বিজড়িত

         

বাঁকের পথ ততটা ভয়ের নয়। বৃষ্টি হয়েছে গতরাতেও। চারপাশে জলের শব্দ। টুপিয়ে পড়ছে পাতার গা বেয়ে। রোদেও ভেজা গন্ধ। মেঘ আর কুয়াশা জড়ামড়ি করে হাঁটে এই রাস্তায়। কেউ এগোয়। কেউ পিছোয়। তরতর করে কেউ হয়ত ওপরে উঠে গেল খানিক। আবার পরক্ষণেই রোদ্দুর এসে মুঠো করে ধরে ফেলে তার উড়ে যাওয়া আঁচল। ছুট ছুট ছুট। কোনও বাঁকে ঝলমলে দিন। পরের বাঁকেই ঝাপসা আঁধার জমে থাকে।

পাহাড়ি পথ অনিমেষের নতুন নয়। নিজের দেশের মধ্যে তো বটেই, সমস্ত পৃথিবীর বহু সর্পিল উঁচু-নিচু পথে তিনি অ্যাডভেঞ্চার কুড়িয়েছেন। তবু তাঁর কাছে আজও হিমালয় সেরা। বিশেষ করে দার্জিলিং। কী যেন এক অমোঘ মায়া। প্রতি ঋতুতে ডাকে। প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে হাতছানি দেয়। আল্পসের নিঃসীম সৌন্দর্যের পাশে দাঁড়িয়েও দার্জিলিংকে মনে পড়ে। নেপাল সীমান্তের জিরো মাইলে দাঁড়িয়ে দূরের পাহাড়ের এলোমেলো দাগ দেখে বুক ব্যথা করে। এত  আশ্চর্য সৌন্দর্য একসঙ্গে তাঁর চোখে কেন ভিড় করে? আর বাকিরাও কি এতটাই উদ্বেল? চা খায়, হিসি করার আড়াল খোঁজে। সেলফি হয়। সস্তায় টুপি আর চাবির রিং কেনাকাটা। মেমেন্টো। তারপর ক্যামেরা গুটিয়ে গাড়ি চড়ে পরের গন্তব্যে চলে যায়। অনিমেষ দাঁড়িয়ে থাকেন বালাসন ব্রিজের ওপর। ঘটাং ঘটাং ব্রিজ। নতুন বিয়ের পরে গাকুল রিসর্টে দুটি রাত কাটিয়ে অমন একটি নামই মাথায় এসেছিল শবরীর। কোনও গাড়ি চলে গেলেই দুধওয়া নদীর ওপর লোহার ব্রিজ সশব্দে জানান দেয়। সেই থেকে ঘটাং ঘটাং ব্রিজ। পাহাড়, নদী, আকাশ মিলিয়ে কমপ্লিট প্যাকেজ।  

কুড়ি বছর আগের সেই নির্জনতা আজ আর নেই। অনেক দোকান। কোলাহল। নদীর ধারে এখন আর নেমে চলে যাওয়া যায় না। পাথরে বসে হিমঠান্ডা জলে পা ডুবিয়ে অনন্ত আকাশের আগলে ধরা মুহূর্ত এখন আর সহজলভ্য নয়। তেমন করে শব্দও যেন হল না। না কি অন্য হাজার শব্দের ভিড়ে মগজের ধূসর কোষে পৌঁছল না ঘটাং ঘটাং সংবেদন?    

শবরীর পাহাড় ভাল লাগে না। পাহাড়ি রাস্তায় ওর গা গুলোয়, মাথা ঘোরে। প্রায় একরকম জোর করেই শবরীকে দুধওয়ার রিসর্টে টেনে এনেছিলেন অনিমেষ। মানুষ-সমান লম্বা কাঁচের জানালা দিয়ে সামিয়ানা আকাশে টাঙানো পাহাড়ের আবছা সীমানা দেখতে দেখতে বুঝেছিলেন পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শবরীর এই অপার্থিব নির্জনতা ভাল লাগছে না। দিন তিনেকের ছোট্ট সফরে সে চুপ করেই ছিল। মাথা ধরার অজুহাতে কথার প্রত্যুত্তর দেয়নি, শরীর শীতল। আদিম রিপুতেও ফুঁসে ওঠে না। দায়সারা। ফেরার পথে পাহাড়ি রাস্তায় ইনোভা গাড়িতেও তার বমি পায়। মাথা টলমল। কোনওক্রমে সমতলে পৌঁছে সে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়,  আর কোনওদিন সে পাহাড়ে আসবে না। পাহাড় তার ভাল লাগে না। কোনওরকম নির্জনতাই তার পছন্দ নয়। সে চায়, উদ্দাম, উচ্ছল জীবন। যে জীবনে অফুরন্ত সম্পদ চলকে পড়বে মাদকে, উষ্ণতায়। রাতের অন্ধকার পাহাড়ের গাঢ় আবেদনের চেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে হুটোপাটি আউটিং তাকে অনেক বেশি টানে।   

অনিমেষ বুঝতে পারেন, সম্বন্ধ করে হিসেব কষে দুটি পরিবার দু’জন অসম মানসিকতার মানুষকে এক ছাদের তলায় থাকতে দিয়েছে।

অনিমেষ গুটিয়ে যান। তারপর থেকে পাহাড়ে একাই।

লামাহাট্টা এখন ট্যুরিস্ট লজ। রীতিমত ভিড়। আগে ছিল না এসব। তখন দার্জিলিং না এসে সোজা মংপু চলে যেতেন অনিমেষ। কোনওবার রোহিণীর রাস্তার বাঁকে গাঢ় সবুজ পাইনের পাতায় প্রজাপতি। কখনও ম্যালের পাশের রাস্তা দিয়ে সোজা নেমে যেতেন বাজারের মধ্যে দিয়ে অচেনা বাঁকে। ‘স্টেপ অ্যাসাইড’ বাড়ির সামনে বুনো লতার ঝোপ। ফলকে লেখা সি আর দাশ হয়ত ঝাপসা হয়ে যাবে ক্রমশ। তবু দাঁড়িয়ে থাকেন অনিমেষ। একাই চলে আসেন। চেম্বার ছেড়ে, তিনমাস আগে থেকে রোগীদের যাবতীয় অ্যাপয়েন্টমেন্ট মিটিয়ে, বিশ্বস্ত ড্রাইভার মনীশের হাতে বাড়ির চাবি গচ্ছিত রেখে সোজা পাহাড়ের কাছে। কাজের টানে দেশ-বিদেশ যেখানেই যান না কেন, ফুরসত পেলেই পাহাড়ের কাছে। এক চুমুকে তেষ্টা মেটে না। তাই বারেবারে।

পুজোর ঠিক আগে দিনকয়েকের জন্য এসেছিলেন।

মন না ডাকলে এত তাড়াতাড়ি নেমে আসতেন না অনিমেষ। মন। মনস্বিতা। অনিমেষ-শবরীর ভেঙে যাওয়া সংসারের একমাত্র স্মৃতিচিহ্ন। মন তার মায়ের সঙ্গেই থাকে। থেকেছে এত বছর। আইনের নির্দেশ অনুযায়ী আঠারো বছর বয়স পূর্ণ হলে সে তার বাবার কাছে চলে যাবে। সেইরকমই চুক্তি। মন তখন ছোট্ট। কচি মুখখানা শুধু কৌতুহল আর সারল্যে মাখামাখি। অনিমেষ শত ব্যস্ততার শেষে মধ্যরাতে এসে একবার বসতেন ঘুমন্ত মেয়ের পাশটিতে। আলাদা ঘরে ততদিনে বিচ্ছিন্ন উপদ্বীপ হয়ে থেকেও অনিমেষ-শবরী নিজেদের মধ্যে দু’চারটি শব্দ বিনিময় করতেন ওই মনকে কেন্দ্রে রেখেই। একদিন সেটুকুও ফুরিয়ে গেল। শবরী চুক্তি সই করে চলে গেল নিঃশব্দে। মনের ওপর অধিকারবোধ ফলানো নিয়ে দড়ি-টানাটানি করতে চাননি কেউই। শবরী নতুন ফ্ল্যাটে। বাবা-মায়ের সঙ্গেও সাগর-প্রমাণ দূরত্ব। নতুন সাজানো ফ্ল্যাট থেকে শবরী একদিন মনকেও সরিয়ে দিলেন দূরে। মনকেও পাহাড় টানত। শবরীর চোখ এড়ায়নি। আঁকার খাতায় শুধু পাহাড়ের ছবি। সূর্য ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়। বরফে মাখামাখি। শুধু পাহাড়।

অনিমেষের এই উত্তরাধিকারটুকুকে সম্মান দিতেই শবরী মনকে পাঠিয়ে দিলেন দার্জিলিঙের কনভেন্ট স্কুলে। মেয়েটা পাহাড়ের কাছাকাছি থাক। ভালই থাকবে।

হোস্টেলের জীবনে মন দিব্যি ছিল। তার কারণ কিন্তু ওই দিগন্তের পাহাড়চূড়া। ঢেউ খেলানো অসমতল রেখা, পাকদন্ডী বেয়ে উড়ে আসা কুয়াশার ঢল, যখন তখন ভিজিয়ে দেওয়া বৃষ্টিছাঁট। মনকে নিয়মিত দেখতে যেতেন অনিমেষ। পালা করে শবরীও। কথাবার্তা না থাকলেও মেয়ের কাছে দেখা করতে আসার নিয়মকানুন বরাবর মেনে এসেছেন দুজনেই। শীতল সম্পর্কের আশ্চর্য নিঃসীম নিস্তব্ধতার মাঝখানেও নিয়মিত বার্তাবাক্সে পৌঁছে যেত কে, কখন, কবে, কীভাবে যাবেন মনের কাছে।

এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাহাড় ছেড়েছে মন। স্কুলের পালা তার শেষ। রেজাল্ট নিয়ে এবার তার ইচ্ছে কলকাতার কলেজ। বেশিদিন নয়। তিনটে বছর পেরিয়ে আবার সে পাড়ি দেবে অন্য কোথাও। তার আগে সমতলে দু’তিন বছর কাটাতে চায় সে। তার ইচ্ছেই মেনে নিয়েছেন অনিমেষ। শবরী মেয়ের ওপর জোর খাটাতে চান না। জীবনের পাথরে ঠোক্কর খেয়ে মেধাবিনী শবরী বুঝেছেন জোর করা নিরর্থক। আঠারো পূর্ণ হলে সে এমনিতেই চলে যাবে তার বাবার দায়িত্বে। সেই সময় দু’তিন বছর কলকাতায় পড়াশোনা করলে বরং শবরীর সুবিধেই হয়।

মনের জন্মদিন অক্টোবরে। বরাবর পুজোর মধ্যেই পড়ে। আলাদা করে সেলিব্রেশান করা যায় না সেভাবে। পুজোর ছুটিতে মায়ের সঙ্গে বরাবর কাটায় মন। কাজেই তার জন্মদিনে দূর থেকে ফোন করা ছাড়া অনিমেষ কখনোই এসে পৌঁছননি। বিতর্ক-বিবাদ বা পছন্দ-অপছন্দের কাটাকুটি থেকে এক শোভন নিরাপদ দূরত্বেই বরাবর বেঁচে এসেছেন দু’জনে। এই বছরেও তার অন্যথা হয়নি। পুজোর ঠিক আগে অনিমেষের একবার দার্জিলিং ছুঁয়ে আসা অভ্যেস। এবারেও তাই। কথা হয়ে আছে, পুজো মিটলে কলকাতার বাড়িতে মন এসে থাকবে। সেখান থেকেই কলেজ, পড়াশোনা। গোছানো রয়েছে ওর ঘর। হঠাতই মনের ফোনে তাড়াহুড়ো করে চলে আসতে হল। কী এত দরকার মেয়েটার, বুঝতেই পারলেন না। মেয়েটা শুধু একই কথা বলে, ‘বাপি, প্লিজ, পুজোর আগেই এসো, প্লিজ এসো। খুব দরকার’।

কলকাতার রাস্তাঘাট এইসময় অচেনা হয়ে যায়। কার্নিভাল শহর জুড়ে। ম্যারাপ। হোর্ডিং, আলো। রাস্তা বন্ধ। হট্টগোল। বিবর্ণ গলিপথ ঝলমলে। ঘড়ি দেখে সময় বুঝতে হয়। ব্যস্ততা। নির্জনতা থেকে এক লাফে যেন হাটের মধ্যে…

সকালে কলকাতা পৌঁছনো মাত্র মনের মেসেজ।

বাপি, রাতে এসো একবার এই ফ্ল্যাটে। অনিমেষ ইতস্তত করেন। শবরীর নতুন ফ্ল্যাট চেনেন তিনি। কিন্তু সেখানে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। প্রয়োজনও হয়নি। শবরীও নিজের গণ্ডিতে ডাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মন এত তাড়া দিচ্ছে। বারবার ফোন, মেসেজ। কেন? তাহলে কি শবরীর প্রচ্ছন্ন অনুমতি আছে? মনকে জিগ্যেস করতে গিয়েও সংযত হন। নিজেকে শক্ত করেন অনিমেষ। ভদ্রতা বা সৌজন্যবোধ তো দুর্বলতা নয়। আর তো মাত্র ক’দিন। তারপরে মন চলে আসবে মা’কে ছেড়ে। হয়ত সেইজন্যেই শবরী…।

সাতপাঁচ ভেবে সিদ্ধান্ত নেন, একটু রাত করেই যাবেন। অপ্রীতিকর কিছু ঘটলে ব্যস্ততা দেখিয়ে সরে আসার ফুরসত বা অজুহাত থাকবে। যদিও শবরী এতটাই ভদ্রতা আর মার্জিত রুচিবোধে মুড়ে রেখেছে বরাবর… ওর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করা যায় না।

চতুর্থীর রাত। কলকাতার পথঘাট ভেঙে পড়ছে উৎসবের মেজাজে। টগবগ করে ফুটছে আনন্দ আর আনন্দ। একাই গাড়ি চালিয়ে চলে আসেন অনিমেষ। এই আবাসনটিতে সিকিউরিটির কড়াকড়ি। গাড়ি নিয়ে ঢোকার আগেই গেটে প্রশ্ন।

– কওনসা ফ্ল্যাট, স্যার? অনিমেষ একটু ইতস্তত করে বলেন,

-শবরী সান্যাল। টেন ডি।

সিকিউরিটি গার্ড ছেলেটি স্মার্ট। চটপট ফোন করে। বোঝাই যাচ্ছে, ওপ্রান্তে ফোন বেজে যাচ্ছে। ফ্ল্যাটে সাড়া নেই কারও। স্যার, ঘরমেঁ কোই নেহি হ্যায় শায়দ, আপ মোবাইল পে পুছিয়ে না। অনিমেষ মনকেই ফোন করেন। আসতে বলে কোথায় গেল মেয়েটা?

– বাপি, প্লিইজ, একটু দাঁড়াও। প্লিজ। আসছি। এত জ্যাম না! সিকিউরিটি গার্ড ছেলেটির কঠোর মুখটিতে খুব সামান্য একটু নরম আভাস। অন্দর যাইয়ে স্যার। গ্রাস লন হ্যায় উধার। ইউ ক্যান ওয়েট দেয়ার। গাড়ি পার্ক করলেন অনিমেষ। সত্যিই বাঁদিকে বিরাট বাঁধানো চাতাল। ঘন সবুজ ঘাসের লনের একধারে বিরাট আয়োজন। দুর্গাপুজো। একচালা সাবেকি প্রতিমা। পিছনে আশ্চর্য সুন্দর পাহাড়। নীল আকাশের গা বেয়ে চুঁইয়ে পড়ছে অপূর্ব এক আলো। ভোরের সদ্য ফোটা স্থলপদ্মে শিশির বিন্দুর মত জমে থাকা আলোয় মায়ের মুখখানি বড় স্নিগ্ধ দেখায়। মেঘের কারুকাজ এত নিখুঁত–  হঠাৎ দেখলে মনে হয়, ঝলমলে রোদ-ওঠা ম্যালে বসে যেমন দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা অপলক দেখে দেখে আশ মেটে না, তেমন কোন এক পাহাড়চূড়া থেকে আলোর পথে চোখের নাগালে নেমে এসেছেন মা। দেখে দেখে আঁখি না ফিরে। আনমনে হাত জোড় করেন অনিমেষ।

শুনশান মণ্ডপে কাজ চলছে। ডেকরেটর দু’টি ছেলে বাঁশে কাপড়ের রঙিন পট্টি বাঁধছে। ঝাড়লন্ঠন লাগাচ্ছে একজন। আর তেমন কেউ নেই কোথাও। প্রতিমার সামনে বড় বড় দু’টি মাটির হাঁড়িতে সাদা দুধের মত কি যেন রয়েছে। কৌতুহলী অনিমেষ কাছে গিয়ে ঝুঁকে দেখেন। এতটা দুধ?

ডেকরেটর ছেলেটি ফিরে তাকায়।

– আলপনা দেবার জন্য আনা হয়েছে স্যার।

ও আচ্ছা’।

– হ্যাঁ স্যার। খড়িমাটি আর জিংক অক্সাইড। একটু গঁদের আঠা। আলপনার জন্য অর্ডার দেওয়া আছে স্যার।

– আলপনা? এই এত বড় চাতাল জুড়ে? কে দেয়?

– প্রতিবারই দেওয়া হয় স্যার। রাত জেগে আলপনা দেওয়া হয়।

-আজকেই দেওয়া হবে?

ডেকরেটর ছেলেটি হাসে।

– হ্যাঁ স্যার, আমাদের বলে দেওয়া আছে। এই দুটো হাঁড়ি রেডি করে রেখে যাচ্ছি। অবশ্য আজ তো সবে চতুর্থী। কালকের মধ্যে ফিনিশ হয়ে যাবে’।

খুব অস্বস্তি হয়। নীল আকাশের সামিয়ানার মধ্যে ঝলমলে বরফ মুকুটের পাশ দিয়ে মা নেমে এসে শুকনো সমতলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বড় রিক্ত দেখাচ্ছে। ছেলেবেলায় লাল সিমেন্টের মেঝেতে মা আঁকতেন শঙ্খলতা। অষ্টমীপুজোর ঘট বসত। চন্ডীপাঠের চেনা সুর। লক্ষ্মীপুজোয় ধানের ছড়া, পান-সুপুরি সাজানো লতিয়ে যাওয়া পথে ছোট ছোট পায়ের ছাপ।

এখানে মা এসে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। একা। কেউ কোথাও নেই। এই ন্যাড়া সমতল জমিটিতে তার আলতা-রাঙা পা দুটি বড় বেমানান। উবু হয়ে বসে পড়েন অনিমেষ। ধবধবে দুধসাদা তরলের ঘড়াটি নিজের কোলের কাছে টেনে নেন।

মন এসে দাঁড়িয়ে থাকে। নির্বাক। প্রতিমার পায়ের কাছে বিরাট এক আলপনা আঁকা চলছে। এক প্রান্তে অনিমেষের হাতে ফুটে উঠছে লতানো কারুকাজ। ঠিক অন্য প্রান্তে এক মনে সেই আলপনার মধ্যে আরও সুক্ষ্ম, আরও নিটোল পথের ঘন বুনোট আঁকছেন শবরী। দু’জনেই মগ্ন। আলপনায়।

প্রতিমার আড়াল থেকে পাহাড় বেয়ে নেমে আসছে শিউলি-ধোওয়া আলো।            

             

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত