বাপ্পি সাহা’র একগুচ্ছ কবিতা

শান্তির পথ দেখি, শান্তির জন্য

স্রষ্টার দেওয়া
এই দুচোখেই, আকাশ ছোঁয়ার আমার যত স্বপ্ন দেখা
এই চোখ বন্ধ করলেই রাত নেমে আসে
যখন চোখ মেলি দেখি ভোর হয়েছে।
থাকি চেয়ে শুদ্ধ প্রকৃতির কাছে
আকাশের প্রাণে নদীর টানে…।

ছোটাছুটি করে পাখি
ভালো লাগে দূর দিগন্ত।
চাওয়া পাওয়া
দেখা অদেখা
সুঃখ দুঃখ
কাছাকাছি পাশাপাশি
বিচিত্র মানুষ
একই রঙ হয়তো ভিন্ন ঢঙে।
ভিন্ন শখ…
হাজারো রহস্য ঘেরা পঙক্তিমালা
ধর্মে ধর্মে
কর্মে অকর্মে
ভেদাভেদ কখনো শত্রু কখনো মিত্র
কখনো দেখি কখনো অনুভব করি।

এ কেমন জীবন মতে মতে এতটা পার্থক্য
মানুষে মানুষে অহমবোধ
নষ্ট মস্তিষ্ক, এতটা নির্বোধ
নশ্বর এই দেহ।

ভাবলে কষ্ট হয়
কখনো কখনো এই দুচোখে জল জমে
কখনো বা চোখের পলকে…
সুখের স্বপ্ন এঁকে চলি।
এই জীবনে মানুষ হতে হয়
মানুষ হবার স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখে
হয়তো বাঁচিয়ে রাখবে আমাকেও
খুঁজি আমি বার বার শান্তির পথ
জন্ম মৃত্যুর সময়ের সুদীর্ঘ পথেও।

শান্তির পথ দেখি
শান্তির জন্য।
খুঁজে ফিরি আমি বার বার।
শান্তি!শান্তি! শান্তি!

 

 

অহমবোধে নশ্বর পৃথিবী

তোমার ডায়রীতে লিখে রাখা ভুলে ভরা,কবিতা নই আমি।

আমি তো
রক্ত মাংসে গড়া মানুষ।
আমারো প্রাণ আছে, আমি শুনতে পারি, বলতে পারি
আমারো মন আছে।

সৃষ্টি করি শব্দমালা
ভাঙ্গতে পারি নিয়ম অনিয়ম।
আমি চলতে পারি এক বৃত্তে
কখনো অন্তরালে কখনো বা সম্মুখে
লিখতে পারি হাজারো পঙক্তিমালা
বলতে পারি, না বলা কত শব্দ।

দূরে থেকে দূর
মন থেকে মন এর দূরত্ব বুঝতে পারি।

ভালোবাসা নামে গোলাপের সহস্র কাঁটার আঘাতও সহ্য করতে পারি।

আমার আমিকে চিনেছি অনেকটা কষ্টে, অনেকটা শান্তিময়ে।
চিনেছি মানুষ
দেখি সময়ের ব্যবধানে মানুষের পরিবর্তন
আকাশের বিশালতার মত মনকে করেছি বিশাল।
প্রতিনিয়ত মানুষ নামের মুখোশগুলো
আকাশের পরিধির মত মনটাকে করছে ছোট,
চারদিকে যেনো হাজারো নষ্টামি, মিথ্যের জয়গান এখন চারদিকে
বিবেক শূন্য যেন সবকিছু।

অমানুষেরর ভীরে এখন আর মানুষ দেখিনা
নিজের স্বার্থে নিজেকে করছে বিলিন।
রক্তের সাথে রক্তের পার্থক্য
ধর্মের নামে ব্যবসা
লোভ অহংকারে বিকিয়ে দিচ্ছে নিজের অস্তিত্ব।

এমনটাই কি মানুষ করে
এমনটাই মানুষ ছিলো
আমি কি এমনটাই চেয়েছিলাম?
এমনটাই পৃথিবী আমার
এমনটাই সৃষ্টি ছিলো।

সবাই যেন স্বর্গের নামে সুখ খুঁজে
বিশাল অট্রালিকায়
হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান নামের খোঁজে ধর্ম
মানুষ খুঁজে চলে নিজের সৃষ্টিকে
ভুলে যায় সব এক।
শুধু ধর্মেই পার্থক্য সৃষ্টি করেছে অনবরত।

সৃষ্টিকর্তা তো এতো হতে পারে না সৃষ্টিকর্তা একজনই।
মানুষ হতে চাই এই মানব জন্মে ও কর্মে।
ধর্মে নয়
তুমি তোমার সৃষ্টিকে দেখো
তুমি তোমার সত্যকে দেখো
তুমি তোমার পরিধি দেখো
তুমি তোমার অস্তিত্ব দেখো
যেনো বিলিন না হয়।

 

 

চাইতে যদি মন থেকে

অনেক সময় ভাগ্য হয় যে করুন
হয়তো বা কখনো আনন্দেরও।
কেউ পায় কোন কিছু,
অনেকে হারায়
কেউ আবার পেয়েও রাখতে পারে না ধরে
এতো ভাগ্যের লুকোচুরি খেলা
কেউ বুঝে
কেউ বুঝেও বুঝতে চায়না,
মন যে মনের কথা বলে।

আমি কি চাই
তুমি কি তা জানো?
জানতে চেয়েছ কখনো
কেন এতো করুন সুর…
বার বার এসে হৃদয়ে বাজে।

একটু ভাবতো একটু ভাবো
সব কিছু হয় জীবনে
সব কিছুই হয় জীবনে
যদি পারো মন থেকে ভালবাসতে
একটু ভালবেসে দেখ না
একটু দেখ
কতটা আবেগ কতটুকু ভালবাসা জড়িয়ে আছে পরিমান করতে যেও না
কখনো মিলাতেও পারবে না,

যেদিন মন থেকে চাইবে
শুধু মন থেকে
দেখবে ঠিক বুঝতে পারবে
আসলেই তোমাকে ভালবাসতাম কতটুকু।

 

 

বদলে যাওয়া

ভাবতেই অবাক লাগে
অনেকটা বদলে গেছ তুমি
বিশাল আকাশ… তবুও তোমার দিকে তাকালে যেনো লাগে আজো মরুভূমি।

বদলে যায় বদলে যায় যে মন
হৃদয় গহীনে বারে স্পন্দন।

বদলে যায় নীল জোছনা
রঙিন প্রজাপতি
বদলে যায় মায়া ভরা রাত
নিঘুম রাত্রি।

বদলে যায় তোমার স্বপ্নগুলো
বদলে যায় দুচোখের চাহনি
মিষ্টি হাসিও।

বদলে গেলে, থাকে না সেই আর মন
আমার প্রতি থাকে না কোন পিছুটান।
বদলে যায় ভালোবাসাও
বদলে যায়
বদলে যায়।

আমি তো আর বদলে যাওয়া নই
সব কিছু আজ স্বপ্ন দেখে
বুকের ভেতর স্বর্গ সুখে রই।

সব কিছু আজ বদলে যাওয়া আমি কারোর মত নই।

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত