বিশ্বকাপের আগে ক্রিকেটারদের ফুরফুরে করার আশা পাপনের

ক্রীড়া প্রতিবেদক ॥

আশঙ্কার মেঘ দূর করে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশ টেস্ট দল ক্রাইস্টচার্চের মসজিদ আল নূরে ভয়াবহ বন্দুক হামলার মুখোমুখি পড়ে গিয়েছিল। তবে অল্পের জন্য রক্ষা পায় বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার। কোন ক্ষয়ক্ষতি না হলেও দলটি ভয়ানক মানসিক আঘাত পেয়েছে। তাই অনেকে মনোবিদ আনার কথা বলছেন ক্রিকেটারদের মানসিকভাবে শক্ত করে তুলতে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, শুধু এই ভয়ানক ঘটনার জন্যই মনোবিদ আনা হবে, বিষয়টি এমন নয়। বরং সামনে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ক্রিকেটারদের সাইকোলিজক্যাল ব্যাপারগুলোর উন্নতি ঘটাতেই মনোবিদ রাখা হবে। অর্থাৎ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আগে ক্রিকেটারদের ফুরফুরে করতে যা যা করার সব করবেন বলে জানিয়েছেন বোর্ড কর্তা। এছাড়া তিনি জানিয়েছেন, পরবর্তীতে যেকোন দেশ সফরে যাওয়ার আগে পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আয়োজক দেশের দেয়া নিরাপত্তা পর্যাপ্ত না হলে প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেবে বিসিবি। সোমবার ক্রিকেটারদের নিরাপদে ফিরে আসা এবং ক্রাইস্টচার্চ ঘটনায় নিহত কয়েকজন বাংলাদেশীর জন্য বিশেষ দোয়া-মাহফিল শেষে এসব কথা বলেন পাপন।
গত মাসের মাঝামাঝি নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ওয়ানডে সিরিজ খেলে বেশ কয়েকজন ফিরেও এসেছেন। তবে টেস্ট সিরিজ খেলতে আরও ১৬ ক্রিকেটার থেকে গিয়েছিলেন। তারাই ক্রাইস্টচার্চে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টে নামার আগের দিন ভয়াবহ ঘটনার সম্মুখীন হন মসজিদে জুম্মার নামাজ আদায় করতে গিয়ে। কয়েক মিনিটের বিলম্বেব সে যাত্রা বেঁচে যান বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তারপর থেকেই বিদেশের মাটিতে সফরকারী বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনাটা ব্যাপকতা লাভ করেছে। শেষ টেস্ট না খেলে পরদিনই সব ক্রিকেটার নিরাপদে দেশে ফিরেছেন। এখন মানসিক আঘাত কাটিয়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ। সেজন্য প্রয়োজনে মনোবিদও রাখা হবে। এ বিষয়ে পাপন বলেন,‘এ রকম কিছু চিন্তা করছি। আমরা ওদের পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তবে এ জন্যই যে মনোবিদ আসবে, তা নয়। আমরা ঠিক করেছি যে, সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ আছে সামনে.. তার আগে একজন মনোবিদ এসে যদি ওদের সাথে সময় কাটায় তা দলের জন্যই ভাল। তখন যদি কারও মনে হয় বিশেষ কোন সাহায্য দরকার, তাহলে অবশ্যই তা দেয়া হবে।’ তবে বিশেষ দোয়া মাহফিলে আসা ক্রিকেটারদের সঙ্গে এ বিষয়ে আর কোন আলোচনা করেননি বিসিবি সভাপতি। কারণ, দল ফেরার পরই বিমানবন্দরে সবার সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে আলোচনা আগেই হয়েছিল। এখন বরং বিসিবি চাইছে ক্রিকেটাররা দ্রুতই ক্রাইস্টচার্চের ঘটনাটি মন থেকে মুছে ফেলুক। পাপন বলেন,‘ওই সব বিষয় নিয়ে খেলোয়াড়দের সাথে আরো কোন কথা হয়নি। ওরা ঠিক মতো আসলো এজন্য শুকরিয়া হিসেবে একটা দোয়া মাহফিল করা হলো। এছাড়া ক্রাইস্টচার্চে কত মুসলমান মারা গেলো, ওখানে বাংলাদেশিও ছিল পাঁচজন, তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করা হল। এটাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। এছাড়া ওদের মানসিক অবস্থা বোঝারও ব্যাপার ছিল। আসলে এর চেয়ে ভয়াবহ মানসিক অবস্থা তো আর হতে পারে না। তবে আমার বিশ্বাস ওরা মানসিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি করতে পারবে।’
ভাগ্যক্রমে এবারের মতো ক্রিকেটাররা রক্ষা পেয়েছেন। তবে ভাগ্য বারবার সদয় না-ও হতে পারে। বিদেশে গিয়ে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি চিন্তা করতে হলে ক্রিকেটাররা মাঠের খেলায় মনোনিবেশ করবেন কি করে? তাই এরপর থেকে বিসিবিকে অবশ্যই তৎপরতা দেখাতে হবে জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিয়ে। এ বিষয়ে পাপন বলেন,‘আগে বাস্তবতা বুঝতে হবে। পাকিস্তানে নারী দল খেলতে যাওয়ার আগে আমরা কিন্তু নিরাপত্তার লোক পাঠিয়েছি। ডিজিএফআই থেকেও লোক পাঠিয়েছি। নিরাপত্তা বোঝার জন্য। পাকিস্তানে যেটা হয়েছে, বাংলাদেশের মতোই তারা নিরাপত্তা দিয়েছে। উপমহাদেশে নিরাপত্তা দেখি একরকম ভাবে। অন্য দেশে দেখেন, ক্রিকেট খেলার কথা বলি, ইউকেতে নিরাপত্তা একদম ভিন্ন। আমাদের মতো সিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা আমরা কোথাও দেখি না। আপনি যদি অস্ট্রেলিয়া যান, নিউজিল্যান্ড বা দক্ষিণ আফ্রিকা যান, ওদের একেক জায়গায় একেক রকম। লন্ডনে যে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি ছিলো, সেখানেও নিরাপত্তা বলতে নাম মাত্র। সেখানে পুলিশ-বন্দুক-গাড়ি, এগুলো দেখাই যায় না। এটাই ওদের সিস্টেম। রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাও একই রকম। তবে এই ঘটনার পর নিরাপত্তার বিষয়টি সব জায়গায় জোরদার করা হবে। আমাদের তরফ থেকে অবশ্যই, আগে যেটা বলতো তা মেনে নিয়েছি, এমওইউ-তে বলা থাকে সব নিরাপত্তা ওরা দেখবে। ওদের উপর সব ছেড়ে দিতাম। কিন্তু এটা আর ছাড়ব না। সামনে আগের চেয়ে ভাল হবে নিরাপত্তা।’ বিদেশে যাওয়ার আগে আয়োজক দেশের বোর্ডের নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখে মনঃপুত না হলে বিসিবি ব্যবস্থা নেবে এমনটাও দাবি করলেন পাপন। তিনি বলেন,‘বিদেশে সাধারণত নিরাপত্তা দেয় খেলার মাঠে, হোটেল থেকে মাঠে যাওয়া-আসা; এছাড়া কোথাও ব্যবস্থা থাকে না। তবে ওদের সাথে আগে বলে কিছু করা যায় কি না তা আমরা দেখব। আমাদের এখান থেকে নিরাপত্তা যাবে কি না তা নির্ভর করবে আমরা কী পাচ্ছি, তার উপর। আগে তো বিষদ আলোচনা করতাম না। এখন ব্যবস্থা নিতেই হবে। আমাদের যদি মনে হয় বিদেশ থেকে যা দিচ্ছে, তা যদি যথেষ্ট মনে না হয়, তাহলে অবশ্যই আমরা ব্যবস্থা নেব।
আমরা এখন যেকোন দেশে যাওয়ার আগে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চাইব। সেটা ঠিক মতো প্রয়োগ হচ্ছে কি না, তা দেখতে কাউকে পাঠাব। দেখা হবে ওরা যা বলছে, তা ঠিক মতো আছে কি না। এরপর যদি মনে হয়, তাহলে আমরা প্রয়োজন মতো ব্যবস্থা নেব।’

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত