শুভ জন্মদিন কবি

 

পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্তের ফেসবুক বলছে আজ তার জন্মদিন। উত্তরবঙ্গের গর্ব এই কবিকে ইরাবতী পরিবার জানায় জন্মদিনের শুভেচ্ছা। কবির মৃত্যু হয় না। কবিতাই কবির মুখ তাই…

জন্ম ১৯৪৯ সালে। বাংলাদেশের রংপুরে। ছাত্রজীবন কেটেছে ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়িতে। ২০১১ সালে পেয়েছেন বাংলা অ্যাকাদেমি পুরস্কার। উত্তরবঙ্গতো বটেই রাজ্যের সাহিত্যজগতেও ধূপগুড়ির ডাকবাংলো পাড়ার বাসিন্দা পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত পরিচিত নাম। বরাবরই তাঁর লেখায় পারিবারিক জীবন, নারী স্বাধীনতা, সমাজ চিন্তা স্থান পেয়েছে। ধূপগুড়ির হাইস্কুলের পড়া শেষ করে জলপাইগুড়ির আনন্দচন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। কবিতা লেখার প্রেরণা তাঁর মা রাণুু দাশগুপ্তের কাছে। রাজ্য থেকে প্রকাশিত প্রথম সারির বেশিরভাগ সাহিত্য পত্র পত্রিকায় পুণ্যশ্লোকবাবুর লেখা নিয়মিত প্রকাশিত হয়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যচেতনাও তাঁর কবিতার বিষয় হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বইমেলায় নানা ধরণের সাহিত্য অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার জন্যও অবধারিত ভাবে ডাক পড়ে ধূপগুড়ির ডাকবাংলো পাড়ার বাসিন্দা পুণ্যশ্লোকবাবুর। অ্যাকাদেমি পুরস্কারের আগে ‘উতল হাওয়া’ পত্রিকার ‘অশোক মোহান্তি পুরস্কার’, ‘কবিতা পাক্ষিকের’ দেওয়া ‘অরুণ মিত্র স্মারক সম্মান’ পেয়েছেন তিনি।

সুনিপুণ আকাঙ্ক্ষার কবিতা
……………………………


তুমি চাইলে অহংকার একটি স্লোগান
তুমি না চাইলে ফড়িঙ অথবা ফিরে যাব
আজকাল তুমি পরের কথায় কান দিচ্ছ,
ঝিলের পাশেই অন্য আর একটি ঝিল
আমি সেখানেও বসি কবিতা লিখি

অনেক চেষ্টা করেও ফোনে তোমায় পেলাম না
সেলফিতে আছো মনে হয়,
নিজের মধ্যে থাকো পুরোনো প্রেমিকের গুণগান করো
আমার তাতেও কোনো আপত্তি নেই
প্রেম তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না

সেখানে আর কিছু নেই,তোমার কুরুশ-কাটা উল
তুমি নেই কিন্তু তুমি আছো যেন
সেই মুগ্ধতা এসেছিল সুধার তাড়নায়
ভেঙে দাও মৃদু কেঁপে উঠব আর কিছু নয়

জীবন তবে শরীরের খাঁচার ভিতরেই থাকে না
দরজা খুলে সে বেড়িয়েও আসে
আগে বুঝিনি

 

প্রমার জলসাঘর

……………………..


কী আশ্চর্য ইশারা ফিসফিস পরস্পরের চোখ নামিয়ে দিব্যি মজার
চেঁচিয়ে উঠল ঝাঁকরা চুল,তুই জানিস?এটা প্রমার জলসাঘর!
ছবিগুলো গুছিয়ে রাখলে খানিক অপরূপ খানিক রহস্যময়
বুঝি কেউ ছিটিয়ে দিলে গোলাপজল কেউ এসে লাল-কার্পেট
সোয়েটার বুনছিলো মা ছুটে গেল বল যেন সেও গান শুনবে
নীরবে হাসছেন কবি ভেড়ার লোম উড়ছিলো
চমৎকার পরস্পরের গা ঘোষলে গিনিপিক,
টাটকা ঘোড়ার পিঠে চড়ে এলেন গিটারবাবুটি
মদির চঞ্চল,
হাঁক দিলে মা প্রমা প্রমা,চটপট নীল চোখ মেলে একটু তাকা
প্রমার বিছানায় তখন পাখিগুলো ডানা ঝাপটাচ্ছিলো
কবি জানালার দিকে তাকিয়ে পাপড়িগুলো ভাসাচ্ছিল বাতাসের গায়
যেন তারা মেঘের আড়ালে পুনঃর্জন্ম পায়
এইখেনে তোর জলসাঘর
গ্রিন-চা আলুর পরোটা মাংসের নুন
এ যেন সেই পুরোদস্তুর মিউজিকস্ট্রিট গোলাম আলীর রসুইখানা
রবিশংকরআল্লারাখাঁ ভিয়েন বসেছে সোনার মুকুট
সোহাগীর হাঁসগুলোকে ডেকে আন
পাশ থেকে টিপ্পনি কাটলো একজন
হেঁড়ে গলার গান তো নয়,এ হলো গিয়ে প্রমার জলসা
আমি তখন ঘুমুচ্ছিলাম রাতের সায়রে গ্রামোফোনের সঙ্গে…

এ গানের শেষ নেই অন্তরা থাকেনা,ভুলভুলাইয়া
চিনেডিশ এলোমেলো বাজতেই থাকে
চিকচিক শব্দ হয় ব্লোটিংপেপারে
পায়ের আওয়াজ হুড়মুড় দুরন্তপনার চটপট
রান্নাঘরের ইঁদুর স্ফুর্তিতে টগবগ
আমি তখন ঘুমুচ্ছিলাম রাতের সায়রে গ্রামোফোনের সঙ্গে

এ নয় যে আমি গর্তের ভেতর শুয়ে শুয়ে গান শুনছি
এ নয় যে আমার শবজি বাগানে আগুন লেগেছে
আমি কি ননীর পুতুল নাকি হতচ্চাড়া মিউজিক স্কুল?
প্রমার গানের যাদু গ্রিন চা সমোভারে গোলাপের কুঁড়ি
এ সবে আমার স্নেহ উধাও হবে না,শুধু ঝাঁকড়া চুলের
হাতদুটো তবলায় নির্মম-প্রহার টুপ করে লাফিয়ে নামুক

এমন ঘোরের মধ্যে মাথা নাড়ে আরব্যরজনী
সত্যি কি সজীব সেই সাজানো শৈল্পিক
আবছা আলোর বুকে তার জন্য রূপকথার চিল
তার জন্য ফিল্মি-অ্যাকশন জ্যোৎস্নার নিঃশ্বাস
প্রমার অন্দর থেকে গানের স্টাইলে কথা ভাসে এলো
এই আমার দৌলতখানা কেদারা-কুর্শি সোনার মোরগ
নসিবের ফের চড়ুইপাখিটি।এই আমার অঙ্গবাস
নৃত্যের উৎসব।

আত্মার উন্মোচন যদি ঘটে যদি কল্পনাজারিত রেশম কাপড়
প্রমার প্রপার্টি দীপাবলী ভোজন-উল্লাস বিত্তশালী গান

আরবী ঘোড়ার মিস্ট্রি কিনে নেবো কল্পনার দামে

আলোর কাক
…………………


ধীরে ধীরে সেই অক্টাভিয়া সম্পর্কের উপর ঝুপ করে বসে পড়লো
চড়ুইপাখির ডানায় ডানায় খুব নিচু স্বরে কথাযা তোরা ঠান্ডা অন্ধকারে যা,বোকা কোথাকার, তুমি কোথায় তুমি কোথায় ধুলো উড়িয়ে,উত্তেজিত কাক।
অক্টাভিয়ার সাথে আমার নতুন পরিচয়,সৌজন্যমূলক,
আসলে অরুন্ধতী, সুদৃঢ নীরবতা,ফুলের বাগান নতুন রসায়ন।
পাখি,ডায়মন্ডহারবার,রোম থেকে বুলবুলি শালিখ পায়রা
কী সুন্দর গুছানো বৃক্ষের সারি,বাঁশঝাড়,উপত্যকার ঝিল
সেসব খালবিলে টিলার মাথায় টংঘরে আমি রোজ
হিসেব মেলাই,কি হলো কেমন করে হলো
যা তোরা ঠান্ডা অন্ধকারে যা,বোকা কোথাকার
শিশির ভিজিয়ে নিলাম শিশিরে
মা মাখনের প্রতি হাত বাড়ালেন আর কিছুতেই তার মন নেই
কাঁচা লঙ্কায় ভিজিয়ে নিলেন ভাতের প্রদাহ
আমার ইচ্ছে করে না মাকে ছেড়ে দূরে কোথাও যাই
তবু যাই তবু যেতে হয় মাকে ভালো রাখবো বলেই তো
মা তা কিছুতেই বোঝে না
যাস না যাস না তুই আমি একা
কাকেরা পাহাড়া দেয় মাকে
মা ওদের ভাত বেড়ে দেয় চৌকাঠে
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখিরাও আসে
মা ওদের দানা দিয়ে বলে যাবি না কোথাও

সহজ মা সিরিজ-১

……………………

সন্ধ্যেবেলা আমার আত্মা স্পর্শ করলো নতুন ফ্লেভার
সেই জিন্দেগী মিশিয়ে নিলাম এক পেগ ভোদকার সঙ্গে
দুষ্টুমির একটা রঙ আছে গানে তা মিশিয়ে নিলেন সহজ মা,
ফকিরের তৃতীয় নয়ন গাইছে আর বিলিয়ে দিচ্ছে
আড়ালের ওড়িয়েন্টাল সুর
আকাশচুম্বী এয়ার-ইন্ডিয়ার আশায় একটি ছোট্ট ঘুম
সিঙ্গাপুর হুস হুস, ফ্লাইট লুকিয়ে পড়লো মেঘে

মন পবনের নাও আমার মন পবনের নাও
গানের বিষয় আলাপনের বিষয় আমার মন পবনের নাও
তরল মেজাজে মশগুল আমাদের ললিত-কলা
বাউলের চোদ্দ-আনা,রবিঠাকুরের গান
সহজ মা ঢেউ তুলছেন আর তা থেকে শিহরণ জাগছে
কাচের প্লেটের ওপর ডিমশুদ্ধ ইলিশের পেটি
বাঙালী জীবনে কবি নিজেকে লুকিয়ে রাখুক
গৌরব লেপটে থাকুক ইনটারনেট সার্চ টাওয়ারে
আমরা গান শুনবো টাটকা ভেঞ্চার ডিমশুদ্ধ ইলিশের পেটি
আমাদের সেলিব্রিটি নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াবেন
তাঁর রাখা ক্রকারি সেটের সাদা কথা বলবে নোলক পরা নাকের সঙ্গে
প্ল্যাটিনামে আকাশ উন্মুখ চলো তবে যাই ভোকাট্টা ঈদের ছুটিতে পদ্মা
প্যারিসের থিয়েটারে

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত