স্নিগ্ধা বাউলের একগুচ্ছ কবিতা

অশ্রু

দুপুরের কাকটা প্রতিদিন আসে

গ্রিলের ব্যবধানে আমরা দেখা করি রোজ  

দখিনের বাতাসে – ডানা ভাসে আমাদের ;

প্রতিদিন নেয় সে আমার খোঁজ –

ছায়ার হাওয়া – ভেজা চোখে দেখি তারে

ঠোঁটের ভঙ্গিমায় অমিশ্র  কর্কশ টান,

দম খোলা হাসি  – ভেজা জামার গায়ে

ভেজা চোখে তার পুকুরের মত চোখ-

আসুন কথা বলে যান আমাদের নির্বাক দুপুরে

গ্রিলের ব্যাবধানের জানলায় – বিলাপে

কাক আর নারীর গল্পে।

 

 

 

 

 

অপেক্ষা

পার্ক পর্যন্ত পথটা বোবা হয়ে গেছে। এক ফালি আঙুল

যতদূর ওড়ওড়ি করে পথ। চেয়ে থাকে ছায়াগাছ ভেদ করে-

পেছনে ফেরার সময় কই- সাঁতরে যাবার জল

বারুদের আড়ালে জমা রাখে অভিমান

বেলা পড়ে আসে টিকেট কাটা দমের দামে- হাতে পায়ে

মাছের কানকোয় – প্রশ্ন রেখে যায় ছুঁড়ির ফলা

কী অপেক্ষায় আছো ? –

ভাদ্রের গলা শুকিয়ে আসে , জড়ায় এক জোড়া আদিম নূপুর

ভেঙে পড়ে কদম কদম বর্ষা – জলীয়বাষ্প লালার জল

এমন নাচন কেঁদে যায় বৃষ্টির মাত্রা—তবুও অপেক্ষা করছো?

পার্কের শেষ গাছটা জানে ইতিহাস

ভিতরের থমথমে হাওয়া – মৌমাছির গান

একা একা দাঁড়িয়ে থাকার নাম।

 

 

 

 

 

নাম

নামের একটা কাঠগড়া আছে, তুমি জানতে?

আমি নিজেকে হারাই ওই কাঠগড়ায় –

ভয়ে পা ফেলি- থেমে যাবার ভয় – নাম হারানোর ভয়

ডেকে গেলে যদি ফিরে না চাই এমন  হয়!

ছাঁচ ভেঙে এগিয়ে আসি যত

ততই দূরত্ব বাড়ে সভ্যতার – চলে যায় ভবিষ্যৎ

নিপাট দাঁড়িয়ে থাকি – যদি আবারও ডাকো

অবলীলায় বহু ভাষায় আমার নাম অথবা কিছু জবানবন্দী !

            আমি এমনই নামবেশ্যা

একদণ্ড মেঘের রঙ, খাঁচার টোপ–পরিচয়ের সমাপ্তি

স্বরতন্ত্রি কাঁপিয়ে ছুটেছিলাম–বেগুনি আকাশ বরাবর

কেউ নাম ধরে ডাকুক আমায় ছিন্ন মুকুল।

এমন কেন এখানে তুমি- আমিই বা কেন লুটে পড়ি!

 

 

 

 

 

 

.

 

 

 

One thought on “স্নিগ্ধা বাউলের একগুচ্ছ কবিতা

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত