বিদায় দেবাশীষ কোনার


দেবাশীষ কোনারের অকাল মৃত্যুতে ইরাবতী পরিবারের বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।




পট ও পেট

গাছের শিকড় উপড়ে খেতে খেতে

যাদের দিন গুজরান, তাদের শিল্প

পট ও পটুয়া – নিশ্চল দাঁড়ায়

সোনা চোখে স্বচ্ছ দৃষ্টি আকর্ষণ হারায়

নিমপাতা জীবন যেন লব্ধ প্রহরী

ফিনিক্স পাখিরা যেমন জন্মায়-মরে

শোকের বরফ চিহ্ন প্রতি ঘরে ঘরে

দেরাজে যৌবন ঢাকা চাদর জড়ানো

সলতে পাকানো তাস কী যেন দেখায়

লাঠির ডগায় বর্ষা ফলক ঝলকায়

শিল্পীর হাতে নেই রং তুলি আর

এবার অস্থির কিছু জীবিকা সন্ধান

বাঁচুক নিজের মত পট ও পটুয়া

বলে দিক শিল্প তার কী দামে বিকোবে

আজ থেকে প্রকাশিত মুখ ও মৌনতা।

ঠুঁটো জগন্নাথ

সেই সব পবিত্র পাপীরাই আমাদের প্রেম

আমাদের গৃহবন্দী হারেমের অন্তিম গহীনে ঠেলে

নিশ্চিত তুকারাম সেজেছে সহজে

আমাদের অরণ্যে রোদন

শুনতে শুনতে দিনগুলো সাদা কাপাস তুলোর মতো

উড়ে গেছে নিপাট গর্দভের পারা

তবুও বিকেল আসে চাঁদ ওঠে ঠুঁটো জগন্নাথ

 

 

শিল্পসম্ভার

বিরক্ত চাদরে তোর বিভাবরী রাগ

তুই উদ্বোধনে উদ্বিগ্ন এক নারী

গলায় গামছা নিলে পাছে কেউ পাকামো বলে

তাই গৃহস্থ মরমে বলে আড়ি

আড়ি মানে ছাড়াছাড়ি

আড়ি মানে কলহ সম্রাট

মুরব্বি যেখানে বলে সেখানেই যাই চলে

ভাব হলে থাকে না ঝঞ্ঝাট

 

 

দৌড়

মাধ্যম থেকে উঠে যেতে যেতে
কোথাও যেন একটা প্রশ্ন উঁকি মারে
স্কুলের মাঠ, কামারপুকুর, দোতলা মাঠকোঠা
গাঁয়ের আকাশ, মাটি, জল সাথে একদল বন্ধু
ফেলে আসা অতীতের প্রথম প্রেম হাতছানি
চ্যাটার্জিহাট বয়েজ থেকে গার্লস স্কুল
রুটি কারখানার মিষ্টি গন্ধ ডাক দিয়ে যায়
এই মূর্খ স্মৃতিমেদুরতার জন্য আমার ছেলে হাসে
স্ত্রী বলে অযথা পাতাভর্তি ছাইপাশ লিখে কী হবে?
যারা ডাকছে ভাবনাগুলিকে স্পর্শ করবার জন্য
আমি শুধু তাদের জন্য দৌড়াতে থাকি দৌড়াতেই থাকি।

 

 

 

জোট

ইচ্ছা যখন হয় তারা উপায় বের করে
খুবই নিচু স্বরে পায়ের পাতায় পরে
যেরকম চামড়ার অবিকল রং তারা জানে
দর কষাকষির পর সব স্বাভাবিক

ঝগড়াগুলো শেষ হলে এনে জুড়ে দেবে
নিখুঁত কারুকাজে
রাতের আজগুবিগুলো তাই সে
ফিরিয়ে এনেছে দিনের আলোয় আলাদা
আলাদা রং খুলে দূরকে করেছে নিকট

প্রতীকগুলো এনে বসিয়েছে পাশাপাশি।

 

 

প্রথম আলো

সেদিন আমার কাছে কোন তথ্য ছিল না

আজও আমি বন্দীশালা থেকে ফিরে এসে

ভয়ে কাঁপতে থাকি। চাঁদ হারিয়ে যেতে পারে

আমি তো জানি যে তুমি আমাকে দেখবে

কারন তুমিই জান কটা বসন্ত আমার – – –

 

 

সহজ করে

বললে বলা সহজ , না বললে শক্ত

ভিন্ন আকাশ ডাকছে মলয়   উদাস মিঠা গন্ধ

বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে শীত

জড়িয়ে আঁচল পা করে থির থির

হট যোগী ঐ এসে গেছে এবার আমি মুক্ত।

 

 

ব্যভিচার

ছিন্ন সুতোর মালা কিছু কিছু

রয়ে গেছে অনুভবে

গোধূলির আলো এসে হাজির বিনা কারণে

মেঘেদের পিপাসা মেটেনি ।

অথচ বিষয়টা নিয়ে এই ধরনের ঘটনা অনভিপ্রেত

যাকে সোহাগ করলে মানায়,  তাকে আদর করে

কাছে টানলে ক্ষতিটা কোথায়?

আর যদি তা না করে ফানুস ওঠাই

মুক্তি দূতের গান গাইতে গাইতে

গৃহ থেকে দূরে চলে যাই

জানি , আমার কথা শুনে মনে হবে

পাগলের প্রলাপ বকে চলেছি

আসলে ব্যভিচার এমনি সন্ন্যাসী

 

 

শ্বেত বিপ্লব

আমার এই বাঁকা কথা তোমার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না

ভরদ্বাজ রাজার পালকি তবু নদীর তীর বরাবর যায়

চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য প্রাণ

নিতম্ব স্পর্শ করে শুয়ে আছে পোষা কুকুর

তার জিভ তার নখ তোমার খুব চেনা —

তার পিটপিট চোখের ভাষাও অপরিচিত নয তোমার।

পুরাতন অভ্যাস আমাকে তবু বন্দী করে

সেজন্য হাতের যত শক্তি আছে,

পায়ের যত জোর এবং মাথার গোয়ার্তুমি –

সব কিছু দিয়ে তোমাকে কাছে পেতে চাই।

বুকের ভিতর আর সেই সাহস নেই –

আছে একটা অভ্যাস বোধ

একটা ঝোঁক আছে কেননা চোখে আলো পড়ে

চোখ তখন জলে ভরে যায় –

উজ্জ্বল ঢেউয়ের মতো অক্ষর দিয়ে শুরু করি পথ চলা

আকাশ ও নক্ষত্র,  জলফোরিং

আর ফুল এই চেতনার সাথে কত কত

পতঙ্গ পাখি পশু মানুষ অনবরত জন্ম নিচ্ছে  এবং মরে যাচ্ছে

এক ধরনের বৃত্তের মাঝে তাদের বিকাশ ও আয়ু

অথচ তেমন ভাবে কেউ ছুঁতে পারছে না অক্ষরেখা

 

 

কান্না

অতঃপর ফুটে ওঠে ফুল কৃষ্ণচূড়া,অতঃপর আগুনের শিখা

বোতল খোলার শব্দ মদির নেশায় বুঁদ হয়ে নদী যেন ঢেউ তোলে

আপেলের টুকরো নারীর স্তনের সাথে তুলনীয়

কমলালেবু চুম্বনে নারীর ওষ্ঠ দাগ এঁকে দেয়

ঝরাপাতা কুড়িয়ে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলি সমস্ত পান্ডুলিপি

মেয়ে মানুষের জন্য অলিন্দ নিলয় গলে যায়

আনন্দ পান করতে করতে

চোখে আগুন লাগে, তাই ডুব দিই রূপসাগরে

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত