Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com,Bangladesh National Museum

সাপ্তাহিক গীতরঙ্গ: বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর। নম্রতা মনস্বী

Reading Time: 5 minutes

বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর শুধু বাংলাদেশেরই নয় এটি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ জাদুঘর ও সংগ্রহশালার মধ্যে অন্যতম। এটি বাংলাদেশের ঐতিহাসিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃ-তাত্ত্বিক, শিল্পকলা ও প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত নিদর্শনাদি সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রদর্শন ও গবেষণার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৩ সালে ঢাকা জাদুঘর নামে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে রাজধানী ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্র শাহবাগে ৮.৬৩ একর জমির উপর একটি চারতলা ভবনে জাদুঘরটি অবস্থিত। এ জাদুঘরে ৪০ টির উপর প্রদর্শনী কক্ষ, তিনটি অডিটোরিয়াম, একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার ও দুটি অস্থায়ী প্রদর্শনী কক্ষ রয়েছে,যেখানে ৪০ হাজারের ও বেশী বই রয়েছে । এছাড়া জাতীয় জাদুঘরের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে চারটি শাখা জাদুঘর। রয়েছে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা এবং মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু সংগ্রহশালা।

জাদুঘর স্থাপনার ইতিহাস

১৮৫৬ সালে প্রথম জাদুঘর স্থাপনার দাবী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।কিন্তু উনিশ শতকে জাদুঘর স্থাপনার জন্য আগ্রহ প্রকাশ হয়নি।১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের সময় লর্ড কার্জনকে জাদুঘর স্থাপনার পুনরায় দাবী পেশ করা হয়।ঢাকাকে যখন বাংলা ও আসামের রাজধানী করা হয়,তখন আবার পত্রিকার মাধ্যমে দাবী উত্থাপন করা হয়।বাংলার তৎকালীন গভর্নর লর্ড কারমাইকেলের ঢাকায় আগমন উপলক্ষে ১৯১২ সালের ২৫শে জুলাই নর্থব্রুক হলে তাকে নাগরিকসংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই অনুষ্ঠানে ঢাকার বিশিষ্ট নাগরিকগণ লর্ড কারমাইকেলকে এখানে একটি জাদুঘর স্থাপনের দাবি জানান। এ দাবির সপক্ষে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের আয়োজন দেখে মুগ্ধ হয়ে লর্ড কারমাইকেল জাদুঘর প্রতিষ্ঠার জন্য ২,০০০ রুপি মঞ্জুর করেন। ১৯১৩ সালের ৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘর স্থাপনের সরকারি অনুমোদন গেজেট আকারে প্রকাশিত হয় এবং ৩০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। ওই বছরের ৭ আগস্ট লর্ড কারমাইকেল ঢাকা জাদুঘরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ১৮ নভেম্বর বেঙ্গল গভর্নমেন্ট সাময়িক নির্বাহী কমিটি কর্তৃক প্রণীত খসড়া জাদুঘর নীতিমালা অনুমোদন করে। এই নীতিমালা অনুযায়ী সাধারণ পরিষদ ও নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়। ১৯১৪ সালের ৬ জুলাই নলিনীকান্ত ভট্টশালীকে জাদুঘরের কিউরেটর নিযুক্ত করা হয়। ড. এন. গুপ্তকে প্রাকৃতিক ইতিহাস সম্পর্কিত নিদর্শন সংগ্রহ ও গ্যালারি উপস্থাপনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ১৯১৪ সালের ২৫ আগস্ট ঢাকা জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। তখন জাদুঘরের মোট নিদর্শনের সংখ্যা ছিল ৩৭৯টি।

প্রথমে তৎকালীন সচিবালয়ের (বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) একটি কক্ষ জাদুঘরের নিদর্শন সংরক্ষণের জন্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু জাদুঘরের নিদর্শন সংখ্যা ক্রমেই বাড়তে থাকলে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ১৯১৫ সালের জুলাই জাদুঘরটি নিমতলীতে অবস্থিত ঢাকার নায়েব নাজিমদের বারোদূয়ারি ভবনে সরিয়ে নেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে এটি শাহবাগের নিজস্ব ভবনে স্থানান্তরিত হয়।১৯১৪ সালে ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠার পর প্রথম এক বছরে মোট ৪,৪৫৩ জন দর্শক জাদুঘর পরিদর্শন করেছিলেন।

ঢাকা জাদুঘর প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে যারা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তাঁদের মধ্যে ছিলেন, ◑এইচ.ই স্টেপলটন, সত্যেন্দ্রনাথ ভদ্র,

সৈয়দ আওলাদ হাসান

বি.কে দাস

খাজা মুহম্মদ ইউসুফ

 হাকিম হাবিবুর রহমান

নলিনীকান্ত ভট্টশালী

জে.টি র‌্যাঙ্কিন

এ.এইচ ক্লেটন

অধ্যাপক আর.বি রামসবোথাম

 সৈয়দ মুহম্মদ তৈফুর

তবে ঢাকা জাদুঘরের উন্নয়নে নলিনীকান্ত ভট্টশালীর নাম বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আগ্রহের ফলে ঢাকা জাদুঘর দেশে-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছিল। তিনি নিজে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য পরিচালনা এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে ঘুরে নিদর্শন সংগ্রহ করে জাদুঘরকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। নিদর্শনের শ্রেণিকরণ, ডকুমেন্টেশন, লেবেল তৈরি, প্রদর্শনী উপস্থাপনা এবং নিদর্শনের যথাযথ সংরক্ষণের ব্যবস্থাপনা, সব ক্ষেত্রেই ভট্টশালীর অবদান অনস্বীকার্য।

জাতীয় জাদুঘরের নিদর্শন সমূহ

প্রশাসন ও সাংগঠনিক কাঠামো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাতীয় জাদুঘর পরিচালিত হয়।জাদুঘরের নিদর্শন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের জাতীয় জাদুঘরে চারটি বিশেষায়িত কিউরেটোরিয়াল বিভাগ রয়েছে। সেগুলি হলো ১. প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগ, ২. ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ, ৩. জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগ এবং ৪. সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগ। এছাড়াও রয়েছে আরো তিনটি সহযোগী বিভাগ। এগুলি হলো ১. সংরক্ষণ রসায়নাগার, ২. জনশিক্ষা বিভাগ ও ৩. প্রশাসন বিভাগ।

জাদুঘরের নিদর্শন ও গ্যালারি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর একটি বহুবিদ্যা সমন্বিত জাদুঘর। ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্ব, জাতিতত্ত্ব, শিল্পকলা, প্রাকৃতিক ইতিহাস প্রভৃতি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কিত নিদর্শনাদি জাতীয় জাদুঘরের সংগ্রহে রয়েছে। ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাতীয় জাদুঘরের সংগ্রহভুক্ত মোট নিদর্শনের সংখ্যা প্রায় ৮৬,০০০।

 জাদুঘরের দ্বিতীয় তলাটি যেন পুরো বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। বাংলাদেশের মানচিত্র দিয়ে শুরু হওয়া এই তলাতে আরো দেখতে পাবেন বাংলাদেশের গাছপালা, প্রাণী, সুন্দরবন,ভূপ্রকৃতি, বনজ সম্পদ, খনিজ সম্পদ, গাছপালা, ফলমূল, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ প্রভৃতি। এছাড়াও বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীবজন্তুও এখানে উপস্থাপন করা হয়েছে।আরো আছে উপজাতীয়দের জীবনধারা,খনিজ শিলা,ভাস্কর্য, মুদ্রা এনং প্রাচীন যুগের নানাবিধ ভাস্কর্য।

ইতিহাস ও ধ্রুপদী শিল্পকলা বিভাগ জাতীয় জাদুঘরের সবচেয়ে বড় বিভাগ। জাতীয় জাদুঘরের ৮৬ হাজার নিদর্শনের মধ্যে প্রায় ৬৮ হাজারই এ বিভাগের নিদর্শন। এ বিভাগের অধীনে রয়েছে ১১টি গ্যালারি, যেখানে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও ঐতিহাসিক দলিলপত্রের মাধ্যমে বাঙালি জাতির ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তন উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিভাগের নিদর্শনের মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হলো মুদ্রা। প্রাচীন ও মধ্যযুগ এবং ব্রিটিশ আমলের প্রায় ৫৩,০০০ মুদ্রা এ বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। কুষাণ, গুপ্ত, ময়নামতি স্বর্ণমুদ্রা এবং সুলতানী ও মুগল আমলের স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রা এ বিভাগের মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন। এ বিভাগের অন্যান্য নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলক, ব্রোঞ্জ ও প্রস্তর ভাস্কর্য, প্রাচীন স্থাপত্যিক নিদর্শনসমূহ,শিলালিপি ও তাম্রলিপি, মৃৎপাত্র, পান্ডুলিপি, ঐতিহাসিক দলিলপত্র, কৃতিসন্তানদের ব্যক্তিগত স্মৃতি নিদর্শন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিলপত্র, অস্ত্রশস্ত্র ও আলোকচিত্র।

জাতীয় জাদুঘরের প্রধান আকর্ষণীয় দিক হলো প্রাচীন যুগের হিন্দু-বৌদ্ধ ভাস্কর্য। অলংকরণ ও কারুকার্যে এসব ভাস্কর্য সারা পৃথিবীতে অনন্য। এছাড়াও প্রাচীন ও মধ্যযুগের ভবনগাত্রের অলংকরণে ব্যবহূত বিভিন্ন ধরণের পোড়ামাটির ফলক বিশেষ করে মহাস্থানগড়, ময়নামতী, পাহাড়পুর ও মধ্যযুগের মন্দির, মসজিদে ব্যবহূত অলংকৃত পোড়ামাটির ফলকগুলি এ বিভাগের গ্যালারীর অন্যতম সংগ্রহ।

তৃতীয় তলার ৩টি গ্যালারিতে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব গ্যালারিতে উল্লেখযোগ্য নিদর্শন হলো ভাষা আন্দোলনের আলোকচিত্র ও দলিলপত্র,শহীদ মিনারের ভাঙা অংশ,মানুষের মাথার খুলি ও কঙ্কাল,রক্তে ভেজা জামাকাপড়, ৭ই মার্চের ভাষণের বৃহৎ আলোকচিত্র, মুক্তিযুদ্ধের পোস্টার, শরণার্থী শিবির ও গণহত্যার মর্মস্পর্শী আলোকচিত্র, মুক্তিযুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র, অস্ত্র সমর্পণ ও দখলদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্যাবলীর আলোকচিত্র, যা একটি সাহসী জাতির গৌরবময় ঐতিহাসিক উত্থানের সাক্ষ্য বহন করছে।

জাতিতত্ত্ব ও অলংকরণ শিল্পকলা বিভাগ জাতিতত্ত্ব বিভাগের অধীনে রয়েছে ১৬টি গ্যালারি, যেখানে বাঙালি জনগোষ্ঠীর সামাজিক, সাংস্কৃতিক জীবনধারা ও দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহূত দ্রব্যসামগ্রী উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিভাগের সংগ্রহে সংরক্ষিত নিদর্শনাদির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠী ও সামাজিক পেশাজীবী মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক রীতি-নীতি ও প্রথা সংশ্লিষ্ট নিদর্শনাদি, দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহূত দ্রব্যসামগ্রী, গৃহনির্মাণ সামগ্রী, নৌকা, হাতিয়ার, অস্ত্রশস্ত্র, দারুশিল্পকর্ম, কারুশিল্পকর্ম, ধাতব শিল্পকর্ম, চীনামাটির শিল্পকর্ম, হাতির দাঁতের শিল্পকর্ম, সূচিশিল্পকর্ম, পরিধেয় বস্ত্র ও অলংকার সামগ্রী, নকশি কাঁথা, বাদ্যযন্ত্রসমূহ ইত্যাদি। কামার, কুমার, জেলে, কৃষক, গ্রাম্য হাট বাজার, জনজীবন ও আদিবাসী সংস্কৃতির উপর নির্মিত কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন ডিওরামা এ বিভাগের গ্যালারির আকর্ষণীয় দিক। দৃষ্টিনন্দন দারুশিল্পকর্ম যেমন অলংকৃত ও কারুকার্য খচিত খাট, পালকি, কাঠের বেড়া, আসবাবপত্র ও ঢেঁকি প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন জাদুঘর পরিদর্শনকারী দর্শকগণের আনন্দ ও কৌতুহলের উৎস। রুপার উন্নত তারজালিক শিল্পকর্ম এবং হাতির দাঁতের শীতলপাটি, সোনা-রূপার অলংকার সামগ্রী একটি উন্নত জাতির সংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সাক্ষ্য বহন করছে।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন ভাষার বিবর্তন সব হরফের মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।

সমকালীন শিল্পকলা ও বিশ্বসভ্যতা বিভাগ এ বিভাগে রয়েছে ৭টি গ্যালারি। জাতীয় জাদুঘরের আর্ট গ্যালারি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। দেশের বরেণ্য শিল্পীদের শিল্পকর্ম দিয়ে এসব আর্ট গ্যালারি সাজানো হয়েছে। আর্ট গ্যালারির শুরু হয়েছে বাংলাদেশের শিল্পকলা চর্চার পথিকৃৎ জয়নুল আবেদীনের শিল্পকর্ম দিয়ে। ১৯৪৩ সালের দূর্ভিক্ষের উপর জয়নুল আবেদীনের অাঁকা চিত্রকর্ম দুর্ভিক্ষের বাস্তবচিত্র সম্পর্কে দর্শকদের ধারণা দেয়। এছাড়াও জেলে জীবন, বেদেদের জীবন, বিদ্রোহী, প্রকৃতি ও গ্রাম্য জনজীবনের উপর অাঁকা জয়নুল আবেদীনের বিভিন্ন শিল্পকর্ম দর্শকদের অনুভূতিকে নাড়া দেয়। আর্ট গ্যালারির একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে শিল্পী এস.এম সুলতান, কামরুল হাসান ও ভাস্কর নভেরার শিল্পকর্ম। বিশেষ করে এস.এম সুলতানের শিল্পকর্মে গ্রামীণ জনজীবন অত্যন্ত চমৎকার, নান্দনিক ও সুচারুরূপে প্রতিফলিত হয়েছে। আর্ট গ্যালারির শিল্পকর্মে সমকালীন বাংলার প্রকৃতি, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জীবনচিত্রের প্রতিফলন ঘটেছে।

জাতীয় জাদুঘরের চতুর্থ তলায় আয়োজন করা হয়েছে বিশ্বসভ্যতা গ্যালারি। প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমীয়, সিন্ধু, গ্রিক, রোমান, পারস্য সভ্যতার কোনো নিদর্শন অবশ্য এখানে নেই। সে কারণে বিশ্বসভ্যতা গ্যালারি পূর্ণতা লাভ করে নি। তবে রেনেসাঁ যুগ থেকে আধুনিক ইউরোপীয় বিখ্যাত শিল্পকর্মের মূল ও অনুকৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববরেণ্য কৃতিসন্তানদের প্রতিকৃতি নিয়ে একটি বড় গ্যালারির আয়োজন করা হয়েছে, যা দর্শকদের বিশ্বমনীষীদের সম্পর্কে ধারণা দেয়।এছাড়াও রয়েছে বিদেশি সংস্কৃতিভিত্তিক কয়েকটি আকর্ষণীয় কর্নার। এসব কর্নারগুলির মধ্যে রয়েছে ইরানীয় কর্নার, সুইজারল্যান্ড কর্নার, কোরীয় কর্নার, চাইনিজ কর্নার ইত্যাদি। এসব কর্নারে ঐসব দেশের শিল্পকর্ম, ভাস্কর্য, বাদ্যযন্ত্র, চীনামাটির ও ধাতব শিল্পকর্ম এবং সর্বোপরি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী উপস্থাপন করা হয়েছে।সব ধরনের নিদর্শনের সঙ্গে রয়েছে আরবী ক্যলিগ্রাফি এবং ৭ কেজি ওজনের মুসলিম ধর্মের পবিত্র কোরআন শরিফ।

-জাতীয় জাদুঘর শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশি-বিদেশি গবেষকগণের আলোকচিত্র সরবরাহ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে দেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতিক উপর মৌলিক গবেষণা কর্মে জাদুঘর সহায়তা করে।

সুযোগ -সুবিধা

ভবনটি পুরোটিই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।দর্শনার্থীদের জন্য বিশ্রামকক্ষ, নামাজের কক্ষ, বিনামূল্যে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন টয়লেট, শিশুদের জন্য খাবার ও টয়লেটের বিশেষ ব্যবস্থা প্রভৃতি।

 জাদুঘর এর সময়সূচী

সাপ্তাহিক বন্ধ বৃহস্পতিবার। শুক্রবার- বিকাল ৩.০০ টা থেকে রাত ৮.০০ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। এছাড়া সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে।

(অক্টোবর থেকে মার্চ)

শনিবার – বুধবারঃ সকাল ৯.০০ টা থেকে বিকেল ৫.০০ টা পর্যন্ত

(এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর)

শনিবার – বুধবারঃ সকাল ১০.৩০ থেকে বিকাল ৫.৩০ টা পর্যন্ত

টিকেটের মূল্য

টিকেট এখন অনলাইনে নিতে হবে।প্রতিদিন ৫০০ জনকে টিকেট দেয়া হয়।টিকেটের মূল্য ৩ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ১০ টাকা, ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ২০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ৫০০ টাকা, তবে সার্কভুক্ত দেশ গুলোর জন্যে ৩০০ টাকা।

কিভাবে যাবেন

জাতীয় জাদুঘর শাহবাগ এলাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে অবস্থিত। আপনার এলাকা থেকে শাহবাগ রুটের যেকোনো বাসে চড়ে শাহবাগ গোল চত্বর কিংবা শাহবাগ পুলিশ বক্সের সামনে নামলেই দেখা মিলবে জাদুঘরের।

    Irabotee.com,irabotee,sounak dutta,ইরাবতী.কম,copy righted by irabotee.com, Rituparno Ghosh - Dahan

লেখকঃ নম্রতা মনস্বী

তথ্য সংগ্রহঃ পত্রিকা, সাময়িকী ও ব্লগ

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>