মাকড়সার জাল

মনে মনে ছটফট করতে করতে কেয়া ভাবলো শিমু খালামণিকে কথাটা বলবে কিনা। লম্বা বারান্দায় দাড়িয়ে দেখতে পেল রান্নাঘরে শিমু খালামণি বড় এক হাড়িতে উড়কি দিয়ে একমনে দুধ নাড়িয়ে যাচ্ছে দুধ আরো ঘন করার জন্য। নানাবাড়ির খাওয়া দাওয়ার অন্যতম আকর্ষণ এই বাড়ীর গাভীর ঘন দুধ আর সেই দুধের পুরু সর দিয়ে মাখানো ভাত খালাদের হাত থেকে খাওয়া।অন্যদিন হলে এটা খাওয়ার জন্যে লাফালাফি শুরু করে দিতো কিন্তু আজকে কেয়ার সেদিকে মন নেই। গুটি গুটি পায়ে যেয়ে কেয়া দাড়ালো ওর খালামণির পাশে। শিমু ফিরে তাকালো ওর দিকে, মুখের উপর মুহূর্তে কিসের যেন একটা চিন্তার ছায়া পড়লো। কি রে সোনা কিছু বলবি? কেয়া প্রথমে একটু চুপ করে থাকলো, তারপর ধীরে ধীরে বললো, খালামণি তুমি কি আব্বাকে একটু বলবে যে আমি মা’র কাছে থাকতে চাই। আমি মাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা। শিমুর মুখটা কালো হয়ে যায়। ছোট্ট মেয়েটার মনের অবস্থাটা বুঝতে পারে সে। কতই বা বয়স! দশও পেরোয়নি এখনো। এই বয়সেই কত যে ঝামেলা ওদের পোহাতে হচ্ছে তা আর বলার নয়। গত কয়েকটা দিন ধরেই তো তাদের এই বাড়িতে ঝড় বয়ে যাচ্ছে ওর মা-বাবাকে নিয়ে। সেজ আপাটা যে হঠাৎ কি করে বসলো। মা বাবা, আত্মীয়-স্বজন দফায় দফায় তাদেরকে নিয়ে গোল মিটিং এ বসছে, যদি সেজ আপাকে তার সিদ্ধান্ত থেকে টলানো যায়। কিছুতেই কিছু হচ্ছেনা। সেজ আপা তার সিদ্ধান্তে অটল। এই সংসার সে আর করবে না। কিন্তু তার ফলে ছোট ছোট বাচ্চা দুটোর যে কি হবে, সেই চিন্তাও যেন সে আর করতে পারছেনা। দুলাভাই আর সেজআপার সংসারে ঝামেলা কোন নতুন ব্যাপার তো না। সবসময় লেগেই আছে। অথচ কেন যে এমন হলো বুঝে পায়না শিমু। রাজপুত্রের মত চেহারা দুলাভাই এর। যোগ্যতার কোন অভাব নেই কোনদিকে বরং বেশীই যোগ্য অন্য অনেকের থেকে। কিন্তু সেই মানুষটাই সংসারের ব্যাপারে কেন যে এতটা উদাসীন ভেবে পায়না শিমু। রাজনীতি’র সাথে জড়িত, সেটা একটা কারণ হতে পারে। সারাক্ষণই তার পার্টির নানারকম লোকজনের সাথে নানা জায়গায় তার কাজকর্ম।আশেপাশের আর দশটা নিয়ম মেনে সংসার করার মত সংসারী মানুষ সে ঠিক। নয়। কিন্তু তাতে কি! রাজনীতি যারা করে তারা কি কেউ সংসার করেনা, না তাদের কারো সংসার ধর্ম, বৌ-ছেলেমেয়ে নেই! কিরে তোর কতদূর শিমু, বলতে বলতে মা ঢুকলেন রান্নাঘরে। শিমু উদ্বিগ্ন স্বরে জিজ্ঞাসা করলো, কিছু সমাধান হলো মা? মা বললেন, না, কিসের কি। তোমার সেজ আপাকে চেন না? একেবারে ঘাড়ত্যাড়া সারাজীবন। একবার কোনকিছু না বললে আর কারো ক্ষমতা আছে সেটা হ্যাঁ করাবে! আমার তো দুঃশ্চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে যাচ্ছে। ছোট ছোট বাচ্চা দুটো কি যে করবে আমি কিছুই বুঝছিনা। এই বয়সে এসব আর ভালো লাগছেনা আমার। শুধু কি তাই! এই ঘটনা এই ছোট শহরে সবার মুখে মুখে ঘুরবে। আমাদের একটা মান সন্মান আছে, তোদের দু’বোনের এখনও বিয়ে হয়নি। এটার কারণে তোদের জীবনেও একটা ঝামেলা আসতে পারে… তোর আব্বাতো সারাক্ষণ শুধু সেই চিন্তাতেই অস্থির হয়ে আছেন। কি যে হবে কিছুই বুঝছিনা, বলে কেয়ার দিকে একটু তাকিয়ে শিমুকে বললেন, তুই কেয়াকে দুপুরের খাবারটা খাইয়ে দে। সোহেল ওকে বাড়িতে দিয়ে আসবে। দীপু ওদিকে বাড়িতে একা একা কি করছে কে জানে। ওদের বাপ-মায়েরতো এখন ওদের দিকে তাকানোরও সময় নেই, বলতে বলতে তিনি আবার ওদিকের ঘরের দিকে গেলেন যেদিকে মা-বাবাকে নিয়ে, নানাভাই বড় খালা, মামারা তিন দিন ধরে এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছে। কেয়া মুখ শুকনো করে নানুর কথা গুলো শুনলো। শিমু খালা ওকে বললো, চল্ কেয়া, আমরা খেয়ে নিই। তুই এত চিন্তা করিস না পাগলী, সব ঠিক। হয়ে যাবে দেখিস।
 
 
খাওয়া শেষ হলে বিকেলের দিকে বাসায় ফিরে তার বছর দুয়েকের বড় পিঠোপিঠি ভাই দীপুর খোঁজে বারান্দার যেয়ে কেয়া দেখে, দীপু রেলিং-এ হেলান দিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে কি যেন ভেবে চলেছে। চুল উস্কোখুস্কো, মুখটা শুকনো। মনে হয় সারাদিন নাওয়া খাওয়া কিছুই করেনি। বাড়ীতে যে ঝড় বয়ে যাচ্ছে তার আভাস তার ছোট, বিষণ্ণ মুখটার মধ্যে পুরোপুরিই ফুটে উঠেছে। অন্য দিন এসময় সে পাড়ার ছেলেদের সাথে হৈ হৈ করে ঘুড়ি উড়াতে অথবা ফুটবল খেলতে চলে যায়, আজ বাসাতেই চুপচাপ হয়ে আছে।গত তিন চার দিন ধরে তাদের বাড়ীতে কোনকিছুই আর স্বাভাবিক নেই। কেয়া দীপুর কাছে যেয়ে বললো, তুই এখনও বাসায় ভাইয়া, আমি ভাবলাম খেলতে চলে গেছিস। ভালো লাগছেনা, দীপু শান্তমুখে উত্তর দিল।কেয়া বলতে গেল সকাল থেকে নানুবাড়ীতে কি কি হচ্ছে সেসব, দীপু তাকে থামিয়ে দিয়ে বললো, কিছু বলতে হবেনা, শুনতে চাইনা।চুপ কর। কেয়া থেমে গিয়ে কিছুক্ষণ ভাই এর দিকে তাকিয়ে থেকে আবার বললো, তুই কোথায় থাকবি? কোথায় থাকবো মানে? দীপু ওর বড় বড় চোখ দুটোতে প্রশ্নবোধক দৃষ্টি নিয়ে তাকালো কেয়ার দিকে। বলছি যে তুই কার কাছে থাকবি, আব্বার কাছে, না কি মা’র কাছে? কান্নাটা গিলে ফেলে বলেই ফেললো কেয়া। দীপু সেটা যেন না দেখার ভান করে বললো, আমি এই বাসা ছেড়ে কোথাও যাবোনা। আমার বন্ধুরা সব এখানে।এই পাড়া, আমার স্কুলের বন্ধুরা … এসব ছেড়ে আমি কোথাও যেতে পারবোনা। ওর চোখে রাগ দেখলো কেয়া সাথে একটা চাপা দুঃখও। মাকে ছেড়ে থাকতে পারবি? আবার জিজ্ঞাসা করলো ও। জানিনা, দীপু অন্যদিকে চোখ ফেরালো, ছলছল চোখদুটো যেন কেয়া দেখে না ফেলে সেই চেষ্টা। শক্ত থাকার প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছে সে ভেতরে ভেতরে, সেটা বোঝা যাচ্ছে। মা যাচ্ছে কেন? হঠাৎ করে ঝাঝিয়ে উঠলো দীপু। কি এত সমস্যা হলো হঠাৎ? আমরা তো ছোট থেকে সবসময়ই এরকম দেখে আসছি। কেন বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে হঠাৎ? আমাদের কথা তো ভাবছেনা… তুই আমি কার কাছে থাকবো, তা তো ভাবছেনা… আমরা তাহলে মাজেদা বুয়া খালা’র কাছেই মানুষ হবো না হয়, একরাশ অভিমান ঝরে পড়লো ওর কথায়। কেয়া চুপ করে চেয়ে থাকলো ওর দিকে। ও নিজেও তো বুঝতে পারছেনা কি করবে। ও নিজে কিভাবে মাকে ছেড়ে থাকবে। আবার মার সাথে যদি চলে যায় তাহলে কিভাবে দীপুকে ছেড়ে থাকবে। বাড়িতে যতক্ষণ থাকে দুই ভাই বোনের কত খুঁনসুটি, মান অভিমান, গালগল্প চলে। দীপুর কয়েকশো স্ট্যাম্প আছে। নানারকম এ্যালবামে সাজানো। মাঝে মাঝে সেই স্ট্যাম্পগুলো সব একসাথে নিয়ে বসে ওরা দুজনে পৃথিবীর কত দেশের কত কিছু নিয়ে গল্প করে। কেয়াও ওর টিফিনের টাকা জমিয়ে নতুন কত সুন্দর সুন্দর ভিউকার্ড কিনেছে সেগুলো দীপুকে বের করে করে দেখায়। কত সুন্দর একটা সময় কাটে তখন ওদের। এতসব শখের এসব জিনিস ফেলে কিভাবে মায়ের সাথে চলে যাবে সে,তাও আবার দীপুকে ছেড়ে! নানু বাড়ীতে আজকে মায়ের যে মূর্তি দেখেছে… যেন পাথরের মত একটা মুখ, কোন অনুভূতি নেই সেখানে, যেন সব কিছু শেষ হয়ে গেছে হঠাৎ এ ক’দিনেই। অথচ আব্বা যখন দিনের পর দিন বাসায় থাকেনা মা একাই ওদের আগলে রাখে … লেখাপড়া, স্কুল সবই। মা কত কিছু খেলা করে ওদের সাথে। এখান থেকে চলে গেলে তিনজনে মিলে এক সাথে আর কড়ি খেলা হবেনা। পৃথিবী লুডু খেলতে খেলতে মা ওদেরকে আর ভূগোল বোঝাবেন না। ওদের প্রিয় বেগাডুলি,ক্যারাম আর দাবার কোর্ট গুলো দুই ভাইবোনকে খেলা নিয়ে আর তুলকালাম করতে দেখবেনা। কেয়া আস্তে করে উঠে বাড়ির পেছনের দোতলা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। একতলায় পেছনের দিকে অনেকটা জায়গা নিয়ে বেশকিছু গাছ লাগানো। একটা প্রকাণ্ড টকটকে লাল জবা গাছে প্রচুর ফুল ফুটে থাকে সবসময়। গাছটাকে কখনই ফুলছাড়া চোখে পড়েনা। একদিকে মাঝারি আকারের একটা টক মিষ্টি আম গাছ, আরেকদিকে একগাদা কাগজী লেবু ধরে আছে একটা গাছে, আর তার ঠিক। পাশেই সারি দিয়ে লাগানো তিনটে পেঁপে গাছ যেগুলো আব্বার খুব পছন্দ, ও জানে। যখনই বাসায় থাকে নিজের হাতে যত্ন করে গাছগুলোতে পানি দেয় আব্বা।গাছগুলোর পাশেই একটা টিউবয়েল , ওরা বলে কলতলা। নিজের হাতে কল চিপে বালতি ভরে পানি নিয়ে গাছগুলোতে পানি দেয় আব্বা। অনেকদিন দোতলার বারান্দা থেকে সেটা দেখতে দেখতে কেয়া ভেবেছে গাছগুলোর জন্য এত মায়া আব্বার কিন্তু কিছুদিন পরপরই কেন আব্বা ওদেরকে ছেড়ে, গাছগুলোকে ছেড়ে চলে যায়? কি কাজ থাকে তার ঢাকায় এত? কেন তবে ওরাও এক সাথে সেখানে থাকেনা? অথচ যখন আব্বা বাসায় থাকে কত আদর করে ওদেরকে। কখনও আব্বার কাছে সামান্য বকুনিও খায়নি ওরা, মার খাওয়া তো দূরের কথা। তবে আব্বা ওদেরকে আদর করে ‌অনেক সেটা সত্যি কিন্তু ওদের লেখাপড়া বা অন্য কোনকিছুরই তেমন কোন খবর রাখেনা।আব্বা মনে হয় ভাবে, বাসাভর্তি যে গাঁদা গাঁদা বই তাদের আছে সেসব পড়তে পড়তেই ওরা বড় হয়ে যাবে। আব্বা কি সব কাজ নিয়ে যেন খুব ব্যস্ত থাকে। এখানেও যতক্ষণ থাকে সারাক্ষণই কত ধরণের মানুষ যে আব্বার কাছে আসতেই থাকে তার কোন ঠিক। ঠিকানা। নেই। এত মানুষের ভীড়ে ওরা দুই ভাই বোন আব্বাকে যেন খুঁজেই পায়না। মাকে ঘিরেই ওদের দুই ভাইবোনের পৃথিবী। কিন্তু তারপরেও আব্বার চেয়ে মায়ের উপরই খুব বেশী অভিমান হচ্ছে কেয়ার। আব্বাতো অনেক চেষ্টা করছে মা কে ফেরানোর। আব্বা কিছুতেই চায়না মা এভাবে কোথাও চলে যাক। আজকে নানু বাড়ীতে যখন বড়দের মিটিং চলছে মাকে ফেরানো নিয়ে,কেয়া চুপিচুপি দরজার পেছনে দাড়িয়ে শুনেছে, আব্বা নানাভাইকে বলছে, আপনারা তাকে বোঝান, বাচ্চাদের মুখের দিকে তাকিয়ে হলেও সে এখান থেকে ফিরে আসুক। আমিতো বরাবরই এরকম, সেটাতো নতুন কিছু না,কিন্তু তার কারনে তো বাচ্চাগুলো ঠিক। আছে, সংসারটা ঠিক। মত চলছে। আমি চেষ্টা করবো এখন থেকে ঠিক। মত সংসারের প্রয়োজন মেটাতে, আপনারা তাকে শুধু বোঝান। আর মাকে কেয়া শুধু পাথরের মত বসে থাকতে দেখেছে, একটা কথাও বলছেনা, কিছু শুনছে বলেও মনে হচ্ছেনা। খুব রাগ হচ্ছিলো কেয়ার মার উপর। কেন মা এরকম করছে! ওর ছোট মাথায় সব কিছু এলোমেলো হয়ে যায়। কেয়ামনি, খাইতে আসো, রান্না কইরা রাখছি। মাজেদা বুয়া খালার ডাক শুনে কেয়া ঘুরে দাঁড়ালো … দীপু কোথায় দেখার চেষ্টা করলো। ভাইয়া, খেতে আয়, জোরে দীপুকে ডেকে ও খাওয়ার ঘরের দিকে এগুলো। মায়ের সাথে যদি ও চলে যায়, ভাইয়া কি তখন একা একা টেবিলে খেতে বসবে? কারণ আব্বাতো সবসময় থাকবেনা । আবার ওর চোখ পানিতে টলমল করে ওঠে। কি করবে বুঝতে পারছেনা। মাতো আর ফিরবে না এখানে বলে দিয়েছে। টেবিলে একা চুপচাপ খেতে লাগলো কেয়া, দীপু এলোনা খেতে। মাজেদা খালা পাশে থেকে খাবার এগিয়ে দিতে দিতে বলতে থাকে,কি যে পাগলামি করতাছে আফায়। নিজের সাজানো বাড়িঘর ছাইড়া কই যাইয়া বইয়া রইলো। ফেরেশতার লাহান ফুটফুইটটা পোলাপাইন দুইটার কথাও ভাবতাছে না। এ কেমুন ধারা কথা। আমি এদিকে ক্যামনে কি সামলামু। বলতে বলতে আচঁলে চোখ মোছে সে। হঠাৎ কলিং বেলটা বেজে উঠলো বেশ জোরে।মাজেদা খালা দৌড়ে গেল দরজা খুলতে… কেয়া গেল পিছু পিছু। দরজা খুলতেই আব্বা বিধ্বস্ত চেহারা নিয়ে ঘরে ঢুকলেন, তার পিছনে মুখ অন্ধকার করে দাড়িয়ে মেজমামা। আব্বার সবসময়ের এক ধরণের উন্নত, ঝকঝকে সুন্দর চেহারাটার সাথে যেন আজকের চেহারাটা বড়ই বেমানান। সে চেহারা যুদ্ধের ময়দানে যেন এক পরাজিত সৈনিকের চেহারা। ঘরে ঢুকেই বিষণ্ণ চোখে এক পলক মেয়ের দিকে তাকিয়ে সোজা চলে গেলেন নিজের ঘরের দিকে। কেয়া মেজমামার দিকে তাকালো । গভীর বিষাদে ভরা সে মুখ। কেয়া বুঝে গেল কোন সমাধান হয়নি। পায়ের শব্দ শুনে পিছন ফিরে দেখলো দীপু এসে দাড়িয়েছে। কেয়ামণি, দীপু তোমাদের জামা কাপড় গুছিয়ে নিয়ে আমার সাথে চলো, মা যেতে বলেছেন। মাথার মধ্যে হাত চালাতে চালাতে চেয়ারে বসে পড়ে বললো মেজমামা। অনেক রাত হয়েছে তোমরা তাড়াতাড়ি নাও, কাল সকালেই মা তোমাদের নিয়ে খুলনা যাবেন। সেখানকার একটা স্কুলে তার চাকরী হয়েছে । তোমরাও সেখানে পড়বে। দীপু শক্ত মুখ করে বললো, মেজমামা আমি কোত্থাও যাবোনা এই বাড়ি ছেড়ে, এখানেই থাকবো, মাকে বলে দিও। কেয়া তুই তোর যা ইচ্ছা কর, বলে দীপু ছুটে চলে গেল ভিতরের ঘরে। মাজেদা বুয়া খালা হতবিহবল চোখে কেয়ার কাপড়, প্রয়োজনীয় জিনিস সব একটা ব্যাগে গুছিয়ে মেজমামার হাতে দিল। চলো মা, যাই, বলে মেজমামা এগোলো। কেয়া এক পা এগিয়ে আবার একটু থামলো, পেছন ফিরে দেখতে চাইলো আব্বা বা দীপু কেউ ওকে আটকানোর জন্য আসে কিনা। কেউ নেই পিছনে। মাজেদা খালা শুধু আচঁল দিয়ে চোখের পানি মুছছে। কেয়ার একবার মনে হলো দীপুকে যেয়ে বলে, কয়েকটা দিন একটু কষ্ট করে একা থাক, ভাইয়া। দেখিস কয়েকদিনের মধ্যেই আমি ঠিকই। মাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে আবার বাড়ীতে ফিরিয়ে আনবো। কিন্তু কিছুই বলা হলোনা।

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত