বিদিশা সরকারের কবিতাগুচ্ছ

Reading Time: 2 minutes

আজ ২১ জুলাই কবি বিদিশা সরকারের জন্মতিথি।ইরাবতী পরিবার তাঁকে জানায় শুভেচ্ছা ও নিরন্তর শুভকামনা।


জেরক্স

মেঘ, ভয় পায় কেন ? আশঙ্কার কথাগুলো জানাজানি হয়ে গেলে সমস্ত তারিখ মুছে ফেলি

প্রতিটা গলি’র মোড়ে দাঁড়িয়ে ভেবেছি ভুল পথ । সহৃদয় শব্দগুলো না চেনার ভান করে পাশ কেটে গেলো — পড়ন্ত রোদ্দুরে সেই রাস্তাই সিগন্যাল চেনায় সরু পথ , চওড়া পথ , ভুল পথ জেরক্স মেশিন !

চার কপি ফটো সাইজ সামনে বিছিয়ে বসে থাকি

সারিগান

ফসলের ঘুম মাঝরাতে জাগে সাঁজোয়া আকাশে নীদহারা তুমি আগুন স্বভাবী ভোজ্য রেখেছে পানীয়য় ছিল মরশুমি রাগ জেহাদের কথা উহ্য রেখেছি বিনিময় প্রথা মাশুলের গুণে যোগ বিয়োগেই সমাধান খোঁজে হাস্নুহানায় লেগেছে পরাগ

আগুনস্বভাবী ভোজ্য রেখেছে পানীয়য় ছিল মরশুমি রাগ বীনাবাদিনীর রাগবিন্যাসে মরালগ্রীবায় রাতবিষয়ক অনুভব বাঁচে স্পন্দন বোঝো দ্বিগুণ ত্রিগুন,পর্দানশিন বশীভূত তুমি সেতু’র খিলানে স্বাক্ষর রাখে চিরনাবালক !

বীণাবাদিনীর রাগবিন্যাসে মরালগ্রীবায় রাতবিষয়ক রোমাঞ্চ জাগে চন্দ্রকোষের বিলম্বিতের ধারাবিবরণী জলে সর পড়ে হিমানী চাদরে উষ্ণতা ছিল কুসুম কুসুম আর ছিল তারে টান টান ধুনে চিরজাগ্রত বিধান সরণী

রোমাঞ্চ জাগে চন্দ্রকোষের বিলম্বিতের ধারাবিবরণী শ্লোক ভিজে যায় অনুরাগ মদে চোখে নাচে তার মৃত্যু তুফান মাঝি ঘুমে মজে নৌকা কাগুজে ডোবে ভাসে ডোবে কি মস্করা আমরা ভেসেছি অভিসারী স্রোতে বুকের ভিতরে সেই সারিগান

ভাসান

কখনও শরীর আসে কখনও শরীর ভাসে এমন তুফান জানো তুমি

কখনও দলিত ফেরা কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা দূর থেকে দেখি মাতৃভূমি

মেটেনি পিপাসা যার তার কাছে বারবার মেঘ ছায় মেঘের ভাসান

দেবনাগরীর চালে বিন্দু বিন্দু পড়ে গালে অশ্রু নয় অশ্রুও পাষাণ

রোদে রোদে বারবেলা জলে কাটাকুটি খেলা প্রতিদান তুলে রাখি হায়

হিসেব নিকেশ বুঝে তুলে নাও আলগোছে এভাবেই সর্বস্ব হারায় –

বিকেল ফুরিয়ে গেলে

অস্ত যাওয়ার আগেই মেঘ ঢেকে দিলো যার মুখ আমি তার সঙ্গে জলপ্রপাত – মুখোমুখি দৈবাৎ জল বিষয়ক কিছু নিষেধাজ্ঞা, পাওয়ার প্রোজেক্ট নিঃসাড় হলেই বুঝি স্টেথো চেপে বসে বুকে পালা করে জেগে থাকা যদি নিভে যায়

যার যারা জেগেছিল ক্রিয়াকলাপের লোকাচারে

চেনা সেই মুখগুলো নিরুদ্দেশের মানে জানে

মুখোমুখি আবার যেদিন কয়েক বছর পরে আঁকা’র ইস্কুল থেকে সোজাসুজি ছবিঘরে প্রাসঙ্গিক বৃষ্টি এলো যেচে

বিকেল ফুরিয়ে গেলে প্যাপাইরাসের মতো সম্পর্ক রচনাগুলো ছিল হাইফেনে !

তোতাকাহিনি ভ্যালিয়াম ঘুম আলস্য বিছানাবন্দী জানালার ফ্রেমে সূর্যবন্দী ফটোগ্রাফি আহির আলাপচারী আবাল্যের সই কিশোরীর মনস্তাপ আশাবরী ধুন এভাবে সকালকথা বিজন বিভূঁই সাজানো বাগানে নানা পরিচর্যা জড়িবুটি নিয়ে যাই এঘরে ওঘরে প্রবাসী আত্মীয়তা আজীবন,শুধু সাবেকি বোলচাল তোতা কাহিনি কলঘরে জলকথা নিত্য নৈমিত্তিক নির্জনতা দর্পণে প্রথম মুখোমুখি ক্লান্ত শরীর ছুঁয়ে খাপে রেক্সোনা বিছানার দাগ জানি ধুলেও যাবেনা একবার দিনশেষে ক্লান্ত সূর্য প্রান্তিকে স্তব্ধ বলে দেবো নিপাটরাত দেহাতি শরীর তার কোন্‌ অপরাধ ধানবাদী রাখাল তাকে দেখেও দেখেনা রাতের অন্ধকার পাহার প্রেতশিলা দরজা ভেজিয়ে করি সপিণ্ডকরণ তৃপ্ত আত্মা মজে সেই মহাভোজে অশরীরী নিয়ে যায় লাশকাটা ঘর !

ছাদ বিহীন

পর পর পাঁচটি তেজস্ক্রিয় প্রয়োগের পরও বেঁচে গেলাম — … আর একটু রাত হলে খুলে রাখব সব সংস্কার । মাথা ফুঁড়ে উড়ে গেল একটা প্লেন — স্নায়ুর অক্টোপাসের গিঁট খুলে যাচ্ছে একটু একটু করে, আজ যুদ্ধের বিষয়ে কিছু বলব না, তোমরা ঘুমিয়ে পড়তে পারো

কেউ দায়বদ্ধ নও তোমরা। প্রতিশ্রুতি আর চ্যারিটি ভুলে যাও এই অনর্থ আর ব্যক্তিক অতিরঞ্জনের ঋতুর বিলাপ–

আজ ছাদ চেয়েছিল তার সঙ্গে থাকি আমার থেকে দু বছরের ছোট, হাওয়াই চপ্পলে মাথা রেখে ঢেকে যাচ্ছিলাম ধুলোর ঝড়ে — বাজ পড়া গাছটার মতই । অগ্নি-পরীক্ষার আগে চেয়েছিলাম একবার বিদ্যুতের সঙ্গে কথা বলতে, বিদ্যুৎ সপরিবারে বেরাতে গেছে

Leave a Reply

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

You may use these HTML tags and attributes:

<a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>