখো।
কখনো সরাসরি, কখনো লুকিয়ে।
কী যেন একটা বোঝার চেষ্টা করো তুমি।
কিন্তু বোঝো না।
মেলাতে না পারা অঙ্কের জটিলতায় তুমি দীর্ঘশ্বাস ফেল আড়ালে।
আমি ছিলাম তোমারই এক টুকরো অস্তিত্ব।
সে কবে, ছোট্ট আমি চুপটি করে ঘুমিয়ে থাকতাম,
তোমার কোলে।
তারপর একদিন তোমার হাত ধরে একটু একটু করে হাঁটতে শিখেছি।
হাঁটতে শিখে ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে চাইলাম আমি।
তোমার পছন্দ হলো না সেটা।
ভালবাসায় বন্দী করে রাখতে চাইলে আমাকে।
আমার পছন্দ হলো না সেটা।
 
যতই নিজের অস্তিত্ব প্রকাশের জন্য চিৎকার করে উঠি,
তুমি ভয় পেয়ে যাও।
আমাকে হারানোর ভয় তোমাকে পেয়ে বসে।
কিন্তু, যা অনিবার্য, তা কি ঠেকানো যায়?
না কি ঠেকানো উচিৎ?
তুমিও পারোনি আমার অস্তিত্ব ঠেকিয়ে রাখতে।
একদিন আমার এই আলাদা অস্তিত্বই তোমার অস্তিত্ব প্রকাশ করবে।
 
 
 
 
 
 
 
 
জীবন জুয়া
 
আমি হেরে গেছি।
কুসংস্কারের মতো  অটল যে বিশ্বাস আমার,
তা টলে গেছে,
হুড়মুড় করে তাতে ধ্বস নেমেছে,
মুহূতেই গুঁড়ো গুঁড়ো।
 
যে বাজি  একদিন ধরেছিলাম
আমার সর্বস্ব নিয়ে,
তাতে আজ হেরে গেছি।
বায়ান্ন তাসের খেলাটা তাই আমি আর খেলি না।
তবুও আমি জুয়াড়ি।।
খেলে চলেছি জীবন নিয়ে, জুয়া।
জানি, তাতেও হারবো।
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
এই হায়না ভরা পৃথিবীতে আমি যেন এক নিঃসঙ্গ, নিরস্ত্র গ্ল্যাডিয়েটর।
মৃত্যুই যেন আমার একমাত্র নিয়তি।
এই অসুস্থ যুদ্ধে তো আমি অবতীণ হতে চাই নি!
এই অনিবার্য মৃত্যুর মুখোমুখি তো আমি হতে চাই নি!
ঠিক আছে মরতে যদি হয়-ই,
তবে মেরেই মরবো–
তোমরা জয়োল্লাস করার জন্য প্রস্তুত থেকো।
 
 
 
 
 
 
 
 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: সর্বসত্ব সংরক্ষিত