আমরা যুবরাজের ফ্লিক দেখেছি

আজ ১৩ জুন কবি,কথাসাহিত্যিক ও ক্রীড়া প্রেমী সৌরভ চক্রবর্তীর জন্মতিথি।ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা। তাঁর জন্মতিথি তে থাকলো যুবরাজ সিং কে নিয়ে লেখা তাঁর স্মৃতিচারণমূলক লেখাটি।


 

সালটা ২০০০, মাসটা অক্টোবর৷ শারদীয়া কিশোর ভারতী, আনন্দমেলা প্রকাশিত হয়ে গেছে। পূজাও শুরু হবে আজ বাদে কাল। এরই মধ্যে শুরু হল মিনি বিশ্বকাপ। ভারতীয় দলে দুই নতুন মুখ। পেস আক্রমণে জাহির খান, মিডল অর্ডারে যুবরাজ সিংহ। প্রথম ম্যাচে জাহির খান উতরে গেলেন, নিলেন দুই উইকেট৷ কিন্তু যুবরাজকে পরীক্ষা করা হল না। সুযোগ এসেছিল পরের ম্যাচে, নাইরোবিতে। প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। আরে বাবারে! ২০০০ সালের অস্ট্রেলিয়া। গতকাল রাতে দেখা অসিবাহিনীর চেয়ে ২০০% বেশি ভয়ংকর। কে নেই সে টিমে! স্টিভ, গিলখ্রিস্ট, বেভান, ম্যাকগ্রা – তালিকা শেষ হবেনা।
ভারত প্রথম ব্যাট করেছিল। সবাই কন্ট্রিবিউট করলেও, ইনিংস বিল্ট করেছিলেন ১৮ বছরের তরুণ – যোগরাজ তনয় যুবরাজ। করেছিলেন ৮০ বলে ৮৪। অজয় জাদেজা, আজহার পরবর্তী ভারতে শঙ্খনাদ হয়েছিল একদিবসীয় দলের মিডল অর্ডারের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানের। তারপর একে একে ন্যাটওয়েস্ট ফাইনালে কেফ-র সঙ্গে অবিস্মরণীয় পার্টনারশিপ, ব্রডকে ছ-ছবার ওভার বাউন্ডারিতে উড়িয়ে দেওয়া, সেবারই সেমিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৭০ রান করে দলকে ফাইনালে তোলা, সৌরভের সঙ্গে পার্টনারশিপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টেস্টে করা ১৬৯( সৌরভ করেন ২৩৯) । এতো সবই উত্তরণের ইতিহাস। কিন্তু কাহিনি বাকি ছিল।

অফফর্ম কাটিয়ে কোনোক্রমে ২০১১ বিশ্বকাপে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছিলেন। আর পেয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ফার্স্ট স্টেজ ক্যান্সার নিয়ে এভাবে দেশের পর দেশ জয় – নাহ, সবার পক্ষে সম্ভব নয়।

কত বলবো! কেন সেবার যখন ক্যানসার কাটিয়ে ফিরে আবার অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধেই প্রথম খেললেন এবং কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে t20- তে ২০০ চেজ করে ম্যাচ জেতালেন সেই কামব্যাকই বা ক’জনের আছে। বছর তিনেক আগে t20 বিশ্বকাপে আমাদের এই ইডেনে যখন মহম্মদ আমিরের আগুনে স্পেলে টপ অর্ডার ঝলসে গেছে, কোহলি একা শিবির সামলাচ্ছেন তখন অপর প্রান্ত আঁকড়েও ছিলেন ২০০০ সালের সেই যুবক। অবশ্য ততদিনে আর টগবগে নেই তিনি। শেষ বড় ইনিংস ২০১৭ তে ধোনিকে সঙ্গে নিয়ে ক্যারিয়ার বেস্ট ১৫০ রান। টপ থ্রি সেদিন ২৫ রানে ফিরে গিয়েছিল, প্রতিপক্ষ এবারের ওয়ার্ল্ড কাপ ফেবারিট ইংল্যান্ড (এখনকার প্লেয়িং ১১ এর ৯ জন ছিল সে টিমে)।

নাহ! সেই শেষ দপ করে জ্বলে উঠা। তারপর অপেক্ষায় ছিলাম কখন আজকের ঘোষণা আসবে আর প্রদীপের এক চিলতে অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে। সত্যি বলতে এভাবে দেখতে আর ভালোও লাগছিল না। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স কিনে ফেলে রেখে দিয়েছে, একের পর এক টিম আপনাকে কিনতে চাইছেনা, ছেড়ে দিচ্ছে – এগুলি দেখার জন্যে আপনি দুটো সিনিয়ার ওয়ার্ল্ড কাপ আর একটি আন্ডার নাইন্টিন ওয়ার্ল্ড কাপ জেতেননি। আরোও এক বছর আগে চলে গেলেও আমরা একইভাবে বলতাম – আমরা যুবরাজের ফ্লিক দেখেছি।

আর হ্যাঁ, যে ইনিংসটি এখনো রাতে দুঃস্বপ্ন দেখায় আপনাকে সেই ২০১৪ সালে t20 ফাইনালের ২১ বলে ১১ আমরা অনেক আগেই ভুলে গেছি। ২ টো ওয়ার্ল্ড কাপ দিয়েছেন আমাদের। ভারতবাসী ভালো গল্পেই মনে রাখবে আপনাকে।

সৌরভ গাঙ্গুলির গড়া টিমের আরোও এক উইকেটের পতন ঘটলো আজ। বাকি রইল ভাজ্জি আর মহেন্দ্র সিংহ ধোনি।

হে ঈশ্বর, ক্রিকেট থেকে মায়া কমে আসছে।

 

 

 

.

 

 

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত