ভানুসিংহের চিঠি 

বোটের ওপর চুপচাপ বসে আছি
মাঝি চলে যায় ঘরছাড়া গান গেয়ে,
আমি তো হেলায় বড় হয়ে যাওয়া ছেলে
আমায় চায়নি কোনওদিন কোনও মেয়ে…

রাতে পদ্মায় দুর্যোগ চলছিল
সকালে পল্লি দাঁড়িয়েছে ছায়া মেখে,
দুঃখ পেতেই জন্মেছিলাম তবু
চোখ ভরে যায় দূরে গ্রামখানি দেখে।

এবার পুজোয় জোড়াসাঁকোতেই আছি
কূল পাচ্ছিনে বেলার অসুখ নিয়ে;
মেয়ের বাবাকে এখনও দেশের লোক
বিচার করবে শুধু টাকাকড়ি দিয়ে।

বেলা নেই ; আজ সকালেই মারা গেল
আমার হাতেই বড়ো হয়েছিল সে,
মৃত্যু তো এই জীবনেরই এক রূপ
এত রূপ আঁকে সে চিত্রকর কে?

কে আঁকছে তার খেয়ালে এমন করে?
কোন ছবিঘরে রাখা থাকে এত ছবি?
ভুবনডাঙার আকাশে রৌদ্র-ছায়া
সাজাদপুরের সকালের ভৈরবী।

বেলা, রাণি, শমী, নিতু, ছুটি, বৌঠান
আর কি কখনও দেখা হবে কোনও দেশে?
কোন সে বিদেশ? কোন সমুদ্রপারে?
চাঁপাফুল হয়ে কারা ফুটে আছে হেসে?

রাতে যথেষ্ট দুর্যোগ হয়ে গেল।
পরদিন সব ফুলে ফুলে ঢেকে দিয়ে,
মিলিয়ে যাচ্ছে দূরের সিন্ধুপারে
শহর দাঁড়িয়ে শ্রাবণের ছায়া নিয়ে…..

মন্তব্য করুন



আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বসত্ব সংরক্ষিত