শ্মশানে ভোলেবাবা

Reading Time: 2 minutes

কাল সারাদিন প্রচন্ড গরমে শরীরের কলকব্জা ঢিলা হয়ে গিয়েছিলো , তাই ভাবলাম শ্মশানে যাবার দিন তো আগত তাই যাই লাইন রেখে আসি। বাড়ি থেকে বেশি দূরে নয় তাই হেঁটেই গেলাম। কিন্তু লাইন দেবার আগেই দেখা হয়ে গেল ভোলেবাবার সাথে। আমি তো অবাক ! আমি কি ঠিক দেখছি ! নিজেকে চিমটি দিয়ে দেখলাম হ্যাঁ আমি জেগেই আছি স্বপ্ন নয়। ভোলে বাবাকে দেখে সটান প্রণাম করে বললাম : বাবা তুমি এখানে!

বাবা : হ্যাঁ রে এলাম সামনেই তো তোদের মা আসছে মর্তে তাই আগে থেকে দেখতে এলাম সব ঠিক আছে কিনা।

আমি : বাবা সেতো কলকাতায় আসে মা কিন্তু তুমি শ্মশানে কি করছো?

বাবা : আরে তোর মা পাঁচদিনের জায়গায় এখন দশদিন থাকে , তখন আমি একা একা কৈলাসে কি করবো? তাই ভাবলাম শ্মশানে ঘুরে ঘুরে দেখবো আমার চেলা চামুণ্ডার অবস্থা। কিন্তু বলতো আমার চেলা চামুন্ডারা কোথায় গেল? শেয়াল নেই , শকুন নেই , সন্ন্যাসী নেই! কিসব পাকা ঘর বাড়ি। মৃতদেহের লাইন, ছাই নেই! খুব হতাশ লাগছে রে।

আমি : বাবা মানুষের আজকাল এতো সময় নেই , মরে যাবার পরেও চার ঘন্টা সময় দেবার মত। খুব কম্পিটিশনের যুগ। সময় নষ্ট করেছো কি পিছিয়ে পড়বে।

বাবা : তোর হাতে এই আধলা ইটের মত কি এটা?

আমি : এটা কে বলে মোবাইল বাবা। তোমার যেমন হাতে ডুগডুগি , চেলা চামুন্ডা ডাকতে ব্যবহার করো , মানুষ ও তাঁদের কাছের জনকে ডাকতে এটা ব্যবহার করে। তোমার যেমন অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে এই তিনধামের খবরাখবর নাও , মানুষ ও তেমনি এই মোবাইল দিয়ে সারা পৃথিবীর সাথে যোগাযোগ রাখে।

বাবা : বাহ ভালো জিনিস তো , আমরা তো ধ্যান করে তিন চার ঘন্টা , কখনো কখনো দিন চার দিন লেগে যায় সমস্ত জানতে। তোদেরও কি তাই লাগে?

আমি : একদম না , মোবাইল নাও , একটা ফেবু আইডি খোলো , গুগল খোলো ব্যস তোমার যা জানতে ইচ্ছা করবে জেনে যাবে সে ঘরের গিন্নী কি করছে থেকে বিদেশিনীর অন্তর্বাস পর্যন্ত।

বাবা : দে তবে আমাকে তোর টা , কিছুদিন পর তোদের মা আসছে সেই হতচ্ছাড়া অসুরও সঙ্গে থাকবে , শালাকে মারার অভিনয় করে প্রত্যেকবার কিন্তু দেখ অপোজিট পার্টির নেতার মত ঠিক ভেতরে ভেতরে আঁতাত। প্রত্যেকবার সঙ্গে করে নিয়ে আসবে মর্তে। তোর মায়ের কীর্তিকলাপ দেখতে হবে , দে তোর মোবাইলটা।

আমি : আমি যদি তোমাকে দিয়ে দি আমার কি হবে ? আমি তবে কি দিয়ে দেখবো?

বাবা : আচ্ছা এই নে আমার ডুমরু।

আমি : ওটা বাজালে লোকে আমাকে এক টাকা দু টাকার বেশি কিচ্ছু দেবে না!

বাবা : আচ্ছা নে আমার সাপ।

আমি : ওই সাপ দিয়ে আমি কি করবো? গলায় জড়িয়ে নিলে লোকে আমাকে সাপুড়ে ভাববে।

বাবা : আচ্ছা নে আমার ত্রিশুল।

আমি : ওই ত্রিশুলের খোঁচায় একটা ইঁদুরও মরবে না যা জং ধরে আছে!

বাবা : আচ্ছা নে আমার রুদ্রাক্ষের মালা।

আমি : ওরম মালা আমি হামেশাই পরে থাকি সাহিত্য সম্বেলনে!

বাবা : আচ্ছা আচ্ছা নে আমার বাঘছাল।

আমি : ওটা দিয়ে যা গন্ধ বেরোচ্ছে আমি পরলে লোকজন আমার কাছ থেকে পালাবে।

বাবা : তবে কি চাস বল!

আমি : আমার বরের ফেবু আইডির পাসওয়ার্ড।

বাবা : সেটা কি জিনিস?

আমি : ধ্যান করলেই জানতে পারবে।

বাবা : নে।

আমি : নাও তোমার মোবাইল। আমার আর একটা আছে , শুধু গুগল এর হিস্টোরি তে হাত দেবে না আর ম্যাসেঞ্জার আনইনস্টল করতে ভুলে গেছি ওটা ভুলেও খুলবে না।

বাবা : আমার আইডি খুলে দে।

আমি : সব করে দিলে তুমি কি আর আমার কাছে আসবে! নিজে নিজে চেষ্টা করো। আমি যেমন তোমাকে রোজ ফুল বেলাপাতা দিয়ে তুষ্ট করি তুমিও আমাকে রোজ কিছু না কিছু দিয়ে তুষ্ট করবে আমিও রোজ রোজ তোমাকে নতুন নতুন জিনিস শেখাবো।

ঘুমিয়েছিলাম …বর এসে ধাক্কা মেরে স্নান করতে পাঠালো আর গজগজ করতে থাকলো রাতদিন ফেবু করে করে ঘুমের মধ্যেও ফেবু। রান্না নেই , স্কুল নেই যাচ্ছে তাই একেবারে!

       

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>